নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নগরবালক
  • শ্মশান বাসী
  • মৃত কালপুরুষ
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

খালেদা জিয়ার রায় জনমনে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে?


২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে বিশেষ জজ আদালত-৫। এই রায়ের বিরুদ্ধে কিছু বলার নেই। আদালতের বিবেচনায় খালেদা জিয়া দোষী বলে প্রমাণ হওয়ায় তাকে অপরাধী বলে মেনে নিচ্ছি। কেবল আইনের ছাত্র হিসেবেই নয়, দেশের একজন নাগরিক হিসবে আমি সবসময় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্টার পক্ষে। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এই রায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। যে মানুষের কোটি কোটি সমর্থক, যিনি দেশের একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, তাঁর বিরুদ্ধে রায় দেয়া সত্যিই যুগান্তকারী!

খালেদা জিয়ার দলের নেতারা এবং তাঁর অনুসারীরা অবশ্য এই রায়কে প্রহসনের রায় বলে অভিহিত করেছেন, যা স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। কেননা, অনুসারীদের কাছে নেতা সর্বদা নিষ্পাপ, নিষ্কলঙ্ক। তবে বেগম জিয়ার অনুসারীদের কিছু যুক্তি একে বারেই ফেলে দেয়ার মতো নয়। বিশেষ করে নিম্ন আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় শাসক গোষ্ঠির হস্তক্ষেপের ঘটনা এদেশে নতুন নয়। ‘কর্তার ইচ্ছায় কর্ম’ – এই কথা মেনে অনেক সময় নিম্ন আদালতে সরকারের প্রেসক্রিপশন মেনে রায় দেয়া হয় বলে পুরনো অভিযোগ রয়েছে। যদিও সবাই যদি আইনের শাসন মেনে চলতেন, বিচার বিভাগের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ না করতেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে আইনকে আইনের গতিতে চলতে দিতেন, তাহলে নিম্ন আদালত সম্পর্কে মানুষের এমন বিরূপ ধারনা তৈরি হতো না। খালেদা জিয়ার আইনজীবিরা রায়ের আগেও বলেছিলেন, আইন যদি নিজের গতিতে চলে, তাহলে তিনি (খালেদা জিয়া) খালাস পাবেন। খালেদা জিয়ার আইনজীবিদের বক্তব্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার সাজা হওয়াতে প্রমাণ হচ্ছে, আইন নিজের গতিতে চলেনি। আইন তার নিজের গতিতে চলতে না পারার পিছনে বিএনপি’র কি কোন দায় নেই? খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার জন্যও কি বিএনপি দায়ী নয়? বিএনপি যদি তার শাসনামলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতো, তাহলে কি বেগম জিয়া ‘ন্যায় বিচার’ থেকে বঞ্চিত হতেন?

সব ঠিকঠাক থাকলে এই বছরের শেষ পর্যায়ে দেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা ৩৫ টি মামলার দুটিতে রায় হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যার একটি আজ ঘোষিত হলো, আরেকটি রায় হয়তো মাস দুয়েকের মধ্যেই ঘোষিত হতে পারে। এই দুটি মামলা-ই দূর্ণীতি সংক্রান্ত। যদিও জ্বালাও পোড়াও আন্দোলনের মাধ্যমে শত শত মানুষ খুনের মামলার কোন অগ্রগতি নেই। যায় হোক, বেগম জিয়ার যে দুটি মামলার রায়ের কথা বললাম, সেই দুটি রায় যদি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যায়, সেটা আওয়ামীলীগের জন্য নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে বড় প্রাপ্তি। খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কি পারবেন না, সেটা পরের বিবেচ্য। যদি তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করে রায় স্থগিত করেন, তবু তাঁর বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের রায় ব্যবহার করে প্রচারনা চালানো হবে। গত কয়েক বছর ধরেই প্রধানমন্ত্রী সকল সভা সমাবেশে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন। নির্বাচনের আগে এই দুটি রায় প্রধানমন্ত্রীর এমন অভিযোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিবে। রায়ের পর এতিমের টাকা মেরে খাওয়াটা আর অভিযোগ থাকবে না, সেটা প্রমাণিত সত্য বলে প্রতিষ্ঠা হবে, যা নির্বাচনে বিএনপি’র বিরুদ্ধে কাজ করবে।

সরকারের লোকজন বলছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষনা প্রমাণ করে কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। এই রায়ের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে! সরকারের এমন বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত হতে পারছি না। কেননা, হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা ব্যক্তিরা সরকারের পকেটে থাকে। শেয়ার বাজারের অর্থ লুট করা কর্তাব্যক্তিরা সরকারের নেক নজরে থাকে। লুটপাটকারীদের রক্ষা করার জন্য লুটপাটের তদন্ত হলেও সেটা প্রকাশ করা হয়না। রিজার্ভ চুরির হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থাকে। দেশের ব্যাংকিংখাতকে পঙ্গু করে দেয়া ব্যক্তিরা আইনের শাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে চলে। দেশ থেকে অর্থ পাচার হওয়ার পরিমাণ অতীতের সমস্ত রেকর্ডকে পায়ে পিষে চললেও, অর্থ পাচারকারীরা থাকে বহাল তবিয়তে। তাই কে কত বড় সেটা বিবেচ্য নয়, বিচারের ক্ষেত্রে দেখা হচ্ছে, কে সরকারের নেক নজরে আছে আর কে বদ নজরে আছে। সরকারের নেক দৃষ্টিতে থাকা লুটপাটকারীদের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মতো বড় হওয়া লাগে না, তাঁরা এমনিতেই আইনের উর্ধ্বে থাকে!

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতই বিবেচ্য। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেটা সময়ের হাতে ছেড়ে দিলাম। তবে, রাজাকারকে আত্মীয় বানিয়ে, পাশের চেয়ারে বসিয়ে, যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে, সেই বিচারকে কিছু মানুষের কাছে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তেমনি ব্যাংকলুটের হোতাদের বহাল তবিয়তে রেখে, শেয়ারবাজারের কেলেঙ্কারির হোতা দরবেশ বাবাকে খুশি রেখে, দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকে কারাগারের অন্ধকারে নিক্ষেপ করা প্রশ্নবিদ্ধ হবে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অলিখিত ইনডেমনিটি প্রদান করে, নিজ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের দুধ কলা খাইয়ে লালন – পালন করে, খুনি – ধর্ষকের জন্য দেশকে নিরাপদ ভূমি বানিয়ে, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন কেবল দিবা স্বপ্নই থেকে যাবে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ
কফিল উদ্দিন মোহাম্মদ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 1 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, মে 8, 2016 - 11:31পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর