নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ওয়াহিদা সুলতানা
  • নগরবালক
  • উদয় খান
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • আশিকুর রহমান আসিফ
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

তোমার জন্য একটা চিঠি।


এইতো বেশ সুখে আছি। হাসি, ভেসে দিন যায়, দিব্যি খাই ঘুমাই। জানোইতো বরাবর আমার ঘুম একটু বেশি, বালিশে মাথা পেতে দিলেই নিদ্রাদেবী তার মায়া আমার উপর ঢেলে দেয়। শত ব্যস্ততার মাঝে তোমার কথা আজকাল মনে পড়ে না। তুমি যে একজন ছিলে তা এখন আর মনে নেই। হ্যাঁ যদি কোনো আত্মীয়জন মনে করিয়ে দেয়, যদি জিজ্ঞাসে তোমার কথা তখন মনে পড়ে। তুমি নিশ্চয় ভাইলোই আছো।

পর সমাচার, ইমেইল, মোবাইলের যুগ চিঠি কে আর লিখে বলো? তবু তো আদিম কিছু বাসনা থাকেই, প্রযুক্তিকে সাথে নিয়ে যতই এগিয়ে যায় ইতিহাসের সাক্ষীরা মনে করিয়েই দেয়, কাগজে কলমে চিঠি লিখাতে যে ভাবাবেগ প্রকাশ পায়, ইলেট্রনিক মিডিয়ার প্রযুক্তিতে সেই অনুভূতিটা নেই, আর তাছাড়া তুমি যেখানে আছো সেখানে এই প্রযুক্তি পৌছানের সাধ্যইবা কই, ছাড়ো, এইতো সেদিনই এক ইতিহাসের সাক্ষীর লেখায় পড়ছিলাম "আড়াই অক্ষরের" চিঠির কথা। তা বোধ হয় তোমাকে আমি কখনো দেইনি। দিবো কি, আমি নিজেই জানতাম না এমন চিঠির বিষয়ে। এই দেখো পর সমাচার লিখে আমি আমার স্বভব সুলভ বিশ্লেষনে চলে এলাম। তুমি মনে হয় আমার এই স্বভাবটাই বেশি অপছন্দ করতে। ঘটনা ৫ লাইনের হলে আমি তা আর ৪৫ লাইন বাড়িয়ে ৫০ লাইনের বিশ্লেষন সহ ঘটনাটা তোমাকে বলতাম বলে। যাকগে।

আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া ছেড়েছি, কি জানো তো? আমার ভেতর থেকে না ওই প্রকৌশলী শব্দটাই আসতো না। কৌশলী হতে ইচ্ছা হতো সব সময়। তাই তো এখন আইন পড়ছি। দেখি ছা-পোষা বটতলার উকিলের যোগ্যহতে পারি নাকি। তোমার কাছে বরাবরই পড়া ছিলো একটা দায়বদ্ধতার মতো, পড়তেই হবে এযেন এক অলিখিত আইন। অবশ্য আমিও ভাবতাম এমন। জানি না এখনো তুমি এমন ভাবো নাকি। তবে আমি এখন আর তেমন ভাবি না। আমার কাছে পড়া মানে শুধু পড়া নয় জ্ঞন আহরোণ করা। এখন পড়ি আত্মার তৃষ্ণায়। তাই তো ইঞ্জিনিয়ারিং এ সেই খোরাক না পেয়ে, সাইয়েন্সের ছেলেটি ফুড়ুৎ করে আর্টসে চলে এলাম। জানো, সবাই হাসি ঠাট্টা করে। আমি জানি তুমি থাকলে একটু বিরক্ত হতে পরে ঠিই মেনে নিতে। আর আমার যে আর্টসে প্রতি আগ্রহ আমি নিশ্চিত জানি তার অনেকটা তোমার কাছে থেকেই আমার কাছে এসেছে।

আজ অনেক দিন বাদে তোমাকে লিখছি, পরিবারের অন্যদের কথা আজ লিখবো না। আজ শুধু তোমাকে লিখবো আমার আর তোমার কথা......

জানো আমার চুল পেকেছে অনেক চুল মনে হয় ৪০ভাগই পেকে গেছে, আচ্ছা মোটাও হচ্ছি না। আর তোমার মতো লম্বাও না। তবে কি জানো আমার গায়ের রং-টা না এক্কেবারে তোমার মতো। গায়ে গন্ধও অনেকটা। তবে তোমার মতো আমার চুলে মেহেদি দিতে ইচ্ছে করে না। জানো? তোমার জন্য একটা সময় খুউব কষ্ট হতো। কতো না সংগ্রাম করে নিজের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে গেছো, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে যুদ্ধ করেছো। যুদ্ধ হয়তো সফল হয়েছো, অথবা বিফল, সে বিচার আমি করবো না। তবে এখন আর তোমার জন্য আমার কষ্ট হয় না তুমি যাই করতে চেয়েছো তা তুমি নিজের যোগ্যতাই করেছো তা ভেবে। তুমি অন্যের মুখাপেক্ষি ছিলেনা তাই। ভেবে।
জানো তুমি? আমি কিন্তু পড়োশোনার পাশাপাশি চাকরিও করি। তোমার মতো কষ্ট হয়তো আমার করতে হয় না। তবে হ্যা আমি ও নিজের দায়িত্ব নিজেই নিয়েছি। আর হ্যা তোমার আদরের বৌ-এর দায়িত্বও আমি নিয়েছি। তুমি খুশি হবে জেনে আমি জানি। তবে একটা দীর্ঘশ্বাস আমার বুকে আমৃত্যু থেকে যাবে, তোমার জন্য এ জীবনে আর কিছু করা হবে না এই ভেবে।

তোমার মতো ভালো গানের গলা আমার নেই, অনেক বেশি কাঁপে গলা, তবে আবৃত্তি করি তোমার শেখানো সেইসব কবিতা, কবর, নিমন্ত্রণ। আচ্ছা তোমার জসীমউদ্দিন বেশি প্রিয় ছিলো না নজরুল?

আমার সম্পর্কে অনেক কিছু বললাম, জানি এ চিঠির উত্তর আমি পাবো না। তবু জানি না বাবা কেনো জেনো আশায় থাকি, এই বুঝি তোমাকে দেখবো, তোমার শুভ্র রূপ। বাবা তুমি আমাকে ছেড়ে গেছো এগারো বছর হয়ে গেছে... বাবা তুমি কিভাবে আছো একা। বাবা তুমি নিশ্চুপ হয়ে গেছো কেনো ! প্রকৃতির অনেক নিয়ম আমি মানতে পারি না। আমি মানি না। বাবা এমন কি হতে পারে না? তুমি একদিন আমার চিঠির জবাব পাঠালে! কি মজাই না হতো। তোমার হতে মার খাবার পর, তোমার স্নেহময় হাত যখন্ আমার মাথায় পড়লে যেমন খুশি হয়ে কেঁদে দিতাম, ঠিক তেমন কেঁদে দিতাম হয়তো। এখানই ইতিটানছি। শব্দগুলো মিলিয়ে যাচ্ছে... লিখতে পারছি না কিছু।

বাবা আমি বড় একা
আমি খুউব বেশি একা।
যন্ত্রের নগরে, আমি ও মুখোশধরী যন্ত্রমানব
আমি ভিতরে ভিতরে ভষ্ম হয়ে যাচ্ছি।
অনেকের জন্য অনেক কিছু করতে পারছি।
কিন্তু নিজের জন্য কিছু করতে পারছি না।
আর হ্যাঁ আমি তোমাকে ভালোবাসি না । আমি তোমাকে ঘৃণা করি।
তুমি আমাকে একা রেখে গেছো, মনে রেখো।
বিদায়।

লিখাটা কাগজে কলমেই লিখে রেখেছিলাম ৫ফেব্রুয়ারী ২০১৬তে।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নগরবালক
নগরবালক এর ছবি
Online
Last seen: 15 min 1 sec ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - 11:50পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর