নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ওয়াহিদা সুলতানা
  • নগরবালক
  • উদয় খান
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • আশিকুর রহমান আসিফ
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

ধারাবাহিক উপন্যাসঃ চতুর্থ পর্ব।


৭। জনসমুদ্রে জেগেছে জোয়ার
রাত এগারোটায় সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে বাসে উঠলো বিজয়। গত এক সপ্তাহ ধরে বেশ ব্যস্ত সে। ক্লাসের সময়টুকু বাদ দিলে সারাক্ষণ থাকছে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চে। দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলেছে গণজাগরণ মঞ্চ। শাহবাগ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো,এটি এখনো কোনো রাজনৈতিক দলের অধীনে না গিয়ে সর্ব সাধারণের স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতিতে একটি গণ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। সেদিন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল হানিফ শাহবাগে এলেও আন্দোলনকারীরা তাকে সভাস্থলে প্রবেশে বাধা দেয়। প্রথমে আন্দোলনে উপস্থিতি কম থাকলেও কয়েকদিনের মধ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা লক্ষের ঘরে পৌঁছেছে। এটা সম্ভব হয়েছে ব্লগ,ফেসবুকে ব্যাপক প্রচারণার ফলে। সারা দেশ থেকে বিভিন্ন বয়সী মানুষ শাহবাগে ছুটে আসছে। নিজের পরিচিত এক বৃদ্ধাকে গাজীপুর থেকে শাহবাগে আসতে দেখেছে বিজয়। শুধু শাহবাগ মোড় নয়; টিএসসি, রমনা পার্ক, এলিফ্যান্ট রোড সব জায়গা লোকে লোকারণ্য। দেশাত্মবোধক সংগীত,কবিতা আবৃত্তি,মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন শ্লোগানের মাধ্যমে রক্তপাত বিহীন আন্দোলন অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। শাহবাগ মোড়কে নাম দেওয়া হয়েছে প্রজন্ম চত্বর। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, ‘ মন চায় শাহবাগে ছুটে যেতে। ’ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ,মুক্তিযোদ্ধা, খেলোয়াড়, রিক্সাওয়ালা সবাই এসেছে আন্দোলনে। প্রবাসী বাঙালিরাও এ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন। শোলাকিয়া ইদগাহের ইমাম আল্লামা ফরিদউদ্দিন মাসুদ ‘যুদ্ধাপরাধের চেয়ে বড় কোন অপরাধ নাই’ বলে আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। রাজধানী ঢাকার বাইরে প্রতিটা জেলা, এমনকি উপজেলা পর্যায়েও জণগন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে গণজাগরণ মঞ্চ বানানো হয়েছে। এ আন্দোলনে প্রথম থেকেই ছিল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো। এছাড়া অংশ নিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। শাহবাগ আন্দোলনের আহবায়ক ডাক্তার ইমরান এইচ সরকার রীতিমতো সেলিব্রিটিতে পরিণত হয়েছেন। আরেকজন আন্দোলনকারী শ্লোগান দিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।তার নাম লাকি আক্তার। শাহবাগে শ্লোগান দেয়ার অপরাধে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা রড দিয়ে আঘাত করে লাকির মাথা ফাটিয়ে দেয়। হাসপাতাল থেকে ফিরেই আবার শাহবাগে শ্লোগান দিচ্ছেন তিনি। কেউ কেউ তাকে শ্লোগানকন্যা বলে ডাকছেন। শাহবাগ আন্দোলনে পাওয়া এই পরিচিতি লাকির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ভিত গড়ে দিবে। কয়েক বছর পর তিনি হবেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি।
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা আজ দাবী তুলেছে জামাত-শিবির নিষিদ্ধের। এহেন পরস্থিতিতে বেশ বিপদে পড়ে গেছে জামায়াতে ইসলাম। আর দেশব্যাপী আন্দোলনের ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। না পারছে জোটের সঙ্গী জামায়াতের বিরুদ্ধে গিয়ে শাহবাগ আন্দোলনকে সমর্থন জানাতে, না পারছে সারা দেশের মানুষের আন্দোলনকে সরকারের নাটক বলে উড়িয়ে দিতে। জামাত-শিবিরের সমর্থকগোষ্ঠী অবশ্য পাল্টা প্রচার শুরু করেছে। শিবির অরিচালিত ব্লগ, ফেসবুক পেজে শাহবাগ আন্দোলনকারীদের ব্যাপারে নানা কথা বলছে। আন্দোলনে অংশ নেয়া কয়েকজন নাস্তিক,মুক্তমনা ব্লগারের ধর্মবিরোধী লেখা শেয়ার করে শাহবাগ আন্দোলনকে নাস্তিকদের আদোলন বলে চালাতে চাইছে।
বাসায় ঢুঁকেই এতো রাতে ফেরার জন্য মায়ের বকা খেলো বিজয়।স্বামী ও পুত্রকে নিয়ে মুক্তি আপু এসেছে। মা খেতে বসতে বললেন। বিজয় বললো, ‘ খাবো না, খেয়ে এসেছি।’
‘ কি খেয়েছিস? কই খেলি?’ মা জানতে চান।
‘পাস্তা খেয়েছি। এখন ক্ষুধা নাই।’ বিজয় বিরক্ত হয়।
মা বললেন, ‘ভাতের ক্ষুধা অন্য কিছু দিয়ে মিটবে না। এক গ্রাস হলেও ভাত খা।’
বিজয় হেসে ফেললো। বাঙালি মায়ের কি অদ্ভুত চিন্তা-ভাবনা !
ড্রয়িংরুমে ঢুঁকে দেখলো বাবা আর ফয়সাল ভাই কথা বলছেন। ফয়সাল ভাই বললেন, ‘ এই যে শাহবাগে এত মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাইছে, প্রতীকী ফাঁসি দিচ্ছে; এটা ঠিক না। রায় ঘোষিত হবে আদালতে। জনতা রায় নির্ধারণ করতে পারে না। আর আদালতের রায়ে কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন দন্ড দেওয়া হয়েছে, ফাঁসি না।’
বিজয়ের মেজাজ খিঁচরে গেলো। বাবা কিছু বলার আগেই সে বললো, ‘ যে বিশেষ আইনে একাত্তরের ঘাতকদের বিচার হচ্ছে , কাদের মোল্লার মামলায় ট্রাইবুনাল তার মর্ম বুঝতে পারেননি। তারা খুনের বিচার করেছেন, গণহত্যার বিচার করেন নি। তারা ফৌজদারী আইনের অভ্যাস অনুযায়ী স্বাক্ষী খুজেছেন। একাত্তরে কোনো বিচ্ছিন্ন খুনের ঘটনা ঘটেনি। একাত্তরে বাঙলাদেশে ঘটেছে স্মরণকালের নৃশংস গণহত্যা। একাত্তরের প্রতিটা হত্যা ত্রিশ লক্ষ মানুষের গণহত্যার অংশ,যার জন্য দায়ী জামায়াতের সকল নেতা, রাজাকার ,আলবদর,আলশামস। জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা আলবদরের নেতা ছিলো। ট্রাইব্যুনাল আলবদরের নেতার বিচার করেনি। আমরা গণহত্যার জন্য আলবদর নেতা কাদের মোল্লার বিচার চাই। আর গণহত্যার সর্বনিম্ন শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে নিজের রুমে চলে গেলো বিজয়। গতকাল শাহরিয়ার কবিরের মুখে কথাগুলো শুনেছে সে। বিছানার এক পাশে দাদু ঘুমিয়ে পড়েছেন। অর্থির সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু রুমে দাদু থাকায় ফোন করলো না বিজয়। বিছানায় শুয়ে ফেসবুকে প্রবেশ করলো। অর্থিকে অনলাইনে পেলো না। টাইমলাইন স্ক্রল করতে করতে ‘আস্তিক বনাম নাস্তিক তর্কযুদ্ধ’ নামক গ্রুপে একটা পোস্ট চোখে পড়লো ওর। কে একজন একটা ব্লগ শেয়ার করে লিখেছে, ‘ দেখুন, আল্লাহর নবীকে নিয়ে কি লিখেছে এই শাহবাগী নাস্তিক।’ লিংক থেকে ব্লগটার ভিতরে গেলো বিজয়। লেখাটার শিরোনাম ‘ নবী মুহম্মদের নারী লিপ্সা’। বিজয়ের কান গরম হয়ে উঠলো। মনে মনে তাওবা পড়লো। পুরো লেখাটা পড়তে ভয় লাগছে। কিন্তু নিষিদ্ধ কিছুর প্রতি মানুষের আকর্ষণ চিরন্তন। তাই পড়তে শুরু করলো। হজরত মুহম্মদ (সাঃ) এর একাধিক বিবাহ ও দাসী রাখার ঘটনাকে অশ্লীল ভাষায় বর্ণনা করেছে শয়তানের বাপ নাম ধারণকারী লেখক। বিজয় দ্রুত ব্লগটা থেকে বেরিয়ে এলো। ফেসবুকে অনেক লোক পোস্টটাতে কমেন্ট করে লেখককে গালিগালাজ করছে। কেউ কেউ আবার সমর্থনও করছে। প্রকাশ রায় নামের একজন লিখেছে, বেরিয়ে এলো ইসলামের নবীর থলের বিড়াল। তার কথার প্রত্যুত্তরে বিজয় লিখলো, ‘ ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে লিখেছে বলেই এতো খুশি হচ্ছেন। বাংলাদেশের নাস্তিকরা নাস্তিকতা বলতে শুধু ইসলামের প্রতি বিদ্বেষকেই বোঝে।’ বিজয়ের কথার জবাবে একজন লিখলো, ‘ বর্তমান যুগে পৃথিবীব্যাপী মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় আতংকের নাম ইসলাম। ইসলামের নামে যত মানুষ হত্যা হয়, অন্য কোনো কারণে তা হয় না। সুতরাং ইসলামের সমালোচনা সবচেয়ে বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক।’ বিজয় লিখলো, ‘কিন্তু ইসলাম জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না , যারা মানুষ হত্যা করে তারা প্রকৃত মুসলিম নয়।’ লোকটা এবার বিধর্মীদের হত্যার নির্দেশ সংবলিত কুরানের বিভিন্ন আয়াত তুলে দিয়ে লিখলো, ‘এরপরেও কি বলবেন ইসলামে মানুষ হত্যা নিষিদ্ধ?’
কুরান-হাদিসের ব্যাপারে বিজয়ের জ্ঞান সামান্য। তাই সে আর জবাব দিলো না। অর্থিকে অনলাইনে দেখতে পেয়ে মেসেজ দিলো ‘ কি করছ?’
‘ গত এক সপ্তাহের আন্দোলন নিয়ে একটা লেখা শেষ করলাম।’
বিজয় লিখলো, ‘জানো, আজ ইমতিয়াজকে দেখলাম একটা মেয়ের সাথে ঘুরছে। সম্ভবত ওড় বউ। মেয়েটা শাড়ি পরে ছিল।’
অর্থি রিপ্লাই দিলো, তুমি কি আমার প্রেমে পড়েছ?’
‘ হোয়াট !’
‘ ইদানীং দেখছি তুমি বারবার ইমতিয়াজের কথা বলছো। এর সম্ভাব্য কারণ হলো ইমতিয়াজের সাথে আমার অতীতের সম্পর্কটা তোমার দারুণ অপছন্দ এবং তুমি চাও না যে আমার লাইফে ইমতিয়াজ আবার ব্যাক করুক। এর কারণ হতে পারে যে , তুমি আমার প্রেমে পড়েছ। তাছাড়া আমি তো দেখতে খুব একটা খারাপ নই।’
বিজয় অনেকক্ষণ চুপ করে থাকলো। তারপর লিখলো, ‘ হুম , এটা সত্যি আমি তোমার প্রেমে পড়েছি। রাগ করো না প্লিজ।’
‘ রাগ করার কিছু নাই। তুমি আমাকে পছন্দ কর এটা অনেক আগেই আমি বুঝতে পেরেছি।’
‘তো এখন কি করবে?’ বিজয় ভয়ে ভয়ে রিপ্লাই দিলো।
‘ প্রেম করবো। আর আমার প্রতি তোমার আকর্ষণ যদি তুমি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে তবে তোমাকে বিয়েও করবো।’
‘ সত্যি ! বিশ্বাস হচ্ছে না।
‘ অবাক হওয়ার মতো কিছু না। তোমাকে আমার ভালো লাগে।’
‘কাল দেখা করবে?’
‘ শাহবাগে গিয়ে ফোন দিও , দেখা হবে।’

৮। খোরাসান থেকে কালো পতাকা

ঢাকার আরমানিটোলার বহু পুরনো একটা চারতলা বাড়ির চতুর্থ তলার ছোট্ট একটা ঘর। ঘরটার দরজা ,জনালা বন্ধ করে অন্ধকার করে রাখা হয়েছে। মেঝেতে পাতা বিছানায় বসে আসে চারজন তরুণ। তিনদিন আগে ওদের এখানে আনা হয়েছে।এর আগে ওরা ছিলো কেরানিগঞ্জের একটা বাড়িতে।ওদের সামনে গদিতে বসে কথা বলছেন মাওলানা। মাওলানার নাম কি তা ওরা জানে না। জরুরি কথা ছাড়া অন্য কথা বলার অনুমতি নাই। মাওলানা দীর্ঘদেহী মানুষ। তার দাড়িও বেশ লম্বা ও লাল রঙের। চোখদুটো অন্তর্ভেদী , কারো দিকে তাকালে সে সম্মোহিত হতে বাধ্য। তিনি সব সময় জুব্বা ও পাগড়ি পরে থাকেন।
অন্ধকার থেকে মাওলানার গুরুগম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসে ,আব্দুল্লাহ ইবনে হাওয়ালাহ রাঃ রাসুলুল্লাহ (স) থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘ পরিস্থিতি তার কাজের ধারা অনুযায়ী চলতে থাকবে যতক্ষণ না তোমরা তিনটি বাহিনীতে পরিণত হও । একটি বাহিনী শামের , একটি বাহিনী ইয়েমেনের এবং আরেকটি বাহিনী ইরাকের’।
আরো একটি বাহিনী তৈরি হবে খোরাসানে। রাসুল (স) বলেছেন , খোরাসান হতে কালো পতাকাধারী লোক বের হবে যাদের কেউ পরাজিত করতে পারবে না যতক্ষণ না তারা আলিয়ায় বিজয় পতাকা উড়াবে’
তৎকালীন খোরাসান হলো বর্তমান আফগান ও পূর্ব ইরান।
আল কায়দা আর তার সহযোগীরা আজ চারটি জায়গাতেই উপস্থিত।
ইরাকঃ ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক
শামঃ জাহবাত আল নুসরাহ
ইয়েমেনঃ আনসার আল শরিয়াহ
খোরাসানঃ আল কায়েদা ,তালেবান ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন
এদের সবাই যুক্তরাস্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে চলেছে। মাওলানা একটু থামেন। মুঠোফোনে আলো জ্বালিয়ে পানির বোতলটা হাতে নেন। পানি খেয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে আবার শুরু করেন কথা বলা,রাসুল (স) বলেছেন, ‘আল্লাহ ও তার রাসুলকে সাহায্য করার জন্য আদেন আবিয়ান থেকে বারো হাজার লোক বের হয়ে পড়বে ,যারা আমার ও তাদের সময়ের সর্বোত্তম লোক’।
আপনারা জেনে খুশি হবেন যে,ইয়েমেনের আনসার আল শরিয়াহ এখন আদেন আবিয়ান প্রদেশে অবস্থান করছে এবং এরই মধ্যে বারো হাজার লোক বিশিষ্ট একটি আর্মি গঠন করা হয়েছে , ঠিক যেমনটি রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন।
ওরা তন্ময় হয়ে মাওলানার কথা শুনতে থাকে। আবিয়ান প্রদেশের কথা শুনে রাশেদের কল্পনায় পাহাড়ি এলাকার ছবি ভেসে ওঠে। ওর জন্ম কক্সবাজারের রামুতে। চার বছর বয়সে বাবাকে হারায় রাশেদ। এর কয়েক মাস পরেই ওর মা প্রতিবেশী সোলেমানের হাত ধরে পালিয়ে যান। এরপর কাশেম চাচা ওকে ভর্তি করিয়ে দেন স্থানীয় এক কওমি মাদ্রাসায়। দশ বছর সেখানেই কাটিয়েছে রাশেদ। হয়েছে কুরানের হাফেজ। গত বছর দাওরাহ পাশ করে একটা মসজিদে ইমামতি শুরু করেছিলো রাশেদ।
সেপ্টেম্বরের শেষের দিকের ঘটনা। রাশেদ এশার নামাযে সালাম ফেরালে একজন লোক দাঁড়িয়ে বললেন, ফেসবুকে হজরত মুহাম্মদ (স) কে নিয়ে বিদ্রুপ ও আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর প্রতিবাদে নামায শেষে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে।আপনারা সবাই উপস্থিত থাকবেন’। আর সবার সাথে রাশেদও গিয়েছিলো বিক্ষোভ মিছিলে। উত্তম নামের এক বৌদ্ধ যুবক নাকি ফেসবুকে আল্লাহর নবীকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করেছে। এ কথা শুনলে কোন মুসলিমের মেজাজ ঠাণ্ডা থাকতে পারে ? রামুর সব মসজিদ থেকে মুসল্লিরা বেরিয়ে এসেছিলো সেদিন। কয়েকশো জনতার মিছিল এগিয়ে গিয়ে উখিয়া বৌদ্ধপল্লীতে হামলা চালালো। এগারোটা বৌদ্ধ মন্দির ও প্রায় কুড়িটা বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন জ্বালিয়ে দিলো সে রাতেই।
কয়েকদিন পর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হলে তাতে রাশেদের নামটাও ঢুঁকে পড়ে। কাশেম চাচার পরামর্শে গ্রাম ছেড়ে পালালো রাশেদ। ঢাকার বাসে উঠে পড়লো। বাসে দেখা হলো ওর মাদ্রাসার সাবেক ওস্তাদ আসাদুজ্জামানের সাথে। আসাদুজ্জামান মাদ্রাসায় থাকাকালীন শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বেশ কয়েক বছর পর তার সাথে দেখা হলো রাশেদের। সবকিছু শুনে উনি রাশেদকে বললেন, ‘এভাবে ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করা যাবে না। তুমি যদি আল্লাহর রাস্তায় নিজেকে উতসর্গ করতে রাজি থাকো তবে আমার সাথে চলো। আমি তোমাকে সে পথের সন্ধান দিবো ইনশাল্লাহ।’
বিকল্প পথ খুঁজে না পেয়ে আসাদুজ্জামানের সাথে যেতে রাজি হয় রাশেদ। ঢাকায় পৌঁছে আসাদুজ্জামান রাশেদকে আশুলিয়ার এক বাড়িতে নিয়ে যান। তারপর থেকে উনার সাথে আর দেখা হয়নি রাশেদের । আশুলিয়ার সে বাড়িতেই শুরু হয় রাশেদের জিহাদি শিক্ষা। সেখানেই তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় আসলাম,কাদের ও ফয়সালের সাথে। এগুলা অবশ্য তাদের আসল নাম নয় । রাশেদের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন তাকে আজহার নামে ডাকা হয়।
ওদের পরিচয় গোপন রাখা হলেও দীর্ঘদিন একসাথে থাকার সুবাদে তারা একে অন্যের ব্যাপারে অনেক কথাই জানে।যেমন, আসলামের আসল নাম কাউসার। ওর বাড়ি রাজশাহী। এক বছর আগেও সে ঢাকার একটা নামী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলো। আসলামের মত কাউকে এখানে দেখে বেশ অবাক হয়েছিলো রাশেদ।
ওদের চারজনের মধ্যে কাদেরের বয়স সবচেয়ে বেশি।কথাও বলে কম।তাই ওর ব্যাপারে তেমন কিছু জানা যায় নি।রাশেদের মত ফয়সালও মাদ্রাসার ছাত্র ছিলো।তবে সে আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেছে। সে নিজেই নানা বই-পুস্তক পড়ে জিহাদের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়েছিলো। পরে উপযুক্ত লোকের সন্ধান পেয়ে চলে এসেছে শাহাদতের পথে।
‘আমার উম্মতের মধ্যে একদল লোক হিন্দুস্তান আক্রমণ করবে’, মাওলানার কথায় বাস্তবে ফিরে এলো রাশেদ। তিনি বলছেন, ‘এবং আল্লাহ তাদের বিজয় লাভ করতে সাহায্য করবেন ,তারা হিন্দুস্তানের রাজাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখবে। আল্লাহ তাদের সব গুনাহ মাফ করে দিবেন। অতঃপর তারা শামের দিকে যাবে এবং সেখানে তারা ইসা বিন মারইয়ামকে পাবে। এখানে শামদেশ হলো বৃহত্তর সিরিয়া।
বন্ধুগণ,২০০৮ সালে মুম্বাই হামলা হলো ইণ্ডিয়ার প্রতি আল কায়দার একটা হুমকি যা মুলত রাসুলুল্লাহ (স) এর ভবিষ্যৎবাণীরই অংশ। ইণ্ডিয়াতে আক্রমণ অব্যাহত থাকলে ইণ্ডিয়া পাকিস্তানকে তার আফগান বর্ডারে জিহাদিদের লালন-পালনের জন্য আক্রমণ করবে।পাকিস্তানও এ আক্রমণের শোধ নিবে এবং আল কায়দা ও তালেবান তাদের মুসলিম প্রতিবেশিদের এমনকি বাংলাদেশকেও সাহায্য করবে। এই পুরো আঞ্চলিক যুদ্ধ হবে মূলত মুসলিম বনাম হিন্দু যুদ্ধ। সবশেষে এই যুদ্ধে মুসলিমরা জয়ী হবে যেমনটা আল্লাহর রাসুল (স) আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন হাদিসের মাধ্যমে।আর সেই মুজাহিদদের পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। ফলে তারা জান্নাতুল ফেরদৌস লাভ করবে। আমরা সেই সৌভাগ্য অর্জনে রাজি আছি তো?’
চারজন তরুণ সমস্বরে বলে উঠলো , ‘ইনশাল্লাহ।' (চলবে)
আগের পর্বের লিংক ঃ https://istishon.com/?q=node/28242

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

উলুল আমর অন্তর
উলুল আমর অন্তর এর ছবি
Offline
Last seen: 6 দিন 15 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, ফেব্রুয়ারী 15, 2017 - 1:09পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর