নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নগরবালক

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

বাতাসরে গাইতে শোনেন : হারুকি মুরাকামি


"মিয়া শোন, বিশুদ্ধ লেখা বইলা কিছু হয় না, যেমনে হয় না তোমার কোন বিশুদ্ধ নৈরাশাও।" এমনটা আমাের বলসিলেন একজন লেখক। যখন আমি ভার্সিটির স্টুডেন্ট ঐ লেখকের লগে আমার দেখা হইসিল । তার কথাটার পুরা মানে আমি ধরতে পারসিলাম অনেক পরে, তয় তারপরো উনার কথার মাঝে আমি এক প্রকারের সান্ত্বনা খুঁজে পাইসিলাম- যে বিশুদ্ধ লেখা বইলা কিছু হয় না।
তথাপি, লেখতে বইলেই আমারে ঘিরা ধরত নৈরাশা। আমি যদ্দূর লেখালেখির ব্যাপারটারে সামলাইবার পারতাম, সেইটার বিস্তারটা আছিলো খুব সীমিত। ধরেন যে, আমি একটা হাতি নিয়া কিছু একটা লেখতে পারতাম, কিন্তু যখন হাতির প্রশিক্ষকরে লয়ে কথা আইত আমারে জায়াগা ফাঁকা রাইখা যাইতে হইত গা। ঐ ধরণের ব্যাপারগুলি আরকি।
এই মোহের ভিত্রে আমি বাঁইন্ধা ছিলাম আট বছর - আটটা বছর। দীর্ঘ সময়।
কেউ যদি এই নীতি মাইনা চলেন যে সবকিছুরেই একটা শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা হিসেবে লওন যায়, তাইলে স্বভাবতঃই বয়স ফুরানোটারে অতও বেদনামুখর কিছু হওয়ার দরকার পড়ে না। অরা তো আমগোরে কয়ও তাই-ই।
আমার বিশ বছর বয়সের পর থেইকা আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করসি এই দর্শন অনুযায়ী নিজের জীবনরে যাপন করতে। ফলাফলে যেইগুলা,হইসিল - আমার লগে প্রতারণা হইসে আমারে ভুল বুঝা হইসে, ব্যবহার করা হইসে আর অপব্যাবহার করা হইসে, বারবার আর বারবার। তারপরো কমু যে, এইটা আমারে বহুত বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা আইনা দিছিল। সব ধরণের লোকজন আমারে নিজেগো কাহিনী কইসে; তারপর হ্যারা গেছেগা। আর আসে নাই। যেন আমি একটা ব্রিজ মাত্র যেইটারে ওনারা ঠন ঠন ঝনঝন কইরা পার হইয়া গেলেনগা। আমি, সকল সত্ত্বেও, নিজের মুখ রাখসিলাম একদম বন্ধ। আর সেই জন্যে গল্পগুলা আমার লগেই রয়ে গেসিল যদ্দিনে না আমি এই জায়গায় আইলাম- আমার বিশের কোঠার এই অন্তিম বছরখানিতে।

এখন, আমার মনে হয়, আমার সময় হইসে নিজের গল্পটা কওনের।
যেইটার মানে অবশ্যই এই না যে, আমি নিজের সমস্যাগুলির একটারও কোন সমাধান করতে পারসি, বা যখন এই কাহিনী শেষ করুম তখন আমি অন্যরকম কিছু হয়া যামু। কারণ শেষে গিয়া, লেখালেখি তো আর আত্ন-উপশমেরর জন্য কোন পূর্ণাঙ্গ পদক্ষেপ না, শুধুই সে দিক পানে অতি ক্ষুদ্র এক পরীক্ষামূলক যাত্রা।
তারপরও একটা জিনিস পাল্টাইব না যে, লেখালেখি আসলেই বহুত কঠিন আছে। যতই আমি সৎ হইতে চাই, ততই ডুইবা যায় আমার শব্দেরা অন্ধকারে।
এইটারে কোন অজুহাত হিসাবে লয়েন না আবার। আমি কথা দিতেসি আপনাগোরে - আমি নিজের গল্পটা সবচেয়ে ভাল কইরাই বলসি। এখানে যোগকরণের কিছু নাই। তারপরো একটা ভাবনা আমি থামাইতে পাির না যে, একটা সময় হয়তো আইব, আজকে থেইকা কয়েক বছর কি কয়েক যুগ পরে, যখন আমি আবিষ্কার করব যে আমার অস্তিত্বটা উদ্ধারকৃত হইসে আর সেইটার ক্ষতিগুলি পূরন করা হইসে। তখন হাতিটা ফিরা যাইব দক্ষিণ আফ্রিকার মালভূমিতে, আর দুনিয়াটার কাহিনীখান আমি কমু এর চেয়েও সুন্দরতর শব্দমালায়।

লেখালেখি লয়ে আমি যা জানি তার অনেকটাই শিখসি ডেরেক হার্টফিল্ডের কাছ থিকা। প্রায় আসলে সবটাই, কইতে গেলে। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, একজন লেখক হিসেবে হার্টফিল্ড ছিলেন অক্ষম শব্দটা দিয়া যা বোঝায় তার সবটাই। সেটা বোঝার লাইগা কারোর ওনার কয়েকটা লেখার বেশী পড়ার প্রয়োজন হয় না। ওনার গদ্য নষ্ট ত্রুটিপূর্ণ, কাহিনীতে তাড়াহুড়া তেমন যত্ন নাই, আখ্যান গুলা পোলাপাইন্যা। তয় তথাপি, তিনি যেমন একজন যোদ্ধা ছিলেন তেমন খুব কম লোকেই হয়, এমন একজন যিনি শব্দরে বানাইতেন নিজের অস্ত্র। আমার মতে, যখন নিছক রণশীলতার কথা আইব পদমর্যাদায় ওনার স্থান ঠিক ঐ উপ্রে আজকের দিনের রথি-মহারথি, হেমিঙওয়ে আর ফিটযজেরাল্ডগো লগেই হওয়া উচিৎ। দুঃখের কথা হইল যে, সব সত্ত্বেও, তিনি কখনই বুঝতে পারেন নাই উনার লড়াইটা ঠিক কিসের বিরুদ্ধে ছিল। এক্কেরে অন্তিম গণণায়, আমার মনে হয় যে, অক্ষম হওন হইল ঐটাই।
হার্টফিল্ড নিজের নিরর্থক সমরে অবতীর্ণ হইয়া রইলেন আট বচ্ছর দুই মাস, তারপরে মইরা গেলেন গা। ১৯৩৮ সালের জুন মাসে, একটা রৌদ্রজ্জ্বলা রবিবার দিনে, তিনি ডান হাতে অ্যডল্ফ হিটলারের একখানি পোট্রেট আর বাম হাতে একটা ছাতা লইয়া এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিঙের উপ্রে থেইকা লাফায়া পড়লেন। যদিও খুব বেশী লোকে বিষয়টা খেয়াল করল না, - মৃত্যুতেও তারে পাত্তা দেওন হইল না যেমন দেয়া হয় নাই জীবনে।
হার্টফিল্ডের বহুদিন যাবত প্রিন্টে না থাকা প্রথম বইটা আমার হাতে আইল জুনিয়ার হাইয়ে পরনের সময়ের শেষ গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে, সময়টারে আমার এমনে মনে আছে যে ঐসময় আমার কুচকিতে একটা বাজে রকমের খাউজানি হইসিল। আমার যে চাচায় আমারে বইখানা দিসিলেন তিনি ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্যান্সারে ভুইগা প্রবল যন্ত্রণায় মারা গেছিলেন তিন বছর পর। শেষ যখন আমি উনারে দেখতে গেসিলাম,ডেক্তাররা উনারে কাটাছিড়া কইরা এমন বাজে অবস্থা করসিল যে, ওনার শরীরের দোনো প্রান্ত থেইকায় বাইর হওয়া, তরল লইয়া যায় আর বইয়া আনে এমন সব প্লাস্টিকের টিউবে উনি ঢাকা পইড়া গেছিলেন। উনি কেমন কুচকায়া গেছিলেন আর ওনার চামড়াটার রং হইসিল লালচে বাদামী, যেসব কারণে উনারে দেখাইত একজন ধূর্ত বুড়া বানরের মত।
**
আমার চাচা ছিল মোট তিনজন। একজন মারা গেলেন প্যাসিফিক ওয়ার শেষ হওনের দুদিন পর শাংঘাইয়ের ঠিক বাইরে, যখন নিজেরই পাইতা রাইখা একটা ল্যান্ডমাইনের উপ্রে উনার পা পইরা গেল। আমার একমাত্র জীয়মান চাচাজান জাপানিজ হট স্প্রিংস সার্কিটে জাদুকর হিসাবে কাম করেন।
**
হার্টফিল্ড লেখালেখি লইয়া এই কথাই কইসেন, যে : " তার কার্যকারিতার দিক থেকে, লেখালেখি হল আমাদের নিজেদের আর আমাদের পারিপার্শ্বিক জিনিসগুলির মধ্যকার দূরত্বকে ণির্ণয় করা। সূক্ষ অনুভবের ক্ষমতার প্রয়োজন নেই, আমাদের প্রয়োজন একটা গজফিতা।" ( *ভাল লাগার ব্যাপারে এত্ত খারাপের কি আছে?*১৯৩৬, থেইকা)
হাতে একটা গজফিতা লইয়া নিজের চারপাশের জগতরে আমি ভীতি সহকারে মাপাজোখা করা শুরু করসিলাম যেই বছর কেনেডি গুলি খাইল, আইজকার থে পোনারো বচ্ছর আগে - পোনারোটা বচ্ছর কাইটা গেছে খালি এইটা আর এইটার পরে ওইটা আর ওইটার পরে এইটারে ফালায়া দিতে দিতে। যেন একটা এয়ারপ্লেন যার ইনজিনে গন্ডগোল বাইধা গেছে, আর আমি প্রথমে ফালায়া দিলাম সব মালপত্র, তারপরে প্লেনের সিটগুলা, আর তারপরে, শেষে গিয়া, ঐ অভাগা বিমান বালাগোরে, পরিহার কইরাই গেলাম খালি নতুন কোন কিছুরেই আর নিলাম না।
কামটা কি ঠিক হইতেছিল? বালটা আমি জানুম কেমনে! সন্দেহ নাই, এমনে অনেক সহজ হয় জীবন, কিন্তু যখন কল্পনা করি বুইড়া হওয়া আর মইরা যাওনের তখন খুব ভয় লাগে আমার। মানে বলতেসি, আমার লাশটারে অরা পুড়ায়া ছাই বানানের পরে আর থাকব কি? এক টুকরা হাড্ডি পর্যন্ত রবে না।
আমার বিগত দাদীআম্মায় একখান কথা কইতেন, "কাল হৃদয়ের মানুষরা কাল স্বপ্ন দেখে। যাদের হৃদয় আরো কাল ওরা কোন স্বপ্নই দেখতে পারে না।"
যে রাতে উনি মরছিলেন, প্রথম যেইটা আমি করলাম সেটা হইল হাত বাড়ায়া আলতো কইরা বন্ধ করে দিলাম উনার আঁখিদ্বয়। আর ঐ মুহূর্তে, যত স্বপ্ন উনি দেখছিলেন নিজের ঊণআশি বৎসরে উধাও হইয়া গেল বিনা শব্দে (পুফ!), রোদে তাঁতায়ে থাকা ফুটপাতের উপ্রে গরমের দিনের এক পশলা বৃষ্টির মত, কিছুই রইল না।
**
লেখালেখি লয়ে শেষ একটা কথা।
আমার কাছে মনে হইছে লেখালেখির কাজটা বড় যন্ত্রণাময়। আমার একটা পুরা মাস চইলা যাইতে পারে যে একটা লাইনও আইল না, বা তিন দিন তিন রাত লেইখা গেলাম একাধারে, তারপরে দেখলাম আসল কথাই কইতে পারি নাই।
একই সময়, এতদসত্ত্বেও, লেখালেখিরে আমি ভালবাসি। জীবনরে প্রকৃতই যাপন করার থেইকা তার উপ্রে অর্থ আরোপ কইরা দেওনটা অনেক বেশী সহজ।
আমার টিন এজ চলতেসিল, মনে হয়, যখন এই বিষয়টা আমি আবিস্কার করি। আমার ভিতরটায় এইটা এমন একটা ঝাঁকি মাইরা গেলগা যে এক সপ্তাহ আমার মুখ দিয়া কোন কথাই বাইর হয় নাই। আমার এমন লাগতেছিল যে, আমি যদি, আমার বোধশক্তিরে ঠিকঠাক রাখবার পারি তাইলে, আমি সমস্ত দুনিয়াটারে আমার ইচ্ছার সামনে নত করাইতে পারব, উল্টায়-পাল্টায়া ফালাইতে পারব দুনিয়াতে সবকিছুরে দাম দেওনের যে পদ্ধতিগুলা আছে, আর কালের প্রবাহে ঘটায়ে দিতে পারব পরিবর্তন।
আমার জন্যে দুঃখজনক, বহু বছর লাইগা গেছিল আমার বুঝতে যে এইটা একটা ফাঁদ। শেষমেষ যখন ধরবার পারলাম, আমি একটা সাদা কাগজ লয়ে বসলাম আর একটা দাগ টানলাম মাঝখানে; তারপরে এই নীতি মাইনা আমার যা কিছু অর্জন সেগুলারে লিস্ট করলাম বামদিকে আর যা কিছু ক্ষতি হইছে সেগুলিরে লেখলাম ডাইন সাইডে। দেখা গেল যে আমি এতকিছু হারায়া লাইছি - জিনিস যেগুলি বহুপূর্বে ছাইড়া চইলা আসছি, মাড়াইসি পায়ের নীচে, বিসর্জন দিসি, বিশ্বাসঘাতকতা করসি - আমি সেগুলি সব লেইখাও পারি নাই।
একটা বিভাজন রেখা রইছে, সেইটা আমরা যদ্দূর উপলব্দি করতে চাই আর যদ্দূর করতে পারি সে দুইটার মাঝখানে একটা পার্থক্য রচনা কইরা দেয়। রেখাটা এত গভীর যে সেটারে কখনও হিসাব করা যায় না, তা আমাদের হাতের গজফিতাখান যতই লম্বা হউক না কেন। আমি এখানে যা রচনা করসি সেইটা একটা তালিকার থিকা বেশী কিছু নয়। এইটা কোন উপন্যাস কি সাহিত্যও না, শিল্পকর্মও না। কোন এক প্রকার জীবনশিক্ষা এটার মধ্যে থাকতে পারে যদিও।
যদি আর্ট বা সাহিত্য লয়ে আপনার বেশী আগ্রহ থাকে, আমার প্রস্তাব আপনে গ্রীকদের পইড়া দেখতে পারেন। দাস মালিকানা বিদ্যমান সমাজগুলিতে খালি বিশুদ্ধ আর্ট বিরাজ করে। গ্রীকগো দাস আছিলো অগো জমি চাষ করণের লাইগা, খাওয়া বানানের লাইগা, আর রনতরীর দাড় বাওনের লাইগা, আর নিজেরা হ্যারা তখন সূর্যসিক্ত মেডিটেরিয়ান সৈকতে শুইয়া শুইয়া কাব্যরচনা করতেন আর গণিতের সমীকরণ লয়ে কুস্তি খেলতেন। ঐ হইল আর্ট।
আপনে যদি একটা ঐ ধরণের লোক হন যে ভোর তিনটার সময় নিস্তব্ধ রান্নাঘরের শূন্য রেফ্রিজেটারে হানা দেন, আপনে লেখবেনও তাইলে অমনই।
আমি হইলাম ঐ জিনিস।

( চলবে)
জাপানি থেকে ইংলিশে : টেড গুজেন
ইংলিশ থেকে বাংলায় : সালেহ মুহাম্মাদ

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সালেহ মুহাম্মাদ
সালেহ মুহাম্মাদ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 8, 2015 - 7:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর