নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ওয়াহিদা সুলতানা
  • নগরবালক
  • উদয় খান
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • আশিকুর রহমান আসিফ
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • দীপ্ত সুন্দ অসুর

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

‘রাজনৈতিক ইসলাম’ কি সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের বাইরে কিছু?


‘রাজনৈতিক ইসলাম’ আর সাধারণ মানুষের ইসলাম কি আলাদা কোন ফর্ম? এটা কি হাস্যকর ব্যাপার না যে, ইসলাম সম্পর্কে জানতে বা ইসলামে কি আছে সেটা বুঝতে আমাদের কোন পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীর গবেষণার সাহায্য নিতে হবে? এক সময় মডারেট মুসলমানরা কোন পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীর লেখা এনে ইসলামকে ডিফেন্স করত, যেমন তারা টমাস কারলিল নামের কাউকে দেখিয়ে বলত, এই পশ্চিমা লেখক বলেছেন, ‘মুহাম্মদ (সাঃ) কে তরবারীর জোরে ইসলাম বিস্তৃতি করেছে বলে অপবাদ দেয়া বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়’। ইসলাম কেমন, ইসলাম কি বলে সেটা জানতে আমাদের কার্ল মার্ক্স থেকে জানতে হবে না। নোয়াম চমস্কি কিংবা এডওয়ার্ড সাঈদও ইসলাম জানার কোন সোর্স নয়। ইসলামকে জানতে ইসলামের আদি সোর্সগুলোকেই অথেনটিক বলে ধরতে হবে।

ইসলাম থেকে ‘রাজনীতিকে’ বাদ দিলে ইসলামের বস্তুত আর কিছুই থাকে না। ইসলাম থেকে রাজনীতিকে বহির্ভূত বলে দাবী করতে হলে কুরআনকে অনেকখানি বদলে ফেলতে হয়। কুরআন বলছে, أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ ﴿١٤٢ (তোমরা কি ভেবেছো এমনিতেই জান্নাতে চলে যাবে, অথচ আল্লাহ এখনো দেখেননি তোমাদের মধ্য থেকে কারা জিহাদ করে এবং কারা সবর অবলম্বনকারী? (সূরা আলে ইমরানের ১৪২ নম্বর আয়াত)। এখানে দেখা যাচ্ছে জিহাদ না করলে এমনি এমনি জান্নাতের যাওয়া যাবে না বলে কুরআনে সতর্ক করা হচ্ছে। তাহলে ‘সাধারণ মানুষের ইসলাম’ বলে কথিত যে ফিউশনকে ইসলামী আউডোলজি ধরে মডারেট মুসলমান, বামপন্থি লোকজন এবং কিছু পশ্চিমের অমুসলিম চিন্তক খাড়া করতে চান তার ভিত্তি কি? সাধারণ ধর্ম বিশ্বাসী মুসলমানরা নামাজ পড়ে, রোজা রাখে, মসজিদে যায়, কুরবানী দেয়, হজ করে, যাকাত দেয়… ব্যস এর মধ্যেই তাদের ইসলাম সীমাবদ্ধ? তারা জিহাদ করে না। মূর্তি ভাঙ্গতে যায় না। তালেবান আইএসে যোগ দেয় না। কিন্তু পিস টিভির যাকাত তাহবিলে কোটি কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিলো তারা কি ‘অসাধারণ মানুষ’ ছিলো যে ড. জাকির নায়েকের ইসলাম তথা জিহাদের তাহবিলে অর্থ দান করেছিলো?

আসুন এটা বুঝতে জিহাদে কতভাবে যোগদান করা যায় তা ইসলামী শাস্ত্র অনুসারে একটু জেনে নেই। ইসলামের চার ইমামই বলেছেন ‘কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদের স্তর চারটি’। ক)অন্তর দিয়ে কাজটাকে ঘৃণা করা, খ)মুখের কথা দ্বারা তা প্রতিরোধ করা, গ)এ পথে সম্পদ ব্যয় করা, ঘ)নিজের জীবন আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করা। অর্থ্যাৎ কাফের বা অমুসলমানদের বিশ্বাসকে অন্তর দিয়ে মনে মনে ঘৃণা করাও একটা জিহাদ। যেসব স্থানে মুসলমানরা মূর্তি পুজা, যীশুর আরোধনা, বুদ্ধের উপশসনাকে বল প্রয়োগ দ্বারা নিয়ন্ত্রীত করতে পারবে না সেখানে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে যাবে। কাফেররা ‘বেপর্দা’ চলাফেরা করে, হারাম শুয়োর খায়, মদ বিয়ার নাইট ক্লাব খুলে ফূর্তি করে। সমর্থ না থাকলে কেবল সেসব জিনিসে মনে মনে ঘৃণা করতে হবে। কোটি কোটি ‘সাধারণ মুসলমান’ মনে মনে এসবে ঘৃণা প্রসন করে তাদের জিহাদের দায়িত্ব পালন করে থাকে। আবার এমন না আপনাকে জিহাদের যোগ দিতে ময়দানে যেতেই হবে। আপনি এই পথে অর্থ সম্পদ ঢালতে পারেন। সাধারণ মুসলমান দান করেই তাদের আল্লার রাস্তায় যোগদানকে সমন্বত রাখে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে পিস টিভি কেন এত জনপ্রিয় হলো? কেন তাদের কাছে মুফতি রাজ্জাক, তারিক মুনায়েম এতখানি জনপ্রিয়তা পেলো? যদি আহমদ শফী দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠদের কাছে বুজোর্গ আলেম হয়ে থাকেন তাহলে তর্ক অনুসারে কথিত ‘সাধারণ মুসলমানের ইসলাম’ কেমন করে এইসব রাজনৈতিক ইসলামের প্রচারকদের পৃষ্ঠপোষক হলো?

সুরা আত তাওবা ১৬ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে ‘‘তোমরা কি ভেবেছো যে তোমাদেরকে এমনিতেই ছেড়ে দেয়া হবে অথচ আল্লাহ এখনো দেখেননি যে তোমাদের মধ্য থেকে কারা জিহাদে নিবেদিত হয় এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদেরকে ছাড়া আর কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেন না’। এই আয়াত কি সাধারণ মানুষের ‘অরাজনৈতিক ইসলামকে’ প্রভাবিত করেনি? এমন বিশ্বাসী মুসলমান পাওয়া যাবে যারা খিলাফতে বিশ্বাস করে না? হিন্দু বা ইহুদীদের সম্পর্কে সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় অবস্থানটা কি সেটা একমাত্র মঙ্গল গ্রহে বাস করে পৃথিবী নিয়ে লেখালেখি করা উজবুক ছাড়া সবাই ওয়াকিবহাল। তবু বিশ্লেষণ করতে আমাদের অবিভক্ত ভারতবর্ষের মুসলমানদের কথা বললেই চলবে। ভারতে ‘মুসলিম শাসন’ প্রকৃতপক্ষে ইসলামের খিলাফতী শাসন ছিলো বলা যাবে না। মুসলিম শাসকদের সময় জিজিয়া কর, ধর্মান্তকরণ, যুদ্ধবন্দীদের দাস করার সব ঘটনাই ইসলামের শাস্ত্রীয় অনুমোদন ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করেছে ঠিকই কিন্তু আফগান, তূর্কি আরব থেকে আসা এই দস্যু শাসকদল ইসলামের পরম্পরা খিলাফতের শক্তি ছিলো না। এইসব শাসকদের সঙ্গে আসা ধর্মীয় দরবেশদের সঙ্গে তাই তাদের শাস্ত্রীয় বিধান লঙ্ঘন করার বিতর্ক যুক্ত হতো। ভারতবর্ষে ধর্মন্তরিত মুসলমান যতখানি ইসলামের শাস্ত্রীয় আনুগত্যকে মান্য করে চলেছে তার চেয়ে বেশি ছিলো মুসলিম জাতীয়তাবাদে সচেতন। যেসব কারণে কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির ভোটব্যাংক তারা বজায় রাখলেও ফান্ডামেন্টাল খিলাফতবাদী ইসলামী দলগুলোতে তারা আস্থা রাখেনি। এদিক দিয়ে তারা মধ্যপাচ্যের মুসলিমদের থেকে ভিন্নতর হলেও তাদের ইসলামী বিশ্বাস অভিন্ন কাফের অমুসলিম ঘৃণায় পরিপূর্ণ।

আলোচনা হচ্ছিল সাধারণ মুসলমানদের ইসলাম আর ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ নিয়ে। দাবী করা হয় সাধারণ মুসলমানদের ইসলাম হচ্ছে উদার নরমপন্থি। অপর পক্ষে রাজনৈতিক ইসলাম হচ্ছে সহিংস রক্তপাতে ভরপুর। হোয়াইট হাউসের মাথায় কলেমা খচিত ইসলামের পতাকা উত্তলনের যে খোয়াব দেখা হয় তা রাজনৈতিক ইসলামের কথা। সাধারণ মুসলমান আমেরিকাতে মসজিদে বসে মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের জন্য শান্তি কামনা করে…। এরকম একটা ফ্যান্টাসী প্রতিষ্ঠা করতে এককালে মডারেট মুসলমানরা চেষ্টা করেছিলো। এখন সেটাই প্রবাসী ঝান্ডুবামদের করতে দেখছি। সাধারণ মুসলমানদের ইসলাম কোথায় থাকে যা দেখে আমরা বুঝতে পারব তাদের ইসলাম রাজনৈতিক ইসলাম থেকে ভিন্ন কিছু? আমরা যখন বিন লাদেনের পোস্টার সিনেস্টারদের মত বিক্রি হতে দেখেছিলাম সাধারণ মুসলমানদের কাছে তখন বুঝতে পেরেছিলাম সাধারণ মুসলমানদের কাছে রাজনৈতিক ইসলাম নানাভাবে সক্রিয়। যখন আফগানিস্থানে তালেবানী শাসনের মধ্যযুগীয় বর্বরতার সংবাদ আসতে থাকল কোন সাধারণ মুসলমানের ইসলামই তার প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু তালেবানদের উপর মার্কিন যুদ্ধের সময় তাদের সবটুকু সমর্থন তালেবানের উপর গিয়েই পড়েছিলো। যদি হালের বাংলাদেশের লাগামহীন সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি ও ধর্মের উপর হামলার প্রসঙ্গ ধরি, সেখানেও কথিত সেই ‘সাধারণ মুসলমানদের ইসলাম’ নিরব। বরং সাধারণ মুসলমানদের ইসলামই তৃণমূলে একজন হিন্দু নাগরিকের সব রকম মৌলিক অধিকারই খর্ব করতে তৎপর হয়…।

লেখা সংক্ষি্প্ত করতে আর কথা বাড়াচ্ছি না। কেবল এটা বলতে চাই ইসলাম নিয়ে কথা বললে তাকে ‘সাধারণ মানুষের ইসলাম’ বলে ভিন্নতর এক উদার ইসলাম জাতীয় কোন ডুমুরের ফুলের সংবাদ পরিবেশন না করাই ভাল। ভাল উদার মুসলমান সেই-ই যিনি ইসলাম থেকে দূরে সরে গেছে। ইসলামের যেসব তড়িকা আলাভোলা আধ্যাত্তিক ধর্ম সাধনার মধ্যে সীমিত তার সবগুলোই ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাওয়া পথ। সুন্নী মতালম্বী (যারা ইসলামের সবচেয়ে বড় ভাগ) ইসলাম এসব কারণেই এদের মুসলমান বলেই স্বীকার করে না। আমাদের বাপ-দাদাদের উদার ভাল মুসলমান বলে দাবী করা হয়। তারা কেউ জিহাদ করতে যায়নি। বরং রায়টের সব কত হিন্দুকে সহায়তা করেছিলো ইত্যাদি। এসব দাবী করে তাদের মানবিকবোধকে ‘উদার ইসলামের’ অবদান বলে প্রচার করা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণিত। মানুষ সামাজিক জীবনে সর্বক্ষেত্রে ধর্ম দ্বারা পরিচালিত হয় না বা সম্ভব নয়। এটা ব্যক্তি মানুষের আচরণ, সাধারন বিবেকবোধ। কিন্তু তাদের এই সাম্প্রদায়িক অবস্থানকে ভিন্ন কোন ইসলাম নামে ব্যাকেট বন্দি করে ইসলামের মত একটা দানবকে সহায়তাই করা হবে। কারণ নিজের স্বরূপ প্রকাশিত হয়ে যাবার সময় আসলেই ইসলাম নিজেকে শান্তিবাদী হিসেবে তুলে ধরতে চায়। তার সমস্ত সহিংসতার দায় খালিদ বিন ওয়ালিদ, বিন লাদেন, আবদুর রাজ্জারদের উপর দিয়ে ছদ্মবেশ নেয়। যেন এরা সব নিজেদের ইচ্ছাতে সহিংসতা করেছে, ইসলামের এসবে কোন সায় ছিলো না!

ইসলামফোবিয়া আর ইসলামের সমালোচনা এক জিনিস নয়! আহাম্মক! ইসলাম তো ইসলামই তার সঙ্গে মুসলমানকে গুলিয়ে ফেললে চলবে? ইসলামভীতি, ইসলাম বিদ্বেষ অত্যন্ত যৌক্তিক। সেখানে মুসলিমফোবিয়া মুসলিম বিদ্বেষকে গুলিয়ে ফেলছে। যদি কথিত “নব্য নাস্তিক্যবাদীদের” মুসলিম বিদ্বেষ থাকত থাকলে কি তারা ইসলাম নিয়ে এত লিখত? তারা এসব লিখছে যাতে মুসলমানদের মধ্যে একটা প্রজন্ম গড়ে উঠে যারা ধর্মীয় ব্যক্তিদের চরিত্রকে জানতে পেরে, ধর্মের আসল উদ্দেশ্যকে বুঝতে পেরে তাদের ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট ভোঁতা হয়ে পড়ে। নাস্তিক বা সংশয়বাদী হবার চাইতেও এটি পৃথিবীর জন্য অনেক মঙ্গলজনক। কিন্তু ইসলামের ভিন্ন উদার মানবতাবাদী বাবা-চাচা-খালুদের ‘সহনশীল ইসলামের’ চকিদার বানিয়ে মুসলমানদের কাছে কেন ইসলামকে বিজ্ঞপ্তি করা হচ্ছে? কেন তাদেরকে ইসলামে মুখ ডুবিয়ে জাবর কাটতে চেষ্টা করা হচ্ছে? ইসলাম নিয়ে তাদের দুর্বলতা কিন্তু ধরা পড়ে যাচ্ছে!

তথাকথিত ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ নামের আলাদা যে টার্ম বানিয়ে ইসলামকে এর থেকে মুক্ত দাবী করা হয় তার কিছু চাক্ষুস প্রমাণ দেয়া হলো-

হে ঈমানদারগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি ব্যবসার সন্ধান দেব না যা তোমাদেরকে কঠিন আযাব থেকে মুক্তি দেবে? তোমরা আল্লাহ ও তার রসূলের প্রতি ঈমান আন এবং আল্লাহর পথে অর্থ-সম্পদ ও জান-প্রাণ দিয়ে জিহাদ কর। এটাই তোমাদের জন্য অতিব কল্যাণকর যদি তোমরা তা জান। তাহলে, (পুরস্কার হিসেবে) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে এমন বেহেশতে প্রবেশ করাবেন যার নীচে দিয়ে ঝর্ণাধারা বহমান থাকবে। আর চিরস্থায়ী বসবাসের জায়গা জান্নাতের মধ্যেতোমাদেরকে সর্বোত্তম বাসস্থান দান করবেন। এটাই বড় সফলতা। আরেকটি জিনিস যা তোমরা আকাংখা কর আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং নিকটবর্তী সময়ে বিজয়। হে নবী! ঈমানদারদেরকে সুসংবাদ দান করুন। (সুরা সফ: ১০-১৩)

নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের কাছ থেকে তাদের প্রাণ ও ধন-সম্পদকে জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন। তারা আল্লাহতায়ালার পথে লড়াই করে, মারে এবং মরে। তাদের প্রতি তাওরাত,ইনজীল ও কুরআনে(জান্নাতের ওয়াদা)এটি একটি পাকাপোক্ত ওয়াদা। আর আল্লাহর চাইতে বেশী ওয়াদা রক্ষাকারী আর কে আছে?কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে যে কেনা-বেচা করছো সে জন্য শুভ সংবাদ গ্রহণ কর। এটাই বিরাট সাফল্য। (সুরা তাওবা:১১১)

অর্থাৎ, তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকো যতক্ষণ না ফিতনা নির্মূল হয়ে যায় এবং দীন একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয় তাহলে জেনে রাখ যালেম তথা অত্যাচারী ছাড়া আর করোর ওপর হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়। (সুরা বাকারা: ১৯৩)।
-তার মানে কুরআন বলছে যতক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়ার মানুষ ইসলাম ধর্মকে গ্রহণ না করছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই সহিংসতা সে চালিয়েই যাবে! এই হচ্ছে ‘অরাজনৈতিক ইসলামের’ এক পিস সেম্পল!

Comments

পার্থিব এর ছবি
 

আপনি যে কোরানের আয়াতগুলো দিয়েছেন সেগুলোর প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে দেখা যায় আল্লাহ মুহাম্মদ সা ও তাঁর সহচর সাহাবীদেরকে যুদ্ধ বা সশত্র জিহাদ করতে উতসাহিত করছেন সেই সব মানুষদের সাথে যারা ইসলামকে নিশ্চিহ্ন আর নির্মুল করতে চাইছিল। মুহাম্মদ সা কে মক্কা থেকে কুরায়শ আর প্যাগানরা বিতাড়িত করেছিল আর সেই সাথে তারা চাইছিল মুহাম্মদ সা এবং ইসলাম ধর্মকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে কাবা ঘরে ৩৬০ দেবতার পূজাকে চালিয়ে যাবার জন্য। অথচ মুহাম্মদ সা আগমন করেছিলেন কাবা ঘরকে উদ্ধার করে এক আল্লাহর আব্রাহামিক ধর্মকে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করবার জন্য।

এখন কথা হচ্ছে কাফের , কুরায়শ আর প্যাগানরা ইসলাম ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করতে চাইবে আর মুসলামনরা বসে বসে আংগুল চুষবে? নিতান্ত গর্ধফও বোঝে সেটি হবার নয়। তাই আল্লাহ কোরানের আয়াত নাযীল করে মুহাম্মদ সা এবং তাঁর সাহাবীদের জিহাদ করবার জন্য বার বার উতসাহিত করেছেন। আপনার দেয়া আয়াতগূলো এবং ইতিহাস সেটাই প্রমাণ করে।

 
পার্থিব এর ছবি
 

তার মানে কুরআন বলছে যতক্ষণ পর্যন্ত দুনিয়ার মানুষ ইসলাম ধর্মকে গ্রহণ না করছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই সহিংসতা সে চালিয়েই যাবে! এই হচ্ছে ‘অরাজনৈতিক ইসলামের’ এক পিস সেম্পল!

হা হা হা। তাহলে তো মধ্যপ্রাচ্যে একজনও ইহূদী বা খৃষ্টান বেচে থাকবার কথা নয়। যে ইসলাম গ্রহন করবে না তাকেই যদি মুহাম্মদ সা আর সাহাবীরা হত্যা করতেন তাহলে ইরাক , সিরিয়া ,লেবানন , প্যালেস্টাইন সহ মধ্যপ্রাচ্যের ১০ -১৫% ইহুদী-খৃষ্টান যুগ যুগ ধরে বসবাস করছে কিভাবে?

অর্থাৎ, তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকো যতক্ষণ না ফিতনা নির্মূল হয়ে যায় এবং দীন একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয় তাহলে জেনে রাখ যালেম তথা অত্যাচারী ছাড়া আর করোর ওপর হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয়। (সুরা বাকারা: ১৯৩)।

এই আয়াত থেকে তো খুবই স্পষ্ট ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে যারা অস্ত্র ধারন করবে তাদের বিরুদ্ধেই মুহাম্মদ সা কে অস্ত্র ধরতে হবে , কিন্তু যদি কেউ ইসলাম ধর্ম আর মুহাম্মদ সা এর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারন না করে , মুসলিম দেশকে সম্রাজ্যবাদের নামে আক্রমন না করে তবে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বৈধ নয়।

 
 

যুদ্ধ, রাজনীতি মানেই খারাপ সেটা কিন্তু ঠিক কথা নয়। মক্কা আর মদীনায় মুহাম্মদ যে পরিস্থিতিতে ছিলেন সেখানে তার নিজের, মুসলমানদের আর ইসলামের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখবার জন্য যুদ্ধ ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ খোলা ছিল না। মুহাম্মদ যদি যুদ্ধ না করে কেবল প্রেম-ভালবাসার মিষ্টি মিষ্টি বানী শোনাতেন তার চোখের সামনেই ইসলাম ধর্মের অকাল মৃত্যু দেখতে হত। তার মিশন ছিল কাবা ঘরকে প্যাগানদের কবল থেকে উদ্ধার করে সেখানে এক আল্লাহর এবাদত চালু করা। কিন্তু মক্কায় ১৩ বছর শান্তিপুর্ন উপায়ে চেষ্টা করে সেটা হয় নি। মদীনাত বিতাড়িত হবার পর তার সমর্থন আর শক্তি বৃদ্ধি পায়। মুহাম্মদের আল্লাহও ওহী নাযীল করে যুদ্ধ করতে উতসাহিত করতে থাকে । তাকে তার মিশন সফল করতে প্যাগান, কুরায়শদের বিরুদ্ধে অনেকগুলো যুদ্ধ করতে হয়েছে। অবশেষে মক্কা জয় হয় এবং কাবা ঘর প্যাগানদের কবল থেকে মুহাম্মদ উদ্ধার করতে সমর্থ হন।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সুষুপ্ত পাঠক
সুষুপ্ত পাঠক এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: শনিবার, ডিসেম্বর 21, 2013 - 3:33অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর