নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • ওয়াহিদা সুলতানা
  • নগরবালক
  • উদয় খান
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • আশিকুর রহমান আসিফ
  • ড. লজিক্যাল বাঙালি
  • কাঙালী ফকির চাষী

নতুন যাত্রী

  • আরিফ হাসান
  • সত্যন্মোচক
  • আহসান হাবীব তছলিম
  • মাহমুদুল হাসান সৌরভ
  • অনিরুদ্ধ আলম
  • মন্জুরুল
  • ইমরানkhan
  • মোঃ মনিরুজ্জামান
  • আশরাফ আল মিনার
  • সাইয়েদ৯৫১

আপনি এখানে

বাংলাভাষার বৈচিত্রময় আঞ্চলিকতা ও প্রমিত বাংলা



মানুষ জন্ম থেকেই রেস্টিস্ট হয়, কিছু স্বভাব থাকে প্রকৃতিপ্রদত্ত যা খুব সহজে সরে যায় না। ধীরে ধীরে একটা সময় সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আসে। মানুষের মুখের ভাষাও রেসিজমের কাছাকাছি মানসিকতার শিকার হয়। ছোটবেলায় আমি নানাবাড়ি দাদাবাড়ি কোনোদিকের কথাই ঠিকমত বুঝতাম না। আম্মুরা একভাবে, আর আব্বুর দিকের মানুষেরা আরেকভাবে কথা বলত। এখনো তাদের সব বুঝি না। যতদূর মনে আছে একদম ছোট থাকতে কিচকিচ করে কথা বলতাম। অচেনা মানুষজন দেখলে ধারেকাছে আসতাম না, কিন্তু চেনাজানা প্রিয় কেউ আসলে কথা শেষ হতো না। যারা আবার বেশিরকম প্রিয় ছিল, তাদের সাথে ঢং চলে আসতো, আর কিছু উচ্চারণ ছিল অনিচ্ছাকৃত ভুল। যেমন 'চ' কে অনেকদিন বলতাম 'ত'। একদম ছোটোবেলায় পুকুরের লাল চান্দামাছ খেতাম। আব্বুকে নাকি বলতাম, "তান্দামাত খাব।"

তবে মানুষের মুখের ভাষার প্রতি মনে মনে বিতৃষ্ণা তখন বেশ অনেকটাই ছিল। একদম গ্রাম থেকে যারা আসতো, তাদের মুখের কথা শুনে কেমন যেন লাগতো। যদিও আমার নিজের উচ্চারণই খুব একটা সুবিধার ছিল না। আরো খেয়াল করতাম তারা আমাদের বাসায় আসলে কিংবা আমরা যখন গ্রামে যেতাম তখন শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলতে গিয়ে কেমন জানি একটা খিচুড়ি করে ফেলছে। মনে মনে হাসি পেত, সম্ভবত এমন ভাবতাম, "জোকারি করতেছে।"

আম্মু কথা বলে জেনুইন ময়মনসিংহ জেলার উচ্চারণে। হুজি, খাইতারি না, যাইবাম, আবুদুব এরকম অদ্ভুত শব্দ আম্মুর মুখে শুনে বুঝতাম ঠিকই, কিন্তু এভাবে কথা বলি নি কখনো। নানাবাড়ির এলাকার মানুষের শব্দের আরও কিছু ব্যাপার দেখতাম, 'র' কেন যেন খুব প্রিয় তাদের। হযরত কে বলবে হরযত, কামরাঙ্গাকে বলবে কারমাঙ্গা, এভাবে। দাদাবাড়ির সব মনে নাই। ওখানের মানুষজন অন্যভাবে কথা বলতো, সুরটাই আলাদা। 'নি' ব্যবহার করে অনেক। খাইসেন নি, যাইবেন নি, এমন। দাদাবাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়ায়, আমি এখনো ওই অঞ্চলের ভাষা শিখি নাই। আমি কথা বলি পিওর ঢাকাইয়া মিক্সে। ছোটবেলায় ভাষা বেছে নেবার ক্ষেত্রে এমন ব্যাপার হয়। অনেক ধরণের উচ্চারণ শুনলে একটু সময় নিয়ে একদম নিজের মত করে একটা কিছু বলা শুরু করে। আমি নাকি কথা বলা শুরু করেছিলাম অনেক অনেক পরে। বাবা মা কারো দিকেরই ভাষা ছিল না সেটা, ছিল বাসার খুব কাছের বস্তির ছেলেপেলেদের ভাষা। আমি তাদের কথা মন দিয়ে শুনতাম। ছোটবেলায় জানালার কাছে গিয়ে বসে ওদের দেখতাম। বাইরে গেলে তাদের অনেকে কোলেটোলেও নিতো। একদম কাছের মানুষের মুখের ভাষার কিছু না নিয়ে অন্যদেরটা নিয়েছিলাম, এর কারণ মনে হয় একেকজন একেকভাবে কথা বলতো, সেটাই। এ সমস্যাটায় প্রবাসীদের সন্তানেরা বেশি পড়ে। তারা শেখে বা পর্যবেক্ষণে রাখে সম্পূর্ণ দুটা আলাদা ভাষা। একটা সময় পর্যন্ত নীরব থেকে একটূ বেশি বয়সে যেকোনো একটা বেছে নিয়ে কথা বলা শুরু করে।

আমাদের প্রতিবেশী একটা পিচ্চি ছিল, ৪-৫ বছর বয়স হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু কথা বলতো না, আব্বু আম্মুও বলতো না। ইশারা করতো, ইহ ইহ করে অদ্ভুত আওয়াজ করতো। ওর আর কোনো সমস্যা ছিল না, শুনতেও পেতো। অনেক ডাক্তার দেখাবার পর ইন্ডিয়া গিয়ে পরামর্শ পায় যে সারাদিন মেয়ের সাথে কথা বলবেন। খুব বেশি সময় লাগেনি, বছরখানেকের মধ্যে গড়গড় করে কথা বলা শুরু করে। হিংসুক পিচ্চি ছিল, বাসায় আসলে শুয়ে থাকতে দেখলে বুকের উপর উঠে বসতো। অন্য কাউকে ধারেকাছে দেখলে ধরে মারতো। সব আদর দরকার ছিল ওর একার। এই মেয়েটা শুরুতে কথা বলা শেখেনি, কারণ, বাবা করতো চাকরী, সকালে গিয়ে বেশ রাত করে ফিরতো। আর মা ঘরে একা থাকতো, কারো সাথে মিশত না। টিভি দেখত সারাদিন, একসময় বাংলা তো আরেকসময় হিন্দী সিরিয়াল। বাচ্চার যখন কথা শেখার বয়স, তখন কাউকে পায়নি ওর সাথে কথা বলবার জন্য। টিভিতে একেকসময় একেক উচ্চারণ, ভিন্ন ভিন্ন শুনে মনে হয় আউলে যেতো। প্রতিটা শিশু জন্মের সময় অসাধারণ একটা ক্ষমতা নিয়ে জন্ম নেয়। সদ্যজাত শিশুর আইকিউ লেভেল থাকে সবচেয়ে বেশি। আর সেটা এতই বেশি অসাধারণ থাকে যে কেবল শুনে শুনে, হাবভাব খেয়াল করে তারা প্রিয় মানুষজন, মানুষজনের অঙ্গভঙ্গীর কোনটা কেমন আর সবচেয়ে বিষ্ময়করভাবে একটা পুরো ভাষাই শিখে ফেলে। আর এই শেখাটাও এতটা নির্ভুল হয় যে ৪-৫ বছরের একটা শিশু কথা বলবার সময় বাক্যের গঠন এদিকসেদিক করে না, ব্যকরণগত ভুল ধরতে পারবেন না কেউ। বাঙ্গা জটিল একটা ভাষা, তারপরেও দেখা যাবে একটা বাচ্চা খুব দ্রুত সঠিকভাবে পুরো বাক্য বলছে। আমি আম খাব, এভাবে বলবে। খাব আম আমি এভাবে বলবে না। বেশি প্রচলিত আর শুদ্ধ রুপটাকে সে নিয়ে নেবে। আমরা হয়ত ভাষার এক্সপ্লিসিট আর ইমপ্লিসিট লার্নিং এর কথা শুনে থাকবো সকলেই। মাতৃভাষাকে আমি বাবা-মা যে ভাষায় কথা বলে সেটাকে মনে করি না। মাতৃভাষা আমার কাছে সবচেয়ে আগে শেখা ভাষাটাই। মানুষ যদিও বা একসাথে অনেকভাষায় ফ্লুয়েন্টলি কথা বলতে, লিখতে শিখে যায়, তবে সে চিন্তা করে একটা ভাষাতেই, যা সে একেবারে প্রথমে শিখেছে। আমেরিকান কোনো বাঙালি দম্পতির সন্তান শুরু থেকেই ইংরেজীতে বলা শুরু করতে পারে, সারাজীবনই হয়ত বাংলা বুঝতে তার সমস্যা হবে, উচ্চারণ ঠিকঠাক পারবে না। প্রাণপন চেষ্টা করেও 'ত' কে 'ট' বলা এড়াতে পারবে না। তুমি কে বলবে টুমি।

যাইহোক, অন্যের ভাষা নিয়ে নিজের মনে মনে যখন মক করা শুরু করেছি, তখন হুট করে একটা সময় নিজের মুখের ভাষাকে সাবস্ট্যান্ডার্ড লাগা শুরু হয়। আমাদের বিল্ডিং এর দোতালায় আসে লাবণী আপারা। স্বপরিবারে বিদেশ প্রত্যাগত ছিলেন আংকেল, পিএইচডি করতে অনেকদিন বাইরে ছিএন। আন্টিও ছিলেন মাশাল্লাহ সাহত্যে মাস্টার্স। বিশুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলতো পুরো পরিবার। আমার ধারণা, বিল্ডিং এর বাকি ৯ টা ফ্লাটে যত বাচ্চাকাচ্চা ছিল সবাই তাদের কথাবলার ভংগী অনুকরণ করা শুরু করে। খেয়েছি, গিয়েছি, করেছি চর্চার মাধ্যমে নিজের ভিতর ঢুকিয়ে নেয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বছরখানেকের মধ্যে আমরা সমসাময়িক সব ছেলেমেয়ে একইভাবে কথা বলতাম। নিজের মুখের ভাষা বদলে ফেলার এই অগোচর প্রবৃত্তি, সেটা কি হীনমন্যতা থেকে ছিল? সম্ভবত তাই হবে। আমি যেমন গ্রামের মানুষের মুখের ভাষা শুনে মনে মনে হাসতাম, সেরকম আমার/আমাদেরও হয়ত ধারণা ছিল ওদের ভাষা উন্নত, আশংকা ছিল আমরা ভুলভাল উচ্চারণে কথা বললে ওদের কাছে ছোট হয়ে যাব। ওই পরিবারটা আচার-আচরণ, পোষাক, ব্যবহার আর শিক্ষার দিক থেকে ছিল সবচেয়ে এগিয়ে। তিনটা মেয়ে ছিল, দুইজন ছিল আমার চেয়ে বড়, একজন ছোট। লিখবার অযোগ্য এক অপরাধের কারণে এই ছোট মেয়ের থেকে বহুদিন পালিয়ে থাকতাম বোধবুদ্ধি পরিণত হবার পর থেকে। তবে সময় সাধ্যের মধ্যে সব ঠিক করে দেয়, কেউ কেউ ক্ষমাশীল হয় চাহিদার অতিরিক্ত। সেসব অন্য গল্প...

মানুষের ভাষার উপর তার শিক্ষকদেরও প্রভাব থাকে। স্কুলে আমার তেমন কোনো প্রিয় শিক্ষক ছিল না। স্কুলে যেতে ভাললাগতো না বলে বছরের অর্ধেক দিনই স্কুলে যেতাম না। এসএসসি পর্যন্ত কোনো প্রাইভেট টিউটর ছিল না বা কোচিং এ যাইনি। কলেজে এসে সদ্য জয়েন করা এক ইংরেজির টিচারকে মারাত্মক পছন্দ করা শুরু করি। উনার নাম জীবিতেশ চন্দ্র বিশ্বাস। এখন বিসিএস ক্যাডার, সহকারী অধ্যাপক। আমি ক্লাসে মুগ্ধের মত উনার কথা শুনতাম, উচ্চারণ, বলার ভঙ্গী খেয়াল করতাম। খুব সামান্য কিন্তু জরুরী কিছু বিষয়ও শিখি ভাষার ব্যাপারে। খুব সহজকিছু রুল বলেছিলেন মনে আছে, যেভাবে স্কুলে বা অন্য কোথাও কেউ আগে শেখায়নি। যেমন, ইংরেজী গ্রামারে ছিলাম খুব দুর্বল। দুইচার লাইন যদি ঠিকঠাক লিখেও ফেলতাম, সেটা গ্রামার মুখস্ত করবার কারণে না। অনেকটা ফ্যামিলির অন্যদের থেকে শুনে শুনে। কাজিনদের সবাই ছিল ইংরেজী মিডিয়ামের, বাসায় ইংরেজী পেপারও পড়তাম, মুভি আর দেখতাম, এসব অজান্তে ঠিকঠাক কাজ চালাতে সাহায্য করতো। একদিন ক্লাসে কথায় কথায় যখন প্রায় ১০-১২ টা থাম্বস রুলের মত সূত্র বলে গেলেন, তখন মনে হলো, আরে, এই অল্প কয়টা ব্যাপার মনে রাখলেই তো ইংরেজী বাক্য কত সঠিকভাবে লিখতে পারি। প্রথাগতভাবে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বাক্য না সাজিয়ে সহজেই অনেককিছু লেখা যায় সেটাও এ সময়ে শেখা। আমি এ সময় প্রথম জানি, to এর পরে সবসময় প্রেজেন্ট ফর্ম হয়, from থাকলে এরপর ক্রিয়াপদে ing যুক্ত হবেই। While I was coming back টাইম ভাবগম্ভীর বাক্য না লিখে লেখা যায়, On way back home from school... সঠিক উচ্চারণের ব্যাপারেও অনেককিছু শেখান উনি আর সেকান্দার আলী নামের আরেকজন প্রিয় শিক্ষক। উনিও এখন বিসিএস ক্যাডার, সহকারী অধ্যাপক।

এরচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে একজন ছাত্রকে কীভাবে উৎসাহ দেয়া যায় সেটা তাদের কারণেই জানা। একবার ক্লাসে সামান্য একটা চিঠি লিখতে দেন। বাবার কাছে টাকা চেয়ে চিঠি নাকি বন্ধুর কাছে চিঠি, সেটা ভুলে গেছি। সবারটাই উনি পড়েন। এরপরদিন কাসে উনি সেটার ফটোকপি এনে সবাইকে দেন। বলেন যে এটা একটা নিখুঁত চিঠি, সবাই যেন এভাবে ফলো করে। আমি মনে মনে ভীষণ খুশী হই। যাকে আমার দেবতার মত পছন্দ, তার থেকে প্রশংসা পাওয়া অনেক বড় হয়, তাও খুব সাধারণ আন্তরিকভাবে যদি করা হয়। একবার ভিকারুননেসা স্কুল এন্ড কলেজে একটা ডিবেট কম্পিটিশন হয়, স্কুল লেভেলে কুইজ আর ডিবেটে যেতাম, কিন্তু সেবার প্রস্তুতি ভাল না হবার কারণে একটু বড় পরিসরে ঘাবড়ে যাই। থেমে থেমে তোতলামি করি পুরোটা সময়। মনে মনে ভীষণ লজ্জা পাই। উনি ছিলেন মেন্টর, আমাকে বলেন, তোমার সবকিছু ভাল ছিল। প্রথমবার আমি যখন উপস্থিত বক্তৃতায় যাই, তখন আমি ভয়ে একলাইনও না বলতে পেরে নেমে এসেছিলাম। এই সামান্য ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করাটা ছিল অনেক অনেক বড় মেন্টাল সাপোর্ট। এরপর কলেজের পত্রিকার জন্য কবিতা দেই, বিশুদ্ধ বাংলায় না দিয়ে আঞ্চলিক কিছু প্রিয় শব্দ ব্যবহার করি। উনি আমাকে ডেকে বলেন, "তুমি ভাল লিখেছো। এভাবে নিজের যা পছন্দের তা লিখবে। তুমি যদি লেখালেখিতে আগ্রহ পাও তবে অন্যের কথা শুনতে যেও না।" তারপরেও আমরা অন্যকে অনুকরণ করি, অন্যের থেকে নেই। তবে যারা নিজেদের আলাদা করতে পারেন, তারা নিজেদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণেই পারেন। স্যার আমার বাস্তব লাইফের ফেসবুকে আছেন। ছবিটবি, এক্টিভিটি তেমন দেখি না। দেখি প্রায় দশক আগের এক প্রোফাইল পিকচার এখনো ঝুলে আছে। তাও বছরে দুই একবার সার্চ করে চেক করে আসি, আমার ভাললাগে। এই মানুষটাকে দেখে আমি একসময় সাহিত্য পড়তে চাইতাম, টিচার হবার ইচ্ছা ছিল। প্রকৃত অর্থে শিক্ষক হতে পারিনি, তবে ক্লাস তো নিয়েছি অনেক। আমি ইলেক্ট্রনিক্সের ক্লাস নিতে গিয়ে সম্ভবত ইংরেজী সাহিত্যের উনাকে অন্ধ অনুকরণ করে গেছি।

কোন কথা থেকে যে কই আসলাম! একটা সময় আবার বুঝি, মানুষের মুখের ভাষার আশরাফ-আতরাফ নেই। যে যেমন বলে, কিংবা কেউ যদি একদম বিশুদ্ধ উচ্চারণ না পারে তবে তার মতো করে কথা বললেই আরো কাছাকাছি আসা যায়, দূরত্ব কমে। আমি এখন একদম অফিশিয়াল কনভার্সেশন ছাড়া প্রমিত টাইপ বাংলা মুখেও আনতে চাই না, লিখতে গেলেও না। আমার মাথায় ভাষার যে কাঠামো আছে সেটাই আমার প্রথম পছন্দের। প্রমিত উচ্চারণে তো আমি ঢং করতে পারি না, প্রচন্ড অভিমানে প্রমিত লিখতে গেলে অভিমানের প্রচন্ডতা হালকা হয়ে আসে। মনে হয় অভিযোগের রচনা লিখছি কেতাবি ঢঙ্গে। অনেক অনেক ইমেইল হুবহু মনের কথা বলতে পারতো যদি লিখবার সময় আমি যেভাবে ভাবি, সেভাবেই লেখা যেতো। সবচেয়ে ভালো হতো যদি মনের কথা সরাসরি পড়া যেতো। সত্যমিথ্যার বালাই থাকতো না, প্রকৃত আবেগ অনুভূতি বুঝে যাওয়া যেতো।

মানুষের ভাষার লিখিতরূপ একটা স্ট্যান্ডার্ড মেইন্টেইন করতে পারে, মুখের ভাষা, ভাব প্রকাশের ভাষা, নিজেদের মধ্যে কথাবলা ও সাহিত্যের ভাষাকে স্বাধীন থাকতে দেয়াই ভাল। চ্যাট করা কিংবা ফোনে বলার সময়ও আমরা বিশুদ্ধ বাংলার ধার ধারিনা, সাহিত্যের বেলাতে কেন এত জোরজবরদস্তি? দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের বাংলা একইরকম হোক, পাঠ্যপুস্তকের ভাষা একইরকম হোক, কিন্তু অন্য সবক্ষেত্রে ভাষা হোক মর্জিমাফিক। অনেকদিন পর দেখতে পাওয়া ব্রেইনস্ট্রোক করে অনেকটা স্মৃতি হারানো প্রিয় এক নানু যদি দেখে বলতেন, "পাশে এসে বসো" তাহলে মনে হবে এই মানুষটা আমার চেনা সেই নানু না। আমি আজীবন উনার মুখে শুনতে চাই, "পাশে আইয়া বও"। প্রকাশভঙ্গী, মুখের ভাষার শ্রুতিমধুরতায়, অমৃতবচনে মানুষের ভালোখারাপ হয় না। মানুষ সেটাই যা সে অন্তরে।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

আমি অথবা অন্য কেউ
আমি অথবা অন্য কেউ এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 2 দিন ago
Joined: শুক্রবার, জুন 17, 2016 - 12:11অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর