নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নগরবালক
  • শ্মশান বাসী
  • মৃত কালপুরুষ
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দুধভাতে উৎপাত গল্পে সমকালীন নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাপনের চিত্র



বাংলা কথা সাহিত্যের যেকজন সাহিত্যিক খ্যাতি সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থান করছেন তাঁদের মধ্যে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস একজন।

তাঁর লেখা যতই পড়ছি ততই অভিভূত হচ্ছি। বাংলার নিম্ন-মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত মানুষের জীবন কাহিনী সাহিত্যের পটভূমি করেছেন এমন লেখক খুব কমই।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলার মানুষের দুঃখ-দৈন্য -দুদর্শা, দৈনন্দিন জীবন কাহিনীকে লেখনী হিসেবে বেচে নিয়েছেন। তাঁর লেখায় একদিকে ফুটে উঠেছে নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনচিত্র অন্যদিকে উচ্চবিত্ত মানুষের জীবনচিত্র। উচ্চবিত্ত কর্তৃক নিম্নবিত্ত মানুষ চিরকালই নিঃপেষিত হয়ে আচ্ছে তাঁর সাহিত্যে তিনি দেখিয়েছেন।

নিম্নবিত্ত আর উচ্চবিত্ত মানুষের মধ্যে যে বিভেদ তা তিনি অসাধারণ সমীকরণের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন।উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের মধ্যে সমীকরণ একঁছেন তাঁর "দুধভাতে উৎপাত" গল্পে। এ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র জয়নব। জয়নবের মৃত্যুপথে যাত্রাকালে সন্তানদের দুধ ভাত খাওয়ানোর শেষ ইচ্ছার মাধ্যমে তিনি বাংলার মানুষের দুর্দশা জীবন কাহিনী তুলে ধরেছেন।

"দুধভাতে উৎপাত" গল্পে আমরা দেখতে পাই যে গ্রামীণ বধূর করুণ ইতিহাস। গ্রামীণ পরিবারের একজন গৃহস্থ বধূ জয়নব। জয়নবের স্বামী কসিমুদ্দিন মসজিদের মুয়াজ্জিন। মাঝে মাঝে ইমামের অবর্তমানে নামাজের ইমামতি করে। আর কুরবানি ঈদে পশু জবেহ করে। কসিমুদ্দিন বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারেনা। বছর শেষে সে কুরবানি ঈদে পশু জবেহ করার পর যে ৮/১০ সের মাংস পায় তা নিয়ে আনন্দে বাড়ি যায়। কসিমুদ্দি যখন বাড়িতে যায় তখন জয়নবের পরিবারের সুখের সীমা থাকে না। কসিমুদ্দি বাড়ি থেকে চলে আসার পর আবার শুরু হয় জয়নবের কষ্টের জীবন যাপন।

জয়নব একজন সংগামী নারী। জয়নবের একমাত্র সম্বল তার কালো গাভী। গাভীর দুধ বিক্রি করেই সে অনেক কষ্টে সংসার চালাতো।শুধু দুধ বিক্রির টাকাতে কি আর একটি সংসার চলে! তাই সন্তানদের খাওন জোগার করার জন্য হাসমত মহুরীর জামাইয়ের দোকান থেকে বাকীতে চাল নিয়ে আসত। ঠিকমতো টাকা পরিশোধ না করার কারণে জয়নবের ২০ সের চালের টাকা বকেয়া পরে যায়। বকেয়া পরিশোধ না করার কারণে হারুন মৃধা জয়নবের কালো গাভীটা নিয়ে যায়। হারুন মৃধা শর্ত দিয়ে যায় যে, জয়নব চালের বকেয়া টাকা পরিশোধ করলে গাভী ফেরত পাবে। যতদিন না বকেয়া পরিশোধ না হয়েছে ততদিন গাভী হারুন মৃধার।

এ গল্পের একপর্যায়ে দেখা যায় জয়নব পেটের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। বমি বমি ভাব হয় তার। একসময় জয়নব বিছানায় পড়ে যায়। জয়নবের অবস্থা খারাপের দিকে যায়। সে ইচ্ছা পোষণ করে দুধ ভাত খাবে। কিন্তু কোথাও দুধ পাওয়া যায় না। শেষ মেশ জয়নব তার ছেলে ওহিদুল্লাকে পাঠাই হাসমত মহুরীর কাছে তাদের বন্ধক রাখা গাভীর দুধ নিয়ে আসতে। ওহিদুল্লা মায়ের জন্য দুধ নিতে গেলে হাসমত আলীর পরিবারের কাছে নানা অকথ্য-অশালীন শোনে।যা ওহিদুল্লা কখনোই ভাবিনি।হাসমত মহুরীর বউ বলে, " হায়রে আল্লা! তর মায়ের না প্যাটের ব্যারাম? চিরকালের সূতিকার রোগী? হ্যারে তুই দুধ' খাওয়াইবি? পাগলা হইছস?
আবার বলে, " তর মায়ে-- বুইড়া মাগিটার ঢঙের হাউস হইছে দুধভাত খাইবো!

হাসমত মহুরীর বৌয়ের কথার মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারি যে তাদের কাছে মৃত্যু পথযাত্রী মানুষের শেষ ইচ্ছা কোন মূল্য নেই। নিম্নবিত্ত অসুস্থ মানুষের দুধ খাওয়ার ইচ্ছাটা তাদের কাছে ( উচ্চবিত্ত) পরিহাসের বিষয়।

ওহিদুল্লা নিরাশ হয়ে হাসমত মহুরীর বাড়ি থেকে ফিরে আসে। এদিকে জয়নব তার জা হামিদাকে অনুরোধ করে দুধ জোগাড় করার জন্য। হামিদা কোন উপায় না পেয়ে আটা গরম পানি দিয়ে মিশিয়ে জয়নব ও তার সন্তানদের (খাদিজা,রহমতউল্লাহ,ওহিদুল্লা,আহমদউল্লাহ,হাজেরা) খেতে দেয়। আটা মিশানো পানি দুধ মনে করেই তারা গোগ্রাসে খায়।

অভুক্ত ক্ষুধার্ত মানুষের স্বাদ নির্ণয় করার সময় নাই। কতটা ক্ষুধার্ত থাকলে মানুষ কোনটা দুধ আর কোনটা আটা মিশ্রিত সাদা পানি বুঝতে পারেনা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস তা সুন্দর করে দেখিয়েছেন।
কিন্তু জয়নব বুঝতে পারে যা খাওয়াছে তা দুধ নয়। তাইতো তার জাকে বলে, "বুবু, পোলাপানরে তুমি কি খাওয়াইলা? হামিদা বিবি মাথা নিচু করে থাকে। ঐ অবস্থায় আস্তে আস্তে বলে, কী করি পোলাপানেরে দুধভাত খাওয়াইতে চাস। কী করি চালের গুড়ি জ্বাল দিয়ে দিলাম! বলতে বলতে তার গলা চড়ে এবং সরাসরি জয়নবের দিকে তাকায়, ক্যান বৌ? চাইলের গুড়ি পোলাপানের কুনোদিন খাওয়াস নাই? দুধ দিছস কয়দিন? দুধের স্বাদ তর পোলাপানে জানে কি?"

এই কয়েকটি বাক্যের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ জীবনের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।
আর একটি কথা। জয়নবের সন্তানদের দুধভাত খাওয়ানোর শেষ ইচ্ছার মধ্য দিয়ে বাঙ্গালীর মনের চিরন্তন ইচ্ছা ফুটে উঠেছে। যা আমরা অন্নদামঙ্গল কাব্য ঈশ্বর পাটুনী র কথায় দেখতে পাই। " আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে"।

দুধভাতে উৎপাত গল্পের হারুন মৃধা র চরিত্রের মধ্য দিয়ে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস মহাজনদের জীবনচিত্র অঙ্কিত করেছেন।
এ গল্পের অন্যতম আরেকটি বিষয় যখন ওহিদুল্লা চালের গুড়ি মিশ্রিত পানি খায়, তখন জয়নব বমি করে। এই বমি করাটা ওহিদুল্লার কাছে অসহ্য মনে হয়। কারণ ওহিদুল্লার কাছে ক্ষুধা নিবারণ করাটাই মূখ্য। তার মায়ের অসুস্থতা তার কাছে গুরুত্ববহন করেনা।
কতটা ক্ষুধার্ত থাকলে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান বা সাধারণ ন্যূনতম মায়া মমতা লোপ পেয়ে যায়। তা ধারণাতীত।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সত্যানুসন্ধানী কথক
সত্যানুসন্ধানী কথক এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 দিন ago
Joined: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 29, 2016 - 5:42অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর