নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • নগরবালক
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

ঘুম


বিয়ের ৪-মাস না যেতেই প্রীতির চোখে সুষ্পষ্টরূপে ধরা পড়লো যে, তার স্বামী তুহীন অকর্মন্য, বেকার, বিকারগ্রস্থ ও সন্দেহপরায়ণ এক অর্থব পুরুষ। তারপরো সংসার ভাঙার কলঙ্ক থেকে রক্ষা পেতে একটা জব করতে চাইলো প্রীতি। ভার্সিটিতে তার সাথে যারাই পড়তো, তাদের সবাই এখন উচ্চপদে জব বা বিজনেস করছে, কেবল প্রীতি ছাড়া। পুরণো ক্লাসমেট ইব্রাহিমকে বেকার স্বামী কথা ও তার সাথে নানাবিধ ঝগড়া বিবাদের কথা জানালে, ইব্রাহিম তার অফিসেই একটা মোটামোটি ভাল জবার অফার দেয় প্রীতিকে। স্বামী তুহীনকে এ কথা বলতেই তেলের মত জ্বলে উঠে সে। শ্লেষ নিয়ে বলে –

- "তো কেন তোমার জন্য ইব্রাহিমভাই এতো দরদি হলো। তোমার প্রতি কি কেবল এমনিতেই দরদ দেখায়? নাকি বিনিময়ে তোমায় শুতে হবে তার সাথে"?
- কি সব নোংরা কথা বলছো তুমি তুহীন? সে আমার ভাল বন্ধু! তা্ই হেলপ করতে চাইছে আমাকে সে, তুমি বেকার বলে।
- তো কতদিন রাত কাটিয়েছো তার সাথে বলবে? না হলে এতো দরদি তো হতে পারে না কেউ এ যুগে"।
এমন সুষ্পষ্ট কুৎসিত ইঙ্গিত শুনে প্রতিবাদ করে প্রীতি। বলে - "আমিও ভাল মেয়ে।আমার বন্ধুরাও ভাল। তোমার মত কলুষিত নয় তারা"।
:
এসব ব্যাপারে এখন প্রায় প্রতিদিন-প্রতিরাতে প্রীতির গায়ে হাত তুলে তুহীন। প্রথমত তার সন্দেহ বাতিক প্রীতি চাকুরি করতে চায় কেবল ইব্রাহিম বা অন্য পুরুষ বন্ধুদের সাথে ঘুমাতে। দ্বিতীয়ত, ঘরের বউ চাকুরি করলে সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না তুহীন। তাই মারধর অব্যাহত রাখে, আর চাপ দেয় প্রীতিকে তার বাবার থেক ৩-লাখ টাকা আনতে, যা দিয়ে 'মাল্টিপারপাস' ব্যবসা করবে সে অন্য পার্টনারের সাথে। কিন্তু প্রীতি সুস্পষ্ট জানিয়ে দেয় - "তার মধ্যবিত্ত বাবা-ভাইর কাছে সে চাইতে পারবে না এমন ৩-লাখ টাকা। কারণ, যা দেয়ার বিয়ের সময়ই প্রীতিকে উচ্চশিক্ষিত করে ঘর সাজিয়ে একটা বেকার ছেলের কাছে দিয়েছে। যদিও ঐ সময় তুহীনের মা-বাবা, ভা্ই বলেছিল ভাল ব্যবসা করে তুহীন।
:
প্রতিরাতে বেকার স্বামীর মারধর আর কুৎসিত গালাগালি শুনে শুনে সত্যিই একদিন বাবাকে ফোন করলো প্রীতি। কেঁদে বললো -
- বাবা আর সইতে পারছি না আমি। আমাকে নিয়ে যাও এখান থেকে।
জানতে চান বাবা - "কি হয়েছে মা"?
- "প্রত্যহ মারে আমায় বাবা। টাকা চায় ৩-লাখ সে। আর কোন কাজ করেনা এখন। সারাদিন সিগারেট টানে আর কই কই যেন ঘোরে! আমি কাউকে চাকরির জন্যে ফোন করলেই নানা কুৎসিত কথা বলে আমাকে"।
:
সব কথা শুনে পরদিন প্রীতির মা আর ভাইসহ বাবা যান তুহীনদের বাড়ি। কিন্তু তুহীনের মা-বাবা এসব মানতেই রাজি না। তারা স্বাভাবিক ভাবেই বলতে থাকেন -
- কোন সংসারে এক আধটু ঝগড়া হয়না বলুন বিয়াই? মেয়ে জামাইর এ ব্যাপারে নাক গলানো উচিত নয় আপনাদের। আর তুহীনকে ৩-লাখ টাকা দিলে আপনার মেয়েরইতো ভাল। স্বামী ব্যবসা করে ভাল হলে প্রীতিরও ভাল হবে। হাতে টাকা এলে আর মারধর করবে না প্রীতিকে তুহীন। এমন চমকপ্রদ উপদেশ পায় বেয়াই বাড়ি থেকে প্রীতির মা-বাবা।
:
তুহীনের মা-বাবার এমন কথা শুনে বিস্মিত হয় ভাই সোহেল। বলে - "না এখানে মার খেতে বিয়ে দেইনি আমার বোনকে। তাকে এখনই নিয়ে যাবো আমরা"।
- "ভুলে যেওনা এটাই প্রীতির বাড়ি" বলে শ্বশুর আর শাশুড়ি। এমন নানা কথা কাটাকাটির পর বোন প্রীতিকে ব্যাগ গোছাতে বলে ভাই সোহেল। তুহীনের অনুপস্থিতে তার মা-বাবার সামনে দিয়েই প্রীতিকে নিয়ে যায় তার মা, বাবা আর ভাই। যদিও তারা বার বার নিষেধ করে প্রীতিকে।
:
মাস খানেক চলে গেলেও, একবারো কোন ফোন বা খোঁজ নেয়না স্বামী তুহীন প্রীতির। মা বোঝায় প্রীতিকে - "স্বামীর ঘরই হচ্ছে স্ত্রীর প্রকৃত ঘর"। বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করে প্রীতি একটা জবের জন্যে। সর্বত্র পাঠায় সিভি। তারপরো স্বামীকে ছেড়ে একটা যন্ত্রণায় সারাদিন পুড়তে থাকে প্রীতি বাবার ঘরে।
:
ওদিকে মা-বাবাকে নিয়ে তুহীন পরিকল্পনা করে প্রীতিকে ফিরিয়ে নেবে। কারণ সমাজের নানা জনে নানা কথা বলছে। বিশেষ করে বেকার স্বামীর 'পাছায় লাথি' দিয়ে চলে গেছে আধুনিক সুশিক্ষিত মেয়ে প্রীতি। এমন কথাও পাড়ার দোকানে, বাজারে চাউর হয় সর্বত্র। তাই এলাকার ৫-জন গণমান্য ব্যক্তিসহ একদিন তুহীন, মা-বাবাসহ হাজির হয় প্রীতিদের বাড়ি। কিন্তু বাবা-ভাই দুজনেই অনড়। কোনক্রমেই এ ছেলের হাতে দেবেনা তারা তাদের মেয়েকে মার খেতে। তুহীনের পক্ষ থেকে বাবা ও মা ক্ষমা চায় হাত জোড় করে, বলে - "এমন আর কোনদিন হবেনা বেয়াই। আমরা নিজেরা খেয়াল রাখবো বিষয়টা। কিন্তু ভাই সোহেল শক্ত শর্ত জুড়ে দেয় বোনকে দিতে -
- "কেবল তোমরা সবাই লিখে দেবে আমার বোনকে কখনো মারবে না। মিথ্যা অপবাদ দেবেনা। কখনো টাকা চাইবে না। তাতে সাইন করবে উপস্থিত সবাই। কেবল স্টাম্পে এমন লিখিত দিলেই, আমি বের হতে দেব বোনকে ঘর থেকে, না হলে কোন ক্রমেই না"।
:
কুল কিনারা না পেয়ে উপস্থিত সবার সামনে লিখিত দেয় তুহীন, তার মা ও বাবা। বাকি সামাজিক ৫-ব্যক্তিও তাতে স্বাক্ষী হিসেবে থাকে, যাতে পাকা হয় লিখিত কাগজ। ব্যাগ গুছিয়ে চলে যায় প্রীতি আবার শ্বশুর বাড়ি। সারাদিন ভাল কাটে তার। কিন্তু আজো অনেক রাতে নেশা করে বাড়ি ফেরে তুহীন। এসেই ঘরের দরজা বন্ধ করে বলে -
- "শালি, আমারে অনেক অপমান করছস তুই মাগি। কার কার লগে এ কদিন শুইছস তোর বাড়ি ক"!
এমন কথা শুনি আবার বিস্মিত হয় প্রীতি। মনে ক্লেদ নিয়ে বলে - "এসব কথা বলার জন্যে কি স্টাম্পে লিখিত দিয়ে আনলে আমার মা বাবা থেকে"? এমন খেদের প্রশ্ন প্রীতির মুখে।
- "তোকে শিক্ষা দিতে আনছি আমি। তুই একটা খানকি। তোরে আজই উচিত শিক্ষা দিমু আমি"! ছেলে আর বউর এমন চিৎকারে ঘুম থেকে উঠে বসে তুহীনের বাবা আর ভাই। কিন্তু মা বলে - "এটা ছেলে-বউর নিজস্ব ব্যাপার। তাদের ঘটনায় আমাদের নাক গলানো ঠিক না"। এমন কথা বলে আবার ঘুমুতে যায় পুরো পরিবার।
:
কিন্ত্র তুহীনের আক্রোশ মোটেও দমেনা। গালাগালির এক পর্যায়ে তীব্র আক্রাশে সে গলা টিপে ধরে অনেকদিন পর স্বামীর ঘরে ফেরা প্রীতির। একাকি স্বামীর রুমে হাত-পা ছুঁড়তে ছুঁড়তে এক সময় নিস্তেজ হয়ে যায় প্রীতির সুন্দর দেন। মৃত প্রীতিকে বিছানায় চাঁদর দিয়ে ঢেকে ঐ রাতেই কাউকে কিছু না বলে রাতের আঁধারে ঘর ছাড়ে স্ত্রী হন্তারক তুহীন। কেউ জানেনা এ বাড়িতে রাতে কি হলো। তুহীনের মা, বাবা, ভাই যেমন ঘুমুতে থাকে তাদের ঘরে নির্বিঘ্নে, তেমনি প্রীতির মা, বাবা আর ভাইও নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকে যার যার ঘরে পরম নির্ভরতায়। কিন্তু কেউই জানেনা, প্রীতি নামক সদ্য ভার্সিটি পাশ করা মেয়েটি চিরন্তন ঘুমে নিমজ্জিত তারই স্বামীর হাতে তারই ঘরে!

Comments

hopless buddy এর ছবি
 

very ordinary story....

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 4 ঘন্টা 2 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর