নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • নগরবালক

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

কুরআন অনলি রেফারেন্স: (১৫) মুমিনদের অবিশ্বাস ও নবীর হুশিয়ারি!


ইসলামের ইতিহাসের তৃতীয় খুলাফায়ে রাশেদীন হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) এর শাসনামলে (৬৪৪-৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ) সংকলিত বর্তমান কুরআনের প্রথম চ্যাপ্টার-টি হল ‘সুরা ফাতিহা’, যা মূলত: একটি প্রার্থনা বা দোয়া। বিছমিল্লাহ হির-রাহমা-নের-রাহিম ও সুরা ফাতেহা কুরআনেরই অংশ কি না, এ ব্যাপারে সাহাবীরাও একমত ছিলেন না। বিশিষ্ট সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ সুরা ফাতিহাকে কোরানের সুরা হিসেবে কোনোদিনই স্বীকার করেননি। আর প্রবক্তা মুহাম্মদ (আল্লাহ) এটিকে বর্ণনা করেছেন “সাতটি বার বার পঠিতব্য আয়াত” হিসাবে (কুরআন: ১৫:৮৭)। [1] সংকলিত কুরআনের এই প্রার্থনাটির পর সর্বপ্রথম যে বাণী তা হলো হিং-টিং-ছট জাতীয় শব্দ, "আলিফ-লাম-মীম (২:১)!"আর এই উদ্ভট হিং-টিং-ছট জাতীয় শব্দটির পরেই কুরআনের সর্বপ্রথম বোধগম্য যে বাণী' তা হলো,

“এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই (২:২)।"

মানব ইতিহাসে ইসলামই একমাত্র ধর্ম, যার প্রকাশ্য যাত্রা শুরু হয়েছিল এই ধর্মের প্রবর্তক স্বঘোষিত আখেরি নবী মুহাম্মদ (সা:) কর্তৃক তার নিজেরই চাচা-চাচীর ওপর "অভিশাপ” বর্ষণের মাধ্যমে (কুরআন: ১১১:১-৫); যে চাচা-চাচী এই প্রবর্তক-কে তার শিশুকালের পিতৃ-মাতৃহীন অবস্থায় স্নেহ ভালবাসা দিয়ে বড় করেছিলেন! [2]

আর মানব ইতিহাসে ইসলামই একমাত্র ধর্ম, যে ধর্মের ধর্মগ্রন্থটির শুরুতেই প্রবক্তা ঘোষণা করেছেন যে তার প্রচারিত গ্রন্থে কোনোই "সন্দেহ" নেই! ধর্মগ্রন্থটির শুরুতেই ‘সন্দেহ’ শব্দটি থাকার কারণে যে বিষয়টি সহজেই অনুধাবন করা যায় তা হলো, প্রবক্তা মুহাম্মদ ও তার প্রচারিত বাণীতে তার পরিপার্শ্বের মানুষরা সন্দেহ পোষণ করতেন। 'নকল হইতে সাবধান' বাক্যটি যেমন নকল-বিহীন পরিবেশ ও সমাজে বেমানান, 'এই কিতাবে কোনই সন্দেহ নেই' বাক্যটিও তেমনি। তাঁদের সেই সন্দেহের বিপরীতে আত্মরক্ষার খাতিরেই মুহাম্মদকে বলতে হয়েছে এই বাক্যটি। মুহাম্মদের চারিপাশের মানুষরা কী কারণে তাকে ও তার প্রচারিত বাণীতে সন্দেহ পোষণ করতেন, সন্দেহ দূরীকরণের উদ্দেশ্যে তাঁরা মুহাম্মদের কাছে কী ধরণের প্রমাণ দাবী করেছিলেন, সেই দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে মুহাম্মদ কীরূপে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন, প্রমাণের পরিবর্তে মুহাম্মদ তাঁদের উদ্দেশ্যে কী ধরণের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন; ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা গত কয়েকটি পর্বে করা হয়েছে। মুহাম্মদের স্ব-রচিত জবানবন্দি কুরআনের আলোকে আমরা এ বিষয়ে আর যে তথ্যটি জানতে পারি তা হলো: শুধু অবিশ্বাসীরাই নয়, মুহাম্মদের ধর্মে দীক্ষিত মুমিনরাও ছিলেন 'সন্দেহ-পোষণকারী!' কুরআন সাক্ষ্য দেয় যে বিশ্বাসীদেরও অনেকে মুহাম্মদের আদেশ নিষেধ পালন করতেন না, যাদের অনেককে মুহাম্মদ ‘মুনাফিক’ রূপে আখ্যায়িত করেছিলেন। অল্প কিছু উদাহরণ:

মুহাম্মদের ভাষায়: [3] [4]

৮:৫-৬ (সূরা আল-আনফাল):
"যেমন করে তোমাকে তোমার পরওয়ারদেগার ঘর থেকে বের করেছেন ন্যায় ও সৎকাজের জন্য, অথচ ঈমানদারদের একটি দল (তাতে) সম্মত ছিল না। তারা তোমার সাথে বিবাদ করছিল সত্য ও ন্যায় বিষয়ে, তা প্রকাশিত হবার পর; তারা যেন মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে দেখতে দেখতে।"

৯:৩৮-৩৯ (সূরা আত তাওবাহ):
“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প। যদি বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।”

৩৩:১০-১২ (সূরা আল আহযাব):
"যখন তারা তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল উচ্চ ভূমি ও নিম্নভূমি থেকে এবং যখন তোমাদের দৃষ্টিভ্রম হচ্ছিল, প্রাণ কন্ঠাগত হয়েছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা বিরূপ ধারণা পোষণ করতে শুরু করছিলে। সে সময়ে মুমিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং ভীষণভাবে প্রকম্পিত হচ্ছিল। এবং যখন মুনাফিক ও যাদের অন্তরে রোগ ছিল তারা বলছিল, আমাদেরকে প্রদত্ত আল্লাহ ও রসূলের প্রতিশ্রুতি প্রতারণা বৈ নয়।"

৪৭:২০ (সূরা মুহাম্মদ):
"যারা মুমিন, তারা বলেঃ একটি সূরা নাযিল হয় না কেন? অতঃপর যখন কোন দ্ব্যর্থহীন সূরা নাযিল হয় এবং তাতে জেহাদের উল্লেখ করা হয়, তখন যাদের অন্তরে রোগ আছে, আপনি তাদেরকে মৃত্যুভয়ে মূর্ছাপ্রাপ্ত মানুষের মত আপনার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখবেন। সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্যে।"

৪৯:১৫ (সূরা আল হুজরাত):
"তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে প্রাণ ও ধন-সম্পদ দ্বারা জেহাদ করে। তারাই সত্যনিষ্ঠ।"

৭৪:৩০-৩১ (সূরা আল-মুদ্দাসসির):
"এর উপর নিয়োজিত আছে উনিশ (ফেরেশতা)। আমি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতাই রেখেছি। আমি কাফেরদেরকে পরীক্ষা করার জন্যেই তার এই সংখ্যা করেছি-যাতে কিতাবীরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়, মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবীরা ও মুমিনগণ সন্দেহ পোষণ না করে এবং যাতে যাদের অন্তরে রোগ আছে, তারা এবং কাফেররা বলে যে, আল্লাহ এর দ্বারা কি বোঝাতে চেয়েছেন। ----"

>> ‘কুরআনের’ ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট তা হলো: মুহাম্মদের প্রত্যক্ষ অনুসারীদের অনেকেই মুহাম্মদের আদেশ-নিষেধ পালনে গড়িমসি করতেন, বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন ও কোন কোন ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধাচরণও করতেন। আর, সে কারণে মুহাম্মদ তার 'আল্লাহর মুখোশে' তাদের-কে করতেন তিরস্কার, দিতেন দুনিয়া (লুটের মাল 'গণিমত') ও আখিরাতের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের (বেহেশত) প্রলোভন ও যথারীতি হুমকি-শাসানী-ভীতি প্রদর্শন! তাদের বিরুদ্ধে বিষদগার ও তাদের উজ্জীবিত করার প্রয়োজনেই মুহাম্মদের এই কলা-কৌশল!

মুহাম্মদের প্রত্যক্ষ সাহাবীরা মুহাম্মদ ও তার বানীর প্রতি কী পরিমাণ অগাধ বিশ্বাস রাখতেন, তারা তাকে কী পরিমাণ গভীর সম্মান প্রদর্শন করতেন, তারা তার প্রত্যেকটি আদেশ-নিষেধ কীরূপ দ্রুততায় কার্যকর করতেন; ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা-কালে ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা কারণে অকারণে 'সিরাত ও হাদিস গ্রন্থের' যে উপাখ্যানটি সচরাচর উদাহরণ হিসাবে বর্ণনা করে সাধারণ সরলপ্রাণ মুসলমানদের 'ইমানি জোশ' বৃদ্ধি করার চেষ্টা করেন, তা হলো, হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তি প্রাক্কালের বহু ঘটনা প্রবাহের এক অতি সামান্য ভগ্নাংশ। ঘটনাটি ছিল, বিশাল সংখ্যক অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে মুহাম্মদের মক্কা আগমনের প্রকৃত অভিপ্রায় জানার জন্য কুরাইশরা 'উরওয়া ইবনে মাসুদ আল-থাকাফি (Urwah ibn Mas'ud)' নামের এক ব্যক্তিকে মুহাম্মদের শিবিরে পাঠান। মুহাম্মদ অনুসারীরা মুহাম্মদের সাথে কীরূপ আচরণ করছিলেন, মুহাম্মদের শিবিরে স্বল্পকালীন অবস্থানকালে তা উরওয়া ইবনে মাসুদ প্রত্যক্ষ করেন ও সেখান থেকে ফিরে এসে তা তিনি কুরাইশদের কাছে বর্ণনা করেন।

তার বর্ণনাটি ছিল নিম্নরূপ: [5]

'যখনই মুহাম্মদ অজু করা সম্পন্ন করছিলেন, তার সাহাবীরা দৌড়ে তার সেই ব্যবহৃত পানি নেয়ার জন্য যাচ্ছিল; যখন মুহাম্মদ থুতু ফেলছিলেন, তার সাহাবীরা সেটার দিকে দৌড়ে যাচ্ছিলো ও যখন তা তাদের কোন একজনের হাতে এসে পড়ছিল, তারা তা তাদের গালে ও চামড়ায় মাখছিল; যদি মুহাম্মদের একটি মাথার চুলও পড়ে, তারা তা কুড়িয়ে নেয়ার জন্য দৌড়চ্ছিল; যখন মুহাম্মদ তার অনুসারীদের কোন হুকুম দিচ্ছিল, তার অনুসারীরা তা সঙ্গে সঙ্গে পালন করছিলো; যখন তারা মুহাম্মদের সাথে কথা বলছিল, তারা তাদের কণ্ঠস্বর নিচু করছিলো ও সমীহ করে তার মুখের দিকে একবারও তাকাচ্ছিল না।"

>>> ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল হলো মুহাম্মদের স্ব-রচিত ‘কুরআন।’ 'সিরাত ও হাদিস' গ্রন্থে বর্ণিত এই ঘটনা-টি কিংবা অনুরূপ কোন ঘটনার বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে মুহাম্মদ অনুসারীরা মুহাম্মদ ও তার বানীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস রাখতেন, কিংবা তাকে গভীর সম্মান প্রদর্শন করতেন, কিংবা তার প্রত্যেকটি আদেশ-নিষেধ দ্রুততায় কার্যকর করতেন; এমনতর প্রচারণা কুরআনের ওপরে বর্ণিত বর্ণনার সঙ্গে কোনভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয় ও তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও অসৎ।

“ইসলামের অতি প্রাথমিক ও অত্যাবশ্যকীয় শিক্ষার একটি হলো: 'সিরাত ও হাদিস' গ্রন্থের এমন কোন বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়, যা কুরআনের বর্ণনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।"

কুরআন সাক্ষ্য দেয়, মুহাম্মদের প্রচারণার শুরু থেকেই মুহাম্মদ ও তার বাণীকে সর্বদাই তার পরিপার্শ্বের প্রায় সকল মানুষ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন। তারা মুহাম্মদের প্রচারণায় শুধু যে নতুনত্বের কোনোই সন্ধান পাননি, তাইই নয়, তাঁরা তাকে জানতেন এক মিথ্যাবাদী, জালিয়াত (forger), যাদুগ্রস্থ (Bewitched) ও উন্মাদ রূপে। মুহাম্মদ তাদের সেই অভিযোগের কোনো সদুত্তরই দিতে পারেননি। দেখাতে পারেননি তারই প্রচারিত অন্যান্য নবীদের উপাখ্যান সদৃশ কোনো অলৌকিকত্ব। শুধু তাইই নয় কুরআনের ওপরে বর্ণিত বর্ণনা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় আমরা জানতে পারি, বিভিন্ন কসরতের মাধ্যমে যাদেরকে মুহাম্মদ তার মতবাদে দীক্ষিত করতে সমর্থ হয়েছিলেন, তাদেরও অনেকেই তার বানী ও কর্ম-কাণ্ডের বিষয়ে সন্দেহাতীত ছিলেন না। তারা তার আদেশ-নিষেধ পালনে অনীহা প্রকাশ, এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও বিরুদ্ধাচরণ করতেন। আর তিনি তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন, প্রলোভন ও ভীতি-প্রদর্শনের মাধ্যমে (এ বিষয়ের আরও বিস্তারিত আলোচনা 'জিহাদ' অধ্যায়ে করা হবে)।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), আল-তাবারী (৮৩৯-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ইমাম বুখারী (৮১০-৮৭০ খৃষ্টাব্দ) সহ ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের প্রায় সকল বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা 'হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তি' উপাখ্যানের বিস্তারিত ও প্রাণবন্ত বর্ণনা তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে বিভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তাঁদের সেই বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট তা হলো, কুরাইশ প্রতিনিধি সুহায়েল বিন আমরের সাথে 'সন্ধিচুক্তি' সম্পন্ন করার পর মুহাম্মদের প্রায় সকল অনুসারীই ছিলেন অত্যন্ত শোকাহত ও মনক্ষুন্ন। এমন কী মুহাম্মদের একান্ত বিশেষ অনুসারী উমর ইবনে খাত্তাব ও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তারা এতটাই মনক্ষুন্ন ছিলেন যে, এই ঘটনার পর যখন মুহাম্মদ তাদের কাছে এসে তাদেরকে পশু কুরবানি করা ও তাদের চুল কামিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন একজন অনুসারীও তার সেই নির্দেশ মান্য করেননি! তিন তিন বার আদেশ করার পরেও নয়! অতঃপর, কোন পরিস্থিতিতে তারা তাদের নবীর আদেশ মান্য করেছিলেন তার বিবরণও আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় সুস্পষ্ট। তা সত্বেও, ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা উদ্দেশ্য প্রণোদিত-ভাবে উরওয়া ইবনে মাসুদ আল-থাকাফির এই বর্ণনা-টি কিংবা সিরাত-হাদিসে বর্ণিত অনুরূপ কোন বর্ণনা-কে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে সাধারণ সরলপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করেন। [6]

ইসলামের ইতিহাসের আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, মুহাম্মদ ও তার নিবেদিত প্রাণ অনুসারীরা মদিনায় হিজরত পরবর্তী সময়ের শুরু থেকেই কুরাইশ ও অন্যান্য অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছিলেন। সন্ত্রাসী কায়দায় অমানুষিক নৃশংসতায় বিরুদ্ধবাদীদের করেছেন খুন! উন্মত্ত শক্তি প্রয়োগে বংশ পরম্পরায় বসবাসরত শতশত বছরের জন্মভূমি-আবাসস্থল থেকে তাদেরকে করেছেন উচ্ছেদ; লুট করেছেন তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি। তাদেরকে করেছেন বন্দী; ভাগাভাগি করে নিয়েছেন তাদের বউ-বাচ্চা-পরিজনদের; যৌন-দাসী বানিয়েছেন তাদের স্ত্রী-কন্যাদের; ইত্যাদি নানা উপায়ে মুহাম্মদ ও তার অনুসারীরা অবিশ্বাসীদের বিশ্বাসী হতে বাধ্য করেছিলেন। সে করণেই মুহাম্মদের মৃত্যুর পর দলে দলে লোক স্ব-ইচ্ছায় ইসলাম ত্যাগ করেছিলেন, যাদের-কে কঠোর হস্তে দমন করেছিলেন ইসলামের ইতিহাসের প্রথম খুলাফায়ে রাশেদিন আবু বকর ইবনে কুহাফা! ইসলামের ইতিহাসে যা 'রিদ্দার যুদ্ধ (The Wars of Apostasy) নামে বিখ্যাত, যা সংঘটিত হয়েছিল ৬৩২-৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে।

মুহাম্মদের মৃত্যুর ১৪০০ বছর পরেও এই পরিস্থিতির কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় নাই। শতাব্দীর পর শতাব্দী যাবত মুহাম্মদের অনুগত অনুসারীরা মুহাম্মদের এই “শিক্ষা-টি” একান্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছেন! যখনই কোন ইসলাম বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী মুহাম্মদ ও তার মতবাদের সমালোচনা করেছেন, প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, যুক্তি ও তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে মুহাম্মদের কর্ম-কাণ্ড ও তার মতবাদের অসাড়তা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন; সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পীড়ন যন্ত্রের মাধ্যমে তখনই তাদেরকে নাজেহাল, নিপীড়ন ও হত্যা করা হয়েছে। ইসলাম প্রধান রাষ্ট্রে শাসক-যাজক চক্র ও ইসলাম অনুসারী অধিকাংশ সাধারণ মুসলমানদের এটি এক সার্বজনীন ও সাধারণ চরিত্র! মুসলিম সংখ্যালঘু দেশও তাদের এই কর্ম-কাণ্ড ও তৎপরতার বাহিরে নয়। সেখানেও তারা তাদের সাধ্যের প্রায় সবটুকু প্রয়োগ করেন সমালোচনা-কারীর সকল পথ রুদ্ধ করার প্রচেষ্টায়।

“সত্য হলো, মুহাম্মদ কোন কালেই সন্দেহাতীত ছিলেন না। এখনও নেই! উন্মুক্ত শক্তি প্রয়োগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইসলাম ও শুরু হয়েছে তার অগ্রযাত্রা! মুহাম্মদ ও তার মতবাদের সমালোচনার সকল পথ চিরতরে রুদ্ধ! অমান্য-কারীর কঠোর শাস্তির বিধান ইসলামে সু-প্রতিষ্ঠিত। আজও তা বলবত আছে বহাল তবিয়তে।"

সুতরাং, কুরানেরই বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও যুক্তির আলোকে যা সুস্পষ্ট তা হলো, সংকলিত কুরানের বোধগম্য সর্বপ্রথম বাণী “এ সেই কিতাব যাতে কোনোই সন্দেহ নেই” দাবীটি অসত্য! আজ মুহাম্মদের প্রচারিত মতবাদের ব্যবহারিক প্রক্রিয়ায় তা আরও স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়েছে। ইসলাম অনুসারীরাই আজ জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, চিন্তা-ভাবনায়, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, শিক্ষা-মর্যাদায় পৃথিবীর সর্বনিম্ন। তাদের এ দুরবস্থার জন্য দায়ী কারণগুলোর অন্যতমটি হচ্ছে "ইসলামের মূল শিক্ষা!" যাকে সর্বদাই পেশীশক্তি, হুমকি ও মিথ্যার আড়ালে গোপন রাখা হয়েছে। ইন্টারনেট প্রযুক্তির যুগে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা-সমালোচনা, পারিপার্শ্বিকতা ও লব্ধ জ্ঞানের আলোকে সাধারণ মুক্ত-মনের মুসলমানেরা সে সত্যকে সহজেই যাচাই করে নিতে পারবেন। প্রয়োজন শুধুই সদিচ্ছা।

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] ইবনে কাথির কুরআন তাফসীর: সূরা হিজর, আয়াত ৮৭
http://www.qtafsir.com/index.php?option=com_content&task=view&id=2354&It...
[2] বিস্তারিত 'আবু-লাহাব তত্ত্ব':
http://www.dhormockery.net/2012/09/blog-post_20.html
[3] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর।
http://www.quraanshareef.org/
[4] কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/
[5] বিস্তারিত 'অশ্রাব্য-গালি ও অসহিষ্ণুতা বনাম সহিষ্ণুতা’:
http://www.dhormockery.net/2016/02/blog-post_436.html
[6] বিস্তারিত 'হুদাইবিয়া সন্ধি: চুক্তি স্বাক্ষর - কী ছিল তার শর্তাবলী?'
http://www.dhormockery.net/2016/04/blog-post_67.html

Comments

DIPU এর ছবি
 

boiti kotha theke kinte parbo?

 
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
 

দীপু,
আপনার আগ্রহের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। বইটির চতুর্থ খণ্ড পর্যন্ত ই-বুক আকারে প্রকাশিত হয়েছে; যার শেষ পৃষ্ঠায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ডের ডাউনলোড লিঙ্ক দেয়া আছে। চতুর্থ খণ্ডের ডাউনলোড লিঙ্ক:
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOUVBOUnlRUXkxX0E/view

পঞ্চম খণ্ডের প্রথম ১৬ পর্বের (পর্ব: ১৬০-১৭৫) লিংক:
https://docs.google.com/document/d/1uqNzNSAOKgJyy23Fae9uloRzHNfxbPi5BEEK...

সিরিজটি চলমান।

গোলাপ মাহমুদ

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

গোলাপ মাহমুদ
গোলাপ মাহমুদ এর ছবি
Offline
Last seen: 3 দিন 2 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, সেপ্টেম্বর 17, 2017 - 5:04পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর