নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

ছাত্রলীগ ছাত্রআন্দোলনে বপন করল অবিশ্বাসের বীজ!


তারাই সবচেয়ে বড় মূর্খ, যারা নিজেদের চালাক ভাবে কিন্তু অন্যদের ভাবে নির্বোধ!
যে সেনাপতি প্রতিপক্ষকে দূর্বল ভেবে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়, তার পরাজয় নির্ঘাত!!

--------------------------------------------------------
ছাত্রলীগ ছাত্রআন্দোলনে বপন করল অবিশ্বাসের বীজ! যে কারণে কথাগুলো বলছি,
ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লিটন নন্দী'র একটা সামান্য ছবি নিয়ে যে দলকে রাজনীতি করতে হয় তাদের নীতি-আদর্শ কতটা অসাড় ও দূর্বল তা আর বুঝিয়ে বলার দরকার নেই! ছাত্র ইউনিয়নের শীর্ষনেতৃত্বে আমিও ছিলাম। সংগঠন করতে গেলে অপরাপর সংগঠনের নেতা ও ছেলেমেয়েদের সাথে যোগাযোগ-সখ্যতা গড়ে ওঠা খুব স্বাভাবিক একটি বিষয়! বরং না হওয়াটাই অস্বাভাবিক বিষয়। আমরা একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বি-প্রতিপক্ষ ছিলাম কিন্তু কেউ কারো শত্রু ছিলাম না!

আমাদের সময় মধুর ক্যান্টিনে সংগঠনের কাজ শেষে, দুপুরের খাবার খেতে প্রায় পাশেই আইবিএ’র ক্যান্টিনে যেতাম। সেখানে কেবল আমি-আমরা নয়, প্রায় সব সংগঠনের ছেলেমেয়েরাই যেত। সেখানেই বিভিন্ন সংগঠনের ছাত্রনেতার সাথে দেখা হওয়া, আড্ডা দেয়া, একসাথে খাবার খাওয়া একটা নিয়মিত বিষয় ছিল। অনেকদিন ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্রফ্রন্ট, ফেডারেশন, মৈত্রীর নেতাদের নিয়ে একসাথে খেয়েছি। একে অন্যের বিলও দিয়েছি। ছাত্রলীগ নেতা বাহাদুর ব্যাপারী, লিয়াকত শিকদার, অজয় কর খোকন, আনিসুর রহমান, মারুফা আকতার পপি, ছাত্রদলের শহীদউদ্দিন চৌধুরী ন্যানি, হাবীবুন নবী সোহেল, শাহাবুদ্দিন লাল্টু, মনির হোসেন, মঞ্জুর এলাহী, মোশাররফ হোসেন, ছাত্রফ্রন্টের সাইফুর রহমান তপন, জাসদ ছাত্রলীগের ওবায়দুর রহমান চুন্ন, করিম শিকদার, ছাত্রমৈত্রীর জিয়াউল হক জিয়া, সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, ছাত্র ফেডারেশনের জোনায়েদ সাকী, তাসলিমা আখতার লিমা, ফিরোজ আহমেদ, বাসদের ইমাম গাজ্জালী আরও অনেকের সাথেই দুপুরের খাবার খেয়ে সেখানে তুমুল আড্ডা দিয়েছি।

আবার অনেক দিন দুপুরের দিকে মধু ফাঁকা হয়ে গেলে, বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা প্রায়ই পালা করে একে-অন্যের টেবিলে গিয়ে বসতাম, আড্ডা দিতাম। সেখানে ব্যক্তি, সংগঠন, রাজনীতি, কর্মসূচী, এমন কি অনেকের পছন্দ-অপছন্দ প্রেম-ভালবাসা নিয়ে রোমান্টিক কথাবার্তাও হয়েছে! আমরা তখন আজকের মত অত স্মার্ট ছিলাম না! আমাদের কোন স্মার্ট বা মোবাইল ফোন ছিল না! ভাগ্যিস কেউ সেগুলোর ভিডিও করেনি ও ছবি তুলে রাখেনি! তাহলে আজ হয়তো সেগুলো নিয়েও নোংরা রাজনীতি হতো! বিভিন্ন সংগঠন পেতো নানা ষড়যন্ত্রের গন্ধ! যেমন লিটনের একটি ছবি ভাইরাল হয়ে ফেসবুকের দেয়ালে ঘুরে বেড়াচ্ছে! কে করেছে কাজটি ছাত্রলীগ..? সেটাও জেনেছি, কোথা থেকে এই অপকর্মটি হয়েছে!

বিভিন্ন সংগঠনের নতুন কমিটি হলে, আগে মধুর ক্যান্টিনের বিশাল ডিসের মধ্যে মিষ্টি নিয়ে সব টেবিলে ঘুরে ঘুরে বিতরণ করার একটা রেওয়াজ ছিল। সব সংগঠনের ছেলেমেয়েরা হাতদিয়ে একটি করে মিষ্টি তুলে নিয়ে মুখে পুরতো! এখন সময় পাল্টেছে, ছাত্রনেতারা এখন নামী-দামী হোটেল-রেস্টুরেন্টে দাওয়াত করে! দামী গাড়ীতে মধুতে আসে! ছাত্রনেতাদের ধনসম্পত্তির খবর পত্রিকায় আসে! উড়োজাহাজ ভাড়া করে সংগঠনের জেলা কর্মসূচীতে যায়! বিদেশে বিলাস ভ্রমনে করে! ইত্যাদি।

আজকে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লিটনের ছবিকে পুঁজি করে ছাত্রলীগ যে নোংরামি করছে, সেটা কোন নৈতিকতার মধ্যে পরে? আপনারা যে ভয়ঙ্কর মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছেন, সন্ত্রাস করছেন, সেটা কি একবার ভেবে দেখেছেন, সে আগুনে একদিন আপনাকেই পুড়তে হবে! এই তথ্যসন্ত্রাসে আপনারা কাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছেন? কি শিক্ষা দিচ্ছেন? অন্যায় করে যে অস্বীকার করে, সে আরেকটি অন্যায় করে ও আরও অনেক অন্যায়ের জন্ম দেয়! যে কাজটি ছাত্রলীগ করছে! অন্যায় তো অস্বীকার করছেনই, ফের পাল্টা মিথ্যাচার দিয়ে সেই অন্যায়কে জায়েজ করতে আরও বড় অপরাধ করছেন! সেখানে ৫৭ ধারা’ নিরবে নিভৃতে কাঁদে নির্মম পরিহাসে!

ছাত্রলীগের তৎকালীন বিদায়ী নেতা এনামুল হক শামীম, ইকবালুর রহিম ভায়ের অফিসে বেশ কয়েকদিন গিয়েছি, আড্ডা দিয়েছি। সংগঠনের দায়িত্ব থাকাকালীন একবার মগবাজার মোড়ে আমি আর আমার সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল কোথাও যাচ্ছিলাম, হটাৎ ছাত্রলীগ নেতা লিয়াকত শিকদারের সাথে দেখা হয়ে যায়। সহকর্মী ও বন্ধুপ্রতিম লিয়াকত বললেন, ভাই দুপুরে খেয়েছেন? চলেন কিছু খাই। মগবাজর ব্রিজের নীচের সেই ভাঙ্গাচুড়া হোটেলেই আমরা একসাথে নানরুটি, সবজি খেয়েছি। অনুমতি নিয়ে তিনি আমাদের খাবারের বিলটাও দিয়ে দিলেন। সোহেল ভাই ধূমপান করেন, লিয়াকত তার সিগারেটের প্যাকেটটা জোড় করে সোহেল ভায়ের পকেটে গুজে দিলেন! সেটা ছিল আমাদের প্রতি সম্মান ও আন্তরিকতা। সেখানে অন্য কোন ধান্দা ছিল না, ছিল না ষড়যন্ত্র! এখন কি আর সেটা সম্ভব? এই ঘটনার পর' অন্য সংগঠনের নেতাদের দাওয়াত করলে কি কেউ তা স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করবে? আমরা আমাদের শেষ বিশ্বাস ও মূল্যবোধটাও হারাতে বসেছি! একটি অন্যায় ঢাকতে আজ মারাত্মক বিষের বীজ বপন করলেন সমাজে! কত বড় ক্ষতি করলেন সংগঠন ও সম্পর্কের একটু কি বুঝতে পারছেন? সে বুঝ থাকলে হয়তো এতবড় বিশ্বাসঘাতকতা আপনারা করতে পারতেন না!

তারপরও বলি এখন ডিজিটাল যুগ। সেটা কোন দলীয় সম্পত্তি ও বিষয় নয়। কিন্তু ছাত্রলীগ মনে করে সেটাও তাদের দলীয় বিষয়! কারণ তাদের মাথায় সেই পুরানো গোয়েবলসীয় তত্ত্ব ! কিন্তু এটা তো গোয়েবলস্ এর যুগ নয়! স্মাট ফোন ব্যবহার করছেন, কিন্তু এখনও স্মাট হতে পারেননি! সে যুগে তথপ্রযুক্তির প্রায় সবকিছুই নিয়ন্ত্রন করত শাসক। এখন তো তথ্যের মনোপলি নেই, তা গোপন রাখাও কঠিন! একটার বিপরীতে পাল্টা দশটা তথ্য তাকে আঘাত করবে, সে বোধ কি তাদের নেই?! সেটা না থাকলে, হয় তাদের বলতে হয় নির্বোধ, নয়তো শয়তান! প্রতিপক্ষকে এতটা দূর্বল ভাবলে কি যুদ্ধে জেতা যায়?

তারাই সবচেয়ে বড় মূর্খ যারা নিজেদের চালাক ভেবে- অন্যদের ভাবে নির্বোধ! যে সেনাপতি প্রতিপক্ষকে দূর্বল ভেবে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়, তার পরাজয় অনিবার্য!!
-----------------------------------------------------------------
ড: মঞ্জুরে খোদা । প্রাবন্ধিক - গবেষক । প্রক্টর । ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় । কানাডা । সাবেক সভাপতি । বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

মঞ্জুরে খোদা টরিক
মঞ্জুরে খোদা টরিক এর ছবি
Offline
Last seen: 2 months 4 দিন ago
Joined: বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী 4, 2016 - 11:59পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর