নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • নগরবালক
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

মসজিদ আল আকসা ও টেম্পল অব সলোমন বিতর্ক : ২য় তথা শেষ পর্ব


১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের আরব ইসরাইল ৬-দিনের যুদ্ধের আগ পর্যন্ত জর্ডানের ওয়াকফ মন্ত্রণালয় মসজিদ আল আকসা কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধায়ক ছিল। যুদ্ধে ইসরায়েল জয়ী হওয়ার পর ইসরাইল “ইসলামি ওয়াকফ ট্রাস্টের” হাতে মসজিদের ভার পুরোটা অর্পণ করে। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রপতি এখনো জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। মসজিদসহ পুরো হারাম আল শরিফের উপর ইসরায়েল তার সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে কিন্তু ফিলিস্তিনিদের দাবি এর অভিভাবকত্ব থাকবে ইসলামি ওয়াকফের হাতে। ২০০০ সালের ক্যাম্প ডেভিড সম্মেলনের আলোচনায় ফিলিস্তিনিরা এ মসজিদ এবং পূর্ব জেরুজালেমের অন্যান্য ইসলামি স্থানগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে দেয়ার দাবি করে। ইসরায়েলের মুসলিম বাসিন্দারা এবং পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসরত ফিলিস্তিনিরা “হারাম আল শরিফে” প্রবেশ করতে পারে এবং মসজিদুল আকসায় নামাজ আদায় করতে পারে। এখানে মাঝে মাঝে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনি আর্চওয়ের মাধ্যমে তল্লাসি ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন ৫০-বছরের নিচের মুসলিম যুবক বা হামাস-দ্রুক মুসলিম তরুণদের প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি। তবে এই বিধিনিষেধের মাত্রা সময়ে সময়ে পরিবর্তন হয়। কখনো শুধু জুমার নামাজের সময় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ইসরাইলে বসবাসরত মুসলমানরা ইসরাইলি সৈনিকদের নিরাপত্তা তল্লাশির মাঝেও Temple Mount এ ঢুকতে পারে ও আল আকসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পারে। বর্তমানে ইসরাইলি জনসংখ্যার ১৭.৪% মুসলমান। ইসরাইলি মুসলমানদের ধর্ম পালনে ইসরাইল সাধারণত কোন কোন বাঁধা দেয়না, যদিনা অন্য কোন আক্রমন বা প্রতি আক্রমনের সৃষ্টি না হয়। ২০০০ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা "এরিয়েল শ্যারন" এবং লিকুদ পার্টির সদসরা ১০০০ সশস্ত্র রক্ষীসহ "আল-আকসা" চত্বর পরিদর্শন করেন। শ্যারন ও লিকুদ পার্টির সদস্যরা ঐ স্থান ত্যাগ করার পর এর প্রতিবাদে হারাম আল শরিফ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি দাঙ্গা পুলিশের উপর পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের বিক্ষোভ শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে ২৯ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি সরকার মসজিদ চত্বরে ২,০০০ দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করে।
:
মুসলিম ঐতিহাসিকদের মতে, নবী সুলাইমান (আঃ )-র তৈরি সম্পূর্ণ উপাসনার স্থানটির নামই হল "মসজিদুল আল-আকসা"। সোনালি গম্বুজওয়ালা স্থাপনাটি আসলে "কুব্বাত আল সাখরা", যাকে ইহুদিরা বলে "ডোম অব দ্যা রক"। নবী সুলায়মান (আঃ) এ উপাসনার স্থানটির স্থাপত্য তৈরি ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেন খ্রিষ্টপূর্ব ১০০৪ অব্দে। মুসলমানরা বিশ্বাস করে, এ কাজে তিনি জ্বীনদেরকে নিয়োগ করেছিলেন। মুসলমানরা যাকে হারাম আল শরিফ বলে থাকে, খৃস্টান ইহুদিরা তাকেই বলে টেম্পল মাউন্ট। স্থানটিতে আল আকসা মসজিদ, কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত।
:
ইহুদিদের তোরাহ কিতাব থেকে জানা যায়, দাউদ নবীকে যিহোভা একটা প্রার্থনার ঘর নির্মাণ করতে বলেন। সে তা শুরুও করেন। তবে তার পূত্র সোলায়মান নবী উক্ত ঘর নির্মাণ শেষ করে এবং এর নাম রাখা হয় "সলোমনের মন্দির"। মুমিন মুসলমানেরাও এটা বিশ্বাস করে যে, এই সলোমনের মন্দির (মসজিদ আল আকসা) নবী সোলায়মানই নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু ইহুদি ইতিহাস একটু ভিন্নতর। তাহল খৃ:পু: ৫৮৭ এর দিকে , ব্যাবিলনের রাজা নেবুচাদজাদে যেরুজালেম আক্রমন করে উক্ত সলোমনের মন্দির সম্পুর্ণ ধ্বংস করে ফেলে। তারপর ইহুদিরা খৃ: পূ: ৫১৬ এর দিকে আবারও সেই সলোমনের মন্দিরের জায়গায় একটা উপাসনা গৃহ তৈরী করে। যার নাম দেন টেম্পল মাউন্ট। কিন্তু ৭০ খৃষ্টাব্দে আবার রোম সম্রাট জেরুজালেম আক্রমন করে সেই "টেম্পল মাউন্টও" ধব্ংস করে ফেলে। সেখানে পড়ে থাকে কেবল ধ্বংসাবশেষ। খলিফা ওমর যখন জেরুজালেমে যান, তখন উক্ত টেম্পল মাউন্টের স্থানে পড়েছিল নানা ধ্বংসাবশেষ। তিনি সেখানে একটা কাঠের অবকাঠামো দিয়ে সাধারণ মসজিদ তৈরী করেন। অবশেষে উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিকের নির্দেশে ৬৯০ খৃষ্টাব্দের দিকে সেই কাঠের তৈরী মসজিদ ভেঙ্গে সেখানে এক মনোরম মসজিদ নির্মাণ করেন, সেটা শেষ করা হয় ৭০৫ খৃষ্টাব্দে তার পুত্র ওয়ালিদের সময়। সেটাই আজকের মসজিদুল আকসা।
:
যদিও ব্যবিলনের সম্রাট ২য় নেবুচ্যাডনেজার নবী সুলায়মান নির্মিত এ স্থাপত্যগুলি ধ্বংস করে দেন খ্রিষ্টপূর্ব ৫৮৭ অব্দে। ৩১৫ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট এটিকে ময়লা ফেলার “ডাম্পিং স্থানে” পরিণত করে। ৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমানরা আবার এটিকে ধ্বংস তথা পুড়িয়ে দিয়ে, রোমান দেবতা জুপিটারের উপাসনা মন্দির হিসেবে পরিণত করেছিল। খৃস্টানদের মতে, সম্রাট জাস্টিনিয়ানের সময় নির্মিত "নিয়া চার্চ" বর্তমান "মসজিদুল আকসার" স্থানে অবস্থিত ছিল। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেমের ইহুদি মহল্লার দক্ষিণ অংশে ঐ চার্চের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়। ১৯৩০-র সংস্কারের সময় সরিয়ে নেয়া কাঠের বীম ও প্যানেল বিশ্লেষণ ও রেডিওকার্বন ডেটিং পরীক্ষায় এর কিছু অংশ ৯ম শতাব্দীর বলে জানা যায়।
:
এরপর সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে আইয়ুবীয়রা জেরুজালেম জয়ের এক সপ্তাহের মধ্যে ক্রুসেডারদের স্থাপন করা টয়লেট ও শস্যের গুদাম সরিয়ে ফেলা হয়। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দের ২১ আগস্ট অস্ট্রেলীয় এক খৃস্টান পর্যটক "ডেনিস মাইকেল রোহান" কর্তৃক এ মসজিদে অগ্নিকান্ড ঘটানো হয়। রোহান "ওয়ার্ল্ডওয়াইড চার্চ অফ গড" নামক এভাঞ্জেলিকাল খ্রিষ্টান গোষ্ঠীর সন্ত্রাসি সদস্য ছিল। তার ধারণা ছিল, মসজিদুল আকসা পুড়িয়ে ফেলার মাধ্যমে তিনি যীশুর “দ্বিতীয় আগমন”কে ত্বরান্বিত করতে পারবেন এবং তোরাহ বর্ণিত ইহুদি মন্দির তৈরীর পথ সুগম করতে পারবেন। ১৯৮০'র দশকে "গুশ এমুনিম আন্ডারগ্রাউন্ড" নামক ইহুদি সংগঠনের সদস্য "বেন শোশান" ও "ইয়েহুদা এতজায়ন" যৌথভাবে আল-আকসা মসজিদ ও কুব্বাত আস সাখরা উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে।কট্টর ইহুদি অনুসারি এতজায়ন বিশ্বাস করতো যে, এ মসজিদ উড়িয়ে দিলে তা ইসরায়েলের আধ্যাত্বিক জাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ইহুদি জনগণের সকল সমস্যা সমাধান করবে। তারা মনে করতো, এ মসজিদের স্থানে তাদের পবিত্র " ৩য় সিনাগগ" নির্মিত হতে হবে, যা বলা ছিল তাদের পবিত্র গ্রন্থ তোরাহতে।
:
১০৯৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম ক্রুসেডের সময় ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করে নেয়। তারা মসজিদকে "সলোমনের মন্দির" এবং কুব্বাত আস সাখরাকে "টেমপ্লাম ডোমিনি" বা "ঈশ্বরের গম্বুজ" নাম দেয়। "কুব্বাত আস সাখরা" এসময় অগাস্টিনিয়ানদের তত্ত্বাবধানে “গির্জা” হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া শুরু হয়। আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সকে “রাজপ্রাসাদ” ও পাশাপাশি “ঘোড়ার আস্তাবল” হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১০৯৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ক্রুসেড শুরুর পরপরই খৃস্টান ও ইহুদিদের সমন্বয়ে গঠিত "সোলমনের মন্দির এবং খ্রিস্টের দরিদ্র সহযোগি-সৈনিকবৃন্দ" (Poor Fellow-Soldiers of Christ and of the Temple of Solomon) গঠিত হয়, ইহুদি খৃস্টানদের কাছে যা "নাইট টেম্পলার" নামে পরিচিত। খ্রিস্টান "সামরিক যাজক" সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বিখ্যাত এবং পরিচিত। যাদের উদ্দেশ্যে ছিল, জেরুজালেমে আগত বিপুল সংখ্যক ইউরোপীয় তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ক্রুসেডাররা আল আকসা মসজিদকে “সোলমনের মন্দির” বলে ডাকতো এবং এই স্থানের নাম হতেই খৃস্টান “নাইট টেম্পলার”রা তাদের নামের সোলমনের মন্দির এবং খ্রিস্টের দরিদ্র সহযোগী-সৈনিকবৃন্দ (টেম্পলার নাইট) অংশটি নিয়েছিল। মাত্র নয়জন নাইটের মাধ্যমে গঠিত একটি যাজক সম্প্রদায়কে প্রথমত শুধুমাত্র দানের অর্থের উপর নির্ভর করতে হত। জেরুজালেম মুসলিমদের দখলে চলে যাওয়ার পরই এই নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় খৃস্টান-ইহুদিদের কাছে। জেরুজালেমের তৎকালীন রাজা বাল্ডউইন-২ তাদের এই প্রস্তাব অনুমোদন করে এবং জেরুজালেমের খৃস্টানদের অধিকৃত আল আকসা মসজিদের অভ্যন্তরে অবস্থিত টেম্পল মাউন্টে তাদের জন্য একটি সদর দফতরের ব্যবস্থা করে দেয়। টেম্পল মাউন্টের এক অতীন্দ্রিয় বিশেষত্ব ছিল, কারণ তাদের বিশ্বাসমতে এটি সোলমনের মন্দিরের ধ্বংসস্তূপের উপর অবস্থিত ছিল। ১১১৯ খ্রিষ্টাব্দে এখা্নে "নাইটস টেম্পলার" দের সদর-দপ্তর করা হয়। এ সময় মসজিদে কিছু অবকাঠামোগত পরিবর্তনও আনা হয়। কিছু স্থাপনার কাছাকাছি একটি নতুন "সিনাগগ" ও "গির্জা" নির্মিত হয়। ক্লেইভক্সের বার্নার্ড নাইট টেম্পলারদের পক্ষে শক্তিশালী লেখা লিখতে থাকেন এবং বিভিন্ন মহলে তাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বক্তৃতা করতে থাকেন। তার এসব কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতেই ১১২৯ সালে কাউন্সিল অফ ট্রয়েসে খ্রিস্টান চার্চ নাইট টেম্পলারদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
:
চার্চের এই স্বীকৃতি লাভের কারণে টেম্পলাররা সমগ্র ইউরোপ জুড়ে খ্রিস্টান দাতব্য কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হয়। যেসব ব্যক্তি ও ধনী পরিবার পবিত্র ভূমি রক্ষার যুদ্ধে শরীক হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করত - তারা অর্থ, জমি, ব্যবসা এবং মহান রক্ত বহনকারী ছেলেদের সরবরাহ করার মাধ্যমে এই যুদ্ধে অংশ নেয়। ক্রুসেডের অধিকাংশ যুদ্ধেই তখন টেম্পলার নাইটদেরকে অগ্রসর বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়। কারণ যুদ্ধবাজ উঁচুমানের ঘোড়ায় চড়ে তারা সহজেই প্রতিপক্ষ মুসলিম শক্তির সামনের সারির ব্যুহ ভেদ করতে পারতো এবং প্রথম সারির পতন ঘটাতে তারা ছিল পটু। তাদের অন্যতম প্রধান বিজয় ছিল, ১১৭৭ খ্রিস্টাব্দের মন্টগিসার্ডের যুদ্ধে। এই যুদ্ধে মাত্র ৫০০-জন টেম্পলার নাইটের সহযোগিতায় খ্রিস্টান বাহিনী মুসলিম সেনানায়ক সালাদিনের ২৬,০০০ সৈন্যের বাহিনীকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছিল। যেকোন ব্যক্তি, যে ক্রুসেডে অংশ নিতে ইচ্ছুক ছিল কিন্তু কোন কারণে সরাসরি যুদ্ধে পারঙ্গম ছিলনা, সে তার সকল সম্পত্তি টেম্পলারদের হাতে তুলে দিয়ে এই যাজকসম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হতে পারতো। তীর্থযাত্রীরা পবিত্র ভূমির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার আগে তাদের যাবতীয় অর্থ-সম্পদ স্থানীয় টেম্পলারদের কাছে জমা করতে পারতো, যা তাদের ফেরত দেয়া হতো পবিত্র স্থানে পৌঁছার পর। এরকম মিশ্র দান এবং ব্যবসায়িক চুক্তির মাধ্যমে টেম্পলাররা সমগ্র খ্রিস্টান রাজত্বে একটি দৃঢ় আর্থিক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেছিল। ১১২৯ খ্রিস্টাব্দে চার্চ এই সংগঠনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করে। এর পর থেকে যাজক সম্প্রদায়টি গোটা ইউরোপের সবচেয়ে জনপ্রিয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। স্বতন্ত্র ধরণের লাল ক্রস সংবলিত আলখাল্লা পরিধান করার কারণে, যেকোন "টেম্পলার নাইট"কে সহজেই চিহ্নিত করা যেত। তারা ছিল ক্রুসেডের সময়কার সর্বোৎকৃষ্ট অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত, সর্বোচ্চ মানের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এবং সর্বোচ্চ শৃঙ্খলাবিশিষ্ট যোদ্ধা দল। এই যাজক সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে যারা যোদ্ধা ছিলনা, তারা সমগ্র খ্রিস্টান রাজত্ব জুড়ে এক সুবৃহৎ অর্থনৈতিক অবকাঠামো নির্মাণ করেছিল। অর্থ উপার্জনের নব্য নতুন সব উপায় উদ্ভাবনের জন্য তারা বিখ্যাত। যখন ২য় বার মুসলিমদের বিজয়ের মাধ্যমে খ্রিস্টানরা পবিত্র ভূমির কর্তৃত্ব হারায় এবং ক্রুসেডাররা নির্মমভাবে পরাজিত হয়, তখনই এই যোদ্ধা যাজক সম্প্রদায়ের প্রতি সাধারণের সমর্থন অনেকাংশে কমে আসে। এ কারণে ১৩০৭ খ্রিস্টাব্দের ১৩ অক্টোবর রাজা ফিলিপ-৪ ফ্রান্সের বিপুল সংখ্যক টেম্পলারদের আটক করে তাদের উপর নির্যাতন চালান। অনেককে পুড়িয়ে মারা হয়। ১৩১২ খ্রিস্টাব্দে পোপ ক্লিমেন্ট রাজা ফিলিপের অব্যাহত চাপে পড়ে অবশেষে “নাইট টেম্পলার” সংগঠনটিকে চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
:
সুলতান সালাহউদ্দিন জেরুজালেম পুন জয় করার পর, মসজিদ হিসেবে এর ব্যবহার আবার শুরু হয়। বর্তমানে জেরুজালেম শহর ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, মসজিদ কমপ্লেক্স জর্ডানি-ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন ইসলামি ওয়াকফের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। যদিও মুসলমানদের মত ইহুদিরাও সব সময় এ স্থানকে তাদের প্রধান পবিত্র ধর্মীয় স্থান বলে মনে করে। ইহুদি ধর্মটি মূলত জেরুজালেমকেন্দিক অনেকটাই বলা যেতে পারে। ইহুদি-খৃস্টান বিশেষ করে ইহুদিদের কাছে “মসজিদ আল আকসা” প্রাঙ্গণ তাদের পৌরাণিক পবিত্রতম ধর্মীয় স্থান হিসেবে কথিত হলেও, বর্তমানে জেরুজালেম শহরটি ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও, ইসরাইলিরা মুসলমানদের পবিত্র ধমীর্য় মসজিদসহ অন্যান্য স্থাপনাতে কোন পরিবর্তন, ধ্বংস বা পরিবর্তন করে তাদের ধর্মীয় মন্দির “সিনাগগ” তৈরি করেনি। বরং নিরাপত্তা বেস্টনির মাঝে মুসলমানদের তাদের নির্মিত মসজিদসমূহে নামাজ পড়তে দেয়। যদিও্ আল আকসা মসজিদ এলাকাকে মুসলমানরা যেমন নিজেদের বলে দাবী করে, তেমনি তাদের অধিকার দাবী করে আসছে ইহুদি ও খৃস্টানরা। মুসলমানরা ৬২২-খৃস্টাব্দে মদিনার কুবাতে নির্মিত মসজিদকে মুসলমানদের ১ম মসজিদ যেমন মনে করে, তেমনি খৃস্টের জন্মের আগে নবী সোলোমন (ইহুদিদের রাজা+নবী) নির্মিত Temple of Solmon কেও “আল আকসা মসজিদ” নামে তাদের মসজিদ বলে মনে করে। কিন্তু ইহুদিরা মুসলমানদের এ দাবীকে অযৌক্তিক ও হাস্যকর মনে করা ছাড়াও, কখনো মুসলিমদের এ দাবীকে স্বীকার করেনি।
:
অতএব প্রাগৈতিহাসিক কাল হতে অদ্য পর্যন্ত দেখা যা্চ্ছে, আব্রাহামিক ৩টি ধর্ম তথা ইহুদি, খৃস্টান ও মুসলমানরা যে যখন শক্তিতে পেরেছে, তখনই তারা ক্ষমতা দেখিয়ে জেরুজালেম নগর দখল করেছে। তাদের নিজ উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রচার প্রসার করেছে তাদের নিজনিজ ধর্মকে। একে অপরের ধমীয় উপাসনালয় ধ্বংস করে, নিজ প্রার্থনালয় প্রতিষ্ঠা করে নিজ ধর্মকে সত্য, আর অপর ধর্মকে মিথ্যা ও অবমাননা করতে চেয়েছে বারবার। সুতরাং বিষয়টা গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে বিশ্বের যুক্তিবাদী সকল মানবিক মানুষদের। যাতে ধর্ম ও তার প্রতিষ্ঠানসমূহ নিজ নিজ অবস্থানে থাকে কিন্তু মানুষগুলো হয় মানবিক, যুক্তিবাদী ও সহিষ্ণু। না হলে মসজিদ আল আকসাকে ইহুদিদের থেকে মুক্ত করার জন্য মুসলমানরা যেমন যুদ্ধের ডাক দেবে, তেমনি ঐ স্থানে ইহুদিদের Temple of Solomon ছিল, এমন পুরনো যুক্তিতে তা পুন নির্মাণের প্রস্তুতি নেবে ইসরাইল তথা বিশ্বের ইহুদিরা। মনন আর যৌক্তিক কারণে ইহুদিদের সাপোর্ট করবে ও করছে খৃস্টান ধর্মীয় জগত। আর এ পথ হচ্ছে অশান্তি, রক্তপাত আর অমানবিক। তাই বিশ্বের সকল মানুষ বিশেষ করে মুসলমান ও ইহুদিদের বুঝতে হবে ব্যাপারটা গভীরভাবে। আর প্রতিষ্ঠা করতে হবে শান্তি! কিন্তু অন্ধ ধর্মবাজরা কি শান্তি আর যুক্তির কথা কখনো শুনেছে, নাকি এখনো শুনছে? যতদিন যুক্তিকে প্রাধান্য না দেবে ইহুদি ও মুসলমানরা, ততদিন বিশ্বে ধর্মীয় শান্তি প্রতিষ্ঠা হবেনা কখনো। ইসরাইল আর ফিলিস্তিনিদের রক্ত ঝরতেই থাকবে এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে!
শেষ!

Comments

সুবর্ণ জলের মাছ এর ছবি
 

চমৎকার তথ্যবহুল যৌক্তিক লেখা

 
সুবর্ণ জলের মাছ এর ছবি
 

ওয়াও, চমৎকার !

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 4 ঘন্টা 2 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর