নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • রাজর্ষি ব্যনার্জী
  • দ্বিতীয়নাম
  • নিঃসঙ্গী
  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

সফর আলী


সফর আলী মস্ত মানুষ,
মস্ত প্রেমিক দেশের,
মস্ত তাহার বুদ্ধি বিবেক
নাগাল বিহীন শেষের।

দরিদ্র এই জাতির তরে
ভাবেন অহর্নিশী,
দুখির দুখে কাঁদেন তিনি
সুখির সুখে খুশি।

আহার নিদ্রা ছেড়ে সফর
ভাবতে যখন বসেন,
কেমন করে মুক্তি মিলবে
সে হিসেবটাও কষেন।

নিশি রাতে পদ্য লেখেন
দিনে লেখেন গদ্য,
ওনার লেখায় একাত্মা হয়
হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ।

রাতে ভাবেন, দিনে ভাবেন,
ভাবার হয় না শেষ,
ইতিপূর্বে এমন ভাবুক
পাইনি বুঝি দেশ।

দেশের কোথাও দাঙ্গা হলে
কিংবা বন্যা-খরা,
কাঁদেন সফর দেখলে কোথাও
ব্যাধী কিংবা জ্বরা।

অনাবৃষ্টির সে বার যখন
দেশে আসলো খরা,
সফর আলী রাত জেগে
লিখলেন একটি ছড়া।

ছড়া লিখায় খরা কাটলো
কৃষক হলো খুশি,
ছড়া তো নয়, বললো সবাই
খরার মুখে ঘুসি।

রাজ নীতির বিশ্লেষণে
সফরের নাই জুড়ি,
মিটিং করেন সভা করেন
টক-শো ভুরি ভুরি।

সে বার যখন বন্যা হলো
ভাসলো মানুষ অঢেল,
মস্তু একটা গদ্য লিখলেন
দেশকে দিলেন মডেল।

মরলো যখন শতেক মানুষ
গত সনের শীতে,
এমন কথা বললো সফর
লাগলো দেশের ভীতে।

টিভি টকশোয় নাড়িয়ে দিলেন
রাষ্ট্র যন্ত্রের খুঁটি,
ভয় পেয়ে তাই সরকার দিলো
দিন তিনেকের ছুটি।

ওনার কথা বাণবিদ্ধ
ওনার লেখায় ধার,
লেখার তোড়ে মটকে গেছে
অত্যাচারীর ঘাড়।

গদ্য লিখেন পদ্য লিখেন
কাগজে লিখেন রোজ,
টেলিফোনে নিত্য তিনি
দুখির রাখেন খোঁজ।

নাম ছড়ালো সফর আলীর
শহর-নগর, গ্রামে,
উনারে কথা নিত্য লোকে
বলেন বাসে-ট্রামে।

সফর আলী দিল দরিয়া,
সফর আলী ভালো,
সফর আলীর সংস্কার
তাই ঘরে ঘরে জ্বালো।

গান্ধী, মুজিব, নেপোলিয়ান
কিংবা বিদ্যারসাগর,
নস্যি তারা সফর আলী
আরো অনেক ডাগর।

একদিন এক বিকেল বেলা
গলির মুখের টংয়ে,
সফর আলী বলছে কথা
ভাষন দেয়ার ঢংয়ে।

শুনছে সবাই সফর কথন
গভীর মনোযোগে,
বলছে সফর দেশের মানুষ
কেমন কষ্টে ভোগে।

"শোন সবাই দেখলে কোথাও
দুস্থ-দুখির ব্যথা,
ঝাঁপিয়ে পরবে আজকে সবাই
দেও আমাকে কথা।

কামার-কুমার, কৃষক-চাষি
ওরাও মোদের ভাই,
এই যে আমরা বেঁচে আছি
ওরা আছে তাই।"

এমন সময় কাছে কোথায়ও
উঠলো শোরগোল,
চিৎকারে আর কান্নাকাটির
পরলো যেন রোল।

একজন বললো আগুন লাগছে
বস্তুির শতেক ঘরে,
খবর শুনে সফরসহ
সবাই গেলো দৌড়ে।

কেউবা ছুটছে পানি আনতে
কেউবা ঢালছে বালি,
কেউবা ছুটছে ঘরের ভিতর
ভেঙে লোহার জালি।

আটকা পরছে আগুন ঘরে
জনা বিশেক লোক,
কতক ছুটছে আগুন ঠেলে
বিপদ যতই হোক।

একজন বললো "সফর চাচা
আছেন কেন দাঁড়াই,
উদ্ধার কাজে লেগে গেছে
ছুটে আসছে যারাই।"

বললো সফর তেতিয়ে ক্ষানিক
"তুই কি বুঝবি গাধা,
জীবন আমার ভিষন দামি
নইলে কিসের বাঁধা!

আমার মতো দেশপ্রেমিকের
জীবন বড় দামি,
বলতে পারিস কত ক্ষতি
যদি মরি আমি?

আগুন আমি পাই নারে ভয়
তুচ্ছ তো এই মরন,
দেশের জন্য কি না করছি
কর না একটু স্মরণ।

তোদের জন্য বাঁচা আমার
ভিষনরে ভাই দরকার,
আগুনে গিয়ে মরলে আমি
লাই পাবে ওই সরকার।"

সফর আলীর কথা শুনে
বললো লোকটি হেসে,
"কি দরকার আর কপটাচারীর
আপনি থাকলে দেশে!

দেশের তরে গদ্য লেখেন
টিভিতে করেন টক-শো,
আপনি হলেন মুখোশধারীর
বিশাল বড় বাকশো।

দেশপ্রেমের ঐ তুবড়ি ছোটান
ঠান্ডা ঘরে বসে,
গদ্য লেখেন, কলাম লেখেন
কবিতা লেখের রসে।

পারলে দেখান ঝাঁপিয়ে পড়ে
আগুন লাগা ঘরে,
বাঁচিয়ে দেখান অগ্নিদাহে
এখন যারা মরে।"

ভিষন রেগে বললো আবার
"আপনি একজন ভন্ড,
আপনার চেয়ে ঢের ভালো ঐ
নিরেট-মূর্খ, গন্ড।"

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 4 দিন ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর