নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নগরবালক
  • সলিম সাহা
  • বেহুলার ভেলা
  • লালসালু

নতুন যাত্রী

  • সুশান্ত কুমার
  • আলমামুন শাওন
  • সমুদ্র শাঁচি
  • অরুপ কুমার দেবনাথ
  • তাপস ভৌমিক
  • ইউসুফ শেখ
  • আনোয়ার আলী
  • সৌগত চর্বাক
  • সৌগত চার্বাক
  • মোঃ আব্দুল বারিক

আপনি এখানে

দুরারোগ্য স্বপ্ন অসুখের তাবিজ কবজ


মস্কো থেকে আমিরাত এয়ারে ঢাকা ফেরার পথে ৫-ঘন্টা দুবাই এয়ারপোর্টে ট্রানজিট ছিল আমার। বোর্ডিং ব্রিজে যাওয়ার প্রাকমূহূর্তে ট্রানজিট টয়লেটে ঢুকে ঝকঝকে একটা ব্রিফকেস চোখে পড়লো কমোডের পাশে। হাতে নিয়ে দেখলাম মারাত্মক ওজন। কেন যেন মনে হলো 'বম্ব' বা 'স্বর্ণ' থাকতে পারে এ ব্রিফকেসে। হয়তো অবস্থা বেগতিক দেখে এখানে রেখে গেছে বহনকারী। অনেকবার নম্বর ঘুরিয়েও খুলতে পারলাম না সেটা। তাই পকেটের চাবি দিয়ে অনেকটা জোর করে তালা বাঁকা করে খুলে দেখি পুরো ব্রিফকেসে সাজানো স্বর্ণের বার। কেন যেন বুকে মারাত্মক সাহস হলো আমার। মনে-মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে বললাম, "যেভাবেই হোক এটা নিয়ে যাবোই দেশে"।
:
একটা ছোট লাগেজ, আর মস্কো এয়ারপোর্টের লোগো সম্বলিত একটা পলিথিন শপিং ব্যাগের পাশে ব্রিফকেসটি ট্রলিতে নিয়ে বের হলাম গ্রিন চ্যানেল দিয়ে। কাস্টম আমার মত কম লাগেজধারীদের স্কান ছাড়াই ছেড়ে দিলো হাতের ইতাশায়। বের হয়ে এক মিনিটও দেরী না করে সোজা চলে এলাম ফ্লাটে। এবার খুলে দেখি ৫০০-গ্রামের কুড়িটি ৯৯৯.৯৯% স্বর্ণের সুইস বার, যার মোট ওজন ১০-কেজি। কৈশোর থেকেই একটা স্বপ্ন লালন করেছি আমি মননে, সেটা হচ্ছে চারদিকে নদীবেষ্টিত আমার দ্বীপগাঁয়ে একটা ভাসমান মোবাইল হাসপাতাল তৈরি করা, যা ঘুরে ঘুরে আশে পাশের সব চর তথা দ্বীপের মানুষদের চিকিৎসা দেবে। যারা জীবনে কখনো দেখেনি পাস করা কোন ডাক্তার কিংবা সুযোগ পায়নি আধুনিক কোন হাসপাতাল সেবার। এ ব্যাপারে ৫/৬ বছর আগে ধনকুবের 'বিল গেটস'কে একটা মেলও দিয়েছিলাম আমি এবং ৩-দিনের মাথায় 'গেটস' নিজে আমাকে জবাব দিয়ে বলেছিলেন, "তিনি 'লিন্ডা এন্ড গেটস ফাউন্ডেশন'কে ফরোয়ার্ড করেছেন আমার দ্বীপগাঁয়ের ফ্লোটিং হাসপাতাল সম্পর্কিত প্রস্তাবটি। শীঘ্রই যোগাযোগ করবে তারা আমার সাথে"। কিন্তু ঐ ফাউন্ডেশন কিংবা গেটস আর যোগাযোগ করেনি এ জেলে-কৃষাণের হেলথ কেয়ার সম্পর্কিত প্রস্তাবটিতে। সম্ভবত ভুলে গিয়েছে ঐ ফাউন্ডেশন।
:
কিন্তু আমার কেন যেন মনে হলো, এই ব্যাগভর্তি স্বর্ণবারগুলো অবশ্যই আমার এ হাসপাতাল নির্মাণকল্পে অদৃশ্য কল্পলোকের কেউ পাঠিয়েছেন আমার কাছে দুবাই বিমানবন্দরে, যাকে ধার্মিকরা 'গড' বলে আর নির্ধার্মিকগণ ডাকে অন্য নামে। এবং এ চিন্তনে দৃঢ়চেতা হই আমি দুবাই বিমানবন্দরে এ বারগুলোর ব্যাপারে এবং কেন যেন মনে হয়েছিল নির্বিঘ্নে নিয়ে যেতে পারবো আমি আমার ঘরে আমার কৈশোরিক স্বপ্নপুরণে!
:
নেট থেকে ভাসমান হাসপাতালের ছবি নামিয়ে বুয়েট থেকে পাস করা আমার এক পরিচিত বন্ধুকে দিয়ে ৪-তলা ভাসমান আধুনিক হাসপাতালের একটা মনোলোভা প্লান করালাম। যার মধ্যে মডার্ন একটা হাসপাতালের প্রায় সকল বিভাগ, ৫০০-বেড, অপারেশন থিয়েটার, আধুনিক সব চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সজ্জিতকরণ ছাড়াও নার্স-ডাক্তারদের আবাসন ব্যবস্থা থাকলো এ জাহাজে। আমার এ ১০-কেজি স্বর্ণ-বারেই যেন পুরো হাসপাতাল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়, তার জন্যে চট্টগ্রাম গিয়ে পুরণো জাহাজের সব ভাল-ভাল উপকরণ কিনলাম খুব কম দামে। কার্গো ভরে শীতলক্ষা তীরের একটি ডকইয়ার্ডে নিয়ে এলাম পুরো জিনিসপত্র। অগ্রিম মূল্য পরিশোধে তারা ৬/৭ মাসের মাথায় রেডি করে ফেললো আমার স্বাপ্নিক হাসপাতাল। আবার সীতাকুন্ড গিয়ে বিদেশি সমুদ্রগামি পুরণো জাহাজের ইঞ্জিন, জেনারেটর ইত্যাদি সব কিনে আনলাম মূল দামের মাত্র ২৫% মূল্য পরিশোধে। এবার পানিতে ভাসানো হলো আমার 'হাসপাতাল জাহাজ'কে।
:
পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলাম নিবেদিতপ্রাণ ডাক্তার-নার্স দরকার এ ভাসমান হাসপাতালের জন্যে, যাদের 'স্টেক-হোল্ডার' হবে মূলত দলিত জেলে, কৃষাণ, বেদে সম্প্রদায়ের দরিদ্র মানুষ। এমন সেবাপরায়ণ অনেক তরুণ-তরুণি ডাক্তার-নার্সের সারা পেলাম বিজ্ঞাপনে। বিদেশে কর্মরত এক বাঙালি 'ফিমেল অঙ্কোলজিস্ট' এবং তার বান্ধবি আরেকজন 'গাইনোকোলজিস্ট' যারা আমার ফেসবুক বন্ধুও, তারা এ মহতি কাজের ভুয়সি প্রশংসা করলো আমার এবং অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলো এ হাসপাতালের দায়িত্ব নিতে বাংলাদেশে আসবে তারা, আর কাজ করবে এ হাসপাতালে দলিত মানুষদের জন্যে আমার সাথে। সব যন্ত্রপাতি লাগিয়ে আশেপাশের চরগুলোতে মাইকিং আর পোস্টার-ব্যানার লাগিয়ে এবার উদ্বোধন করার দিন এলো।
:
আমার এক বন্ধু প্রাক্তন সাংসদকে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তারিখ নিলাম এ হাসপাতাল উদ্বোধনের জন্যে এবং সত্যিই বাংলা নববর্ষের নির্দিষ্ট তারিখে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে মন্ত্রী মহোদয় হাজির হলেন হাজারো জেলে, কৃষাণ আর বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে। নদীতীরে লাখো মানুষের প্রবল করতালির মধ্যে মন্ত্রী "ফিতা" কাটলেন এ হাসপাতালের। চারদিক থেকে নৌকো ট্রলার লঞ্চযোগে আসা লাখো নারী-পুরুষের আনন্দধ্বনিতে ঘুম ভেঙে গেল আমার। চোখ খুলে দেখি ঢাকার কাকডাকা ভোরে অধুরা হাসপাতাল স্বপ্ন নিয়ে এখনো জেগে আছি আমি।
:
আকৈশোরিক লালিত এ স্বপ্ন পুরণ হয়নি অদ্যাবধি আমার। কোন গড, ঈশ্বর, ভগবান, স্রষ্টা, আল্লাহ, যিহোবা, জরথ্রুস্ট, কামি, কনফুসিয়াস, গুরু-নানক, মহাবীর, বুদ্ধ, ফারাও, রা, জিউস, যিশু কেউই পাঠায়নি ১০-কেজি স্বর্ণবার ঐ হাসপাতাল নির্মাণে। মানুষের জন্যে এমন একটি হাসপাতাল অনির্মাণে দু:খের সাথে হাঁটু মুড়ে কত যুগ বসে থাকি আমি যেন! কষ্টবালিশে মাথা দিয়ে ঘুমাই একসাথে কতদিন কতরাত!
:
ছুটির দিনের পড়ন্ত রোদের বিবর্ণ ধুলোময় ঝলসানো বৃক্ষপথে হেঁটে যাই আমি একাকি। ভালবাসাহীন সুখ অবরোধের পথে অসুখের বাবুই পাখিরা ওড়াউড়ি করে চারদিকে আমার হাসপাতালের খড়কুটো ঠোঁটে করে। জীবনের সপ্তরঙা স্বাপ্নিক ভাবনারা স্তূপ-স্তুপ পড়ে থাকে মনো-বনান্তরে আমার ঐসব 'ফালতু' ভাবনা নিয়ে। এসব অক্ষমতার ব্যথায় চোখ কার্নিশে ঝুলে থাকে লোনা জলের দাগ আমার সারাক্ষণ! তারপরো এসব স্বপ্নকে ব্যাগে ভরে পথে পথে হাঁটি আমি বিকেলের ধূসর বিবর্ণ সোনালী রোদের শালিকের মত। এবং সবকিছুর পরও এ বিশ্বের সুখ-বিমুখ স্বপ্ন-চূড়োতে হেঁটে যাই আমি এসব স্বপ্ন পাখিদের ভালবাসার হাত ধরে!

Comments

সুবর্ণ জলের মাছ এর ছবি
 

চমৎকার তথ্যবহুল যৌক্তিক লেখা

 
সুবর্ণ জলের মাছ এর ছবি
 

ওয়াও, চমৎকার !

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 15 ঘন্টা 15 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর