নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • নগরবালক
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

কারাদন্ডের নামে অপরাধী বানানোর প্রক্রিয়া বন্ধ হোক।



ধরুন ধর্ষনের অপরাধে কোনো ব্যক্তিকে ১৪ বছরের সাজা দেয়া হলো, কিন্তু এতে করে ঠিক কি লাভ হয়? মৃত্যুদন্ড নামক সাজাটা হলো একজন অপরাধীর জীবনাবসান ঘটানো। কিন্তু কারাদন্ড মানে আমি যা বুঝি তা হলো একজন অপরাধীর অপরাধমূলক মানসিকতার পরিবর্তন করার চেষ্টা, সম্ভবত ক্রিমিনালজীর ভাষায় একে "Reformative Theory" বলা হয়।

এখন কথা হলো ১৪বছর জেলে থাকলেই একজন মানুষের অপরাধমূলক মানসিকতার পরিবর্তন হয়ে যাবে এমন নিশ্চয়তা কে দিতে পারে? কারাদন্ড নামক তত্ত্বটার আবিষ্কার হয়েছে কেন সেই আলোচনায় না গিয়ে যদি আমরা আধুনিক সমাজে কারাদন্ডের উদ্দেশ্যে কি তা খুঁজতে যাই, এবং যদি আমি বলি কারাদন্ড প্রদানের প্রধান উদ্দেশ্যে হলো, একজন অপরাধী যে অপরাধ করেছে তার জন্য তাকে শাস্তি প্রদান করা। শাস্তি প্রদানের কারন কি? কারন হলো সমাজে বসবাসকারী অন্য নাগরিকদের জানানো “যারা এমন অপরাধ করাবে, তাদেরও শাস্তি পেতে হবে” এবং ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিকে আশ্বস্ত করা দেশের আইনের শাষন বিদ্যমান আছে। এবং অপরাধীকে তার অপরাধ মূলক মানসিকতা থেকে সংশোধন করে স্বাভাবিক মানুষের ন্যায় আচরণ করতে উদ্বুদ্ধ করা

০১.
উপরে উল্লেখিত শাস্তির কারণ নিয়ে যদি কারো আপত্তি থাকে, তাদের জন্য আরেকটু পরিষ্কার করার জন্য বলি। বাংলাদেশে “juvenile delinquent” বা কিশোরাপরাধীদের জন্য বিচার ব্যবস্থা আলাদা। কিশোরদের বিচার সাধারণ ও উন্মুক্ত আদালতে করা যায় না (আইন অনুযায়ী)। এবং তাদের কে যেই জেলে রাখা হয় সেই জেল গুলোকে “জেল” বলা হয় না, বলা হয় “কিশোর শোধনাগার কেন্দ্র”। এখন জেল আর কিশোর শোধনাগার কেন্দ্র গুলোর মাঝে পার্থক্য কি? যারা কিশোর তাদের রাখা হয় কিশোর শোধনাগার কেন্দ্রে আর যারা প্রাপ্ত বয়স্ক তাদেরকে রাখা হয় জেলে। কিশোরদের ঠিক যে কারনে জেলে রাখা হয় বাকি অপরাধীদেও একই কারনে রাখা হয় আর সেই কারনটি হলো সংশোধন করা।

প্রশ্ন হলো, সংশোধন হয় কতখানি? বাংলাদেশের যে বিচারব্যবস্থা ও শাষন ব্যবস্থা, এইগুলো নিয়ে বিশেষ কিছু বলার প্রয়োজন বোধ করিনা। এখানে একটু বলে নেয়া ভালো আমি সামাজিক অপরাধের প্রেক্ষিতে প্রদান করা শাস্তি গুলো নিয়ে কথা বলছি (যেমন ধরুন কাউকে যদি রাজনৈতিক বিবেচনায় আটক করে জেলে রাখা হয় তবে তাকে কিভাবে সংশোধন করবেন, বা কিসের জন্য সংশোধন করবেন তা আমার বোধগম্য নয়)।

প্রথমে বলছিলাম ধর্ষনের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো একজন মানুষকে যখন ১৪ বছরের সাজা প্রদান করা হয়, তখন জেলে ১৪ বছর থাকার ফলে তার মানসিকতা কি পরিবর্তন হয়ে যায়? কিছুই পরিবর্তন হয় না, তাহলে এই শাস্তি প্রদান করে কি উপকারটা হয়, বাংলাদেশের কোনো একটি আদালত কি বলতে পারবেন তাদের প্রদান করা শাস্তি ভোগ করে একজন অপরাধী ব্যক্তি জেল থেকে বের হওয়ার পরে সে তার অপরাধমূলক মানসিকতা থেকে সরে আসতে পেরেছে। বরং আমি বলতে পারি, বাংলাদেশে কোনো মানুষ ১৪ বছর জেলে থেকে স্বাভাবিক পরিবেশে বের হয়ে আসে, তাবে আগে তার মধ্যে আগে যে সকল অপরাধের প্রবণতা ছিলোনা তাও ১৪ বছর পরে পাওয়া যাবে।

০২.
তাহলে ব্যাপারটা কি হলো, রাষ্ট্রের যেখানে শাস্তি প্রদান করার কথা ছিলো অপরাধমূলক মানসিকতা হ্রাস অর্থে “Reformative Theory” প্রয়োগ করে, সেখানে রাষ্ট্র কাজ করছে অপরাধ মূলক মানসিকতা উন্নত ও রিষ্টপুষ্ট করার অর্থে “Improvement Theory” তে। কি লাভ হয় এই শাস্তি দিয়ে তবে?

এখন প্রশ্ন করতেই পারেন, তাহলে কি শাস্তি হবে না? তাহলে কি একজন অপরাধী তার অপরাধ করার পরেও স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করবে? না আমি তা বলছি না। অপরাধ করলে অবশ্যই শাস্তি পাবে, কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে শাস্তির বিধান চালু আছে, তাতে করে একজন অপরাধী সংশোধন তো হয়ই না বরং নতুন করে অপরাধের সাথে জড়াতে অনুপ্রাণিত হয়। কিভাবে?

আমাদের দেশে বিচার ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা যায়না, কথা বললে এরাও বাংলাদেশের শাষন বিভাগের মতো তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে, বছর কয়েক আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বাংলাদেশের বিচার বিভাগের অব্যবস্থাপনার চাল-চিত্র তুলে ধরে একটি গবেষনা পত্র প্রকাশ করেছিলো, তাতে আদালত পাড়া ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলো মুহুর্ত্বে, সমস্ত বাংলাদেশে অর্ধশতাধিকের অধিক মামলা হয়েছিলো টিআইবির বিরুদ্ধে, এবং ক্ষোদ প্রধান বিচারপতিও টিআইবিকে ডেকে ব্যাখ্যা চেয়েছিলো। এই অসহনশীলতা বাংলাদেশের প্রশাষনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। কিছু বললেই আদালত অবমাননার মামলায় দাঁড় করিয়ে দেয় কাঠগড়ায়। কিন্তু এই বিচার বিভাগকে দেখে বড়ই করুনা হয়, যেখানে তারা চাইলেই রাজার মতো মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে সেখানে যুগের পর যুগ শাষন বিভাগের বেড়ি গলায় পরে আছে এই বিচার বিভাগ, আর শাষন বিভাগ বা নির্বাহি বিভাগের হস্তক্ষেপ এড়াতে না পারার ফলে, প্রতিনিয়ত ন্যায় বিচার ক্ষতি গ্রস্ত হচ্ছে, সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা শূন্যের কোঠায়, কোনো উপায় নেই তাই কোর্টের স্বরনাপন্ন হতে বাধ্য হয় মানুষ। কিন্তু যখন একজন সাধারন নিরপরাধ মানুষকে কোনো অপরাধে অভিযুক্ত করে শাস্তি প্রদান করে হয়, তখন সেই নিরপরাধ মানুষটি কি আর ইনোসেন্ট বা, অপরাধী হবার প্রবণতা থেকে বাঁচতে পারে?

০৩.
বাংলাদেশে জেল গুলো পরিচালিত হয় নির্বাহি বিভাগের অধীনে, জেল মানে জেল। এখানে যার টাকা আছে সে থাকে শ্বশুরবাড়ীর আমেজে যার নাই সেও থাকে কিন্তু ওতো ভালো আমেজে না। বাংলাদেশের জেল গুলো নিয়ে কখনো রিপোর্ট বা গবেষণা সরকার সংগত কারনেই হতে দেয় না। কারন যদি তেমন কিছু হয়, তবে অক্ষরে অক্ষরে ছাপা হবে কি করে একজন সামান্য মাপের অপরাধী মানসিকতার মানুষও জেলের ভিতর থেকে ঘুরে আসলে পাক্কা অপরাধী হয়ে ওঠে।

এখন প্রশ্ন, তাহলে মানুষকে শাস্তি দিয়ে বছরের পর বছর ৩বেলা খাবার দিয়ে, বাংলাদেশ কি অপরাধী বানানো প্রশিক্ষণ দিচ্ছে না? এই বিচারব্যবস্থা দিয়ে এই দেশের উন্নতি কিভাবে সম্ভব? এখানে একজন অপরাধীকে জেলে রেখে আরো বড় অপরাধী করে গড়ে তোলা হয়, যেখানে একজন ইনোসেন্ট মানুষকে বিনা বিচারে বছরের পর বছর জেল খাটতে হয়, সেখানে এই বিচারব্যবস্থা, এই শাস্তির ব্যবস্থার প্রাসংঙ্গিকতা কি?

একজন মানুষ হয়তো পারিপার্শ্বিক পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একটা অপরাধ করে জেলে যায়, ওই মানুষ জেলে যাবার পর রাষ্ট্রীয় সহায়তায় এইদেশে অপরাধী তৈরি করা হয়, তাহলে কোথায় থাকলো সংশোধনের প্রক্রিয়া।

সবশেষ বলতে চাই, একজন ধর্ষকে ১৪বছর জেলে রেখে মুক্তি দেয়ার পরে যদি, সেই ধর্ষক সত্যিই তার অপরাধ উপলব্ধি করতে পারে, এবং তার থেকে নিজেকে ও অন্যকেও বিরত রাখতে কাজ করে, তবেই শাস্তির প্রধান উদ্দেশ্যে হাসি।, কিন্তু এমন কিছুই যদি না হয়, একজন ধর্ষক যদি ১৪ বছর জেলে থেকে একজন ক্যাডার হয়ে, একজন খুনি হয়ে সমাজে বের হয়ে আসে, তবে শাস্তির প্রয়োজনীয়তা কি? কেন কারাদন্ডের মতো শাস্তি দিতে হবে? কি লাভ হয় তাতে? রাষ্ট্রে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করা ছাড়া? রাষ্ট্র হয় তাদের ডিরেক্টলি মৃত্যুদন্ড দিক, না হয় ছেড়ে দিক, তাও রিফরমেশনের নামে এই অপরাধী বানানোর প্রক্রিয়াটা বন্ধ হোক। কারন বর্তমানে এই পুলিশ প্রশাষনের মতো বড় সন্ত্রাসী সংগঠন আর দ্বিতীয়টি নেই, এবং জেলখানার মতো অপরাধী বানানোর অভয়ারণ্য আর দ্বিতীয়টি নেই।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নগরবালক
নগরবালক এর ছবি
Online
Last seen: 1 ঘন্টা 5 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - 11:50পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর