নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নগরবালক
  • শ্মশান বাসী
  • মৃত কালপুরুষ
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

আমার মাকে যদি কেউ আমার সামনে নেংটা করে রেইপ করত, তাহলে আমি যে পরিমাণ কষ্ট পেতাম,


আমার মাকে যদি কেউ আমার সামনে নেংটা করে রেইপ করত, তাহলে আমি যে পরিমাণ কষ্ট পেতাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সন্ত্রাসের কারণে আমি যে পরিমাণ কষ্ট পেয়েছি।

বিপ্লব রহমানকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় একটা প্রশ্নের উত্তরে কথাটি বলেছিলেন, বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের একজন, আহমদ ছফা।(আহমদ ছফার সাক্ষাৎকার সমগ্র, সংস্করণ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, পৃষ্ঠা নং: ১০৬)

তিনি কথাটি বলেছিলেন তৎকালীন সময়ের প্রেক্ষাপটে। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আহমদ ছফা'র প্রয়াণের এত বছর পরও আমরা সেই দুষ্টচক্র থেকে নিজেদের বের করতে পারি নি। আমাদের সাম্প্রতিক সময়ের গোলযোগ এটারই উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যথার্থ চিত্র অনুধাবন করতে পেরেছিলেন আহমদ ছফা। এবং সেই অনুধাবন শক্তির দ্বারাই তিনি লিখেছিলেন 'গাভী বিত্তান্ত'। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে আমাদের ছাত্রসমাজ অধঃপতনের দিকে ক্রমেই ধাবিত হচ্ছে। কিভাবে দুষ্টচক্রের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। বলা যায়, এই উপন্যাসে বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতি'র অনেক পঁচা জিনিস তুলে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সময় তার নিজস্ব গতিতে বয়ে চলেছে, কিন্তু আমরা আমাদের সেই যে গোড়ামী'র মধ্যে ঢুকেছি , সেটা থেকে বের হতে পারি নি।

একটা সময় ছিল, যখন দেশের মানুষ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অন্তরের অন্তস্তল থেকে সম্মান করতো, বিশ্বাস করতো। অবশ্য এর সুফলও তারা পেয়েছিলেন। ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন কিংবা এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ছাড়াও আমরা দেখতে পাই দেশের বিভিন্ন সংকটপূর্ণ মুহূর্তে এই দেশের ছাত্রসমাজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

কিন্তু এখন আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো দেখে বুঝার উপায় নেই এগুলো কি কসাইখানা নাকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মানুষ এদেরকে এখন সম্মান তো দূরের কথা, মানুষ বলে গণ্য করতেও দ্বিধাবোধ করে। আমি স্বচক্ষে এটার প্রমাণ দেখেছি। ক্ষমতার লোভে মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে, সেটার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর সাথে সম্পর্কিত মানুষ গুলোই, ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী সকলেই। অরাজকতার দৌড়ে কেউই পিছিয়ে নেই।

ছাত্রছাত্রীরা এখন পড়াশুনা করতে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে না, তারা আসে দেশের নোংরা রাজনীতির প্রশিক্ষণ নিতে। যে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা ছিল মুক্তবুদ্ধি চর্চার স্থান সেই বিশ্ববিদ্যালয় এখন কোপাকুপি, মারামারি, গোলাগুলি চর্চার সর্বোৎকৃষ্ট স্থান। তারা এখন শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে আসে না, আসে শিক্ষককে শেখাতে, শিক্ষককে উদ্ধার করতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করার মত সময় তাদের নেই, তারাই যুক্তি দেখান ক্লাস করার প্রয়োজন কেন নেই! কেন তাদের ধরাবাঁধা নিয়মের মধ্যে বেধে রাখা যাবে না। তারা শীট-নোট কপি করেই পরীক্ষা পাশ করবে। আর শিক্ষক শাসন করলে তাকে হুমকিধামকি দেওয়ার ব্যাপার তো একপ্রকার স্বাভাবিক বলেই মেনে নিয়েছি আমরা!

কুখ্যাতি অর্জনের এই দৌড়ে অবশ্য আমাদের শিক্ষক সমাজও পিছিয়ে নেই। তারা আছেন কিভাবে একজন অপরজনকে টপকিয়ে এসিসটেন্ট প্রফেসর থেকে আসোসিয়েট প্রফেসর হবেন সেই ধান্ধায়। তারা একজন অপরজনের মধ্যে যেরূপ রেষারেষি ঘেঁষাঘেঁষি করেন সেরূপ রেষারেষি ঘেঁষাঘেঁষি সতীন-জা'র মধ্যেও দেখা যায় না। আর তারা একজন অপরজনকে সম্মান দিতে যে পরিমাণ কুণ্ঠাবোধ করেন, সেরকম কুণ্ঠাবোধ একজন রিকশাচালক অন্য একজন রিকশাচালককে সম্মান দিতেও করে না। জাতি গড়ার এসব কারিগরদের নামে ছাত্রীকে যৌন হয়রানী করার মত ন্যাকারজনক ঘটনা যেমন আমাদের দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তেমনি অন্যের গবেষণা চুরির ঘটনাও অস্বাভাবিক কিছু নয় বলেই মনে হচ্ছে।

মাত্র কিছুদিন আগেই আমরা দেখলাম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন গৃহকর বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে, আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা একটা দলের সাথে যুক্ত থাকায় সিটি মেয়র ছাত্রলীগকে ওই শিক্ষকের পিছনে লেলিয়ে দেয়। এবং আমাদের দেশের সোনার ছেলেরা ওই শিক্ষককে জঘন্যভাবে হয়রানি করে, এবং ভিসি'র নিকট ওই শিক্ষকের অপসারণের দাবী চেয়ে প্রশাসনিক ভবনে ভাঙচুর চালায়, চিন্তা করুন মানুষের মাথায় কতটা ঘিলু থাকলে এমনটা করতে পারে। একজন মেয়রের চাইতে একজন জাতি গড়ার কারিগরের মূল্য কম!

মোদ্দাকথা, ছাত্র-শিক্ষকের সম্মান, মর্যাদা, ভালোবাসার যে সম্পর্কটা আমরা কল্পনায় অনুভব করি, সেটার আর কোন বাস্তবিক অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংগঠন গুলোর মধ্যেও কোন সংহতি নেই, যে দল ক্ষমতায় আসছে সে দলেরই পূজা চলছে। সেই দলীয় ছাত্ররাই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছে, প্রশাসন নয়! ব্যাপারটা এরকম যে 'জোর যার মুল্লুক তার'। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ছাত্রসংসদ নির্বাচন কিংবা ছাত্র সংসদ জিনিস গুলো আজকাল স্বপ্নের মত মনেহয়। প্রায় দীর্ঘ সাতাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চারটি সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ গুলোর একটিরও নির্বাচন নেই। বলতে গেলে এগুলো একপ্রকার অচল। কয়েকদিন আগে প্রথম আলো'তে দেখেছিলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী বলছে তারা 'চাকসু' ভবনকে ক্যান্টিন বলেই চেনেন।

অথচ এসব ছাত্র সংসদকেই একসময় দেশের দ্বিতীয় সংসদ মনে করা হতো! এবং এখান থেকেই উঠে আসার কথা ছিল জাতীর কর্ণধারদের।

প্রথম আলোতে কয়েকদিন আগে ছাত্রসংসদ নির্বাচন চেয়ে উপসম্পাদকীয় একটা কলামে দেখেছিলাম, ডাকসু'র একজন সাবেক ভিপি যুক্তরাষ্ট্রে রিসার্চে কিংবা অধ্যাপনায় আছেন এরকম কিছু একটা লিখেছিলেন সম্ভবত, আমার পুরোপুরি খেয়াল নেই। তবে এটা স্পষ্ট মনে আছে যে, তিনি নিজেকে সাবেক ডাকসু ভিপি বলে পরিচয় দিতে সবথেকে বেশি আনন্দ পান বলে লিখেছিলেন।

কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ আমরা কল্পনাও করতে পারছি না, আমাদের কল্পনা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। যদিওবা রাষ্ট্রপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তনে বলেছিলেন ডাকসু নির্বাচন অতি শীঘ্রই হবে, কিন্তু আদৌ তার কোন বাস্তবরূপ আমরা দেখতে পারব কিনা জানিনা। এরমধ্যে ভিসি'ও কিছুদিন আগে আরেক দফা আশ্বাস দিলেন ওয়ালিদের অনশন ভাঙানোর মাধ্যমে। এর সাথে আবার সংযুক্ত হলো, সাত কলেজের অপরিকল্পিত অধিভুক্তি ইস্যু।

ছাত্র সংসদ নির্বাচন না দেওয়ার পেছনে ক্ষমতাসীন দলই সম্ভবত বেশি ভূমিকা রাখেন। কেননা, সরকার বিরোধী আন্দোলনটা প্রথমত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উঠে আসে, অনেক ক্ষেত্রে। সেক্ষেত্রে তারা ওই ঝুঁকি নিতে চান না, হোক সেটা আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপি, কেউই চান না।

এভাবে যদি চলতে থাকে যোগ্য নেতৃত্ব কিভাবে তৈরি হবে সেটা আমার জানা নেই।

সাম্প্রতিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া বাম দলগুলোর উপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, আমি ছাত্রলীগ কিংবা বাম, কারোই পক্ষপাতিত্ব করছি না। ছাত্রলীগ কেন বামপন্থীদের থেকে ভিসি'কে উদ্ধার করতে যাবে সেটার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া যেমন অত্যন্ত জরুরী, তেমনি বাম'দের যে উদ্ধত আচরণের ভিডিও পরবর্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোও খতিয়ে দেখা দরকার।

একটা দেশের সামগ্রিক উন্নতির চিহ্ন অনেকটা প্রতিফলিত হয় সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর পারফরমেন্সের উপর। একটা দেশের উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভূমিকা কতটুকু সেটা খুব কম মানুষই বুঝতে পারেন। আর এই অতি দরকারি উপলব্ধি আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীদের নেই বলেই স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা মাথা তুলে দাড়াতে পারছি না।

আশার কথাও আহমদ ছফা ব্যক্ত করে গেছেন,
নৈতিক সমর্থন না থাকলে, ৫০০ ছেলেও যদি একট্টা হয়ে সন্ত্রাসীদের তাড়া করে হাসিনা খালেদার বাবার সাধ্য নাই সন্ত্রাস করে। (আহমদ ছফার সাক্ষাৎকার সমগ্র, সংস্করণ, ফেব্রুয়ারি ২০১৭, পৃষ্ঠা নং ১০৭)

আমাদের ছাত্রসমাজ-যুবসমামাজ অপরাজনীতি'র এই করাতল থেকে নিজেদের বের করে আনার চেষ্টা না করলে, অদূর ভবিষ্যৎ আমাদের অনেক বেশি ভোগাবে সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তবে আমি এটা বলছি না যে, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা দরকার। আমি বলছি, ছাত্ররাজনীতি'র দরকার অবশ্যই আছে, কেননা, এদের মধ্য থেকেই উঠে আসবে আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। কিন্তু এই অপরাজনীতি চলতে থাকলে, আমরা চোর ছ্যাঁচোড় ছাড়া যোগ্য লিডার পাব না। আশা করবো, সংশ্লিষ্ট সকলে এই বিষয়ে সুনজর দিবেন। ছাত্রদের হাতে চাপাতি তুলে না দিয়ে কলম তুলে দিয়ে জ্ঞান চর্চার সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের দরবারে মাথাতুলে দাঁড়ানোর মত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন এই কামনা করি।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ডাকপিয়ন বলছি
ডাকপিয়ন বলছি এর ছবি
Offline
Last seen: 3 months 3 weeks ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 16, 2016 - 9:19পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর