নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 6 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • নগরবালক
  • শ্মশান বাসী
  • মৃত কালপুরুষ
  • গোলাপ মাহমুদ
  • সজীব সাখাওয়াত

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

বাংলাদেশে হাস্যকর পরিবেশবাদী ও তথাকথিত বৃক্ষপ্রেমি !


আমাদের নানাবিধ আন্দোলন দেখলে মাঝে মাঝে মনে প্রশ্ন জাগে, সত্যি আমাদের মন মগজে কিছু আছে কিনা, নাকি কেবল "লোক দেখানো" আন্দোলন! বৃক্ষপ্রেম এমন এক হাস্যকর আন্দোলন বটে। বিষয়টির গভীরে যাওয়ার অনুরোধ করছি বন্ধুদের!
:
সম্প্রতি যশোর বেনাপোল সড়ক প্রশস্ত করার জন্যে ঐ সড়কে প্রায় ১৭৫-১৮০ বছরের পুরনো "রেইনট্রি" কাটার উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। যে গাছগুলো বয়সের ভারে ন্যুজ, অনেক গাছেই বিরাট ফোঁকড় (লাল চিহ্নিত) সৃষ্টি হয়েছে, বুড়ো দাঁত পড়ার মত শিকড় বের হয়ে আছে বেশ কটার, যে কোন সময়ে কিংবা সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতে এরা উপড়ে পড়ে জানমালের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু পরিবেশবাদীরা তা কাটতে দেবেনা। সুতরাং সরকার পিছিয়ে গেল আন্দোলনের ভয়ে!
:
১৮৪২ সনে গাছগুলো রোপন করেন যশোরের মানবপ্রেমি জমিদার কালি পোদ্দার। তার মা যেন নিজ বাড়ি থেকে গঙ্গা পর্যন্ত ছায়াঘেরা পথে "গঙ্গাস্নানে" যেতে পারেন, যে জন্য মায়ের নির্দেশে তিনি ৮০ কিমি পথ তৈরি করে তাতে এ শিরিষ বৃক্ষের চারা রোপন করেন ছায়ার জন্যে। সময়ের কারণে ঐ চারার অধিকাংশ এখন নেই, অনেক স্থানই ফাঁকা। সুতরাং পুরনো বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত এ বৃক্ষ কেটে, প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের পর তার দুধারে সাড়ি সাড়ি বৃক্ষচারা রোপন করে তার নাম "কালি পোদ্দার বৃক্ষ বিথী" রাখলে পরিবেশবাদীদের কি ক্ষতি হবে বুঝতে পারছি না! যারা এ বৃক্ষ কাটতে বাঁধা দিয়ে আন্তর্জাতিক সড়ক নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলো, বৃক্ষ উড়পে পড়ে কোন মানুষ মারা গেলে তার দায় কি তারা নেবে?
:
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরের দড়াটানা থেকে বেনাপোল চেকপোস্ট পর্যন্ত ৩৮-কিলোমিটার সড়ক আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটির জন্য সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়। একনেক গত মার্চ/২০১৭ তে সড়ক সম্প্রসারণে ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। সিদ্ধান্ত হয় ঐ বুড়ো গাছগুলো কেটে সড়ক প্রশস্ত করার এবং প্র্রশস্তকরণের পর তার দুপাশে লাগানো হবে সারিবদ্ধ গাছের চারা, কিন্তু তাতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় পরিবেশবাদীরা। তারা কোন গাছই কাটতে দেবেনা। হোক তা বুড়ো, দাঁতপড়া কিংবা বয়সের ভারে ক্লান্ত। আর সামনে নির্বাচনের ভয়ে ভীতু সরকার যে কোন আন্দোলনের জুজুর ভয়ে মেনে নিলো তাদের এ অন্যায় দাবী।
:
অপর দিকে আমাদের টিলাযুক্ত পার্বত্য জেলাগুলোতে এখন প্রায় প্রতিদিন পাহাড় ধ্বসে মানুষ মরছে। নরম পলিযুক্ত বালিমাটির এ পাহাড় অতিবৃষ্টি থেকে রক্ষার কি পথ আছে কেউ কি জানে? যদিও পরিবেশবাদীরা প্রতিদিন চিৎকার করে বলছে, পাহাড় কাটার কারণে তা ধসে পড়ছে। কিন্তু রাঙামাটিতে অনেক পাহাড় ধসে পড়েছে, যেখানে কখনো কোন মানুষের পদচারণা হয়নি, কাটা হয়নি। টকশোতে পরিবেশবাদীরা একই কথা বলছেন টিয়া পাখির মত, বৃক্ষ নিধনে এমনটা হচ্ছে। যেন বৃক্ষ থাকলেই এসব নরম পাহাড় ধসে পড়বে না। কিন্তু অনেক পাহাড় এবার "বৃক্ষসহ" ধসে পড়েছে। ভুটানে অনেক পাহাড় কেটে তাতে রাস্তা বানানো হয়েছে, পাহাড়ের গায়ে ও নিচে ভুটানিদের বাড়ি কিন্তু তা ধসে পড়ে না। কারণ সেখানের পাহাড় পাথুরে আর আমাদের পাহাড় নরম বালিযুক্ত মাটির। অতিবৃষ্টিতে এ পাহাড় ধসে পড়বেই, সেখানে মানুষ না গেলেও কিংবা বৃক্ষ থাকলেও সমুলে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় হ্চছে মহাপরিকল্পনা করে "ঝুকিযুক্ত পাহাড়কে ক্রমান্বয়ে সমতল ভূমিতে পরিণত করা"। আমার এ কথাকে পরিবেশবাদী "পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর" বলবেন তা জানি, কিন্তু এ ছাড়া পাহাড় ধস রোধে আর কোন সমাধান দিতে পারবেন তারা? আর সমতল করলে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কেন হবে বলবেন কি প্লিজ!
:
শেষ কথা : এখন ঐ বিশাল বুড়ো বৃক্ষ (কোন কোনটি ন্যাড়া) রাস্তার মাঝে রেখেই নাকি রাস্তা বানানো হবে। কি বলবো এসব শুনে হাসবো নাকি কাঁদবো? এ জাতীয় ফালতু হাস্যকর আন্দোলন গণতান্ত্রিক চীনে করলে "পিটিয়ে পাছা লাল করে দিতো" এসব তথাকথিত দেশপ্রেমিদের!

Comments

গোলাম রব্বানী এর ছবি
 

এটা চিন নয়, বাংলাদেশ। কালিবাবু রাস্তার সাথে আমার, হয়তো আপনারও ইতিহাস, ঐতিহ্য, হাসি কান্না জড়িত। একটা শিরিশগাছ কতদিন বাঁচে, হিসাব আছে আপনার? ওরা এক হাজার বছর বাঁচতে পারে। বিশ্বাস না হলে এই গাছ সম্পর্কে উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের গবেষণা পড়ুন। গাছগুলোর কোনকোনটা খেয়ে ফেলেছে আপনার মতোই মানুষেরা। যে গাছটি উপড়ে যেতে পারে, সেটই চিন্নিহিত করুন। তার গোঁড়ায় মাটি দিন। কেন বাঁচিয়ে রাখা দরকার? হাসি পাচ্ছে, না? আমার লেখাটি পড়ে, তারপর যুক্তি থাকলে দিন। অদূরদর্শী আলোচনা করা থেকে নিজেকে সংযত করা ভালো। https://istishon.com/?q=node/28221

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

দুলাল ভাইর মন্তব্যে দেখা প্রতিমন্তব্য পড়ুন।

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

গাছ সম্পর্কে আপনার ধারনা নাই। পোস্টের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করলাম।

 
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
 

দুলাল ভাই, এটা ঠিক আামি বৃক্ষ বিশেষজ্ঞ নই। তবে এ লেখাটা (এবং এ বিষয়ক আরো কটা লেখা) প্রস্তুতিকালে একজন বিভাগীয় বন রক্ষকের মতামত নিয়েছি আমি। তিনি বলেছেন, রেইনট্রি সড়কের পাশে লাগানো কোন "পরিবেশ অনুকুল" বৃক্ষ নয়। তাই বন বিভাগ অনেক প্রজাতির গাছ মহাসড়ক ও সমুদ্র উপকুলে লাাগালেও, কখনো কোন রেইনট্রি লাগায় না। এমনকি এর চারাও তারা উৎপাদন + বিক্রি করেনা। কারণ এ গাছের শেকড় মোাটা হয় ও রাস্তাকে ফাটিয়ে দেয়, এমনকি এর পাতা ফসলের জমিকে নষ্ট করে দেয়ে বিধায় আমরা তা ফসলের জমির কাছে রোপন করতে নিষেধ করি। তা ছাড়া এর শাখা তুলনামূলক নরম, মচকা (ভঙ্গুর) বিধায় সামান্য ঝড়বাতাসে তা ভেঙে পড়ে দুঘর্টনা ঘটাতে পারে।

যশোর বেনাপোল মহাসড়কের গাছ কোন বৃক্ষ বিশেষজ্ঞ প্লান করে লাগায়নি। গাছগুলো এর যুবা বয়স পাড় করে এখন পৌঢ়ত্ব বরণ করেছে বিধায় অনেকগুলো গাছে ফোকড়ের সৃষ্টি হয়েছে। তাই যৌক্তিক কারণে তা কেটে, তার কাঠ দেশের কাজে লাগিয়ে তার স্থলে নতুন সড়ক উপযোগী গাছ লাগালো যৌক্তিক। তা না হলে আবেগের কারণে গাছগুলো রাখলে, বর্তমান বুড়ো গাছগুলোর কাঠ ক্রমে নষ্ট হবে। ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। আর মাঝে গাছগুলো রেখে দুদিকে সড়ক বানালে পরবর্তীতে রাস্তায় ফাটল ধরবে। অবশ্য রাস্তায় ফাটল ধরলে সড়ক নির্মাণের সাথে যারা জড়িত তাদের পোয়াবাড়ো। তখন তারা পুরো দোষ বৃক্ষকে দিয়ে সাতখুন মাফ পাবে।

ভারতের দিকে লাগানো গাছগুলো একইভাবে ওখানের পরিবেশবাদীদের কারণে কাটা হয়নি বিধায় সেটা মূলত কোন মহাসড়ক হয়নি। জোড়াতালি দেয়া একটা সড়ক হয়েছে মাত্র। কদিন আগেও ভারতীয় অংশের সড়ক দেখে এসেছি আমি। আর এপারের পরিবেশবাদী আর ওপারের পরিবেশবাদীদের চিন্তা, আবেগ একই ধরণের বিধায় ওপারের উদাহরণ সড়ক ও বৃক্ষ বিশেষজ্ঞের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কি? আবেগ আর যুক্তি কি এক? সুতরাং আপনি ভিন্নমত পোষণ করার পরও, এ প্রবন্ধের যুক্তি আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়। ধন্যবাদ ভাই !

===============================================================
জানার ইচ্ছে নিজেকে, সমাজ, দেশ, পৃথিবি, মহাবিশ্ব, ধর্ম আর মানুষকে! এর জন্য অনন্তর চেষ্টা!!

 
দ্বিতীয়নাম এর ছবি
 

ফালতু Blush

 
সুবর্ণ জলের মাছ এর ছবি
 

পোস্টের সাথে একমত পোষণ করলাম। নতুনকে স্থান দিতে হবেনা? উন্নয়নের জন্য প্রকৃতিতে সাজাতে হবে। আবেগের চেয়ে যুক্তিকে প্রাধান্য দিতে হবে

 
সুবর্ণ জলের মাছ এর ছবি
 

Nice write up ! Thanks !

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 7 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর