নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • মিশু মিলন
  • নরমপন্থী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

দারিদ্রতা ও মানবিকতা


ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিলাম এমন সময় এক বয়স্কা ভিখারী কাছে এসে ভিক্ষা চাইতে লাগল। অদ্ভুত ভাবে লক্ষ্য করলাম এই নিঃস্ব মহিলাটির মুখের ভাষা পর্যন্ত নেই, শুধু আওয়াজ আসছে আঃ, আঃ, আঃ এবং অঝোর নয়নে চোখের জল বের হচ্ছে। এই ঘটনাটি আমার মননকে ক্ষতবিক্ষত করল আমারা কি রকম সমাজে বাস করি? আমরা কি রকম মানুষ যে একটি নিঃস্ব মহিলার পাশে দাড়াই না?

অনেকে বলবেন আপনি কি আগে এরকম দৃশ্য দেখেন নি? তাদের উদ্দেশ্যে বলি হ্যাঁ বহু দেখেছি। বহু ভিখারীকে রাস্তাঘাটে পড়ে থাকতে দেখেছি আর সভ্য সমাজকে তাদের পাশ কাটিয়ে যেতে দেখেছি। দেখেছি এক ভিখারীকে নিজের ভাগের রুটির একটি অংশ পাশের কুকুরটিকে নিঃশঙ্কচে দিতে, আর আমরা সভ্য মানুষরা এইসব মানুষকে দেখে নাকে রুমাল চাপা দিয়ে চলে যেতে দেখেছি।

এইসব সভ্য মানুষরা ভিখারীকে একটি পয়সা ও না দিয়ে বলে যায়-"দেশটা ভিখারীতে ভরে গেল"। এগুলো ও দেখেছি, দেখেছি আর যন্ত্রণায় ছটফট করেছি ও সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমার সামর্থ খুবই অল্প তাই নিরব দর্শক হয়েই থেকেছি। আসলে আমাদের সমাজ বহু ভাগে বিভক্ত তার মধ্যে যে দুটি ভাগ সবচেয়ে প্রবল- একভাগের প্রচুর আছে যার শেষ নেই, অন্যদিকে নিঃস্ব, নিরন্ন, বুভুক্ষ মানুষ এদের কিছুই নেই।

এদের আমাদের সমাজ ধনী ও দরিদ্র নামে ডাকে। আবার অনেকে বলে-শোষক ও শোষিত। মালিক ও শ্রমিক নামে ও এদের অভিহিত করা হয়। আসলে যুগ যুগ ধরে সবলরা দুর্বলের উপর, ধনীরা দরিদ্রদের উপর অত্যাচার করছে। এই ব্যবস্থা এখন ও সামানে চলে আসছে। এই আর্থিকভাবে সমৃদ্ধশালীরা আবার দরিদ্রদের ঘৃণার চোখে দেখে। তাদের দুঃখ, দুর্দশার প্রতি কোন সমবেদনা নেই।আসলে এরা তো মানুষের মত দেখতে কিন্তু মানুষ নয়? অনেকে বলবেন এগুলি সরকারের কাজ-এদের পুনঃবাসন দেওয়া ইত্যাদি। মানছি আপনাদের কথা, কিন্তু মানুষ হিসেবে কি আমাদের কোন কর্তব্য নেই? পশুরা ও তো নিজে খায়, নিজে বাঁচে, নিজের সন্তান প্রতিপালন করে। তাহলে সভ্য মানুষের ও পশুর মধ্যে চিন্তা চেতনার পার্থক্য কোথায়? তাহলে কি করে আমরা দাবি করি মানুষ জগৎ এর শ্রেষ্ঠ প্রাণী?

আবার দেখা যায় আর্থিক দিক থেকে সমৃদ্ধরা দরিদ্র শ্রেণীকে সৎপথে উপার্জনে ও বাধার সৃষ্টি করে। যেমন- ট্রেনে, বাসে হকার উঠলে এলিট শ্রেণী বিরক্ত হয় তারা মন্তব্য করে-"এদের জ্বালায় ট্রেনে,বাসে ওঠায় দায়"। এই শ্রেণী মলে গিয়ে কাপড় কেনে হাজার হাজার টাকা দিয়ে, কিন্তু পড়ার ছেলের দোকান থেকে একটি সুতা ও কেনে না। আবার এরা মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দ্যাখে, রেস্তোরায় খাবার খায় হাজার হাজার টাকা দিয়ে কিন্তু বাজারে সবজির দাম দুই টাকা বৃদ্ধি পেলে ও এরা সবজি বিক্রেতাদের দাম কম দেয় ও রে রে করে চেঁচিয়ে ওঠে। কোন গৃহভৃত্য কোন কারণে যদি কাজ একটু কম করে তাদের বেতন কেটে নেওয়া হয়। এরা কুকুরকে খেতে দেয় যত্ন করে, কিন্তু মানুষকে খেতে দেয় না।এরা আবার সমাজের গণ্যমান্য ব্যাক্তি?

অনেকে বলবেন আমার টাকা আমি কিভাবে খরচ করব আপনার অত মাথা ব্যাথা কিসের? ঠিক আমি আপনার সঙ্গে সহমত। আমার সে অধিকারই নেই। আসলে আমাদের মধ্যে মনুষত্ব বোধ আছে, এটাই অন্যপ্রাণীর থেকে আমাদের আলাদা করে। নিশ্চয় আপনি খরচ করেন, কিন্তু আপনার অর্থের সামান্য পেলে একটা ভিখারীর জীবন ভাল হবে। পাঁচটি রুটির মধ্যে একটি আপনি কম খেলে আপনার কোন ক্ষতি হবে না, কিন্তু একটা না খেতে পাওয়া মানুষ বাঁচবে। আপনি যে অর্থের কাপড় মল থেকে কেনেন তার সামান্য কিছু অংশ পাড়ার কাপড়ের দোকান থেকে কিনলে দেখবেন একটা বেকার ছেলে স্বনির্ভর হবে।একটা পরিবার রক্ষা পাবে। এটা কি কম মানবিক কাজ নয়?

প্রতি বছর বকরা-ইদে যে কোটি কোটি টাকার অপচয় হয় পশু জবাই এর নামে বা পূজার প্যান্ডেলের জন্য যে টাকা খরচ হয় তার সামান্যতম অংশ দরিদ্রদের জন্য খরচ করলে কি সমাজ আরও সুন্দর হত না? পরিশেষে বলি দারিদ্রতার কোন জাত, ধর্ম, দেশ নেই-যে হিন্দু, মুসলমান বা খৃষ্টান ভাইটি খেতে পায়নি তাদের ক্ষুধার যন্ত্রণা কি আলাদা? পাকিস্তানের যে মানুষটি অর্থের অভাবে চিকিৎসা না করতে পারার যন্ত্রণায় ছটফট করছে তার সঙ্গে বাংলাদেশ বা ভারতের বিনা চিকিৎসার যন্ত্রণায় মারা যাওয়া মানুষটির কষ্ট কি আলাদা? আমার একার সামর্থ নেই এই সমাজের জন্য এই নিঃস্বদের জন্য কিছু করার কিন্তু আমাদের সামর্থ আছে।

আমাদের ছোট ছোট প্রয়াসেই সমাজের বড় বড় কাজ হবে। অনেকে বলবেন এর ফলে আমি কি পাব? তাদের উদ্দেশ্যে বলি নিরন্নকে অন্ন দিলে মানুষের যে ভালবাসা পাবেন তা মানুষ হিসাবে আপনার জীবনকে সার্থক করবে। স্বর্গে বা জান্নাতে গিয়ে লাভ কি? কবির ভাষায় বলি-"কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক?কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ, নরক, মানুষেতে সুরাসুর"। বরং এই পৃথিবীকেই স্বর্গ সুখে পরিণত করুন। আমরা কি পারি না এই নিরন্ন মানুষদের ক্ষুধার যন্ত্রণাকে কিছুটা লাঘব করতে? আমরা কি পারি না একটা শোষনমুক্ত সমাজ ও সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে?

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রক্তিম বিপ্লবী
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
Offline
Last seen: 6 দিন 5 ঘন্টা ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 29, 2017 - 3:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর