নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ওয়াহিদা সুলতানা
  • নগরবালক
  • উদয় খান
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • আশিকুর রহমান আসিফ
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

ভিআইপিরা সোনার সন্তান, আর সাধারণরা বেশ্যার।


আমার আত্মার প্রাণশক্তি, বাংলাদেশ।
তোকে বড্ড ভালোবাসি, কারনে অকারনে তোকে নিয়ে ভাবি। নতুন একটা ভাবনা ভাবলাম তোকে নিয়ে, কখনো যদি সুযোগ পাই তবে তোর অর্থনীতিকে সচল রাখার অন্যতম উৎস রেমিট্যান্স আছে না? সেটাকে অবৈধ ভাবে দেশে আনার সর্বোচ্চ সুযোগ সৃষ্টি করবো। বিদেশের টাকা দেশে ঠিকই আসবে, তবে তার ভাগ রাষ্ট্র পাবে না, এমন রাস্তা নিশ্চিত করবো। আমি যদি সুযোগ পাই তবে তোর অর্থনীতিকে সচল রাখার অন্যতম রাস্তা আয়কর, ভ্যাট,মূল্য সংযোজন কর ফাঁকির ১০১টা উপায় বাৎলে একটা বই লিখবো। তোর ১৬কোটির অধিক সন্তানের জন্য।

০১.
কথা কথিত “সোনার বাংলাদেশ”, জন্মের পর থেকে তো আর কম শুনলাম না। আর কত শুনবো, এদেশের নামের আগে যে সোনাটা ব্যাবহার করা হয়, সেই সোনাটা আসলে কারা? কৃষক-দিনমজুর? চাকুরীজীবি-ব্যবসায়ী? ছাত্র-শিক্ষক? প্রবাসী-গার্মেন্টস কর্মী? নাকি ভিআইপিরা? লেখা যারাই পড়বেন, বাস্তবতার নিরিখে ভাববেন, দয়া করের কাব্যিক সাহিত্যিক মানসিকতা থাকলে এ লেখা পড়বেন না।

সোনার বাংলাদেশের সোনা হচ্ছে আমাদের ভিআইপিরা, এছাড়া সাধারণ যারা আছে তারা হলো ভিআইপিদের চোখে “সোনাগাছির যৌনকর্মী”। যাদের কোনো মৌলিক অধিকার থাকবেনা, মানবাধিকার থাকবে না, আইনগত সুরক্ষা পাবার অধিকার থাকবে না, কিস্সু না। এই আকালের দেশে যত আইন হয়, যত আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন হয়, যত আইনের ফাঁকি হয়, যত বিচার পক্ষপাত তুষ্ট হয়, যত ব্যবসা হয়, যত অর্থিক প্রনোদনা দেয়া হয় সব কিছুই দেখবেন ওই ভিআইপিদের কেন্দ্র করে। সাধারণদের সেবা বলতে বাংলাদেশে অবকাঠামো গত কিছু স্থাপনা ছাড়া আক্ষরিক অর্থে কি আছে?

অবকাঠামো গত স্থাপনা বলতে, হাসপাতাল,রাস্তাঘাট,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইমারত ইত্যাদিকে বোঝাচ্ছি, এইসব শুধু যুগের পর যুগ থেকে স্থাপনি করা হয়েছে কিন্তু এই স্থাপনা গুলো যে সেবা সাধারণ নাগরিককে দিবে, সেই সেবা দেয়ার মানুষ, উপকরন কিছুই নিশ্চিত করা যায় নি ৪৭ বছর বয়স্ক একটা দেশে। যদিও কিছু সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে তাও ঘুষ-দূর্নীতির আর্শিবাদে জনমানুষের নাভীশ্বাষ তুলছে প্রতিনিয়ত।

০২.
সত্যি, মাঝে মাঝে অবাক হয়ে ভাবি, এই দেশ আসলে কার? আমার? আমার দেশে আমি এতো পরাধীন কেন? আমার দেশের সরকার কার জন্য কাজ করে? বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার সময়ও দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েনি কাদের জন্য? সেই প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের জন্য। মানুষ না খেতে পেয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনকাটাচ্ছে তাদে ৮০০ কোটি টাকা হরিলুট হওয়ার পরেও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে রিজার্ভ আবার ফুলে ফেঁপে উঠছে কেন? উৎসকি? ভিআইপিদের টাকা? অর্থনীতিবিদ আকবর আলী খানের ভাষায় এদেশের অর্থনীতি হলো “শুয়ারের বাচ্চাদের অর্থনীতি”। তিনি এই টার্মটা যে অর্থে ব্যবহার করছেন আমি সেই অর্থে ব্যবহার করছি না।

আমি স্পষ্ট ভাবে বলি, এদেশ যদিও চলে ১৬ কোটি মানুষের টাকায়, তাও এর হর্তাকর্তারা হলেন এদেশের শুয়ারের বাচ্চা ভিআইপিরা। যে ভিআইপিরা এমন কোনো সুবিধা নেই ভোগ করে না, এমন কোনো দূর্নীতি নেই করে না, এমন কোনো আইন নেই যা ফাঁকি দেয় না, এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে ব্যবসা করে না। একটা সুতার রীল ও তাদের ব্যবসার আওতার বাইরে নেই। আর সাধারণ মানুষ খালি দেখেই যাই, বুঝে তবু কিছু করতে পারে না।

০৩.
যেহেতু এই তথাকথিত সোনার বাংলার সোনার সন্তান হলো ভিআইপিরা, এবং সাধারণ-রা হলো “সোনাগাছির যৌণকর্মী” তাই এই সাধারণ-রা একটু সম্মান চায়, একটু অধিকার চায়, চায় নিজে যে পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ ছিলো, তা থেকে বের হয়ে তার সন্তানকে একটা সুনিশ্চিত জীবন উপহার দিতে, যেখানে থাকবে না বৈষম্য, লঞ্চনা, প্রবঞ্চনা, হয়রানী। যেমনটা একজন যৌনকর্মী চায় তার সন্তানকে দিতে। কি আজব ভাবুন তো, প্রথমে সাধারণ নাগরিককে যৌণকর্মীর সাথে তুলনা করায় খুউব অফেনসিভ ফিল করেছিলেন তাই না? একটু অকপট হয়ে ভাবুন তো একজন যৌনকর্মীর তার জীবন নিয়ে যে উৎকণ্ঠা তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তায় ভোগেন তার সাথে আমাদের পার্থক্য ঠিক কতখানি? এখানে আমি প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি উত্তর পাঠক দিবেন।

সাধারণ একজন মানুষের কেন প্রবনতা থাকে দেশের বাইরে গিয়ে বসতি গড়ার, কেন সুযোগ পেলে সন্তানকে স্কলারশীপে বা অর্থব্যায় করে বিদেশেই পড়ায়, কেন চায় না পড়াশেষ করে দেশে ফিরুক তারা? কারন জানে যে সাধারণ একজন নাগরিক যতবড়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজ্ঞ, বিজ্ঞানী, আইটি স্পেশালিষ্ট বা অন্য যাই হোকনা কেন, এদেশে সে ভিআইপি না, সাধারণ বলে বিবেচিত হবে। যেমনটা একজন যৌনকর্মীর সন্তান মহা-শিক্ষিত হলেও বেশ্যার সন্তান বলেই বিবেচিত হয়।

০৪.
যেহেতু সাধারণ নাগরিকরা এই সোনার বাংলার কিস্সু না, তারা শুধুই সাধারণ নাগরিক তবে কেন তাদের কষ্টার্জিত টাকায় রাষ্ট্র ভাগবসাবে? কিসের অধিকারে নিপিড়িত-নিযার্তন-উপক্ষিত প্রবাসিতের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈধ পথে আসবে? যাদের নূন্যতম জীবন যাপনের জন্য একটা মানসম্পন্ন বেতন কাঠামো ভিআইপিরা হতে দিচ্ছে না, সেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের গাধার মতো খাটুনিতে গড়ে উঠে শিল্পের পদক গুলো কেন তারা নিবে? কেন সাধারণ মানুষজন ট্যাক্স দিয়ে ওই ভিআইপিদের জন্য লাল-টেলিফোন, লাল-পাসপোর্ট, এমনকি ট্যাক্সহীন জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান করবে? কি কারনে সাধারণ মানুষ, যার এতো এতো অবহেলিত, বলি দেয়ার প্রশ্নে সর্বাগ্রে যাদের নাম আসে, সেই সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের জন্য ভ্যাট দিবে? আয়কর দিবে?

কোনো কারন নেই, কারন একটা থাকতে পারে, তাহলো এই ভিআইপিরা হলো সোনার বাংলার সোনার সন্তান আর সাধারণ-রা হলো বেশ্যার সন্তান। এবং যেহেতু বেশ্যার সন্তানদের মাথা উুঁচ করে বাঁচার সুযোগ নেই, মাথা উুঁচ করে কি বলছে বাঁচারই সুযোগ নেই। সেহেতু বাঁচতে গেলে এই সোনার সন্তানদের কে আমাদের রেমিট্যান্স দিতে হবে, ট্যাক্স দিতে হবে, ভ্যাট দিতে হবে। এছাড়া আর কি কোনো কারণ থাকতে পারে?

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নগরবালক
নগরবালক এর ছবি
Online
Last seen: 15 min 44 sec ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - 11:50পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর