নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নগরবালক
  • শ্মশান বাসী
  • মৃত কালপুরুষ
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

নারীকে কেন আলাদাভাবে সম্মান করতে হবে? নারী কি রুগ্ন?


নারীকে অপদস্থ করা, নারীর কাপড় চোপড় টেনে হিঁছড়ে লাঞ্চিত করা, অপমান করা, পণ্য করা, দুর্বল ভেবে তাকে নির্যাতন করা এটা নারীর প্রতি সহস্র সহস্র বছর ধরে চলা পুরুষতান্ত্রিকতার ইতিহাস। এখনো এই সমাজে নারীকে পুরুষের সমকক্ষ ভাবা হয় না। ভাবা হয় এক দুর্বল, অক্ষম, রুগ্ন প্রজাতি। গত কয়েকদিন আগে শায়লা শ্রাবনী নামক যে মেয়েটি আরেকটি মেয়ের বস্ত্র হরণ করার যে প্রয়াস চালিয়ে ছিলেন। তা দেখে মনে হয়েছিল, শায়লা শ্রাবনী নিজেই একজন পুরুষতন্ত্রের একনিষ্ঠ সেবাদাসী! যেন আরেক জন মেয়ের কাপড়-চোপড় টেনে খোলায় মধ্যে তিনি পুরুষতন্ত্র চর্চার অমৃত স্বাদ পেয়েছিলেন! পুরুষতান্ত্রিকতা কি শুধু পুরুষরা চর্চা করেন? আমার তো মনে হয় এদেশে পুরুষতন্ত্রের চর্চা পুরুষের চেয়ে নারীরাই অধিক পরিমান বেশি চর্চা করেন থাকেন। আমার মনে হয় এই সমাজে বাবা তার কন্যাকে চলার জন্য যে পরিমাণ অগ্রাধিকার দেন, তার ৫ ভাগেরও এক ভাগ মা তার মেয়েকে দিতে চান না। আমাদের মা'রাই বলে দেন, মেয়েকে কিভাবে নরম সরম করে চলতে হবে, মা'ই তো মেয়েকে বলে দেন, কখন কোথায় কিভাবে মেপে মেপে চলতে হবে। বাইরে গেলে কিভাবে ঢেকে ঢুকে চলতে হবে। কিভাবে চোখ, মুখ, ঠোট, বুক, নিতম্ব, সযত্নে ঢেকে ঢুকে রেখে গুচিয়ে চলতে হবে। যাতে তার মেয়েকে চলতে ফিরতে আবেদনময়ী না দেখায়, যাতে রাস্তার মধ্যে ছেলেরা তার মেয়েকে দেখে উত্তেজিত না হয়!

পুরুষতন্ত্রের মূল স্তম্ভ হচ্ছে ধর্ম। যে ধর্মগুলো হাজার হাজার বছর ধরে পুরুষতন্ত্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। ধর্মে শেখানো হয়, স্বামীর প্রতি নারীর দায়িত্ব কি? নারীর দৈননিন্দ জীবন, -মানে নারীর কিভাবে চলা উচিত, কতোটুক সংযমী হওয়া উচিত, স্বামী ও সন্তানের প্রতি নারীর কতোখানি দায়িত্ব পরায়ন হওয়া উচিত, নারীর এমন একটা সীমানা বেঁধে দিয়েছেন আমাদের ধর্মগ্রন্থগুলো। সেগুলো ভক্তিভরে মেনে আসছেন আমাদের নারী সমাজ। এখনো এই সমাজে নারীকে দইয়ের মাখনের মতো যত্নে করে রাখা হয়। এতে ফুটে উঠে একটা নারীর অবস্থান আসলে কতোটা ঠুনকো। কতোটা অস্তিত্বহীন!

সবচেয়ে যে বিষয়টা আমার কাছে একদম বাজে লাগে, তা হল নারীকে আলাদা ভাবে সম্মান করার কথাটা। নারীকে সম্মান করুন, নারীকে মর্যদা দিতে শিখুন, এইগুলি যখন কোনো নারীর মুখে রাস্তা-ঘাটে শুনি, তখন মনে হয় নারীর অবস্থান আসলে কতোটা স্থুল! কতোটা টলমলে! আচ্ছা নারীকে কেন আলাদা ভাবে সম্মান করতে হবে? কি হাস্যকর বিষয়! তাই না? নারী কি রুগ্ন? অক্ষম? পরজীবি? আত্নবিশ্বাসহীন? আত্নসম্মানহীন? সেই কেন অপরের দয়া নিয়ে বাঁচতে চায়? তার কি আত্নবিশ্বাস নেই নিজের উপর ভর করে দাঁড়ানোর? এখানে নারীকে আলাদাভাবে সম্মান করার কথা বলে নারীর শারীরিক ও মানসিকতার উন্নতি হচ্ছে কোন দিক দিয়ে? আমার তো মনে হয় তারা আরো অক্ষমতা ও অধঃপতনের দিকে ঝুঁকছে। যেমন একটা উদাহরণ দিই, -বাসে একটা তরুণী দাঁড়িয়ে যাচ্ছে দেখে কোনো তরুণ সিট ছেড়ে উঠে গিয়ে তরুণীটিকে জায়গা করে দিল বসার জন্য। আর তাকে দেখে আমাদের নারী সমাজ মনে করে তরুণটি আসলে নারীকে সম্মান করতে জানে। এটা সোজা করে ভাবলে দয়াও তো বলা যায়। তাই না? মানে তরুনটি তরুনীটিকে করুণা করলো। আর এই করুণার মধ্যেই তারা সম্মান খুঁজে পান। কি আত্নসম্মানহীন মূল্যবোধ নিজেদের প্রতি!

আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করলাম, এই সমাজের এখনো অধিকাংশ নারী নিজেদের পুরুষের কাছে একমাত্র ভোগ্যবস্তুই মনে করে। তার শরীরটা যেন পুরুষের কাছে একমাত্র লালায়িত ভোগ্য পণ্য। একটা মেয়ে যখন কোনো অপরিচিত পুরুষের সামনে যায়, সেই ইতস্ততবোধ করে। তার কাঁধের কাছে ব্রার ফিতাটা বেড়িয়ে আসছে কিনা, বুকের ওড়নাটা সঠিকভাবে গোছগাছ আছে কিনা, পেছনে নিতম্বের কাপড় অগোচালো আছে কিনা সেই চিন্তায় অস্থির থাকে সেই। তার মানে সেই ভেবেই নিয়েছে সেই পুরুষের কাছে একমাত্র ভোগ্যবস্তু। এটাও তো ভাবা যায়, আমার স্তন আছে, আমার যৌনি আছে, আমার নিতম্ব আছে এটা তো চিরন্তন সত্য। আমি কেন আমার এই শরীরের জন্য এতো ইতস্তত, এতো অস্বস্তিবোধ করবো? আমি কেন পুরুষের কামুক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য লজ্জিত হয়ে খুব গুছিয়ে গাছিয়ে চলবো? আমি কেন আমার থলথলে মাংসপিন্ডগুলো ভোগ্যবস্তু ভাববো? সমস্যা তো আমার না, সমস্য তো পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গীর।

-যে সমাজের নারীরা পুরুষের দয়া করাকে এখনো নারীকে সম্মান করা বলে ভেবে নেয়, সেই সমাজের নারীদের এখনো মানসিকতার তেমন একটা উন্নতি হয়নি। এটা নির্দ্বাধায় বলা যায়...

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

অপ্রিয় কথা
অপ্রিয় কথা এর ছবি
Offline
Last seen: 3 weeks 6 দিন ago
Joined: শনিবার, ডিসেম্বর 24, 2016 - 2:15পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর