নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নগরবালক

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

The Personal is Political


2nd Wave Feminism এর মূল আইডিয়াকে একবাক্যে প্রকাশ করা যায় তা হলো "The Personal is Political".

নারীবাদ একটি সামাজিক আন্দোলন যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে সমাজে নারীদের সাথে হওয়া বৈষম্য, শোষণ, নিপীড়ন, উৎপীড়ন বন্ধ করে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা আনায়ন। ১৯ শতকের প্ররাম্ভে কিছু মুক্তিকামী নারী মনে করতো সমাজে নারীদের সাথে বৈষম্যের অবসান ঘটতে পারে নারীদের ভোটাধিকার প্রাপ্তির মাধ্যমে। তারা মনে করতো নারীদের মতামত প্রকাশের অধিকার নেই বলেই তারা বৈষম্যের শিকার। আর এই দাবীকে সামনে রেখে 1st Wave Feminism এর যাত্রা শুরু এবং এর সমাপ্তি ঘটে নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে।

কিন্তু ভোটাধিকার প্রাপ্তির পরেও দেখা গেল নারীদের সামাজিক অবস্থানের তেমন কোনো পরিবর্তন আসলো না। তাদের সাথে আগের মত বৈষম্য, শোষণ, নিপীড়ন, উৎপীড়ন অনেকটাইই রয়ে গেল। ১৯৬০ - ১৯৭০ এর দিকে আবার নতুনভাবে নারীদের প্রতি বৈষম্য, শোষণ, নিপীড়ন, উৎপীড়নের কারণ খোঁজা শুরু হয়। এইবার একটা প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে তখনকার নারীবাদীরা 'কোথায় নারীরা সবচেয়ে বেশী নিপীড়ন, বৈষম্যের শিকার?' নতুন নারীবাদীদের দ্বারা সে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তারা দেখলো 'পরিবারের মধ্যেই নারীরা সবচেয়ে বেশী নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার'।

৬০ এর দশকে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ মনে করতো পরিবারই একমাত্র জায়গা যেখানে স্বামী-স্ত্রী তাদের সন্তানদের নিয়ে মিলেমিশে সুখে শান্তিতে বসবাস করে। কিন্তু তখনকার নারীবাদীরা প্রথাবিরোধী, রেভ্যুলেশনারী ক্লেইম করলো 'পরিবারের মধ্যেই নারীরা সবচেয়ে বেশী নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার'। এর সাথে 2nd Wave Feminism এর উদ্ভব হয়। র‍্যাডিকেল ফেমিনিস্টদের উত্থান ঘটে মূলত তখন থেকেই। এই র‍্যাডিকেল ফেমিনিস্টরা বলেন, সমাজে নারীর দৈন অবস্থার জন্য দায়ী হচ্ছে পরিবার। যেহেতু নারীরা পরিবারের ভেতর শোষণ, নিপীড়ন, বৈষম্যের শিকার সেহেতু নারীরা পরিবারের বাইরে অর্থাৎ সমাজে শোষণ, নিপীড়ন, বৈষম্যের শিকার। পরিবারে নারীদের শোষণ, নিপীড়ন বন্ধ হলেই সামাজিক ক্ষেত্রেও নারীদের শোষণ, নিপীড়ন বন্ধ হবে। এবং এই সমস্যাকে সমাধান করতে হলে পার্সোনাল কে পলিটিকাল করতে হবে। এখান থেকেই 'The personal Is Political' শ্লোগানের উৎপত্তি। ১৯৬৯ এর ফেব্রুয়ারি মাসে Carol Hanisch নামে একজন নারীবাদীর নোট 'The Personal Is Political' প্রকাশিত হয় Women's Liberation নামক একটি পত্রিকায়।

যত লিবারেল রাজনৈতিক চিন্তাবিদ আছেন তারা বলেন আমাদের সমাজ দুইভাগে বিভক্ত ১) ব্যাক্তিগত ক্ষেত্র ২) সার্বজনীন ক্ষেত্র। সার্বজনীন ক্ষেত্রকে রাজনৈতিক ক্ষেত্র বলা হয় যেখানে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকে। সার্বজনীন ক্ষেত্রে সরকার তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে, আইন করে জনগনের গতিবিধিকে নিয়ন্ত্রন করে এজন্য সার্বজনীন ক্ষেত্রকে পলিটিকাল বা রাজনৈতিক ক্ষেত্র বলা হয়। অপরদিকে ব্যাক্তিগত ক্ষেত্র(যেমন- পরিবারে) সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই যেখানে একজন ব্যাক্তি তার ইচ্ছামত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এজন্য ব্যাক্তিগত ক্ষেত্রকে নন-পলিটিকাল বা অরাজনৈতিক ক্ষেত্র বলা হয়ে থাকে।সার্বজনীন ক্ষেত্র যাকে বলা হয়ে থাকে পাওয়ার রিলেশন যেখানে একপক্ষ শাসক(সরকার) আরেকপক্ষ শোষিত(জনগন) থাকে অপরদিকে ব্যাক্তিগত ক্ষেত্র যেহেতু নন পলিটিকাল সেহেতু সেখানে কোনো পাওয়ার রিলেশন নেই, অর্থাৎ এটি শাসক কিংবা শোষিত দুইভাগে বিভক্ত নয়। যাহাই সার্বজনীন(পাবলিক) তাহাই পলিটিকাল(রাজনৈতিক)।

2nd Wave Feminism-এ নারীবাদীগণ এই লিবারেল পলিটিকাল থিওরিকে চ্যালেঞ্জ করে বসে। তারা দেখিয়ে দেয় একটি পরিবারের মধ্যে অর্থাৎ ব্যাক্তিগত ক্ষেত্রে 'একজন ব্যাক্তি নিজের ইচ্ছামত সিদ্ধান্ত নিতে পারে' এই সুবিধাটি শুধুমাত্র একজন পুরুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। নারীদের জন্য ইহা প্রযোজ্য নয়, নারীরা শুধুমাত্র পূর্ব নির্ধারিত বিষয়গুলোই করতে পারে। যেমনঃ বাচ্চাকাচ্চা পালন, ঘরের কাজগুলো করা এবং এগুলোকেই স্বাভাবিক বলে ধরা হয়, তাদের কোনো নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নেই। নারীবাদীরা আরো বলেন, 'ব্যাক্তিগত ক্ষেত্রে পাওয়ার রিলেশন নাই অর্থাৎ একপক্ষ শোষিত অন্যপক্ষ শাসক এমন কিছু নেই' - এটিও ভুল একটি ধারণা। কারণ একটি পরিবারের দিকে তাকালেই বুঝা যায় একজন পুরুষ ডোমিনেট করে নারীর উপর। স্বামী-স্ত্রীর রিলেশন পাওয়ার রিলেশনের একটি উদাহরণ এখানে পুরুষ সুপেরিয়র আর নারী ইনফেরিয়র।

নারীবাদীদের মতে ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে অর্থাৎ একটি পরিবারের ভেতর নারীপুরুষের মধ্যে অসমতা, অসামঞ্জস্য দেখা যায়, একজন শোষিত আরেকজন শাসকের ভুমিকায় দেখা যায়, এখানে কেউ সুপেরিয়র কেউ ইনফেরিয়র। কিন্তু এসব থাকে আড়ালে এর কারণ হলো পরিবারের ভেতর সরকারের হস্তক্ষেপ করার মত অধিকার তখনো নেই। যদি সার্বজনীন ক্ষেত্রে এমন অসমতা, অসামঞ্জস্যতা, ভেদাভেদ থাকে তাহলে সরকার খুব সহজেই তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যেহেতু ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ নেই সেহেতু এ বিষয়গুলো আড়ালেই থেকে যাচ্ছে যার ভুক্তভোগী হচ্ছে একমাত্র নারীরাই।

নারীবাদীরা বলেন এই ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং এজন্য ব্যাক্তিগত ক্ষেত্রের বৈষম্যগুলো সরকারের দৃষ্টিগোচরের জন্য খুলে দিতে হবে যাতে ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে(পরিবারের ভেতরে)মেয়েদের সাথে ঘটে যাওয়া বৈষম্য, নিপীড়ন, উৎপীড়নগুলো সরকার জানতে পারে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। আর যখন আমরা পরিবারের ভেতর বৈষম্যগুলো খুলে দেবার কথা বলছি তখন আমরা এই কথাই বলছি 'The Personal is Political'. পরিবারে একজন নারীর যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অর্থাৎ সে যে বৈষম্যের শিকার সেই ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতাকে পলিটিকাল(রাজনৈতিক) করতে পারলে তখনই পরিবারের মধ্যে নারীপুরুষের সমতা আসতে পারে, নারীদের প্রতি চলমান বৈষম্য, শোষণ নিপীড়ন বন্ধ হতে পারে। আর পরিবারে এসব বন্ধ হওয়া মানে সমাজেও বন্ধ হওয়া।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ফাহিম আল হামীম
ফাহিম আল হামীম এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 6 দিন ago
Joined: শুক্রবার, অক্টোবর 16, 2015 - 9:40অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর