নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ওয়াহিদা সুলতানা
  • নগরবালক
  • উদয় খান
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • আশিকুর রহমান আসিফ
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

জগতের সমস্ত সাফল্য সিগারেটখোরদের অধিকারে যাবে


জীবনে তো একটাও সিগারেট খাইলি না। কি করলি এই জীবনে?
বন্ধুর এই বাচ্যে আমি রীতিমত আৎকে উঠলাম। অবশ্য মুখে কিছু বললাম না। কপালে তৎক্ষণাৎ চিন্তার ভাঁজ পড়ল। আচ্ছা, আমি কি সত্যি জীবনে কিছু করিনি? আমার জীবনটা কি এই সিগারেট না খাওয়ার জন্যই ব্যর্থ হয়ে গেল? হায় হায়! এ তো বড় চিন্তার বিষয়!

কলেজে থাকতে আমার ফ্রেন্ড সার্কেলের কেও সিগারেট খেত না। কেও খেত না বললে একটু ভুল হবে। খালি একজন খেত। সে ছিল অন্য সেকশনে। সিগারেট কেন খাস জিজ্ঞেস করলে বলত, এক্সপেরিয়েন্স নেয়ার জন্য খাই। লাইফে সব কিছুর এক্সপেরিয়েন্স নেয়া দরকার। কি আছে আর জীবনে? আমিও ব্যাপারটাতে আর নাক গলালাম না। বরঞ্চ মনে হল বন্ধু ঠিকই বলেছে। কী আছে আর জীবনে!

ভার্সিটি লাইফের প্রথম দিনগুলোতে দেখতাম বড় ভাইরা সিগারেট ফুঁকতে ফুঁকতে সিনিয়র আপুদের সামনে বসে দেদাম আড্ডা মারছে। আমি দেখতাম আর বিষ্মিত হতাম। ভেবেই পেতাম না ছেলেরা কীভাবে মেয়েদের সামনে এমন নির্লজ্জের মত সিগারেট টেনে টেনে আড্ডা মারতে পারে। আর আপুরাও কিছু বলছে না। অবাক করা বিষয় হল তাদের কোন সমস্যাও হচ্ছে না। অথচ এই কয়দিন আগে কলেজে থাকতে আমাদের ছেলেদের সামনেও কেও যদি সিগারেট খেত আমরা বিব্রত বোধ করতাম। আমাদের অসুবিধা হত। কিন্তু ঐ অবাক হওয়া আর বেশিদিন টিকল না। এখন ভার্সিটিতে ফ্রেন্ডদের সাথে কোথাও আড্ডা দিতে বসলেই দেখা যায় কোন না কোন ফ্রেন্ড সিগারেট খাচ্ছে। অসুবিধা হলেও তাকে কিছু বলার থাকে না। যদি বলি সিগারেটটা ফেলে দে আমাদের অসুবিধা হচ্ছে তখন সে আড্ডা থেকে উঠে যাবে কিন্তু সিগারেট ফেলবে না। দিন দিন সিগারেটখোরদের পাল্লাও ভারী হচ্ছে। তাদের কাছে আমরা ননসিগারেটখোররা রীতিমত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। পুরো ফার্স্ট ইয়ার পর্যন্ত যে ছেলে সিগারেট খেত না তার হাতেও একদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ করে লক্ষ করলাম একটা জ্বলন্ত সিগারেট। বুঝতে বাকি রইল না সবই স্রোতের সাথে গা ভাসানো। আমার ফ্রেন্ড সার্কেলের সবাই সিগারেট খায় আমি কেন খাব না? মেয়েরা সিগারেট খায় না। আমি কি মেয়ে?

কেন আজকের তরুণদের মধ্যে সিগারেট খাবার এই অদ্ভুত তাড়না তা আমি খুব সহজেই বুঝতে পারি। কারণ আমিও তাদের মত ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট। তাদের মন মানসিকতা সম্পর্কে আমার কিছুটা হলেও ধারণা আছে। আসুন দেখা যাক তারা কি কারণে মূলত সিগারেট খায়।

সিংহভাগ ছেলে সিগারেট খাওয়া শিখে তাদের বন্ধুদের কাছ থেকে। এইসব বন্ধুরা আবার সিগারেট খাওয়া শিখে অন্য বন্ধুদের কাছে। অনেকে আবার শখের বশে নিজে নিজেই শিখে যদিও এদের সংখ্যা অনেক কম। লোকে যে বলে জীবনে হতাশা এলেই সিগারেট খাওয়ার সূচনা হয় এ তথ্যটা পুরোপুরি সঠিক না। হয় তো হতাশ হলে অনেকে হতাশা কাটানোর জন্য সিগারেট ধরে কিন্তু সবাই এই কাতারে পড়ে না। কারো ক্ষেত্রে দেখা গেল তাদের মনে অফুরন্ত ফূর্তি। সময়কে আরো উপভোগ করার জন্য সিগারেট টানে। কেও কেও জাস্ট এক্সপেরিয়েন্স করার জন্য সিগারেট খায়। ছোটবেলা থেকেই তো দেখে আসছি বড়রা সিগারেট খেয়ে আসছে। সিনেমার নায়ক, ভিলেনরাও অনেক মনে অনেক স্ফূর্তি নিয়ে সিগারেট খায়। বিষয়টা কি একটু এক্সপেরিয়েন্স করেই দেখা যাক! একসময় ঐ এক্সপেরিয়েন্স করতে করতেই এক একজন সিগারেটখোরের জন্ম হয়। সিগারেট খাবার পেছনে আরেকটা বড় কারণ হল কিছু কিংবদন্তীর লাইফস্টাইল। অনেক কিংবদন্তীও তুমুল সিগারেটখোর ছিল। তাই আমাদের আজকের তরুণসমাজ ঐ সব কিংবদন্তীর লাইফস্টাইল ফলো করতে গিয়ে সিগারেট টানা শুরু করে। ভাবটা যেন এমন সিগারেট খেলে উনিও ঐ কিংবদন্তীর মত একজন কিংবদন্তী হতে পারবেন! আহা আমাদের তরুণ সমাজ! প্রতিভার কোন দাম নেই। অন্যভাবে বলা যায় আমাদের আজকের তরুণদের মতে সিগারেট খাওয়াই যেন একটা প্রতিভা! সিগারেট খাওয়া এখন রীতিমত একটা আর্ট। গর্ব করার বিষয়। যে সিগারেট খায় সে স্মার্ট। যে সিগারেট খায় না সে আনস্মার্ট। যুক্তিটা বড়ই সেকেলে। এমন যদি হত তাহলে বলতে হয় রিকশাওয়ালারাও অনেক স্মার্ট! কিন্তু সিগারেটখোরদের সাথে তর্কে যাবে কে? কোন যুক্তির ধার তারা ধারে না।

সুযোগ পেলেই সিগারেটখোররা অধূমপায়ীদের নিয়ে ইচ্ছা মত ট্রল করে। তাতে থাকে অপার বিনোদনের খোরাক। তারা অধূমপায়ীদের ‘ভদ্র’ ট্যাগ দেয়। এই ভদ্র ট্যাগ দিয়ে তারা যা বোঝায় তা বুঝতে মোটেও অসুবিধা হয় না কারোরই।
এখন এই যে তরুণদের মধ্যে সিগারেট খাওয়র এই প্রবণতা তা থেকে উত্তরণের উপায় কি? উপায় আর কিছু না। স্রোতের সাথে গা ভাসানোর স্বভাবটাই মূলত দায়ী। অমুকে সিগারেট খায় খাক তাতে আমার কি? আমাকেই কেন খেতে হবে? অনেকে সিগারেট খায় এনজয়মেন্টের জন্য। আমি বলি, দুনিয়াতে এনজয় করার জিনিসপাতির কি এতোই অভাব পড়ছে যে ডেইলি পকেটের টাকা খরচ করে তুচ্ছ সিগারেট কিনতে হবে? এগুলো বরং অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। হতাশার কারণে যে সিগারেট খাওয়া শুরু হয় তা কখনো হতাশা কমায় না। বরঞ্চ বাড়ায়। যে যত বেশি সিগারেট খায় তার মধ্যে হতাশাও একটা নির্দিষ্ট হারে বাড়ে। আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা এটাই বলে।

তো আর কি। আমার জীবনটা আসলে ব্যর্থ না। যারা বলে সিগারেট না খাওয়ার জন্য আমার জীবন বৃথা দোয়া করি তাদের জীবনে সিগারেট খাওয়ার দরুণ প্রচুর সফলতা আসুক!

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অ্যাডল্ফ বিচ্ছু
অ্যাডল্ফ বিচ্ছু এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 49 min ago
Joined: বৃহস্পতিবার, জুলাই 27, 2017 - 8:07অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর