নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মৃত কালপুরুষ
  • নুর নবী দুলাল
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • রবিউল আলম ডিলার
  • আল হাসিম
  • মাহের ইসলাম
  • এহসান মুরাদ
  • ফাহিম ফয়সাল
  • সানভী সালেহীন
  • সাঞ্জানা প্রমী
  • অতৃপ্ত আত্বা
  • মনিকা দাস
  • আব্দুল্লাহ আল ম...

আপনি এখানে

ধারাবাহিক উপন্যাসঃ দ্বিতীয় পর্ব


৩। সেইসব দিনরত্রি
অনেকক্ষণ ধরে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে সে। একা। গন্তব্য কোথায় তা জানে না। হঠাত সামনে রাস্তার উপর উল্টো হয়ে শুয়ে থাকা একটা মানুষ চোখে পড়লো। দ্রুত লোকটার কাছে ছুটে গেলো ও। ভালোভাবে তাকিয়ে দেখতে পেলো লোকটার শার্ট রক্তে ভেজা। বেশ ভয় পেলো সে। লোকটার গায়ে হাত দিয়ে মুখটা ফেরালো। মুখটা তার খুব চেনা। চিৎকার করে কেঁদে উঠলো সে।
ঘুম ভেঙে গেলো ভাস্বতীর। দ্রুত কয়েকবার নিঃশ্বাস ফেললো। সারা গা ঘামে ভিজে গেছে। অনেকদিন পর দুঃস্বপ্ন দেখলো সে। বিছানা থেকে নেমে ঢকঢক করে জল খেলো ভাস্বতী। কিচেন থেকে কাপ-পিরিচের টুং টাং শব্দ ভেসে আসছে। অর্থাৎ কাজের মেয়েটা ঘুম থেকে উঠেছে। ভাস্বতী বাথরুমে ঢুঁকে শাওয়ার ছেড়ে দিলো।
সকাল আটটা বাজে। এ সময় সাধারণত স্কুলে থাকে ভাস্বতী। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষিকা ও। এ স্কুলেই পড়ে প্রজ্ঞা। আজ সাপ্তাহিক ছুটি ,তাই স্কুলে যেতে হবে না।ব্যালকনিতে চেয়ারে বসে বাইরে তাকিয়ে আছে সে। ভোরবেলা দেখা দু;স্বপ্নটা ভাবাচ্ছে ওকে। কেনো যে এমন ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলো।
‘চা দিব আফা?’
কুসুমের ডাকে ভাবনায় ছেদ পড়লো ভাস্বতীর। বললো, ‘হুম,দাও’। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওর বাড়িতে আছে কুসুম। স্কুলের এক কলিগের মাধ্যমে কুসুমকে যোগাড় করেছিলো সে। প্রজ্ঞার দেখাশোনার জন্য একটা কাজের মেয়ের দরকার ছিলো ওদের। রান্নাসহ বাসার অন্যান্য কাজের জন্য একটা বয়স্কা বুয়া আছে।
প্রথম যেদিন এলো, ভাস্বতীকে খাল্লাম্মা বলে ডেকেছিলো কুসুম। কিন্তু খালাম্মা ডাক শুনলে নিজেকে বুড়ি মনে হয়,তাই ওকে আপু বলে ডাকতে বলেছে ভাস্বতী। তাছাড়া নোয়াখাইল্লা ভাষায় কথা বলতো কুসুম। ওর কাছে থেকে প্রজ্ঞাও এমন ভাষা শিখবে এই আশঙ্কায় কুসুমকে শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলতে শিখিয়েছে ভাস্বতী।
চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে স্মার্টফোন হাতে নিয়ে ফেসবুকে প্রবেশ করলো ভাস্বতী। দেখলো, রাত বারোটার সময় শুভরাত্রি জানিয়ে মেসেজ পাঠিয়েছে শাহেদ। শাহেদকে ফোন করে কিছুক্ষণ কথা বললো। ফোন রাখার পর বুঝতে পারলো মনটা ভালো হয়ে গেছে। গুনগুণ করে গেয়ে উঠলো,
‘ভালোবেসে , সখী , নিভৃত যতনে
আমার নামটি লিখো-তোমার
মনের মন্দিরে।
আমার পরাণে যে গান বাজিছে
তাহার তালটি শিখো-তোমার
চরণমঞ্জীরে’।
কি দ্রুত পনেরোটা বছর চলে গেলো। সেই সাতানব্বই সালের সবকিছু এখনো মনে আছে ভাস্বতীর। ভাস্বতী ভর্তি হয় বাংলা বিভাগে। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করে সে বছরই প্রভাষক হিশেবে বাংলা বিভাগে যোগ দেয় শাহেদ। শাহেদ ওদের পড়াতো বাংলা রোমান্সকাব্য- লায়লী-মজনু , আলাওলের পদ্মাবতী । সে নিজেও কবিতা লিখতো। ১৯৯৭ সালের বইমেলায় শাহেদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। কি রোমান্টিক সব কবিতা! তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলো বইটি। শাহেদের লেখা সেই বইয়ের কিছু কবিতাংশ পরবর্তীতে ঢাকাই ছবিতে নায়িকার উদ্দেশ্যে নায়কের সংলাপ হিশেবে ব্যবহার করা হয়েছিলো।
ভাস্বতীর পিতা সমর মজুমদার বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন সচিব। এছাড়া তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও বন্ধু শ্যামল চৌধুরীর একমাত্র পুত্র রঞ্জিত চৌধুরীর সাথে ভাস্বতীর বিয়ে ঠিক করেছিলেন সমর মজুমদার। একটা পার্টিতে ভাস্বতীকে দেখে নাকি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো রঞ্জিতের। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে এই অপরূপাকেই বিয়ে করবে সে। বাসায় গিয়ে বাপের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠায় ভাস্বতীর বাসায়। পুরনো বন্ধুর ছেলের সাথে ভাস্বতীর বিয়ের প্রস্তাব খুশিমনেই মেনে নিয়েছিলেন সমর মজুমদার। পড়াশুনা শেষ না করে বিয়ের কোনো ইচ্ছা ছিলো না ভাস্বতীর। কিন্তু বিশাল ব্যক্তিত্বের পিতার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতেও পারে নি সে। বাবাকে ছোটবেলা থেকেই বেশ ভয় পেতো ও।
রঞ্জিতের সাথে মাস ছয়েক সংসার করেছিলো ভাস্বতী। ভাস্বতী রঞ্জিতের মতো নোংরা স্বভাবের মানুষ আর একটাও দেখেনি। একাধিক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো রঞ্জিতের। মদ্যপান করে ভাস্বতীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো। রঞ্জিতের কাছে ভাস্বতীর শরীর ছিলো খাদ্য। প্রতি রাতেই ধর্ষণ করতো। একদিন রাতে ভাস্বতীর নগ্ন শরীরে মদ ঢেলে দিয়ে কুকুরের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে রঞ্জিত। ভাস্বতী বুঝতে পারে ওর বিয়ে হয়েছে বিকৃত মস্তিষ্কের এক পাষণ্ডের সাথে। আত্মমর্যাদা সচেতন মেয়ে ভাস্বতী পরের দিনই বাবার বাড়ি চলে আসে। বাবাকে কিছু না বললেও মাকে সব খুলে বলেছিলো সে। তিনিই বাবাকে বুঝিয়ে ডিভোর্সের ব্যবস্থা করে ফেলেন। এরপর আর কখনো রঞ্জিতের মুখ দেখতে হয়নি ভাস্বতীকে। কয়েক মাসের দুঃস্মৃতি ভুলে গিয়ে আবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে নিয়মিত হয়।
ক্লাস করতে করতেই শাহেদ খানের প্রেমে পরে যায় ভাস্বতী। কি দুর্দান্ত ব্যক্তিত্ব শাহেদের ! আর কি সুন্দর বাচনভঙ্গি ! ক্লাসে পড়ানোর চেয়ে গল্প বেশি করতো শাহেদ। কথা বলতো ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও তীব্র পুরুষতন্ত্রের সমালোচনা করে। ছাত্র-ছাত্রীদের শুনাতো বিশ্বব্যাপী সমঅধিকারের দাবীতে আন্দোলনরত মানুষের কথা। পড়ে শুনাতো সিমোন দ্য বেভোয়ারের লেখা। ভাস্বতী তাকিয়ে থাকতো শাহেদের দিকে। চোখের পলক পড়তো না ওর। অতি রুপবতী এক তরুণীর এমন চাহনিতে অস্বস্তিবোধ করতো শাহেদ। তবে খুশি হতো তার চেয়ে বেশি। ভাস্বতী একা নয়, ক্লাসের আরও কয়েকজন মেয়ে তরুন প্রভাষক শাহেদের প্রেমে পড়েছিলো। তনিমা নামের একটা মেয়ে তো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো শাহেদ ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবে না।
একদিন ক্লাস থেকে বেড়িয়ে শাহেদকে এক তরুণী শিক্ষিকার সাথে দেখলো ভাস্বতী। মহিলা সুন্দর একটা নীল শাড়ি পড়ে আছেন। তার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে শাহেদ। কে একজন বললো, ‘দুজনকে মানিয়েছে বেশ’। কথাটা শুনে রাগে গা জ্বলে উঠলো ভাস্বতীর। বাসায় ফিরে ঘরের দরজা লাগিয়ে বিছানায় শুয়ে অনেকক্ষণ কাঁদলো সে। জীবনে প্রথমবার কাউকে ভালোবেসেছে সে। এই অনুভূতি ব্যাখ্যাতীত। রোমিওকে ছাড়া জুলিয়েট, মজনুকে ছাড়া যেমন লাইলী থাকতে পারে নি ; ঠিক তেমনি শাহেদকে ছাড়া ভাস্বতী থাকতে পারবে না। শাহেদকেই যদি না পায়, তবে এ জীবন অর্থহীন। ভাস্বতী চিঠি লিখতে বসে। অশ্রুতে ভিজে যায় কাগজ। রাত শেষ হয়ে আসে। ভাস্বতীর চিঠি লেখা বন্ধ হয় না। ভাস্বতীর অশ্রু শেষ হয় না।
ভোরের আলো ফুটলে ভাস্বতী থামে। চিঠিটা সুন্দর একটা খামে পুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। ক্লাস শেষে শাহেদের হাতে তুলে দেয় চিঠি। তারপর ছুটে পালায়। তারপর লজ্জায় এক সপ্তাহ শাহেদের সামনে যায় না ও। এই এক সপ্তাহ যন্ত্রণায় ভোগে শাহেদ। ভালোবাসার যন্ত্রণা। রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন উপলক্ষে বাংলা বিভাগ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে লালপেড়ে শাড়ি পরে আসে ভাস্বতী। রবীন্দ্রসংগীতের সাথে নাচে ও। দর্শকরা মুগ্ধ হয়। আর শাহেদ খান হয় পাগল। অনুষ্ঠান শেষে ভাস্বতীকে ডাকে ও। বলে, ‘তোমার সাথে কথা আছে।এখানে নয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে যাও। আমি আসছি’। ভাস্বতী যায় । ওর পিছুপিছু আসে শাহেদ। তারা উদ্যানের ভিতরে ঢোঁকে । তখন শেষ বিকাল। ভাস্বতীর দিকে তাকিয়ে শাহেদ বলে, তুমি ভিন্ন ধর্মের মেয়ে, তোমার বাবা-মা আমাকে মেনে নিবেন না’।
আমি জাত,ধর্ম সব বিসর্জন দিয়ে যদি আপনার কাছে আসি , আমাকে তাড়িয়ে দিবেন?’ ভাস্বতী কাঁদতে থাকে।
শাহেদ কথা না বলে পৃথিবীর সবচেয়ে রূপবতী মেয়ের কান্না দেখে। দু হাত দিয়ে ভাস্বতীর মুখ তুলে ধরে। চোখের অশ্রু মুছিয়ে দেয়। তারপর বুকে টেনে নেয় ভাস্বতীকে। শাহেদের বুকে মাথা রেখে ভাস্বতী আবার কেঁদে ওঠে। বলে, ‘ভালোবাসি।আমি তোমাকে ভালোবাসি’। মাথার উপর রেইনট্রি গাছের ডালে বাসা বেধেছিলো কল্পরাজ্যের দুটা পাখি- শুক আর সারি। মানুষের ভালোবাসা দেখে তারা খুশি হয়ে গান গাইতে থাকে।
শাহেদ আর ভাস্বতীর সুখের দিন শুরু হয়। একে অন্যকে না দেখে একদিনও থাকতে পারে না তারা। ওরা ঘুরে বেড়ায় শহরের বিভিন্ন জায়গায়। সদরঘাটে গিয়ে নৌকা ভাড়া করে ঘুড়ে বেড়ায় বুড়িগঙ্গার বুকে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ওদের প্রায়ই একসাথে দেখা যায়। ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক মহলে ওদের সম্পর্কের কথা জানাজানি হয়ে যায়।
ভাস্বতীর পিতার কানেও কথাটা যায়। তিনি ভাস্বতীকে ডেকে সত্য জানতে চান।ভাস্বতী স্বীকার করে। সমর মজুমদার মেনে নেন না। তবে এবার ভাস্বতী দুনিয়ার কারো কথা শুনবে না। শাহেদকে ও হারাতে পারবে না। পিতার অমতেই শাহেদকে বিয়ে করে ভাস্বতী। সমর মজুমদার কন্যার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেন।
গত দশ বছরে বাবার সাথে একটা কথাও বলে নি ভাস্বতী। তবে মা আর দাদার সাথে নিয়মিত কথা হয়। মা প্রায়ই ওর বাসায় বেরাতে আসেন। ভাস্বতীর দাদা ভাস্কর মজুমদার ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর। বিয়ে করেছে ব্রিটিশ মেয়েকে। ফুটফুটে একটা মেয়েও হয়েছে ভাস্করের।
জন্মের পরপরই মারা যায় শাহেদ ও ভাস্বতীর প্রথম সন্তান। এই ঘটনা ভয়ানক প্রভাব ফেলে ভাস্বতীর মনে। পাগলের মত হয়ে গিয়েছিলো সে। চোখের পানি শুকিয়ে গেলো এক সময়। তারপর সারাদিন চুপচাপ বসে থাকতো ও। খাওয়া-দাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলো। সেই নজরকাড়া সৌন্দর্য হারিয়ে গিয়েছিলো। মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ভাস্বতীকে নিয়ে ইউরোপ ঘুরতে যায় শাহেদ। ইংল্যান্ডে ভাস্করের বাসাতেও ওরা কিছুদিন ছিল। সব শেষে গেলো প্যারিসে। সেখানেই এক রাতে শিন নদীর সেতুর উপর দিয়ে হাঁটছিলো ওরা। দেখলো, সেতুতে অসংখ্য তালা। জানতে পারলো ,এগুলা লাভ লক। প্রেমিক - প্রেমিকারা এখানে এসে তালা লাগায়। তারা বিশ্বাস করে , চাবি ছাড়া এই তালার মতই চিরকাল দুজনের হৃদয় যুগলবন্দী হয়ে থাকবে তাদের হৃদয়। শাহেদ আআর ভাস্বতীও লাভ লক ঝুলিয়ে দেয়। ভালোবাসার শহরে এসে অনেকদিন পর প্রাণখুলে হাসে ভাস্বতী। শাহেদের মাথা থেকেও নেমে যায় দুশ্চিন্তা ।
ভালোবাসার সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটা পরিস্থিতিতে ভাস্বতীর পাশে থেকেছে শাহেদ। ভালোবেসে , ভরসা দিয়ে দূর করেছে ভাস্বতীর প্রতিটা সমস্যা। শাহেদকে বিয়ের পরই ভাস্বতীর হিন্দুত্ব ঘুচে যায়। তারপর থেকে ভাস্বতীর একটাই ধর্ম- ভালোবাসা ; ওর একটাই দেবতা- শাহেদ।
ফোনের রিংটোন বেজে উঠলো। মা ফোন করেছেন। রিসিভ করে হ্যালো বললো ভাস্বতী।
‘কেমন আছিস?’ জানতে চাইলেন মা।
‘হুম , ভালো। তোমার কি খবর?’
‘ ভালো। শাহেদ কবে ফিরবে?’
‘ দুই-তিনদিন বাদে। তুমি আসো না কেনো?’
‘ তোর বাবা যেতে দিতে চান না।আমি না থাকলে তার একটা কাজও ঠিকমত হয় না’।
‘বাসায় তো কাজের লোকের অভাব নাই। তোমাকে এখনো জ্বালিয়ে মারেন কেনো?’
‘ তোকে ছাড়া শাহেদের চলে? না, এটা জ্বালিয়ে মারা না। এটাই ভালোবাসা।
হি হি করে হাসছে ভাস্বতী। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হাসি। কিন্তু কেউ দেখতে পেলো না।
রুমের ভিতরে গিয়ে টিভি অন করলো ভাস্বতী। খবরে দেখাচ্ছে-জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ছয় জানুয়ারি রোববার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন আঠারো দলীয় জোট। ভাস্বতী ভাবলো, বাহ ! দেশের মানুষের স্বার্থে হরতাল ডেকেছে বিরোধীদল। কিন্তু ওর এ ভাবনা দীর্ঘস্থায়ী হলো না। পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মণি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করলেন- মহাজোট সরকারের চার বছর পূর্তি উৎসব পণ্ড করার জন্যেই পরিকল্পিতভাবে এমন দিনে হরতাল ডেকেছে বিরোধীদল।

৪।হাজার বছর ধরে
শাহেদের পিতা ওসমান খানকে যেদিন পাক সৈন্যরা হত্যা করেছিলো সেদিন ভোরেই মজনু শেখের পোয়াতি বউ আসমা একটা বাচ্চা জন্ম দিয়েছিলো।শাহেদের তখন চার-পাঁচ বছর বয়স।ওর মাথায় হাজারটা প্রশ্ন গিজগিজ করে।কিন্তু সেগুলোর জবাব দেওয়ার মত মানুষ শুধু একজনই ছিলেন।ওর দাদিমা।সেকালে ওর প্রশ্নের জবাবে দাদিমার দেওয়া উত্তরগুলো এখনো মনে আছে শাহেদের। একবার ও প্রশ্ন করেছিলো,প্রতিদিন এত মানুষ জন্মে কিন্তু দুনিয়া মানুষে ভরে যায় না কেনো? লোহার পাত্র সুপারি ভাঙতে ভাঙতে দাদিমা হেসে জবাব দেন, ‘যখনি কেউ জন্মে তখনি আজরাইল ফেরেশতা একজন মানুষকে মাইরা ফ্যালে।তাইলে দুনিয়া মাইনষে ভরবে ক্যামনে বাপধন? দাদিমার এসব বুদ্ধিদীপ্ত জবাবে অবাক হয়ে যেত শাহেদ।
শাহেদের পিতাকে মিলিটারিরা ধরে নিয়ে গিয়ে বিলের ধারে হত্যা করেছিলো।নাহ,ওর বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না।তবে আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ সমর্থক ও মুজিব ভক্ত ছিলেন।ওসমান খানকে হত্যার পেছনে তার এ পরিচয়ের চেয়ে শান্তি কমিটির মেম্বার মোখলেছের সাথে জমি নিয়ে পুরনো বিরোধ বেশি ভূমিকা রেখেছিলো।
পিতার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার কিছুক্ষণ আগেই মজনুর বউয়ের সন্তান জন্মদানের খবর পেয়েছিলো শাহেদ।তাই এ বাচ্চাটার উপর ভীষণ রেগে ছিলো সে। তার মনে হতো,এই বাচ্চাটা পয়দা হইছে বইলাই আব্বা মারা গেছেন।এসব কথা এখন মনে পড়লে হাসি পায়। কাল আব্বার নামে সড়ক দেখার পর থেকে বাল্যস্মৃতির মাছটা ঘাই দিয়ে যাচ্ছে শাহেদের মস্তিষ্কে।
শফিকের বসার ঘরে গিয়ে চা খেতে খেতে খবরের কাগজ পড়ছিলো শাহেদ। শফিক এসে বললো, ‘আমজাদ চাচা মারা গেলেন ,শুনেছিস?’
-‘কখন?কিভাবে মারা গেলেন?’চমকে উঠে শাহেদ।
-‘আজ ভোরে।বয়স হইছে।একমাত্র বেটির বিয়ে দিয়েছেন।দেখার লোকজন তো কেউ নাই।এবারের শীতটা আর পার করতে পারলেন না।
ব্যথিত হলো শাহেদ।স্মৃতির মাছ আবার ঘাই মারলো ওর মস্তিষ্কে। ১৯৭১ সালে হাইস্কুলে ক্যাম্প করেছিলো পাকিস্তানি বাহিনী। হাইস্কুলের পেছনেই পদ্মপুকুর। তার পেছনে আমজাদ চাচার বাড়ি। একদিন দুপুরে পদ্মপুকুরে একা স্নান করছিলেন আমজাদ চাচার বউ। সে সময় রাজাকারদের সাথে নিয়ে পুকুরপার দিয়ে গ্রাম পরিদর্শনে যাচ্ছিলো পাকিস্তানি সৈন্যরা।পুকুরে স্নানরত বাঙালি নারীকে দেখে লোভ সামলাতে পারেনি তারা।তুলে নিয়ে গেলো ক্যাম্পে।কয়েকদিন পর পদ্মপুকুরের পেছনের জঙ্গলে গাছের সাথে তার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।সম্ভ্রম হারানোর পর নিজের মুখ আর সমাজে দেখানোর সাহস করেন নি মহিলা।
আর বিয়ে করেন নি আমজাদ চাচা।একমাত্র মেয়েকে নিয়ে থাকতেন।শাহেদের পিতা ওসমান খানের সাথে ভালো বন্ধুত্ব ছিলো তার। আমজাদ চাচা রাজনীতি করতেন না । তবে আব্বার মতো তিনিও ছিলেন শেখ সাহেবের ভক্ত। লোকমুখে শুনেছে শাহেদ,মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত আমজাদ চাচা নাকি প্রতিদিন নামাজ পরে বঙ্গবন্ধুর সুস্থতা কামনা করে দোয়া করতেন এটা অবশ্য শাহেদ নিজের চোখে দেখেনি। তবে সে দেখেছে অন্য আরেকটা ঘটনা। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার খবর শোনার পর গাঁয়ের বাজারে বসে চা খেতে খেতে এই আমজাদ চাচাই বলছিলেন,আল্লাহ দেশটারে বাঁচাইলো।
যোহরের নামাযের পর আমজাদ চাচার শেষকৃত্যে অংশ নিলো শাহেদ।বাড়ির পেছনেই কবরস্থ করা হলো তাকে।বিকালে শফিকের সাথে বাজারে গেলো শাহেদ।লোকাল পলিটিশিয়ানদের আডডা দেওয়ার জায়গা বহু পুরনো বাজারটার চা নাস্তার দোকানগুলো। চেনা কিছু লোকের সাথে দেখা হলো শাহেদের।আক্কাস,রমজান,মিন্টু এরা ওর সাথেই প্রাইমারি স্কুলে পড়েছে ।শাহেদ লক্ষ্য করলো,বাল্যবন্ধু হলেও এরা সবাই ওকে তুমি সম্বোধন করে কথা বলছে।আসলে নিজেদের স্বল্প শিক্ষা আর শাহেদের উচ্চশিক্ষা ও পেশার কথা ভেবে আগের মত তুই – তাকারি করতে পারছেনা তারা।গরম শিঙ্গাড়া আর চা খেতে খেতে গল্প করছে ওরা।
মাঝবয়সী একটা লোক এসে ‘শফিক ভাই’ বলে ডাক দিলো।বিরক্ত কণ্ঠে শফিক জানতে চাইলো , ‘কি হইছে?’
-‘ভাই,হামার সব্বনাশ হইয়া গেছে।বিষ দিয়া হামার পুকুরের সব মাছ মাইরা ফেলিছে’।
-‘কে মারছে?’ চেঁচিয়ে উঠলো শফিক।
-‘সারা গেরামে বশির ছাড়া হামার আর কোনো শত্রু নাই । ওই খানকির বেটাই করছে এই অকাম’।
একটু অবাক হয় শাহেদ। ছোটবেলায় দেখতো,গ্রামদেশে একজন মানুষ আরেকজনের মুরগি চুরি করে,পুকুরে বিষ দিয়ে শত্রুতার প্রকাশ ঘটাতো।এই কাজগুলো তাহলে এখনো হয় !
‘এশার নামাযের পর মসজিদের সামনে পাড়ার সব লোককে হাজির হইতে কইবি।সালিশ হবে’।বললো শফিক।
-আচ্ছা ভাই,আপনি হারামজাদা বশিরের একটা ব্যবস্থা করবেন’।
লোকটা বেড়িয়ে গেলে মুখ খুললো আক্কাস। বলে,বুঝলা শাহেদ, খাওয়া আর শোয়া বাদে বাঙালি স্রেফ তিন কাম পারে।প্রথমটা হলো নিজেকে নিয়ে বড় বড় গপ্প করা।দুই নম্বর হলো, বৌকে পিটা। আর শেষটা হলো, একজন আরেকজনের পাছায় বাঁশ দেওয়া।
হা হা করে হেসে উঠলো সবাই।

রাতে শাহেদকে ফোন করলো বড় আপা শাহানা। ওদের গ্রামে ইসলামি জলসা হবে। এ বাড়ির সবাইকে সেখানে যেতে হবে। ঘুমুতে যাওয়ার আগে ভাস্বতীর সাথে ফোনে কথা বললো শাহেদ।
পরদিন বিকেলে মাইক্রোবাসে চেপে সোনাতলা গেলো এ বাড়ির সবাই।অনেকদিন পর শাহেদকে দেখে কেঁদে ফেলে শাহানা। তারপর প্রজ্ঞাকে কোলে তুলে নিয়ে চুমু খেতে লাগলো । শাহেদ ভাবে , কতটা সহজ-সরল এসব গ্রাম্য মহিলা।এই জীবনে স্বামী-সংসার ছাড়া কিছুই পায়নি শাহানা। বাল্যকালে স্বামীর ঘরে এসেছে।পুরো লাইফ এখানেই কাটিয়ে দিলো। বছরে একবার বাপের বাড়ি যাওয়া ।আর কোথাও না। শেষ বয়সে হয়তো স্বামীর সাথে মক্কা গিয়ে হজ্ব করে আসবে।তারপর কিছুদিন আল্লাহ-নবীর নাম নিয়ে এবাদত-বন্দেগি করে হঠাত একদিন বিদায় নিবে দুনিয়া থেকে। জীবনে কোনো বৈচিত্র্য নাই এসব নারীর। তবে এই জীবন নিয়ে কোনো আক্ষেপ-অভিযোগও নাই তাদের। এরা উচ্চশিক্ষিত না। তবে কারো প্রতি এদের ভালোবাসা ও তার প্রকাশটা হয় নির্ভেজাল। এরা অভিনয় করতে জানে না ।
শাহানার স্বামী কাশেম মন্ডল ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি বড়মাপের দাতা।তার বাড়ির পাশেই শামিয়ানা টাঙিয়ে বসেছে ইসলামি জলসা। শীতকাল এলেই উত্তরবঙ্গের গ্রামে গ্রামে শুরু হয় ইসলামি জলসা। সারা দেশের বিখ্যাত সব বক্তাদের অগ্রিম টাকা দিয়ে নিয়ে আসা হয় ওয়াজ করার জন্য । বড় বক্তা নিয়ে আসা নিয়ে পাশাপাশি গ্রামগুলোতে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এক্ষেত্রে কার্পণ্য করেন না। জলসাকে কেন্দ্র করে বসে মেলা। আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত করা হয়।ইসলামি জলসাগুলো আসলে ছোটখাটো উৎসব।
ওয়াজ শোনার চেয়ে মেলায় ঘোরার প্রতিই বেশি আগ্রহ দেখা যায় । তবে কেউ যে ওয়াজ শোনে না তা না।গায়ে চাদর,গলায় মাফলার পেঁচিয়ে বৃদ্ধরা বসে যান খড়ের বিছানায় । সামনে মঞ্চের উপর আলিশান গদিতে বসেন বক্তারা। প্রধান বক্তা যদি খুব বিখ্যাত কেউ হন,তবে এতো বেশি লোক জমায়েত হয় যে অনেকেই বসার জায়গা পায় না। বক্তারা মাইকে ওয়াজ করেন, গ্রামের প্রতিটা বাড়ির মহিলারাও যাতে শুনতে পায় ।
বক্তাদের মধ্যে শ্রেণিভেদ আছে। যতো বড় বক্তা তার রেটও ততো বেশি। বক্তারা সুর করে ওয়াজ করেন। ওয়াজের মধ্যে, ‘ কি মিয়ারা ঘুমাইছ নাকি’; ‘আল্লাহর কথা শোনার সময় ঘুম পায় ক্যাম্নে’- এসব বলে মাঝে মাঝে চিৎকার করে উঠেন । এদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় আল্লামা সাইদীর মত কিছু বক্তা যারা ওয়াজের মধ্যে ‘আল্লাহর কসম’, ‘পার্লামেন্ট’, ‘মিনিস্টার’ ‘নাস্তিক’, ‘জারজ সন্তান’ প্রভৃতি চিৎকার করে বলে উঠে শ্রোতাদের মনে জোশ আনতে পারেন ।
‘ত্রিশ হাজার টাকা এডভান্স দিয়া মাওলানা আব্দুল মজিদ ফরিদপুরীকে আনছি ,তিনিই প্রধান বক্তা’। কাশেম মণ্ডল বললেন।‘ওয়াজ শেষে আরো দশ হাজার টাকা দেওয়া লাগবে’ ।
টাকার অঙ্ক শুনে শাহেদের ভিরমি খাওয়ার মতো অবস্থা হলো।আরও জানতে পারলো মৌসুমের সময় সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ওয়াজ করেন এসব বক্তা । অনেক আগে থেকে এডভান্সড টাকা দিয়ে তাদের বুকড করতে হয় । কতই না কামাই করেন বক্তারা ! ধর্মব্যবসার চেয়ে বড় ব্যবসা আর হয় না ।
তিনজন বক্তা সারা রাত ওয়াজ করলেন । রাত একটার সময় মঞ্চে উঠলেন প্রধান বক্তা । নবী-রাসূলদের জীবনের নানা গল্প, মুজেজা নিয়ে সুরেলা কণ্ঠে ওয়াজ করলেন তিনি । হঠাত শাহেদের মনে হলো, দেশ থেকে জঙ্গিবাদ দূর করার ক্ষমতা কেবল এসব বক্তারাই রাখেন । কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা বা শিক্ষক হাজার কথা বললেও কাজে আসবে না । কিন্তু এসব ইসলামি বক্তা, আলেম,ইমামরা যদি ইসলামি জলসায়,মসজিদে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিতেন তাহলে এদেশের তরুণরা বিভ্রান্ত হয়ে এ পথে যেতো না । কিন্তু কোনো আলেমই তা করবেন না । কোথাও জঙ্গি হামলা হলে ইনারা শুধু বলেন , ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম , ইসলামে জঙ্গিবাদের জায়গা নাই’। কিন্তু কোনোদিনই তারা জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের চেষ্টা করেন না।
দুদিন পরে প্রজ্ঞাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে রওনা হলো শাহেদ । আম্মাকে সাথে নিয়ে আসার জন্য অনেক জোরাজুরি করেছিলো ও । কিন্তু তার এক কথা- হিন্দুর বাড়িতে গিয়ে থাকতে পারবেন না । শেষমেশ শফিক শাহেদকে বললো , ‘ তুই যা , কিছুদিন পর চিকিৎসার নাম কইরা আমি চাচীরে ঢাকা নিয়া যামুনি’।
প্রজ্ঞার স্কুলে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে । তাছাড়া সামনেই বইমেলা । এবারের বইমেলাতেই শাহেদের নিজস্ব প্রকাশনা সংস্থা ‘মুক্তচিন্তা’ প্রথমবারের মতো স্টল পেয়েছে । সীমাহীন ব্যস্ততা সামনে ।তাই আম্মাকে না নিয়েই ওদের ঢাকা ফিরতে হলো ।

ঢাকায় পৌঁছুতে বিকাল হয়ে গেলো ওদের। স্নান করে একটা ঘুম দিলো শাহেদ । রাত সাড়ে নটায় খেতে ডাকলো ভাস্বতী । খাওয়া শেষে টেবিলে বসে বইয়ের প্রুফ দেখতে লাগলো শাহেদ । মো ইয়ানের লেখা উপন্যাস ‘রেড সরগাম’ -এর বঙ্গানুবাদ করেছে সে । ওর নিজের প্রকাশনা সংস্থা থেকেই বইমেলায় প্রকাশিত হবে বইটা ।
দুই কাপ কফি বানিয়ে ওর টেবিলের কাছে এলো ভাস্বতী । ‘কি করছো?’ জানতে চাইলো সে ।
ওর দিকে তাকালো শাহেদ । নীল শাড়ি পরেছে ভাস্বতী ,কপালে নীল টিপ । সে বরাবরই রূপ সচেতন নারী। বয়স প্রায় পঁয়ত্রিশ হলেও এখনো ওকে দেখতে পঁচিশ- ছাব্বিশ বছরের তরুণীর মতো লাগে । অপার্থিব একটা পারফিউমের গন্ধ ভেসে আসে ওর শরীর থেকে । বরাবরই মাতাল হয়ে যায় শাহেদ ।
-‘ক্লিওপেট্রো ! নাহ, দেবী আফ্রোদিতি !’ শাহেদ বলে ।
-‘ধুর!’ হেসে ফেলে ভাস্বতী।
- ‘তুমি দিন দিন আরও তরুণী হয়ে যাচ্ছ । সেই সঙ্গে আরও রূপসী’।
-‘আর তুমি হয়ে যাচ্ছো পাকা চুলের বুড়ো’।
-‘তাই নাকি ?’ হেসে বলে শাহেদ । ‘বুড়োর সাথে লড়াইয়ে জিততে পারবে ?’
-‘অবশ্যই পারব’। ভাস্বতীও হাসে ।
আহা ! পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর হাসি ! শাহেদের বুকে তোলপাড় শুরু হয় । নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয় ওর ।
‘দেখি পারো কি না’ বলে ভাস্বতীকে জড়িয়ে ধরে শাহেদ ।
টেবিলের উপর কফির কাপ দুটো ঠাণ্ডা হয় । আর টেবিলের পাশের বিছানা হয় এলোমেলো।
সেই রাত ছিলো ভালোবাসার । (চলবে)
আগের পর্বের লিংকঃ https://istishon.com/?q=node/28160

বিভাগ: 

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

আপনার উপন্যাসে কোন প্যারাগ্রাফ নাই। প্যারাগ্রাফের জায়গাগুলোতে একটা করে এন্টার দিলেই প্যারাগ্রাফগুলো নজরে আসবে। পাঠকের পড়তে চোখে আরাম লাগবে।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

উলুল আমর অন্তর
উলুল আমর অন্তর এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 3 দিন ago
Joined: বুধবার, ফেব্রুয়ারী 15, 2017 - 1:09পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর