নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ওয়াহিদা সুলতানা
  • নগরবালক
  • উদয় খান
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • আশিকুর রহমান আসিফ
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • দীপ্ত সুন্দ অসুর

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

জীবন পথের গল্প : হিদিয়া গাঁয়ের সুমনদের বাড়ি


অভয়নগরের সুমন বিশ্বাস আমার বেশ পুরনো ফেসবুক বন্ধু। প্রায় ৫০০০ ফেসবুক বন্ধুর মাত্র ২/৪-জন হাতেগোনা যে কজনের সাথে সরাসরি দেখা হয়েছে আমার, সুমন তাদের মধ্যে অন্যতম। ওদের গাঁয়ের নাম হিদিয়া। গ্রাম টানে আমায় সারাক্ষণ! তাই নিজে যেচেই সুমনের গাঁ তথা ওর বাড়িতে যাওয়ার প্লান করি ৩ তারিখ দুপুরে খুলনা থেকে। ইচ্ছে খেজুরের গুর কিনবো ওর গাঁয়ের হাঁট থেকে। সুমন আমায় কেন যেন নিতে চাইলো না ওর বাড়িতে। সম্ভবত রাজপ্রাসাদের মত ঘর নয় ওদের তাই কি? কিন্তু রবাহূত অতিথি হতে চাইলাম আমি!
:
এবং খুলনা থেকে ফুলতলা। একটু হেঁটে ভৈরব নদ পার হলাম দেশি ট্রলারে। যাত্রীদের মধ্যে অধিকাংশ হিন্দু রমণী দেখে মনে হলো পশ্চিম বাংলার কোন নদী পার হচ্ছি আমরা। নির্বিঘ্নে হিন্দু মুসলমানের পার হওয়া দেখে মনেই হলোনা, সংখ্যালঘুরা নিগৃহীত বাংলাদেশে। নদীর অপর পাড়ে নেমেই ধুলগ্রাম। তারপর নাউলী গ্রাম ও বাজার ছাড়লাম গ্রাম্য ভ্যানে, যা আবার চলছে মোটরে (বাহ ডিজিট্যাল বাংলাদেশ বটে)। তারপর গোপিনাথপুর। এরপর ইছামতি। যেখানে হাঁট বসে সপ্তাহে দুদিন শনি আর মঙ্গলবার। শুকিয়ে গেছে ইছামতি নদী কিন্তু গাঁ শুকোয়নি এখনো। এবং অবশেষে সুমনদের গ্রাম হিদিয়া।
:
সুমনের মা আমার জন্যে রান্না করেছে মোটা চালের ভাত আর ওদের পুকুরের মাছ। নানাবিধ জিনিসপত্র খেয়ে আর "অন্নপাপ" করলাম না আমি (হায়রে! আলহাজ্ব মুসলিম হয়ে হিঁদুর ঘরে ভাত খাওয়া! জাহান্নামেও যায়গা হইবোনা আমার! হা হা হা!) কেবল ওর মায়ের হাতের ভালবাসার মসলা দিয়ে রান্না করা মাছ খেলাম দু'টুকরো! মনে হলো আমাকে পেয়ে ওরা খুশি হয়েছে খুব! কিন্তু ওরা কি জানে, সিডনী শহর কিংবা অকল্যান্ড দেখার চেয়ে বেশি আনন্দিত হই আমি এসব হিদিয়া গাঁয়ের দলিত মানুষদের দেখে!
:
সন্ধ্যে হয়ে গেল তখন। তাই সব গাঁটা ঘুরে দেখা হলোনা আমার আর। ওর বাড়ির পাশের কালিমন্দির সংলগ্ন শ্মশানেও গেলাম আমি সুমনের সাথে! দরিদ্র হিন্দু নারী পুরুষরা অনেক ফলের প্রসাদ বানাচ্ছে মা কালির জন্যে। আহারে! ওদের শিশুরা কি এসব ফল খেতে পারে কখনো কিনে! জানলাম গ্রামের অনেক দরিদ্র মানুষদের এখন আর দাহ করা হয়না দুয়েকজন ছাড়া। কারণ? দাহ করতে অনেক খরচ হয়! এবং তাই মাটিচাপা মানে কবর!
:
এবার ফেরার পালা। গ্রামীণ বিদ্যুতায়িত আলোতে ফকফকা ঘরে সুমনের মা, বাবা আর ভাইকে ছেড়ে কাঁচা রাস্তায় নামি আমরা। সুমন সাথে-সাথে আশে আমার অনেকদূর। ওদের কাঁচাসড়কের বাঁশবাগান ছেড়ে আবার রাস্তায় উঠি আমরা। অন্ধকার গ্রামীণ মায়াঘেরা বুনো বাতাসদের ছেড়ে আসতে ইচ্ছে করেনা আমার। তারপরো সকালের চিত্রা ট্রেন ডাকে আমায় হাতছানি দিয়ে। সুতরাং আবার ভৈরব তীরের দিকে ছুটতে থাকি জীবন লহমায়। এবং এর নামই হয়তো জীবন পথের গল্পমালা!
:
ছবি পরিচিতি
:
১। ভৈরব নদের ট্রলার যাত্রীদের মাঝে আমি;
২। গ্রামীণ নারীর গুর তৈরি;
৩। এবং গুরের হাড়ি তৈরি;
৪। গুরের হাঁট;
৫। গ্রামের বাজারে বড় পাতিলে গুর কিনতে গিয়ে শুনি এটা খয়ের;
৬। সুমনদের বাড়ি সন্নিহিত শ্মশান কালি মন্দিরের চিতালয় এবং
৭। সুমনদের মা বাবার সাথে বিদায়ের প্রাকলগ্নে আমি!

Comments

সুবর্ণ জলের মাছ এর ছবি
 

ওয়াও, চমৎকার !

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Online
Last seen: 1 ঘন্টা 14 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর