নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নগরবালক

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

ভাষা সৈনিক; ভাসা সৈনিক!


৫২'র ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহনকারীদের সম্ভোধন নিয়ে এদেশের তরুন প্রজন্মের কাছে দুই ধরনের মতবাদ প্রচলিত আছে। প্রথমটি হচ্ছে- ভাষা সৈনিক, দ্বিতীয়টি- ভাসা সৈনিক। তবে ভাষা সৈনিক অনেক থাকলেও আমাদের দেশে 'ভাসা সৈনিক' আছে কেবল একজন! তিনি গো-আযম! জনশ্রুতি আছে গো-আযম একবার পাকিস্তান গিয়ে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর শিশ্ন নির্গত বীর্যে ভাসতে ভাসতে পাকিস্তান থেকে এই বঙ্গদেশে ফিরে এসেছিলো। ভেসে ভেসে আসার কারণে তাকে 'ভাসা সৈনিক' বলা হয়!

ভাষার মাস আসলেই জামায়াত-শিবিরের চেলা-চামুন্ডারা 'গো-আযম' ভাষা সৈনিক ছিলো বলে নানান ভাবে প্রচার করতে থাকে। এমনিতেই বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির গোড়া পত্তনের ইতিহাসের সাথে বেইমানি ছাড়া জামায়াতের আর কোন সম্পৃক্ততা নেই। এই একটা জায়গায় দৈবক্রমে গো-আযমের একটা 'তিল' পরিমান সম্পর্ক আছে, তাই প্রায়শই জামায়াত সেই 'তিল'টাকে 'তাল' বানাবার একটা অপচেষ্টা করে। এটা অনেকটা জিয়া'র 'স্বাধীনতা ঘোষক' তত্বের মতো। জীবদ্দশায় স্বয়ং জিয়া-উর-রহমানও যে দাবি কখনো করেনি, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কিছু ইতিহাস বিকৃতিকারী জিয়াকে এই মিথ্যে উপাধি দিয়ে একটা কুতর্ক তুলে দিয়েছিলো। তবে এক্ষেত্রে তারা সফল। কারণ একটা মিথ্যা বহুকন্ঠে উচ্চারিত হতে হতে বা সেটা নিয়ে বিতর্ক চলতে চলতে এক সময় সত্যের মতে শোনায়। কিন্তু জিয়ার মতো গো-আযমের ভাগ্য অতটা সুপ্রসন্ন হয়নি।

গো-আযমকে ভাষা সৈনিক বলা বর্তমান জামায়াত-শিবির'কে যদি প্রশ্ন করি, ভাষা আন্দোলনের কোন প্রেক্ষাপটে গো-আযম অংশগ্রহন করেছিলো? তার উত্তরে জামায়াত-শিবির কি বলবে! আদত তারা হয়তো জানেই না ঠিক কি করণে মৃত গো-আযমকে ভাষা সৈনিক বলছে! কিংবা জেনেও হয়তো তারা সত্য ইতিহাসের সাথে আরো নানান গল্প জুড়ে এটাকে সত্য বানাতে চাইবে। প্রকৃত ইতিহাসটি আমি বলছি শুনুন। এটা জানার পর হয়তো আপনিও বেচারা গো-আযমকে ভাষা সৈনিক বলে আর কৌতুকের উপলক্ষ্য বানাবেন না।

১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের ঢাকা সফরকে ঘিরে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ভাষা সংগ্রাম কমিটির সংশ্লিষ্টরা নানান পরিকল্পনা সাজাতে থাকে। সেই সব পরিকল্পনার একটা অংশ ছিলো লিয়াকত আলী খান ঢাকায় আসলে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে একটি মানপত্র পাঠ করা হবে। ছাত্র ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট অরবিন্দ বোসের এই মানপত্র পাঠ করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আরো বিশদ চিন্তায় অরবিন্দ বোস'কে মানপত্র পাঠ করানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়। অরবিন্দ বোসের নাম মানপত্র পাঠ থেকে প্রত্যাহার করার কারণ হলো- এমনিতেই ইসলাম ধর্মের দোহায় দিয়ে উর্দূকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার কথা উঠে আসছিলো। পাকিস্তান সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ, উর্দুর ভিতর আরবি শব্দের প্রভাব এবং ফারসিক-আরবি লিপির কারণে উর্দুকে ভারতীয় মুসলমানদের ইসলামী সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হত। উর্দুর ব্যবহার ভারতের মুসলমানদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করে আরো বহু আগেই। তাই পাক-শাসকরা চাইতো উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। তারা বলতো "বাংলা হিন্দুর ভাষা, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি কেবল নাস্তিক'রাই করতে পারে, এটা মুসলমানের বিরুদ্ধে একটা চক্রান্ত"। বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে যখন এরকম ভয়াবহ হিন্দুয়ানি অপবাদ, তখন একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী অরবিন্দ বোস বাংলা ভাষার দাবি সংবলিত মানপত্র পাঠ করলে লিয়াকত আলীর মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই সেদিন হিন্দু অরবিন্দ বোসকে বাদ দিয়ে একজন মুসলমান ছাত্র দ্বারা মানপত্রটি পাঠ করানোর সিদ্ধান্ত হয়। আর গোলাম আযম তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকার সুবাধে সে সময় তাক দিয়ে সেই মানপত্র পাঠ করানো হয়েছিলো।

অরবিন্দ বোসের বিকল্প হিসেবে সেদিন ঠেকায় পড়ে গো-আযমকে দিয়ে মানপত্র পাঠ করানো হয়েছিলো। এর বাইরে ভাষা আন্দোলনে গো-আযমের কোথাও কোন সম্পৃক্ততা নেই। গো-আযম নিজেকে ভাষা সৈনিক দাবি করে কখনো কোন কথা বলেছিলো কিনা আমার জানা নেই, তবে বললেও আশ্চর্য হবো না। কারণ যে গো-আযমরা এই বাংলাদেশটাই চাইনি, বাংলাদেশ হওয়ার পথে এদের কারণেই বাঙালির সমুদ্র সমান রক্তে মুল্য চুকাতে হয়েছিলো, পাক-রণক্লান্ত শুয়োরের শিবিরে এরা বাঙালি মা-বোন'দের ধরে ধরে উপহার হিসেবে দিয়ে আসতো, এদের এত বিরোধীতার কারণে, এত প্রতিকূলতার পর যখন দেশ স্বাধীন হলো, সেই দেশের ক্ষমতায় বসার জন্য যখন এরা লালায়িত হতে পারে, তখন দৈবক্রমে একটা মানপত্র পাঠ করে এরা নিজেকে ভাষা সৈনিক দাবি করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই!

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের পটভুমি এই ভাষা আন্দোলন। শোষনের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম জাতিগত প্রতিবাদ। প্রথম রুখে দাঁড়ানো। রক্তাক্ত আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির প্রথম অর্জন আমাদের এই গৌরবের ভাষা। ৫২'র ২১ জাতির উত্থানের আন্দোলন! এই আন্দোলন রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জাতিগত জাগরণের আন্দোলন। একজন হিংস্র, হায়েনা, নরপিশাচ, পাকিস্তানিদের শিশ্ন চোষা দেশদ্রোহী রাজাকারকে এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত করা জাতির অস্তিত্বের সাথে নিষ্ঠুর রসিকতার সমান। গোলাম আযমকে ভাষা সৈনিক বলিয়েদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া তাই প্রতিটি বাঙালির অস্তিত্বের দাবি!

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 3 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর