নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নগরবালক
  • শ্মশান বাসী
  • মৃত কালপুরুষ
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বাতাসরে গাইতে শোনেন : হারুকি মুরাকামি (২)



এই,কাহিনীর শুরু হইসে ৮ই আগস্ট ১৯৭০, আর শেষ হইসে আঠারদিন পরে- অন্য কথায় একই বছরের আগস্টের ২৬ তারিখে।


" গু খা তোরা, শালা বড় লোক হাউয়ার পোলারা," চিকাটা চিৎকার কইরা উঠল। ক্রুদ্ধ নয়নে সে চায়া রইছে আমার পানে, বারের ওপরে তার হাতগুলি রাখা।
হইতে পারে হুংকারটা সে আমারে দেয় নাই, দিসে আমার পাশে বসে থাকা কফি গ্রাইন্ডারটারে। আমরা যেহেতু পাশাপাশিই বইসা ছিলাম, অমনে গলা উঁচানের অর তো কোন দরকার ছিল না। কারণটা যাই হোক, তারে মনে হইতেসিল যে, সে আবার তার আগের চেহারায় ফিরা গেছে। তুষ্ট ভঙ্গিমায় সে এক ঢোক বিয়ার মাইরা দিল।
বারের কেউ চিকার চিল্লাচিল্লিরে বাল দিয়াও গুনল না। আসল কথা হইল যে বারটা এত ঠাসা ছিল লোকজনে যে, প্রত্যেকে আর তার খালাতো ভাই চিল্লাইতেছিল। সবটারে মনে হইতেসিল যেন টাইটানিক, ডুইবা যাইব একটু পরেই।
মাথার নাড়তে নাড়তে চিকা কইল " শালা জোঁকের বাচ্চারা।" কওনের কালে অর মুখ দিয়া থুথু ছিট্যা বাইর হয়। " হাউয়ার পোলারা একটা কাম নিজেরা করতে পারে না। অগো চেহারার দিকে তাকাইলে আমার বমি আসে।"
গ্লাসের কিনার থেইকা ঠোঁট না তুইলাই আমি হালকা মাথা নাড়লাম। গালিগালাজটার সমাপ্তি ঘটল। চিকাটা নিবিড় মনোযোগ দিয়া নিজের চিকন চিকন আঙ্গুলগুলারে দেখতে দেখতে বারের গায়ে এই পাশ ঐ পাশ কইরা উল্টাতে লাগল, যেন কোন আগুনের উপ্রে সে গরম করতেসে ওগুলা। আমি ঘরের ছাদটারে নীরিক্ষণ করতে করতে অপেক্ষমান রইলাম। আমাদের আলাপচারিতারে আবারও চালু করার আগে অর নিজের অঙ্গুলি পর্যবেক্ষণ শেষ করতে হইব। তো, তাইলে নতুন আছে কি?
চিকা আর আমি পুরা সামারটা যেমনে পার করসি তাতে মনে হইতে পারে আমাগো উপ্রে কিছুর আছর হইসে, যে পরিমাণ বিয়ার আমরা খাইসি তা দিয়া একটা পঁচিশ মিটার লম্বা সুইমিংপুলরে ভইরা ফালান যায়, আর আমাগো ফালানো ছিটানো চীনাবাদামের খোসা দিয়া জ্যা'র বারের পুরো মেঝেটারে ঢাইকা ফেলান যায় দুই ইন্চি পুরু কইরা। ঐ সামারে আমরা প্রচন্ড বোর হইতেসিলাম আর টিকা থাকতেসিলাম যেই একমাত্র পদ্ধতিতে আমরা টিকা থাকতে জানি।
একঘেয়ামির বিষয়টা সহ্যাতীত হইয়া উঠলে আমি বারের পিছনে ঝুইলা থাকা নিকোটিনের দাগে রন্জিত প্রিন্টটারে দেখতে লাগলাম নিবিষ্টচিত্তে। ররশাক টেস্টে যেই ধরণের ছবিগুলি দেয়া হয় ওটা ছিল অনেকটা ঐ রকম : যেইখানে আমি বইসা ছিলাম, সেখান থেকে দেইখা,মনে হইতেসিল দুটো সবুজ রঙের বানর একে অন্যের লগে একটা ট্যাপসানো টেনিসবল ছোড়াছুড়ি করতেসে। আমি ঘন্টার পর ঘন্টা ওটার দিকে চায়া রইলাম।
যখন আমি বার্টেন্ডার জ্যা রে কইলাম ওটা দেইখা আমার কি মনে হইতেসে, হ্যায় খালি কেমন একটা ঘাড় ঝাঁকি মারল। " হ, আমারও মনে হয় ওই রকম ইদেখতে পাইতেসি।" জিনিসটারে ক্ষণকাল নীরিক্ষণ পূর্বক জ্যা কইল।
" কিন্তু ওইটা দিয়ে কি বুঝাইতেসে বইলা তোমার মনে হয়?" আমি ছ্যাচড়ার মত জিগায়েই গেলাম।
" বামদিকের বানরটা তুমি," সে উত্তরিল। " আর ডানদিকেরটা আমি। আমি তোমারে একটা বিয়ার ছুইড়া দিতেসি আর তুমি উল্টা আমারে ছুইড়া মারতেসো টাকা।"
বিয়ারের আরেক ঢোক লইতে লইতে আমি ভাবলাম, হালায় সে-ঈ কইসে।

" বমি আসে আমার," চিকাটা কইল, তার অঙ্গুলি নীরিক্ষণটা সমাপ্ত হইসে।
বড়লোকদের লয়ে চিকা সবসময় গালিগালাজ করত, একদম বিশুদ্ধ ঘৃণা লয়ে সে দেখত অগোরে। অথচ অর নিজের ফ্যামিলি আছিলো মালদার। যখনই আমি ঐটা ধরায়া দিতাম, সর্বদাই হ্যার উত্তরটা ছিল, " আমার দোষ নয়।" কোন কোন সময়ে ( সাধারণতঃ যখন আমরা মালমুল খাইয়া পুরা চোদ) আমি কইতাম, " তোমারই তো দোষ," কিন্তু ঐ কথাটা কইলে আমার ফূর্তিনাশ ছাড়া আর কিছু ঘটত না। আমি জানতাম অয় যেটা কইত, সত্য সেটার ভিত্রে কিছু তো আছেই।

" বড়লোকদের আমি এতটা ঘিন্না কেন করি জান?" নিজের আলাপ অবিরত রাখল চিকা। এই হইল প্রথমবার সে বমি পাওয়ার অংশটারে পাড় কইরা সামনে গেছে।
আমি মাথা নাইড়া জানালাম না।
" সরাসরিই বলি, কারণ অগোর কোন ধারণাই নাই। অরা একটা ফ্ল্যাশলাইট আর একটা গজফিতা ছাড়া, নিজের পাছাটাও চুলকাতে পারে না। "
'সরাসরিই বলি' ছিল চিকার নিজস্ব শব্দমালাগুলির একটা।
" তাই নাকী?"
" হ। অরা কিসুই জানে না, অগো সবগুলাই। অরা খালি ভান ধরে যে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপাতি লয়ে ভাবতেসে.... ক্যান জান?
" না, ক্যান? "
" কারণ ওগো দরকার নাই জানার, এই জন্যে। এইটুক ঠিক আছে যে, বড়লোক হওয়নের জন্য ওগোরে ওগো ছোট্ট মগজগুলারে প্রথম দিকে একটু চালানোর দরকার পড়ে, কিন্তু একবার ঐ কাজ হয়ে গেলে, বাকী আর রয় না কিছুই - অগো আর চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন পরে না। পৃিথবীরে ঘির্যা চক্কর মারে যে স্যাটেলাইট - ওগুলির মত, গ্যাস লাগে না। ওরা খালি চক্কর মারে আর চক্কর মারে, সবসময় ঐ একই বালের জায়গারে ঘির্যা। কিন্তু আমি ঐরম না, তুমিও না। আমাগোরে টিকে থাকার লাইগা নিজেদের ব্রেইন ব্যাবহার করতে হয়। আমরা সবকিছু লয়ে চিন্তা করি, কাইলাকার আবহাওয়া থেকে লয়ে বাথটাবের প্লাগের সাইজ পর্যন্ত। ঠিক না?"

চিকারে দেইখা মনে হইল ওর আর ভাল্লাগতেসে না। অয় একটা টিস্যু বাইর কইরা, নাক ঝাড়ল। অর মনে যা চাইত অয় বলত, কিন্তু আমার সেগুলিকে কতটা গুরুত্ব দিয়া নেওয়া উচিত? আমার কোনই ধারণা নাই।
" হ্যাঁ, ঠিক যে আমরা সবাই মারা যাই। কিন্তু ঐটা হইতে আরও পন্চাশ বছর লাগব। আর, সরাসরিই বলি, পন্চাশ বছর চিন্তা ভাবনা কইরা বাঁচাটা পাঁচ হাজার বছর নিজের মগজরল না ব্যাবহার করার থেইকা বহুত বেশী পরিশ্রমের কাজ, ঠিক কিনা?"
ঠিকই, এইটাতে কোন তর্ক চলে না।


চিকার লগে আমার পরিচয় হইসিল তিন বছর আগে। সেটা ছিল আমাগো কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের বসন্তকাল, আর আমরা দুজনেই ছিলাম মালমুল খায়া বাদ। সত্য কইতে, কেমনে যে ভোর চারটার সময় ওর চিকচিকা কাল ফিয়াট ৬০০ তে গিয়া আমি ঠেকলাম সেটা আমার আসলেই মনে নাই। আমাগো কোন মিউচুয়াল ফ্রেন্ড ছিল মনে হয়।
যাই হোক, তো ঐ ছিলাম আরকি আমরা, মাল খায়া চোদ, উড়াল মারতাসি রাস্তার উপর দিয়া। ঐখান থিকাই ব্যাখ্যা পাওন যায় কেমনে আমরা মহাফূর্তিতে পার্কের বেড়াবুড়া ভাইঙ্গা, আজলািয় ফুলেগুলিরে চেটকায়া, শেষে গিয়ে জড়ায়া ধরলাম পাথরের পিলার গুলার একটারে। ভগবানের কোন্ রহমত যে আমাগো কেউই তেমন ব্যাথা পায় নাই।
প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলায়া ওঠার পরে, আমি লাত্থি মাইরা ভচকানো গাড়িখানের দরজা খুইলা বাইরাইয়া আসলাম আর ক্ষতির পরিমাণটা কীরম সেইটার পর্যালোচনা করার একটা চেষ্টা নিলাম। যেই পিলারে বাড়ি খাইসে ফ্রন্টগ্রিলটা পুরাপুরি তার আকার নিসে আর হুডটা খুইল্লা উইড়া দশ ইয়ার্ড দূরে গিয়ে পড়সে, একটা বানরের খাঁচার সামনে। অরা যেমন শব্দ করতেসিল তাতে মনে হইল, এমন রূঢ় ভাগে ঘুম ভাঙানোটা বানরগো পছন্দ হয় নাই।
নিজের হস্তদ্বয় এখনও স্টিয়ারিঙ হুইলের উপ্রে রাইখা, চিকাটা ঝুইকা আইসা নিজের এক ঘন্টা আগে গলধঃ করা পিজাখানরে বমি কইরা ভাসায় দিতেসিল ড্যাশশবোর্ডটার উপরে। আমি হামাগুড়ি দিয়া গাড়ির উপ্রে উইঠা সানরুফের ভিত্রে দিয়ে চিকারে দেখলাম।
" এ্যাই মিয়া তুমি ঠিক আছো? "
" আছি। কিন্তু মনে হইতেসে মাল বেশী খায়া লাইসি। যেম্নে বমি হইতেসেরে ভাই।"
" পারবা, বাইর হইতে?
" পারুম। আমারে একটা টান দেও খালি দেখি।"
চিকা ইন্জিনটা বন্ধ কইরা দিল, ড্যাশবোর্ডের উপ্রে রাইখা দেয়া সিগারেটের প্যাকেটটা পকেটে ভইরা ফালাইল, আমার হাত ধরল, আর শান্ত ভাবে বাইয়া উইঠা আসল গাড়ির ছাদে। ঐখানে আমরা রইলাম বইসা পাশাপাশি, একটা পর একটা সিগ্রেট টাইনা চললাম নৈশব্দ্যে আর আকাশটা ফর্সা হইতে লাগল ধীরে ধীরে। কি কারণে জানি, আমার রিচার্ড বাটনের একটা যুদ্ধের মুভির কথা মনে হইতে লাগল, যেইটাতে অয় একটা ট্যাঙ্ক কমান্ডার হইসিল। চিকার মাথায় কি ঘুরতেসিল সেইটা লয়ে আমার কোন ধারণা নাই।

" হেই," অয় কইল প্রায় পাঁচ মিনিট পর। " আমরা মনে হয় একটা ভাগ্যবান জোড়া, কি কও? মানে, তাকায় দেখ আমগো দিকে - একটা আচড়ও লাগে নাই। বিশ্বাস হয়? "
আমি মাথা নাড়লাম। " কিন্তু গাড়িটা গেছেগা," আমি বললাম।
" আধূউর, বাদ দাও। নতুন আরেকটা কেনাই যাইব। কিন্তু ভাগ্য তো কিনতে পারবা না।"
আমি চিকাটাকে আরেকটু খেয়াল কইরা দেখলাম। " তুমি বড়লোক মার্কা কেউ নাকি?"
" সেরকমই তো মনে হয়।"
" ভালই।"
বিতৃষ্ণায় নিজের মাথা ঝাঁকাইল চিকাটা। " যাই হউগ্গা। কিন্তু অন্তত ভাগ্য তো রইসে আমাদের পক্ষে।"
" হ্যাঁ, ঠিকই বোলসো।"
চিকাটা অর স্নিকারের হিল দিয়া নিজের সিগারেটটা নিভায়া পুটকিটা টুসকায়া মারল বানরের খাঁচাটার দিকে।
" ওই মিয়া, আমরা এক লগে একটা টীম হইলে কেমন হয়? বহুত মজা করা যাইব। "
" এখন আমরা কি করব?"
" আরো বিয়ার খাব।"
হাতের কাছের ভেন্ডিং মেশিনটার থিকা আমরা আধা ডজন ক্যান কিন্যা ওইগুলারে নিয়া গেলাম মহাসমুদ্রের ধারে, শুয়ে পড়লাম বীচে, আর খাইতে লাগলাম। সবকটা ক্যান সাবাড় কইরা দেওনের পড়ে আমরা শুধু জলের পানে চায়া রইলাম। একদম নিঁখুত একটা ওয়েদার আছিলো।
" তুমি আমারে চিকা ডাকতে পার।" হ্যায় কইল
" ঐরম একটা নাম তোমার জুটল কেমনে? "
" স্মরণ নাই। অনেক আগের ব্যাপার। প্রথমে প্যারা খাইতাম, কিন্তু এখন আর কিছু হয় না। একটা লোক যেকোন কিছুতেই অভ্যাস্ত হয়ে যাইতে পারে।"
আমরা খালি ক্যানগুলারে ছুইড়া ফালাইলাম সমুদ্রের জলে, পিঠগুলা হেলান দিলাম বেড়িবাঁধটার লগে, নিজেগো কোটগুলা টাইনা দিলাম মুখের ওপর, আর তলায়ে গেলাম এক ঘন্টার এক ইষৎ নিদ্রায়। যখন জাইগা উঠলাম, মনে হইল জ্যান্ত থাকার একটা প্রবল বোধে আমার ভিতরটা ভইরা গেছে। বিষয়টা উদ্ভট আছিলো - এই জাতীয় এনার্জি আমি আগে কোনদিন ফিল করি নাই।
" বাঈ রে, আমার মনে হইতেসে আমি ষাইট মাইল দৌড়াইতে পারব।" আমি চিকাটারে বললাম
" আমারও সেইরমই লাগতেসে," হ্যায় কইল।

তয় বাস্তবে আমগোরে যা করতে হইসিল সেটা হইল পরবর্তী তিন বছর ধরে সিটি হলরে টাকা পয়সা দিতে হইসিল, সুদ সহকারে, পার্কের ক্ষতিগুলা মেরামত করার লাইগা।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সালেহ মুহাম্মাদ
সালেহ মুহাম্মাদ এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 2 weeks ago
Joined: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 8, 2015 - 7:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর