নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • নগরবালক

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

চিকিৎসা ব্যয়- বাঁচতে চাই


নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, বহুল প্রচলিত ও জনপ্রিয় প্রবাদ। বিশেষত নিন্মবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনে এ এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা ।
দেশ এগিয়েছে সন্দেহ নেই, দেশের মানুষের গড় আয়ও বেড়েছে কিন্তু এই অবস্থার খুব একটা হেরফের হয়েছে বলে মনে হয় না, বরং আরও কিছু মানুষ এই তালিকায় ঢুকে গেছে যাদের আমরা সচ্ছল মধ্যবিত্ত বলতে পারি। তাহলে দেখা যাচ্ছে মানুষের গড় আয় বেড়েচ্ছে, জীবন যাত্রার মানও বেড়েচ্ছে নিঃসন্দেহে কিন্তু সেই অনুপাতে আয় বেড়েচ্ছে আরও বেশি, ফলস্বরূপ আয় ব্যয়ের বিশাল যাতাকলে আজ সবাই পিষ্ঠ।
প্রসঙ্গ চিকিৎসা ব্যয় ও জনজীবনে তার প্রভাব এবং উত্তরনের উপায়
প্রথমেই আসি চিকিৎসা ব্যয়ের ধারনা নিয়েঃ
চিকিৎসা ব্যয় একটা বৃহৎ পরিসর। একজন মানুষ অসুস্থ্যতা জনিত কারনে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য যে যে খাতে ব্যয় করেন সবই চিকিৎসা ব্যয়। এর মধ্যে চিকিৎসকের ফিস, ওষুধের দাম, হাসপাতালের খরচ, এই উদ্দেশ্যে যাতায়াত বাবদ খরচ ইত্যাদি।
একটা উদাহরণ দিয়েই শুরু করা যাক, European Academic Research Vol. V, Issue 8/November 2017 তে একটি গবেষণা পত্র প্রকাশ হয়েছে উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের ষাণ্মাসিক চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে। পিহআই ডাঃ রতীন্দ্রনাথ মন্ডল ও তার গবেষক দলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে হাইপারটেনসন এন্ড রিসার্চ সেন্টার রংপুরে আগত রোগীদের মধ্যে ৩২৪ জনের উপর । এই গবেষণায় দেখা গেছে ৯৮.৭% ভাগ রোগীই নিয়মিত ওষুধ খান।
চিকিৎসা ব্যয় হিসেবে ওষুধের দাম, পরীক্ষা নীরিক্ষা খরচ, চিকিৎসকের ফিস, যাতায়াত খরচ ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর ক্ষেত্রে সার্বিক খরচ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তথ্য দাতাদের গড় বয়স ৪৭ বছর।
ফলাফলে উঠে এসেছে, গত ৬ মাসে গড় চিকিৎসা ব্যয় ৪৭৯৫ টাকা। এই ব্যয় যাদের কমপ্লিকেশন নেই তাদের ক্ষেত্রে ৪৬৭১ এবং যাদের কমপ্লিকেশন আছে তাদের বেলায় ৫৯২৯ টাকা। যাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লেগেছে তাদের ক্ষেত্রে ৮১২১ টাকা।
খাত ভিত্তিক যদি হিসাব করা হয় তাহলে, দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে পরীক্ষা নিরীক্ষা বাবদ, যার পরিমান গড়ে ১৪০৩ টাকা এবং দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ওষুধের দাম ১১৯৭ টাকা। উল্লেখ্য চিকিৎসকের ফিস বাবদ খরচ পড়েছে গড়ে ৪১ টাকা, আবার বলছি মাত্র ৪১ টাকা।
অতএব যে সাধারণ বিশ্বাস, চিকিৎসা ব্যয়ের পয়সা সব যাচ্ছে ডাক্তারের পকেটে তা কতটা ভুল চিন্তা করুন।
একই সাথে মাথায় রাখুন, এদের মাঝে ৪৭% এর গড় আয় পাঁচ হাজার বা তার নিচে!

এত কথার উপর আরও কথা থেকে যায়, সে হল এখানে কতগুলো ব্যাপার বাদ গেছে। তা হল চিকিৎসা বাবদ তার ব্যয়কৃত সময়ের মূল্যমান এখানে বিবেচনা করা হয় নি। তাচ্ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শের বাইরে এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীর তথ্য এখানে আসে নি। এবং এটি শুধুমাত্র নিয়মিত সেন্টারের আউটডোরে যারা সেবা নিয়েচ্ছেন তাদের হিসাব, অথ্য সেবা প্রতিষ্ঠান ও তুলনামূলক আরও ব্যয়বহুল প্রতিষ্ঠানও বাদ গেছে।
এ পর্যন্ত গেল গাণিতিক পরিসংখ্যান। এবার কয়েকটা কেস স্ট্যাডিতে চোখ বুলায়।
কেস স্ট্যাডি-১
নিরীহ গৃহস্থ মানুষ, হালকা পাতলা গড়ন। চায়ের দোকান করেন, সামান্য চাষের সম্পত্তি আছে। সাথে ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার ব্যয়ের চাপ, কিছু পারিবারিক অশান্তিও আছে। সবমিলিয়ে চলে যাচ্ছে কোন রকম। মাঝে মাঝে একটু বুকে একটু চাপ বোধ করতেন, জেলা সদর হাসপাতাল ৯ কিলোমিটার, উপজেলা ১৫ কিলোমিটার। একদিন দোকান বন্ধ রেখে যাওয়া সম্ভব ছিল না! তার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে গোটা পরিবার। সরকারী হাসপাতালের আউটডোরে যে ভিড় তা ঠেলে ডাক্তার দেখাতে একটা দিন লাগে, তার উপর আছে পরীক্ষা নীরিক্ষা। ২ দিন লাগবেই। ২ দিন কিভাবে ম্যানেজ করে যাবেন! যাওয়া আর হয় না, সমস্যা হলেই পাশের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খেতেন। দিন যায় মাস যায়, সমস্যা বাড়ে বৈ কমে না। একদিন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিটিভ আত্মীয়ের সহযোগিতায় এক সিনিয়র ডাক্তারের কাছে যেয়ে প্রথম ধরা পড়ল হার্টের সমস্যা! এঞ্জিওগ্রাম করাতে হবে। প্রতিবেশি এক তরুন ডাক্তার আছেন, বছরে ২/৩ বার বাড়ি আসেন। তার সাথে আলচনা করলেন কি করা উচিৎ। ডাক্তারের পরামর্শ হল যত দ্রুত সম্ভব করিয়ে নিন, ঢাকায় যান। ঢাকায় ছাড়া এর ভাল সেবা অন্য কোথাও পাওয়া দুরূহ। ঢাকায় সরকারী প্রতিষ্ঠেনে স্বভাবতই অনেক চাপ, বেসরকারীতে খরচ অনেক। সব ভেবে দেখলেন, লোকের কাছেও পরামর্শ করলেন। অবশেষে অন্য রোগীদের কাছেও শুনলেন, যে কোলকাতার হাসপাতাল গুলোতে সহজেই সেবা পাওয়া যায়, খরচ একই প্রায় তবে হয়রানি হতে হয় না।
পাসপোর্ট, ভিসা করে রওয়ানা দিলেন, ডাক্তার দেখালেন। সব মিলিয়ে খরচ বিশাল। বাধ্য হয়ে জমি বেচলেন। সামান্য ফসলের জমির সিংহভাগই বেঁচে দিলেন। এখন সুস্থ্য, তবে আগের মত কাজ করতে পারেন না, জমিটাও নেই। দোকানের সামান্য আয়, দিনাতিপাত করাই দুঃসাধ্য।
কেস স্ট্যাডি-২
পেশায় ক্ষুদ্র যানবাহন চালক, আয় মন্দ না। পৈতৃক সামান্য জমি সাথে নিজের আয়, চলছিল ভালই। মাঝে মাঝে মাথা ব্যথা হত, ফার্মেসিতে যেতেন। বলত প্রেসার নাকি হাই। একটা ওষুধ খেলে আবার ঠিক। এভাবেই চলছিল। হটাৎ স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি! জমানো টাকার সাথে একটা বড় ঋণও হয়ে গেল! এখনও চলাচলে সক্ষম হন নি। কতদিন লাগবে কে জানে? হয়ত বছরই লেগে যাবে! কাজহীন অবস্থায় এভাবে পড়ে থাকলে বাড়তে থাকবে ঋণের বোঝাও। ভবিষ্যতে আধার ছাড়া কিছুই চোখে দেখেন না তিনি।
কেস স্ট্যাডি-৩
মোটামুটি সচ্ছল কৃষক। এককালে ডাকসাইটে খেলোয়াড় ছিলেন। ছোটখাটো সমস্যা কেয়ারই করেন না। কোমরে ও ঘাড়ে ব্যথা আছে। বেশি ব্যথা হলে ব্যথার ওষুধ খান। এভাবেই চলছিল। কোমর ব্যথা বাড়তেই থাকে। আত্মীয় একজন ডাক্তার, প্রাথমিক চিকিৎসা দেন, কাজ না হওয়ায় বলেন বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে। ধরা পড়ল পুঁজ জমেছে, সাথে কিডনির কার্যকরিতাও কমে গেছে! অনেক ভোগান্তির পর অপারেশন হল। পুরোপুরি আর ভাল হলেন না। কিডনি বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসাধীন আছেন। গাদা গাদা টেস্ট করা লাগে। এদিকে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ, অন্যদিকে নিজের চিকিৎসা ব্যয়। কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। খুব দিশেহারা লাগছে।

সমস্যার বর্ননা গেল, এখন সমাধান?
সত্যিই বলতে কি এর সমাধান পুরোটা আপানার বা আমার হাতে নেই। এর সমাধান রাষ্ট্রের হাতেই সবচেয়ে বেশি। তবুও ব্যক্তি পর্যায়ে আমাদের কিছু করণীয় আছে।
যেমন
১) স্বাস্থ্য ব্যয় হিসেবে আলাদা কিছু টাকা জমিয়ে রাখা । হতে পারে মাথাপিছু মাসে ১০ টাকা। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন হলে মাসে ৫০ টাকা খুব কঠিন নয়। হয়ত এটা দিনশেষে বড় কোন এমাউন্ট না, তবুও হটাৎ প্রয়োজনে এটি বেশ ভাল সাপোর্ট।
২) পারিবারিক চিকিতসক/ফ্যামিলি ফিজিসিয়ানঃ এটি বেশ ফলপ্রসূ ধারনা। ধরুন আপনার পরিবারের সবাই নির্দিষ্ট কোন এমবিবিএস ডাক্তারের চিকিৎসা নেন। তাহলে লাভের লাভ হল, আপনার পরিবারের রোগের গোটা ইতিহাস উনার জানা থাকবে। ফলে উনি সহজেই কার কিসের ঝুঁকি এবং তার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভাবতে পারবেন। এটি চিকিৎসা ব্যয় ও হ্রাস করবে।
৩) কমিউনিটি ফিজিসিয়ানঃ এটা আমার কাছে সেরা ধারনা মনে হয়। যেমন ডায়াবেটিস ফিজিসিয়ান। অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগীরা মিলে বানায় ডায়াবেটিস সমিতি হাসপাতাল, সেখানে ডাক্তার আসে চিকিৎসা দিতে। তেমনি এলাকা ভিত্তিক বা রোগ ভিত্তিক যদি সমিতি/ সম্মিলনী গড়ে তোলা যায় তাহলে সামান্য অর্থ একত্রিত করে তা দিয়ে অনায়াসে একজন ডাক্তার দিয়ে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা নেওয়া যায়।
ধরুন এলাকায় ৫০০ জনের সমিতি, মাসে ৫০ টাকা দিলে হয় ২৫০০০ টাকা। সপ্তাহে দুই/তিনদিন বৈকালিক চেম্বার করার একজন ডাক্তার ২৫ হাজারে পাওয়া যাবে অনায়াসে। সপ্তাহে ২ দিন হলেও তিনি বসবেন ৮ দিন মাসে, সবাই প্রতিমাসে দরকার হয় না। তাই গড়ে দিনে ৩০ জন সেবা নিতে পারবে। যদিও চাপ একটু বেশিই তবুও মন্দের ভাল বিকল্প এটি। ধীরে ধীরে বাজেট ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নতির সাথে সাথে স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগের দিকেও যাওয়া যাবে।
৪) স্বাস্থ্য বীমাঃ ব্যাপারটা আসলে এখনও নীতি নির্ধারকদের হাতে। তবে উন্নত দেশের মত স্বাস্থ্যবীমা ব্যাপারটা আমাদের জন্য খুব কার্যকর হতে পারে।

একটি জাতির সুস্বাস্থ্য ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কল্পনা মাত্র। তাই আমাদের অবস্থান থেকে এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে কাজ করার কোন বিকল্প নেই।
কঠিন তবে অসম্ভব নয়।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অনুপম দাস
অনুপম দাস এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 12 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, ফেব্রুয়ারী 23, 2014 - 12:17অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর