নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • নগরবালক
  • কাঙালী ফকির চাষী
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

‘জীবনের আদ্যে-পাদ্যেই আমার আমিকে খুঁজে নেওয়া।,



লেখাটি শুরু করার আগে কিছু কথা বলে নিই; আমি অনেক দিন যাবত অসুস্থ তাই লেখায় কিছুটা অনিয়মিত হয়ে গেছি।কিন্তু আমি বেশ কিছু বিদেশী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অনলাইন প্রকাশনীর সাথে জড়িত তাই কোথায়ও না কোথায় ব্যস্ত থাকি আর তা মানবতার কাজে ব্যস্ততা।আজ হঠাৎ করে অনেক লিখতে ইচ্ছে করছে মনের ভিতর কষ্টে জমে থাকা ব্যক্তিগত জীবন ও বাস্তব সমাজ ভিত্তিক কিছু কথা।আগে বলে রাখি,আমি একজন মানবতাবাদী কর্মী এবং বাস্তব চিন্তা চেতনার আলোকে বিচার করে ধর্মীয় অনুশাসনও প্রথা গুলোকে প্রচন্ডভাবে সমালোচনা করি।তবে ধর্মের যদি ১-৫% ভালো কিছু থেকে থাকে তারও প্রশংসা করি।আমি অশিক্ষিত এবং না পড়ে উগ্রপন্থী নাস্তিক হওয়া ব্যক্তিদের ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের মতো ঘৃনা করি।এবং এই ও বিশ্বাস করি এরা ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের মতো সমাজের জন্য ক্ষতিকর।নাস্তিকতা ও মানবতাবাদে বিশ্বাসীদের নিকট অনুরোধ আগে নিজেকে প্রস্তুত করুন এবং গড়ে তুলেন ধর্মীয় কুসংস্কার,মানবতা বিরোধী ও অসত্যে প্রথাগুলোকে মোকাবিলা করার জন্য।এখন মূল লেখায় ফিরে যাচ্ছি, নিচে থেকে শিরোনামের সাথে মিল খুঁজে নিন।

আমি জীবনকে বুঝার চেষ্টা করেছি কম বেশি সব সময়,কিন্তু জীবনকে বুঝার সহজ কোনো পদ্ধতি নেয়।জীবনকে সহজ-সরল যারা বলেন জানি না তারা এর দ্বারা কি ছাত্র জীবনের উচ্চ মাধ্যমিকের গণিতের সরল অংকের মতো সরল বলে বোকা বানানোর কি চেষ্টা করছেন?তাই যদি হয় অন্তত মাধ্যমিক বিদ্যালয় অতিক্রম করা সকল বন্ধুদের একটা শিক্ষা বলেন আর অভিজ্ঞতা বলেন হয়ে গেছে।
যুক্তি স্বাপক্ষে এটা আমার বিশ্বাস।

কারন সরল অংকে বহুমূখি গাণিতিক ফর্মূলা ও কার্যপ্রণালির দ্বারা চূড়ান্ত ফলাফল বাহির করা হয়,আর আমার বিচারে এটাকে সরল বলা কঠিন,সহজ করে কঠিন কথাটি বলছি; সরল অংক সরল নয় কঠিন।অধ্যায়নের স্থর বিবেচনা করলে অন্তত তাই মনে হয়।ঠিক সেইভাবে কিছু লোক সমাজে তৈরি হয়েছেন,যারা বলছেন একমাত্র ধর্মীয় বা সুস্পষ্ট করে বলিলে, বলা যাই ইসলাম ধর্মের প্রচারকারীরা মনে করেন ইসলাম ধর্মের রীতি-নীতি ও অনুশাসনগুলো মানুষের জীবন সহজ-সরল করে।কিন্তু বাস্তবতার দিকে তাকিয়ে বলুন, এই কথাটি ১% সত্যি কিনা সন্দেহ আছে! উদাহরন স্বরুপ বিশ্বের সব মুসলিম দেশগুলোর দিকে দেখুন, আপনাদের কি মনে হচ্ছে? আমি ভূল বলিলে সংশোধন করবেন আপত্তি নেই।কিন্তু মনে রাখবেন অন্য ধর্মের সাথে তুলনা করবেন না,এখানে ইসলাম ধর্মের কথা ধরে বলছি। কারন আমি এটা বিশ্বাস করি, ইসলাম ধর্ম যখন সত্য নয় তখন অন্য ধর্ম সত্য হওয়ার প্রশ্নই আসেনা।কিন্তু অন্য ধর্মের সাথে ইসলামের পার্থক্য এখানে, ইসলাম অপরিবর্তিত বা পরিবর্তন নিষিদ্ধ পক্ষান্তরে অন্য প্রধান ধর্মগুলো যুগের সাথে পরিবর্তিত হচ্ছে বা হয়েছে (খ্রিষ্টান,ইহুদি,যওবা উইটনেস)।হিন্দু ধর্ম কোনো ধর্মই না এটা পৃথিবীর সব চেয়ে হাস্যকর ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন সৃষ্টি।আমার পূর্বের একটা লেখাই হিন্দু ধর্মের ব্যপারে সংক্ষেপে কিছু তুলে ধরে ছিলাম।তাই অহেতুক আর বলবো না,তবে এটা বলতে হচ্ছে বর্তমানে হিন্দু ধর্মটি ভারতে নরেন্দ্র মদির নেতৃত্বে ভয়ংকর থেকে ভয়ানক হচ্ছে। হিন্দু ধর্ম আগেও সন্ত্রাসী ছিলো কিন্তু তা এখন অতীতের সব হিসেব-নিকাশ ছাড়িয়ে গেছে।

এখন পূর্বের সূত্র ধরে বলছি আমি জীবনের শুরুতে কিন্তু বুঝে হোক আর না বুঝে হোক ইসলামী ধর্মীয় গুরুদের কথা মতো জীবন পরিচালনা করেছিলাম।আর পরিবারে চাপও ছিলো প্রচন্ড,পারিবারিকভাবে আমাদের পরিবার একটি রক্ষনশীল মুসলিম পরিবার। তখন নামাজ পড়ার সময় আমি যে ঈমামে পিছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছি সেই ঈমাম,আমি এবং অন্যান্য সকলে বলতাম হে্ আল্লাহ তুমি আমাকে সহজ ও সরল পথে জীবন-যাপন করার তৌফিক দাও বা আমাকে সহজ-সরল পথে রাখো। কিন্তু নামাজ শেষে সেই বাক্যটি এতো অযুক্তিক মনে হতো যে, এক পর্যায়ে মনে হতো এই বাক্যটির শিক্ষা আমার জীবনকে কঠিন থেকে আরো কঠিনতর করছে আবার যে আমাকে এই বাক্যটি শিক্ষিয়েছে সেই নিজেই তা ঠিক মতো পালন করছে না।আমি যতোই চেষ্টা করলাম সহজ-সরল পথে থাকতে জীবন ততোই কঠিন হতে থাকলে।এখন,আমি এখনে যেনো উচ্চ মাধ্যমিকের সরল অংকের মতো কোথায়ও যেনো একটা বোকা বানানো মিল পাচ্ছি!!আর তখনি প্রথম মাথায় আসলো,আমি যখন সহজ-সরল পথে থাকলে জীবন কঠিন হয়ে যাই তাহলে কঠিন পথে হেঁটে দেখি তাহলে পার্থক্য বুজতে পারবো।সেই থেকে শুরু ধর্মীয় মতবাদ,শিক্ষা-দীক্ষা এবং অনুশাসনকে সচ্ছ কাঁচের তলে ফেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা।তবে তা করার জন্য দরকার ছিলো ধর্ম ভিক্তক প্রচন্ড পড়াশুনার।যেমন শুরুতে বলেছিলাম ধর্মীয় কুসংস্কার ও মানব বিরোধী মতবাদের সমালোচনা এবং প্রতিরোধ করতে দরকার বিষয ভিক্তিক জ্ঞান আর তা কেবলি প্রচুর পড়াশুনা এবং বাস্তব জীবন থেকে অর্জন সম্ভব।তাই শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই দেখে, বছরের পর বছর এই বিষয়গুলো নিয়ে পড়াশুনা করেছি।তারপর বুঝতে পেরেছি এতোদিন আমি কিসের ভিতর আবদ্ধ ছিলাম।তাই আপনাদের বলবো জীবনে কোনো কিছু সহজ করে হয়না।আর সহজ করে হয় না যখন কঠিন করে দেখুন তাতে হারানোর ভয় কম।কারন আপনিতো আশা নিয়ে অনেক দিন পুরানো দীক্ষার সহজ-সরল পথে চেয়েও সব কঠিন করে ফেলছেন তার চেয়ে উল্টো করে দেখুন হয়তো তাই একদিন সঠিক মনে হবে। আর না হলেতো হারানোর কষ্ট থাকার কথা না কারন এটাইতো এতো দিন ধরে হচ্ছে।কিন্তু আপনি যে নতুন চিন্তা বা সাহস দেখিয়েছেন তা কিন্তু প্রাপ্তির খাতায় লিখতে পারেন নতুন কৌশল হিসেবে।

এরপর শুরু করলাম সেক্যুলার এবং উদারপন্থী আদর্শের মানুষ ও ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে সম্পর্ক গঠন করা।তখন থেকে ধর্মটা দিন দিন দূরে সরাতে থাকলাম।কিন্তু তা পরিবার থেকে সম্পূর্ন গোপন রেখে,আর এক পর্যায়ে গোপন থাকলো না পরিচিত ছাত্র মহলে। যেখানে পড়তাম সেই উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্র শিবিরের প্রতিষ্ঠিত ঘাঁটি ছিলো,বলতে পারেন বাঘের থাবায় সর্বক্ষন থাকতাম তাই নিরাপত্তা বিষয়টি খুব আলোচ্য ছিলো আমাদের গ্রুপে।একদিন সন্ধ্যার সময় বাড়ির পাশের বাজার থেকে বাড়িতে যাচ্ছিলাম,যখন অন্ধকারে সুরু রাস্তা ধরে বাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম তখন হঠাৎ করে অন্ধকার থেকে ৩-৪ জন মুখ ডাকা অবস্থায় এসে আমাকে চারদিক থেকে মারা শুরু করলো তখন কিছু বুঝতে পারলাম না কারা এই লোক,তবে যখন দুই এক জনের কন্ঠস্বর শুনলাম তখন বুঝতে পারলাম ওরা কারা।এরপর কিছুক্ষনের মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছি।তারপর যখন জ্ঞান ফিরে তখন দেখলাম আমি হাসপাতালে আমার পরিবারের সদস্যরাও সেখানে কেউতো কোনো কিছু বুঝলো না,কে বা কারা এবং কি কারনে এমন করে আমাকে মারলে!!আবার আমিও তাদেরকে সব কারন খুঁলে বলতে পারিনি,আমি জানতাম তারা আমার চিন্তা-ধারনা মেনে নিতে পারবে না তাই মার খেঁয়েও চুপ থাকলাম।শুধু তাদেরকে কষ্ট না দেওয়ার জন্য।এরপর কারন একটা বলছি যে, আমিতো রাজনীতি করি না,কিন্তু আমার কিছু বন্ধু আছে যারা সেক্যুলার এবং উদারপন্থী রাজনীতি করে।আমি মাঝে মাঝে তাদের সাথে ঘুরা-ফেরা করি।এই কারনে হয়তো কেউ মারছে কিন্তু আমি তাদের চেহারা দেখতে পাইনি অন্ধকার ছিলো তার উপর তারা মুখোশ পরা ছিলো।আমার পরিবার খুব প্রভাবশালী আমাদের সমাজে তাই তারা ও সহজে ছেড়ে দিতে নারাজ।তারা সব চেষ্টা করেও শুধু আমার একটু সহয়তার অভাবে প্রতিশোধ বলেন বা ঔ ধর্মীয় উগ্রগুলোকে ধরতে পারেনি।আমার এই ঘটনার পর আমাদের ঔ সংগঠন কিছুটা দূর্বল হয়ে পরে।তার কয়েক মাস পর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে স্বপরিবারে আমরা নতুন জায়গা আসি।কিন্তু,সেই দিনের আঘাতের দাঁগ আজ প্রায় বিশ বছর পরেও আমার শরীরে রয়ে গেছে।যখন নতুন জায়গায় এসে, আবার পুরানো এবং নতুন লোকদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি এবং মোটামুটি সফলও হয়।এরপর কলেজ থেকে আই.এস.সি পাশ করার পর চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য অনার্স শুরু করি।তখন রাজনৈতিক মতবাদ নিয়ে প্রকাশ্যেই কথা বলা শুরু করি,এক পর্যায়ে পরিবারও জেনে গেলো আমার চিন্তা-চেতনা সম্পর্কে কিন্তু ধর্মীয় অবস্থান সম্পর্কে নয়।কারন তখন পরিবার ও সমাজের ভয়ে বা দ্বিধা-দ্বন্ধ নিয়ে ধর্ম পালন করেছি।

এরপর অনার্সের শেষে,যখন পরিবার বুঝতে পারেনি যে আমার পরিবর্তন ধর্মকে ঘিরে,তখন তারা মনে করলো আমার এটা নেহাত রাজনৈতিক মতাদর্শ আর ঐসব লোকদের সঙ্গে চলার কারন।সুতারং আমাকে দূরে কোথায়ও পাঠালে এবং এসব থেকে বিছিন্ন হলে সব ঠিক হয়ে যাবে।তখন তারা সিদ্ধান্ত নিলো কি কি সুযোগ আছে। তারপর তারা বাহির করলো আমার পড়াশুনা পুরো শেষ হয়নি সুতারং বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাঠাবে।কিন্তু কোথায় পাঠাবে? তার কারন সুযোগ আছে অনেক দেশের,আরেকটু পরিষ্কার করে বলছি।আমার আপন মামারাসহ পরিবারের বিভিন্ন সদস্যরা আমেরিকায়,কানাডায় এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সুপ্রতিষ্ঠিত। আর বেশ কিছু সমমনা গনিষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু আছে আষ্টেলিয়াতে।কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা,সেটা হলো ইংল্যান্ডের সাথে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ।আমার পিতামহ ব্রিটিশ নাগরিক এবং দ্বীতৃয় বিশ্ব যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাথে প্রায় ৪বছর যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন।এরপর ব্রিটেনের স্বাধীনতার পরও কিন্তু ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন বেশ কয়েক বছর।তারপর ১৯৫৮ সালে সৌদি থেকে হজ পালন করে,বাংলাদেশে স্হায়ীভাবে ফিরে যান।এরপর আর কখনো ব্রিটেনে আসেননি।আমার আব্বা আমার পিতামহের একমাত্র ছেলে সন্তান আর আব্বার একটি বড় বোন ছিলো।আমার পূর্ব পুরুষেরা প্রচীনকাল থেকে জমিদারিত্ব লাভ করেন। আর পিতামহ ব্রিটেন থেকে ফিরে দেশত্যাগী হিন্দুদের জায়গা কিনে আমাদের জমি-জমা এতো পরিমান করেছেন যে তা রক্ষা করাও কঠিন হয়ে যায়।পিতামহের ব্রিটেনের আয়করা পাউন্ড স্ট্যারলিং দিয়ে জমি কিনে ব্যয় করেছেন।তার কারনেও আমার আব্বা বা ফুফু কেউ ব্রিটেনে আসার কথা চিন্তা করেনি এবং পিতামহও সুযোগ দেননি।পিতামহ নিজের সন্তানদের না পাঠিয়ে,পাঠিয়েছেন তার সম্পর্কে গরীব এক ভাগিনা এবং আরেক বন্ধুর ছেলেকে তাদের পরিবার ইংল্যান্ড স্হায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত।তারা শুরুতে পিতামহ থাকা অবস্থায় যোগাযোগ রাখলেও ওনার প্রানবিয়োগের পর আর আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখেননি।আর আমাদের পিতামহের সেই আত্নীয় দুইটা কয়েক বছর আগে গত হয়েছেন।অনেক লম্বা কথা বলেছি একটা ছোটো কথা বলতে গিয়ে।তবে বলা দরকার মনে করে বলছি।আর সেইজন্য বলেছিলাম ব্রিটেনের সাথে আমাদের ঐতিহাসিক পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে।আর পিতামহ যদি নিজের সন্তানদের বিলেতে পাঠাতেন তাহলে হয়তো আজ আমার সম্পূর্ন পরিবার এখানে থাকতো।কিন্তু পিতামহ ধর্মীয় অনুশাসন ঔ বাংলাদেশের প্রতি অকৃতিম ভালোবাসার কারনে বিলেতের সব ফেলে ফিরে গেছেন সদ্য বিভক্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে।তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেরও একজন সংঘটক,তার বার্ধক্য তাকে থামাতে পারেনি।এমন একজন পিতামহকে আমি সম্মান করি অন্তর থেকে।আর এরকম সকল পিতামহ এবং পিতা-মাতাকে আমার সম্মান জানাই।এখন আপনাদের যাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে আমার পিতামহ দেশপ্রমিক হলে ব্রিটেনের পক্ষে যুদ্ধ করেছে কেনো? ব্রিটেন আমাদের শোষন করেছে সামরাজ্যবাদের মাধ্যমে।কিন্তু ব্রিটেন আমার পিতামহের জন্মস্থান এবং দেশ।কিন্তু ওনার যুদ্ধের পিছনে যে কারন ছিলো তাহলো,ব্রিটেন তখন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতকে সর্ত দিয়ে ছিলো যে যদি ভারতীয়রা ব্রিটিশদের পক্ষে বিশ্ব যুদ্ধ করে জার্মানির বিপক্ষে তাহলে তারা ভারত ছেড়ে যাবে ভারত বর্ষ স্বাধীনতা পাবে।আর তার পেক্ষিতে দুইটা বিশ্ব যুদ্ধে প্রায় চল্লিশ লক্ষাধিক তৎকালীন ভারতীয়রা বিশ্ব যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন।তাই ইংল্যান্ড পারিবারিক পছন্দের তালিকা শীর্ষে থাকায় আমেরিকান নাগরিক মামার ইসপন্সরে ইংল্যান্ডে আসলাম।আর ঔ একটা পারিবারিক সিদ্ধান্ত আমার জানার রাস্তাকে এতোটুকু খুঁলে দিলো তা পরিবারতো কল্পনা করেনি,এমনকি আমি নিজেও না।

আর এই রাস্তায় হেঁটে আমি জীবনকে খুঁজি এবং বহুভাবে জীবনের তাৎপর্য দেখি।আমি লেখালেখি শুরু করি সেই ২০০৯ থেকে প্রথমে ফেসবুকে এবং পরে বাংলা ব্লগে।আমার লেখা ছিলো ধর্মীয় কট্টরপন্থী মতবাদের সমালোচনা এবং ধর্মীয় উগ্রতায় ইসলাম ধর্মের কি ভূমিকা এসবের সাথে মানবতাবাদ ও মানবধিকার সম্পর্কিত বিষয়সমূহ।যেই ফেসবুকে আমার পারিবারিক কোনো সদস্য ছিলো না ছিলো শুধু কিছু এলাকার বন্ধু,স্কুল,কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু যাদের সিংহভাগই মুসলিম এবং মোটামুটি কট্টরপন্থীও ছিলো আবার উদারপন্থীও ছিলো।এক সময় আমি যখন ইসলামের সমালোচনা এবং নবী মোহাম্মদের বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে বলতে শুরু করলাম তখন আমার পরিচিত এবং এলাকার কট্টরপন্থী মুসলিম ফেসবুক বন্ধুরা মানতে পারলো না।তারা আমার সাথে তাদের পক্ষে যা করা সব করলো কিন্তু দূরত্বের কারনে শারীরিকভাবে ক্ষতি করতে ব্যর্থ হলো।তাই এক পর্যায়ে একজন একজন করে আমাকে ব্লক করে হারিয়ে যেতে লাগলো।এক পর্যায়ে এমনকি উদারপন্থী বন্ধুরাও ত্যাগ করলো, এইজন্য যে তাদের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে শুধু আমার সাথে সামাজিক যোগাযোগ থাকায়।আমি তাদের বিষয়টি বুঝতে পারছি,আমার অতীত আঘাতেই আমাকে তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা দিয়েছে।যদিও তারা কিন্তু আমার মতো ঈশ্বর বা খোঁদায় অবিশ্বাসী না।তবে যারা বিশ্বাস করে না ওটাকে তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ ধরে মিলে-মিশে চলে তাইতো তারা উদারপন্থী।কিন্তু কট্টরপন্থী ধার্মিকের চোখে তারা আমার চেয়ে বেশি পার্থক্য নয়।তাদেরকে মুনাফিক ঘোষনা করেছেন ঔ ধর্মীয় উগ্ররা।সুতারং ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে কিন্তু একজন আগের মুসলিম কি কি বিপত্তিতে পরে তা কম বেশি সব নাস্তিক বা মানবতাবাদী জানেন।কিন্তু আমার মতো এতো ক্ষতির শিকার হয়েছে তার পরিমান খুব বেশি হবে না।

এরপর পরিবার ও কিছু সমমনা বন্ধুদের সাথে দেখা করার জন্য বাংলাদেশে যাই অনেকটা গোপনভাবে।কিন্তু যতোই গোপন করি না কেনো,নাস্তিকের শত্রু হওয়ার জন্য ধর্মের সব চেয়ে অধারাবাহিক লোকটিও ধর্মের জিহাদী আকিদার উগ্রবাদী হয়ে উঠে।তাই টের পেলাম দেশে গিয়ে।আমি এক পুরানো বন্ধুর এলাকায় গিয়ে ইসলামের কট্টরপন্থী ও জঙ্গীর হাতে পরে উত্তম-মধ্যম খেঁয়ে কোনো রকমে সেই যাত্রায় প্রানে বেঁচে আসলাম,কিন্তু সেই আক্রমণ ছিলো সূচনা বাংলাদেশে নাস্তিক বিরোধী ব্লগারের হত্যার বিরুদ্ধে আন্দোলন,কিন্তু আমার বিষয় এতোটুকু প্রচার হয়নি শুধু পারিবারিকভাবে সবাই আমার বিপক্ষে চলে যাওয়ায় আর সমমনা বন্ধুগুলোও নিজের প্রান বাঁচানোর জন্য খোঁলসে ঢুকে যাই।আর কিছু বন্ধু কারাবন্ধী হয়,এক পর্যায়ে সবার সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন হয়।আর এরপর বাংলাদেশে নাস্তিক ব্লগারদের উপর ঘঁটে গেলো তাই এবং ঘটতেছে তা বলার কোনো দরকার আছে কি?আর বাংলাদেশে এখন নাস্তিক ব্লগার হিসেবে সরাসরি কি কেউ রাস্তায় চলতে পারবে?ভেবে দেখুন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই অবস্থা হলো আর বি.এন.পি এবং জামায়েত ইসলাম ক্ষমতায় গেলে কি অবস্থা হবে?অবশ্য এখন আওয়ামী লীগ হচ্চে;আওয়ামী হেফাজতে ইসলামিক মুসলিম লীগ যাহা নব্য আওয়ামী লীগ।আজ এই লেখাটি লিখতে গিয়ে বুকের ভিতর একটা লুকানো কষ্ট আবার ভীষন ব্যথা তুললো,তা হচ্ছে ভালো মানুষ ও মানবতাবাদী আমার ভালো বন্ধু নাজিমউদ্দীন সামাদকে হারানোর কষ্ট।তার মৃত্যুপর দীর্ঘদিন আমার দুসপ্নে ঘুম ভেঙ্গেছে, এবং কেঁটেছে অসংখ্য বিনিদ্র রজনী।আমি মানসিকভাবেও অনেক ভেঙ্গে পরেছি।কারন ও কিন্তু আমাদের মতো নাস্তিক্যবাদ নিয়ে বা ইসলামের সরাসরি তেমন সমালোচনা করে লিখতো না,ও ধর্মে বিশ্বাসী ছিলো না ছিলো মানবতাবাদে বিশ্বাসী।সেই সব সময় বলতো,

দোস্ত সবার উপর মানুষ সত্য,তাহার উপর নাই।
মানব সেবা আমি ব্রত, সেটাই যেনো আমার ধর্ম হয়।

হিউমিনিস্ট: দোস্ত তোর জন্য হলেও লিখে যাবো এইসব বর্বর ইসলামিক উগ্রদের বিরুদ্ধে।
আসুক যতো বাঁধা আর ভয় তোর বন্ধু যুদ্ধ করবো,করছি।
আর সেই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই ধরেছি আমার জীবন বাজী।
তাই আজ লেখে যাচ্ছি শত কষ্ট বুকে চেঁপে,
এবং জীবনের সব হারানোর বেঁধনা নিয়ে গাঁয়ছি আমি মানবতার জ্ঞান,
তোরিই বন্ধু আমি “হিউমিনিষ্ট বাই নেইচ্যার”।

আমার কষ্টের শেষটা না শুনলে কষ্ট মাঁপতে গিয়ে ভূল করে ভালভাবেই মন্তব্য করবেন।তাই আরো বলছি,অনুগ্রহপূর্বক ধৈর্য ধরে পড়ুন।
বাংলাদেশ ভ্রমনের যেই কথাটি বলছিলাম তার জের ধরে,আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক মামলা হলো।আমি দেশের বাহিরে আমার পরিবারও আমার বিপক্ষে চলে গেলো সব শুনে,আমার ইসলাম ত্যাগ মেনে নিতে পারেনি পরিবারের কেউ।তারা ধর্মীয় ব্যাপারে কোনো আপোষ করতে পারবে না।তাই তারা আমাকে বুঝাতে শুরু করলো এবং এইভাবে বেশ একটা লম্বা সময় আমি এবং আমার পরিবারের মধ্য তর্ক-বিতর্ক হতে থাকলো।তারা আমাকে ধর্ম বুঝালে,আমি তাদের ধর্মের ক্ষতিকারক ও মিথ্যা কুসংস্কারগুলো তুলে ধরি তখন তারা আরো ক্ষেপে যেতো।তারা আমাকে বিভিন্ন হুমকি দিতে লাগলো তখন আমার কাছে তারা আর বাহিরের কট্টরপন্থীদের মধ্য পার্থক্য কিছুই দেখলাম না।তখন বুঝলাম ধর্ম মানুষের মনুষ্যত্ব কে কিভাবে হিংস্রত্বে ধাবিত করে। নিজের সন্তান, ভাই-বোন ও আপনজনদের বিভাজিত করে নির্মমভাবে,ঠিক যেইভাবে বিশ্ব মানব পরিবারকে বিভাজিত করে এসে হাজার হাজার বছর ধরে।তাই আমি বিশ্বাস করি একমাত্র মানবতাবোধই জয় করতে পারবে ধর্মীয় হিংস্রতাকে।তাই বলছি,

একজন মানুষ হও আগে,ধার্মিক নয়।
তাহলে,বিশ্ব বাঁচবে হাজার-হাজার বছরের ধর্মীয় বিষ পোড়া থেকে।
পৃথিবী ও তার প্রকৃতি গাঁয়বে ঐক্যতার মহিমান্বিত মানব সংগীত।
এই পৃথিবীর মিঁশে যাবে মানবতাবাদের সংবিধানের সাথে,ধর্ম চলে যাবে জাদুঘরে।
আহ্ এমন ধরনী কি ধর্ম ব্যবসায়ীদের পথে বসাবে?
সত্যি বলছি মানবতাবাদের সংবিধানের তারা আরো বেশি পাবে,তাও কষ্ট ছাড়া।
দেখুন না আজকের পশ্চিমাদের প্রতিষ্ঠিত মানবধিকার আইন ব্যবহার বিশেষ করে,
ইসলামের যেইসব মোল্লারা মানবধিকার আইনের বিরোধিতা করেন তাঁরাই,
ঐসব দেশে গিয়ে সেই একই আইন ব্যবহার করে সুদে আসলে ব্যক্তিগত লাভ তুলছেন।
সত্যকে আমি ভালোবাসি,তাই সত্যের জয়ে জীবন করছি উৎসর্গ
আর তারিই জন্য আমি ভেঙ্গেছি ধর্মের পরাধীনতার শৃঙ্খল,হয়েছি চূক্ষুসূল আপনজনের।
দেশ ত্যাগী,পরিবার ত্যাগী,সমাজ ত্যাগী,আরো ত্যাগী বন্ধুজন
আরে কিসের এতো আফসোস?আমি যে বিশ্ববাদী,মানবতার কন্ঠস্বর।
(হিউমিনিস্ট বাই নেচ্যার)
আমার পৃথিবীর সকল রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন হলো আজ ৪টি বছর, পারিবারিকভাবে আমি বিছিন্ন এবং হারিয়েছি সম্পত্তির উত্তরাধিকারও।কিন্তু হারায়নি মনোবল ও মানবতাবোধ এবং ধর্মীয় অত্যাচারের বিরুদ্ধে লেখার অনুপ্রেরনা।আজ আমার আদ্য-পাদ্যের সংক্ষিপ্ত সমাহার টানছি একটা স্বরচিত কবিতা দিয়ে;

‘আমি হেন মনে বসে ভাবি জগত কি বিচিত্র
তখনি হঠাৎ কর্নে ভেসে আসলো একটি স্বর
আহ্ এই বুঝি তোমার উপলদ্ধি, কতোটুকু দেখেছো?
আর কতোটুকু তার বাকী হিসেব কষে দেখছো কি কবু?
তখন চমকে উঠে দেখি চারপাশে চেনার চেয়ে অচেনাই বেশি।
তখন খুঁজি কেনো এমন হলো দেখি,আর চারদিকে দেখি ধর্মের ভয়ভীতি
আহ্ সবকিছুই ধর্মের কারসাজি।
ভয় ভীতিতে জীবনটাকে কোনঠাসা করে, ধর্ম সব দিয়েছে সংকীর্ণ করে।,
(হিউমিনিস্ট বাই নেচ্যার)

পরোবর্তীতে আবার অসম্পূর্ণ লেখার সমাপ্তি টানার চেষ্টা করবো।.......

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

হিউম্যানিস্ট বা...
হিউম্যানিস্ট বাই নেচার এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 20 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, এপ্রিল 5, 2017 - 4:57পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর