নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নগরবালক
  • শ্মশান বাসী
  • মৃত কালপুরুষ
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

জহির রায়হানের অন্তর্ধান বাংলা সাহিত্য জগতের এক বিরাট বিয়োগাত্মক!



ষাটের দশকে বাংলা সাহিত্য জগত যখন ভয়ের কাছে নতী স্বীকার করে আর জাগতিক মোহে পড়ে সমাজ সত্যকে এড়িয়ে যেতে শুরু করেছিল ঠিক সেই সময় সমাজ ও রাজনীতি সচেতন জহির রায়হান প্রবেশ করেন শিল্প-সাহিত্য জগতে। 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসে তিনি তুলে ধরেছেন যুগ-যুগান্তরের আবহ-সংকুল অথচ বিবর্তনহীন পূর্ব বাংলার গ্রামীণ জীবনের ছায়াচিত্র। ক্ষুদ্র একটি গ্রামের একান্নবর্তী পরিবারের সংঘাতময় জীবনের কাহিনী তিনি বর্ণনা করেছেন এক সম্মোহনী মুগ্ধতায়।

প্রগৈতিহাসিক কাল ধরে চলে আসা আবহমান গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন আখ্যান ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটি বাংলাদেশের গ্রাম-বাংলার আবহমানকাল ধরে চলে আসা সাধারণ মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির এক সূক্ষ ও সুনিপুণ চিত্র। ক্ষণজন্মা এই কথা সাহিত্যিক তার লেখনীতে দেখিয়েছেন, কোন রকম শক্তিশালী গল্প ছাড়াও শুধুমাত্র গল্প বলার আশ্চর্য নির্লিপ্ত ভঙ্গি এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র সাধারণ বাঁক পরম মমতায় তুলে আনার মাধ্যমে কীভাবে একটি সৃষ্টিকে কালজয়ী করে তোলা যায়!

রূপ; তুলির আঁচড়ে সুনিপুন ভাবে ফুটে উঠে, কিছু রূপ থাকে যাদের রং তুলীতে ধারন করা যায় না, কলমের ভাষায় ফুটিয়ে তুলতে হয়। সুচারু বর্ণনায় সেই রূপ হয়ে উঠে প্রাণবন্ত। কিন্তু কিছু রূপ থাকে যাদের না ধরা যায় তুলীর আঁচড়ে, না ফুটিয়ে তোলা যায় কলমের খোঁচায়। মনের মাধুরীর সঙ্গে মিশে তা চলে যায় চিত্রকল্প বা বিশেষণের ঊর্ধে। সেই ঐশ্বরীক ক্ষমতাবান শিল্পি কালেভাদ্রেই জন্মায় পৃথিবীতে। তেমনি এক অবর্ণনেয় সৌন্দর্যের স্রষ্টার নাম 'জহির রায়হান'। এই অসাধারন প্রতিভাধর মানুষটি সুনিপূন শিল্প নৈপুন্যতায় তার প্রতিটি সৃষ্টিতে ভেঁঙে দিয়েছিলেন প্রথাগত সংস্কারাবদ্ধ ধর্মান্ধতার সব বদ্ধ কপাট।

জহির রায়হানকে জানানো হয়েছিলো শহিদুল্যাহ কায়সার সহ দেশের অনেক বুদ্ধিজিবী মিরপুর ১২ এর বিহারী পল্লিতে আটক আছে। কিন্তু পরবর্তী পরিস্থিতির আলোকে মনে হয়েছে এটা ছিলো একটা মরনফাঁদ।

৭২ এর জানুয়ারীতে স্বাধীন দেশের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো বুদ্ধিজিবীদের উদ্ধারের লক্ষ্যে মিরপুর বিহারী পল্লিতে সেনা অভিযান চালাবে। কিন্তু অভিযানের সেনা অফিসাররা বুঝতে পারেনি বিহারীরা কতটা শক্ত অবস্থান নিয়েছিলো সেখানে। প্রথমে সেনা অফিসারদের সাথে জহির রায়হান সহ আরো কয়েকজন বেসামরিক লোক থাকলেও বিহারীদের অবস্থান চিন্তা করে বেসামরিক লোকরা ফিরে আসে। কিন্তু 'সারেং বাড়ির বৌ'র স্রষ্টা, যে তার ক্ষুরধার লেখনি দিয়ে প্রথাগত সংস্কারের বিরুদ্ধে কলম ধরার সাহস দেখিয়েছিলো, সে কেন ভয় পাবে!

শেষ পর্যন্ত অভিযানে একমাত্র বেসামরিক লোক ছিলো জহির রায়হান। বিহারীদের আক্রমনের মুখে প্রথমে সামরিক বাহিনী টিকতে পারেনি। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মতে ভাইয়ের সন্ধানে বের হওয়া জহির রায়হানের রক্তাক্ত দেহ ছাড়াও আরো অসংখ্যা লাশ বিহারী পল্লির একটা ঝুপড়ির পাশে পরে থাকতে দেখেছে সে। দ্বিতীয় দিনের অভিযানে বিহারীপল্লি আয়ত্তে আনা গেলেও জহির রায়হান সহ অসংখ্য বুদ্ধিজিবীর লাশের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। সব থেকে অদ্ভুত কথা হচ্ছে, দেশ তখন স্বাধীন। স্বাধীন দেশের ভেতরেই আমরা রক্ষা করতে পারিনি আমাদের সূর্য্য সন্তানদের।

জহির রায়হান কমরেড শহিদুল্যাহ কায়সারের ছোট ভাই, ছিলেন দেশের একজন খ্যাতিমান চলচিত্রকার, সাংবাদিক, সাহিত্যিক এক কথায় বহুমুখী প্রতিভাবান এক অমুল্য সম্পদ।

সেই বিহারীরা মিরপুর ১২তে আজো আছে। কিন্তু যে পাকিস্থানিদের পক্ষে তারা বাঙালির বিরুদ্ধে অসূরের ভুমিকা নিয়েছিলো, সে পাকিস্থান তাদের গ্রহন করেনি। 'সারেং বাড়ির বৌ' এর অমর স্রষ্টা জহির রায়হান ছিলেন ধর্মান্ধ সমাজ সংস্কারের বিরুদ্ধে এক বিপ্লবী কলম যোদ্ধা। গতকাল ৩০ জানুয়ারী জহির রায়হানের অন্তর্ধানের দিনটিকে যদি তার প্রয়াণ দিবস ধরি, তবে এই দিনটি বাংলা সাহিত্য জগতে এক বিরাট বিয়োগাত্মক দিন। কারণ বাঙালি সমাজ এবং বাংলা সাহিত্যকে দেয়ার মতো আরো বহু কিছু অবশিষ্ট ছিলো জহির রায়হানের কলমে।

বাজারি ধাঁচের বই লিখে জনপ্রিয়তা তো অনেক লেখকই পান, কিন্তু ক'জন লেখকের লেখা থেকে সমাজ উপকৃত হতে পারে? প্রথাগত সংস্কার ভাঁঙার বিপ্লব ক'জন লেখকের লেখায় খুদিত হয়? জহির রায়হান ছিলেন এমন একজন শিল্পি, যাঁর প্রতিটি রচনা সমসাময়িক সমাজের বাস্তব চিত্র হয়ে অংকিত হয়েছে। যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পরিচয় করিয়ে দেবে প্রাগৈতিহাসিক বাংলার সাথে।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 13 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর