নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • শাম্মী হক

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

শান্তিসেনার অন্তরে খান সেনারাই বাস করে



ছবিঃ জুলিয়ান বম

বিলাইছড়িতে সেনাসদস্য দ্বারা যে দুই কিশোরীর ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির কথা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। হ্যাঁ আমি স্বজ্ঞানেই বলছি, সেনা সদস্য তাদের ধর্ষণ করেনি খান সেনারাই তাদের ধর্ষণ ও লোলুপ যৌন নির্যাতন চালিয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক কর্ণেল রাশেদুল হাসান ইতিমধ্যে ডয়চে ভেলের এক সাক্ষাৎকারে বলেছে "সেনা সদস্যরা সেখানে সার্চ করছিল" অর্থাৎ গত ২২ শে জানুয়ারি দিবাগত রাতে সেখানে সেবাহিনীর সার্চিং অভিযান চলছিল। এ কথা থেকে কি প্রমাণ হয় ? না আমি এখনো নিশ্চিত ইঙ্গিত দিচ্ছিনা সেনাসদস্য তাদের ধর্ষণ করেছে, আমি এটাই নিশ্চিত করে বলছি ধর্ষণের ঘটনার দিন ও ঐ সময় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ছিল।

বাংলার ইতিহাস ৭১ সাক্ষী এবং নিশ্চিত বাঙালীও ইতিহাস ভুলার মত নয়। ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম একটি অংশ ভারত বিভাজনের পর পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান। ভৌগোলিক দূরত্বের পাশাপাশি ছিল; সাংস্কৃতিক ধ্যান-ধারণার মধ্যেও ছিল বিস্তর পার্থক্য। তৎসময়ে পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকই বাঙালী ছিল। পূর্ব-পাকিস্তানে তাঁদের সংখ্যা ছিল ৭৫ মিলিয়ন ও পশ্চিম পাকিস্তানে পাঞ্জাবীভাষীদের সংখ্যা ৫৫ মিলিয়ন। পূর্বাংশের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকই মুসলিমসহ সংখ্যালঘিষ্ঠ বৃহৎসংখ্যক হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বসবাস। আর পশ্চিমারা তাঁদেরকে দ্বিতীয়-শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে মনে করতো। ১৯৭১ সালে পূর্ব-পাকিস্তানে কর্মরত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর প্রধান আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী এ অঞ্চলকে নীচু ভূমি, নীচু ব্যক্তিদের আবাসস্থলরূপে আখ্যায়িত করেছিলেন। পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই এর পূর্ব অংশ পশ্চিম অংশের তুলনায় নানাভাবে বঞ্চিত হতে থাকে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ বছর ছিল পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস। পশ্চিম পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ পূর্বাংশের বাঙালী মুসলিমদেরকে অতিমাত্রায় বাঙ্গালী হিসেবে ভাবতে শুরু করে। এ ধারণা দূর করতে পশ্চিমারা বাঙালীদেরকে জোরপূর্বক সাংস্কৃতিক ভাবনা থেকে দূরে রাখার কৌশল প্রবর্তন করে। কিন্তু বাঙালী সেটা মেনে নেয়নি। ১৯৭১ এর মার্চে পূর্ব পাকিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী বাঙালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে নির্মূল করতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে সেনা অভিযান পরিচালনা করেছিল। ১৯৭০ সালে পরিচালিত অপারেশন ব্লিটজের সাথে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ অভিযান পরিচালিত হয়। প্রধান শহরগুলো নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করা, পরবর্তীতে সকল বিরোধী, রাজনৈতিক কিংবা সামরিক ব্যক্তিদের একমাসের মধ্যে নির্মূল করা এবং নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা তৈরি করা ছিল অপারেশন সার্চলাইটের প্রকৃত পরিকল্পনা। যুদ্ধকালীন অগণিত মহিলাকে নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও পাকবাহিনী অগণিত বাঙ্গালী মহিলাকে ঢাকা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে যৌন-দাসীরূপে আটকে রাখা হয়েছিল। মার্চ ও এপ্রিলে ৫৬৩ জন মহিলাকে সেনা ছাউনিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গর্ভপাত ঘটানোর সম্ভাবনা থাকা স্বত্ত্বেও তাঁদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের তথ্য মোতাবেক ২ লক্ষ মহিলা ধর্ষণের সংখ্যা জানা যায়।

এটাই ছিল পাকিস্তান থেকে আজকে বাংলার চিত্র। চলুন আবারো ফিরে যাওয়া যাক পাহাড়ের সেই বিলাইছড়ির ধর্ষণের ঘটনায়। আপনাদের মনেরাখার জন্য আরো একবার বলছি সেনা সদস্য বিলাইছড়ির ঐ কিশোরীকে ধর্ষণ করেনি। এবার আপনারা মিলিয়ে দেখবেন, উপরে উল্লেখ করা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর পূর্ব পাকিস্তানে অপারেশন সার্চলাইটের সাথে বিলাইছড়িতে সেবাহিনীর সার্চিং অভিযান এর মধ্যে কি কোন মিল আছে ? মিলাতে না পারলে লেখাটা বার বার পড়ুন আর কল্পনা করতে থাকুন তখনকার পূর্ব পাকিস্তান আর আজকের পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যে পার্থক্য কি(?)। আপনাদের চিন্তার সুবিধার্থে ইতিহাসের আরো কয়েকটা কথা পুনরাবৃত্তি করি- একটি রাষ্ট্রের ভূ-ভিত্তিক সামরিক বাহিনীর একটি শান্তি-রক্ষী বাহিনী সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট-এর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর মধ্যে বাঙালি সৈন্য ও অফিসার এবং মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে এটি গঠিত হয়। বুঝার জন্য সহজভাবে বলতে গেলে খান সেনাদের মধ্যে যারা বাঙালী নারীর উপর জৌলুস মিটাইনি যারা ধর্ষক ছিলনা তাদের নিয়েই নবগঠিত। কিন্তু ফার্স্ট বোউন(first bone) বলতে আমরা যা বুঝি এখানে তা ছিল ইয়াহিয়া খান।

এবং আমি শেষবারের মত বলছি বিলাইছড়ির ওরাছড়িতে দুই কিশোরীকে বাংলার সেনাসদস্য ধর্ষণ করেনি। ঘরের বাইরে খাকি প্রহরা রেখে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে তাদের ধর্ষণ করেছে খান সেনার দল, ১৪ বছরের কিশোরীর যৌনাঙ্গ ছিড়তে না পারায় জৌলুস মিটিয়েছে শরীরের ভাঁজে ভাঁজে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় বেঁচে গেছে না হলে হয়তো বড় বোনের মত একই পরিণতি হতো। খান সেনাদের লোলুপ ছেড়া যৌনির যন্ত্রণায় হাসপাতালে কাতরাতে হতো।

নিউজ লিংকঃ
https://goo.gl/WbvtVn
https://goo.gl/o6bmts
https://goo.gl/FBZoLk
https://goo.gl/3tm3ji

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

জয় মারমা
জয় মারমা এর ছবি
Offline
Last seen: 3 months 3 weeks ago
Joined: বুধবার, ফেব্রুয়ারী 17, 2016 - 7:32অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর