নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নগরবালক
  • শ্মশান বাসী
  • মৃত কালপুরুষ
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বাতাসরে গাইতে শোনেন : হারুকি মুরাকামি (৩)



চিকাটা কইতে গেলে বইপত্র পড়েই না একদম। আসলে, খেলাধূলার পত্রিকা আর জাঙ্ক মেইল ছাড়া আর কিছু আমি ওরে পড়তে দেখি নাই। তথাপি, সময় নাশের লাইগা আমি যেসব বই পড়ি সেগুলিরে লয়ে অর সব সময় খুব কৌতুহল। মাছি যেমন কৌতুহল লয়ে মাছি মারার লাঠির পানে চায়, অমনেই অয় উঁকি মারত আমার বইগুলার দিকে।
" তুমি বই পড় ক্যান্?" অয় জিগাইল
" তুমি বিয়ার খাও ক্যান্?" আচার মাখানো হেরিং আর সবজির সালাদা মুখে ভরতে ভরতে, অর দিকে চোখ না তুইলাই আমি উত্তর দিলাম। চিকাটা এইটারে বিবেচনা করল অতি গুরুতর এক প্রশ্ন হিসাবে।
" বিয়ারের ভাল বিষয়টা," পাঁচ মিনিট পরে চিকায় কইল, " হইল যে তোমার এর পুরাটাই তুমি মুইতা বাইর করে দাও। একটা ওয়ান আউট, ওয়ান ওন ডাবল প্লে র মত, কিছুই থাইকা যাইব না।"
আমি যতক্ষণ খাইলাম অয় আমারে নীরিক্ষণ করতে লাগল।
"তো, তুমি সারাক্ষণ তাইলে বই পড় কেন?" সে আমার জিগাইল
আমি হেরিঙের শেষ টুকরাটা নামায়া দিয়া প্লেটটা সরায় রাইখা, ''সেন্টিমেন্টাল এডুকেশানের'' কপিটা তুইলা নিয়া পাতা উল্টাইতে লাগলাম।
" কারণ হইল ফ্লবার্ট্স ইতোমধ্যেই মইরা গেছেন গা।"
" তো, তুমি তাইলে জ্যান্ত লেখকদের লেখা বই পড় না?"
" না, পড়ার কোন কারণ দেখি না।"
" ক্যান্? "
" কারণ, আমার যেইটা মনে হয় যে আমি মৃত লোকদেরকে ক্ষমা কইরে দিতে পারব," কইলাম, বারের পিছে রাখা বহনীয় টিভি খানে 'রুট ৬৬' এর পুনঃপ্রচার চলতেসিল, আমার মনোযোগের স্থানান্তর ঘটতেছিল সেইদিকে, " যেইটা করা নিয়ম, আরকী।" কথাটা চিকারে আবারো মগ্ন কইরা দিল চিন্তায়।
" তাইলে, যারা জ্যান্ত আর শ্বাস লইতেসে ঐ লোকগুলির কি হইব?" কয়েক মিনিট পরে হ্যায় শুধাইল। " নিয়মবশতঃ তুমি তো অগোরে ক্ষমা করতে পারবা না।"
" ভাবনার কথা কইছ। অতটা চিন্তা কইরা দেখি নাই। তবে তুমি যদি আমারে ঠেইসা ধর এক কোনায় তাইলে আমার কইতে হইব, হ্যাঁ, ঐটাই হইব মনে হয়। মনে হয় না আমি ওদের ক্ষমা করতে পারব।"
জে আইয়া আমাগো সামনের কাউন্টারের উপ্রে ফ্রেশ দুইটা বিয়ার রাখল।
" তো তাইলে কি করবা এখন? "
" বিছানায় গিয়া বালিশের লগে জড়াজড়ি করব," আমি উত্তরিলাম
" ঐটা আমার জন্যে বেশী আজিব হইয়ে যায়।" চিকায় কইল, মাথা নাড়তে নাড়তে।
আমি চিকার গ্লাসে বিয়ার ঢাললাম, কিন্তু অয় খালি বইসাই রইল ওখানে কুঁজো হইয়া, চিন্তা ভাবনায় আত্নহারা।
" আমি শেষ যে বইটা পড়সিলাম সেটা পড়সিলাম গত সামারে," একটু পরে অয় কইল। " বইয়ের নাম আর লেখকের নাম ভুইলা গেছি। কেন যে পড়সিলাম সেটাও মনে নাই। যাই হোক, কোন্ মহিলায় লেখছিল জানি। প্রধান চরিত্রটা হইল তোমার এই একজন ফ্যাশান ডিজাইনার, বছর ত্রিশেকের একজন মহিলা, যার মাথায় বদ্ধমূল বিশ্বাস ঢুকছে যে কোন একটা দূরারোগ্য অসুখ হইসে তার।"
" কি ধরণের দূরারোগ্য অসুখ?"
" জানি না বাল, ক্যান্সার ম্যান্সার হইব। আর কোন প্রকার কি আছে নাকী?... তো সে সমুদ্রের ধারে একটা রিসোর্টে থাকবার যায় যেখানে নিজের পুরা সময়টা সে কাটায় খেইচা খেইচা। গোসলে, জংগলে, বিছানায়, সমুদ্রে, খালি ঐ-ই করে সে, কল্পনা করা যায় না এমন সব জায়গায় গিয়া ও খ্যাচে।"
" সমুদ্রে? "
" হ মিয়া... বিশ্বাস করতে পার? উপন্যাসে এই জাতীয় জিনিস কেউ কেন লিখব কও তো? লেখার তো আরও কত্ত জিনিস আছে, ঠিক না?"
" তা ভাবতে পারো চাইলে।"
" ঐ জাতের উপন্যাস আমার জন্যে না। আমার বমি আসে।"
আমি মাথা নাড়লাম।
" ঐটা আমার উপন্যাস হইলে, আমি অন্যভাবে করতাম।"
" যেমন? "
নিজের গ্লাসের কিনারে আঙুল দিয়ে নাড়া চাড়া করতে করতে চিকায় চিন্তা করল।
" আইচ্ছা, এইটা কেমন হয়? আমি একটা নৌকায় আছি প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে, বুঝছ, আর নৌকাটা গেল ডুইবা। তাই, আমি একটা লাইফ-প্রিজার্ভার আকড়ায়া ধরলাম, আর ঐখানে ঐ জলের মাঝে ভাসতাসি আমি একা একা, উপরে তাকায়া দেখতেসি নক্ষত্রদের। অপূর্ব, চুপচাপ একটা রাত। আর তারপর আমি দেখতেসি যে এই একটা যুবতী মাইয়া আমার দিকে সাতরায়া সাতরায়া আইতাসে, অয়-ও আকড়ায়া রইসে অর নিজের লাইফ-প্রিজার্ভার।"
" মাইয়া কি সুন্দর? "
" জিগায় আবার।"
আমি আমার বিয়ারের গ্লাসে চুমুক দিলাম।
" শুইনা বেশ ফালতু মনে হইতেসে," মাথা নাড়তে নাড়তে কইলাম আমি।
" খাড়াও, আমার শেষ হয় নাই। তো, তারপরে আমরা দুই জন কথা কইতে শুরু করি, ঐ সমুদ্রের ঠিক মাঝখানে ভাসতে ভাসতেই। আমরা কথা কই সব কিছু লয়েই - অতীত এবং ভবিষ্যৎ, আমাদের শখ, কয়টা মাইয়ার লগে আমি শুইসি, টিভির কোন কোন অনুষ্ঠান ভাল লাগে আমাদের, কি স্বপ্ন দেখসিলাম আমরা গতরাতে, ঐজাতীয় কথাবার্তা আরকি। তারপর আমরা বিয়ার খাইতে শুরু করলাম।
" খাড়াও মিয়া, খাড়াও খাড়াও... বিয়ারটা আইল কোইত্থিকা?"
চিকায় চিন্তায় কাটাইল খানিক্ষণ। " ঐটা মনে কর যে পানির মধ্যে ভাসতেসে," কইল অয়। " ক্যানের পর ক্যান বিয়ার যেগুলা মনে কর জাহাজের কিচেন থেইকা ভাইসা বাইর হয়ে আইছে। সারডিনের ক্যানও ভাসতাসে অনেকগুলা। চলব না এম্নে?"
" চলল...আইচ্ছা।"
" কিছুক্ষণ পর পুরা সবকিছুর প্রাবল্যটা কইমা আসে কেমন জানি - মাইয়াটা জিগায় যে, 'এখন কি করবা? আমার কেন জানি মনে হইতেসে ওইদিকে দ্বীপটিপ কিছু একটা আছে; আমি মনে হইতেসে ওইদিকে সাঁতার দিব।' কিন্তু আমি জানি যে অর এই মনে হওয়াটা, ভুলও হইতে পারে। তাই ওরে কই যে, 'বাদ দেও, চল আমরা খালি এখানে ভাইসা ভাইসা বিয়ার খাই। একটা এয়ারপ্লেন আইবোই শেষে আমগোরে নিয়ো যাওনের লাইগা।' কিন্তু অয় একাই একাই গেলগা সাঁতার দিয়া।"
চিকায় একটা দীর্ঘশ্বাস ছাইড়া এক ঢোক বিয়ার মারল।
" মাইয়ায়, দুই দিন দুই রাত সাতরায়া শেষমেষ পৌছাইল একটা দ্বীপে। যেমনে সবটা হওয়া উচিত, এয়ারপ্লেন যখন আমারে খুইজা পাইল তখন মাল খাওনের শেষে আমার একটা ব্যাপক হ্যাংওভার হইসে। তারপরে, কয়েক বছর পরে, আমগো দুজনার দেখা হইয়া গেল প্রতিবেশী এলাকার ছোট্ট এক বারে।"
" আর তোমরা আবার বিয়ার খাইতে শুরু করলা, ঠিক?"
" কান্না আসতেসে না তোমার, শুইনা?"
" আ-র, কইতে..." আমি বললাম।

৬.
চিকাটার উপন্যাসে দুটা ভাল জিনিস ছিল। প্রথম হল যে, এইটাতে চোদাচুূদির কোন দৃশ্য আছিলো না; দুই হইল গিয়া, কেউই মরে নাই। ছেলেপেলেগো কোন উস্কানি লাগে না - অগোরে এমনে রাইখা দিলেও, অরা মারাও যায় আর মাইয়াগো লগেও ঘুমায়। এমনেই তো চলে।
***
" তোমার কি মনে হয়, আমি ভুল বলসিলাম?" মাইয়াটা শুধায়।
চিকাটা বিয়ােরর আরেকটা ঢোক লয়। " সরাসরিই বলি, " সে কয়, ধীর লয়ে নিজের মস্তক নাড়াইয়া, " আমরা সবাই ভুল, আমগো প্রত্যেকে।"
" এরকম মনে হওয়ার কি কারণ? "
চিকাটা দীর্ঘশ্বাস ফালায়া নিজের উপ্রের ঠোঁটখান চাটে। মেয়েটাকে উত্তর দেয়ার কোন উপায় দেখা যায় না।
" আমি ওই দ্বীপের দিকে সাঁতার কাইটাই গেলাম আর কাইটাই গেলাম, মনে হতে লাগল যে আমার হাতগুলা খুইলে পইড়ে যাবে। এত্ত ব্যাথা লাগতেসিল যে মনে হইতেসিল আমি মরেই যাব। আর তুমি জান সাঁতার কাটতে কাটতে আমি কি ভাবতেসিলাম...যে হয়তো তুমিই ঠিক বলসিলা আর আমিই ভুল করতেসিলাম। আমি নিজেরে একটা কথাই জিগেশ করতেসিলাম যে কেমনে তুমি কিছু না কইরে ওখানে খালি ভেসে আছো যখন আমি এত্তো কষ্ট পাইতেসি?"
একটা ছোট্ট, বেদনাজড়িত হাসি হাইসা ওঠে মেয়েটা, আঙুলের মাথায় চাইপে ধরে নিজের চোখের কোনগুলা। শরমে শরীর মোচড়ায় চিকাটা। নিজের পকেট হাতাইতে শুরু করে। তিন বচ্ছর হয় সে একটা বিড়িও খায নাই, কিন্তু এখন তো একটা লাগবই।
" তুমি কি চাইতেসিলা যে আমি মরে যাই?"
" একটু একটু চাইসিলাম।"
" আসলেই, খালি একটু একটু?"
".... আমি ভুইলা গেসি আমি কি ফিল করসিলাম।"
অরা দুজনাই চুপ কইরা যায়। চিকাটা বোধ করে যে কিছু একটা বলাটা বেশ দরকার।
" সব লোকরে একইভাবে বানানো হয় না, জানই তো"
" কে বলসে?"
" জন এফ কেনেডি।"

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সালেহ মুহাম্মাদ
সালেহ মুহাম্মাদ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 weeks ago
Joined: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 8, 2015 - 7:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর