নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মৃত কালপুরুষ
  • নুর নবী দুলাল
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • সামসুল আলম
  • এস. এম. মাহবুব হোসেন
  • ইকরামুজ্জামান
  • রবিউল আলম ডিলার
  • জহুরুল হক
  • নীল দীপ
  • ইব্রাহীম
  • তারেক মোরশেদ
  • বাঙলা ভাষা
  • সন্দীপন বিশ্বাস জিতু

আপনি এখানে

বামাতী ত্যানা!


‘হিন্দুরা এখনো খুব কুসংস্কারগ্রস্ত’ এমন কথা বামপিন্থদের আমি বহুবার বলতে শুনেছি। কথাটাতে সত্যতা আছে তাই এখানে রেসিজম খোঁজার সুযোগে নেই। তাহলে ‘সব জঙ্গিই মুসলমান’ কথাটাতে বামপন্থিরা রেমিজম খুঁজে পায় কেন? মূলত অনলাইনে বামপন্থি এক্টিভিস্টদের এই আলোচনায় ধরা হচ্ছে। অনলাইনে এইসব লাল কমরেডরা রাজনৈতিক অবস্থানহীন নাস্তিকদের ‘ইসলাম বিদ্বেষী’ এমনকি ‘হিন্দু নাস্তিক’ বলে আক্রমন করছে ইসলামী সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নাস্তিকদের লেখা প্রসঙ্গে।

হিন্দু ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা বামপন্থিদের হিন্দুদের জাতপাত ও বর্ণশ্রমকে (যা হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্র সমর্থিত) আঘাত করেই খ্যান্ত হয় না ‘হিন্দুরা এখনো কুসংস্কারগ্রস্ত’ বলতে দ্বিধা করে না। এ কারণে ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের চক্ষুশূল বামপন্থিরা। অপরদিকে মুসলিম ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা বামপন্থিরা মুসলিম শাস্ত্রীয় কোন সমালোচনাই সহজভাবে নিতে পারে না। বর্তমান বিশ্বব্যাপী ইসলামী সন্ত্রাসবাদ এবং এর প্রতি সাধারণ মুসলমানদের সহানুভূতির বাস্তবতায় যদি বলা হয় জঙ্গিবাদের প্রতি মুসলমানদের গোপন সমর্থন আছে তাহলে সেটা কেন ‘মুসলিম বিদ্বেষ’ হবে? ‘হিন্দুরা কুসংস্কারগ্রস্ত’ বলার সময় তো এইসব বামপন্থিদের কাছে সেটা ‘হিন্দু বিদ্বেষী’ মনে হলো না? আশ্চর্য যে এদের সম্পর্কে ইসলামপন্থিদের কোন টেনশান নাই যেটা ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের বামপন্থিরা অলটাইম করে রাখছে। বাংলাদেশী ‘মহাম্মদী’ কমরেডরা সে জায়গায় নাস্তিকদের বেছে নিয়েছে!... ডালমে কুছ কালা হ্যায়?

‘সব জঙ্গিই মুসলমান’ এটা বিদ্বেষ নয়, এটা রোগ সানাক্তকরণের সঠিক রাস্তা। কেন অতিমাত্রায় ইসলামে আসক্তরাই চূড়ান্ত স্তরে গিয়ে জঙ্গিবাদে জড়ায় এই প্রশ্ন ধরে এগুলোই জিহাদের তাত্ত্বিক চর্চার জায়গাটা খোলসা হবে। কিন্তু মুসলিম ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা লাল ঝান্ডু বামগুলো কি স্বধর্মীয় পক্ষপাতিত্বের কারণেই এই রোগ সারানোয় অনাগ্রহী? ইসলাম আর সব ধর্মের মতই এভারেজ মাত্রায় সমালোচিত হবে। জিহাদ খিলাফতের মত দর্শন যে ইসলামকে অনন্যতা দিয়েছে এটা এইসব গোলাম মুহাম্মদ টাইপের আরবী নামের কমরেডরা গোপন করতে চায়…।

মূলত হিন্দু ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা বামপন্থিদের ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং মুসলিম ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা বামদের ইসলামের প্রতি এক ধরণের পক্ষালম্বণই তাদেরকে ইসলামী সন্ত্রাসের প্রতি বিকৃত ধারণা করে রেখেছে। মুসলিম ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা বামদের অভিযোগ সব ধর্মেই জঙ্গি আছে। আইএস তালেবান আল কায়দার সঙ্গে বিজেপি বজরঙ্গি সংঘ পরিবার শিবসেনার কোন তফাত নেই। আগেই বলেছি তারা অবলীলায় ‘হিন্দুরা খুব কুসংস্কারচ্ছন্ন’ বলে ফেললেও সেটা তাদের কাছে ‘হিন্দু বিদ্বেষ’ নয়। এরাই ‘সব মুসলমানই জঙ্গি’ কথাটায় আবার খুব রিয়েক্ট করে! এটা তাদের দ্বিচারিতা। এদেরই একজন আমাকে অভিযুক্ত করেছে আমি নাকি সব মুসলমানকে জঙ্গি মনে করি!

এটা কথার চরম বিকৃতি। আমি সব সময়ই লিখেছি একজন ইসলামে বিশ্বাসী সাধারণ মুসলমান কখনই অস্বীকার করবে না পৃথিবীতে আল্লার কালাম প্রতিষ্ঠিত হোক। আল্লার রসূল যা চেয়েছেন সে মোতাবেক তাদের দেশ চলুক। এই চাওয়াটা একজন মুসলমানকে সশস্ত্র জঙ্গি করে তোলে না। চরমপন্থা সবার কাছে পছন্দনীয় নয়। অনেকে মনে করে মেরেকেটে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা আল্লা বলেননি। কিন্তু তাই বলে আল্লা আর রসূলের বিধান অনুযায়ী পৃথিবী চলুক সেটা তিনি চান না তা নয়। চান তবে তালেবান আইএস পন্থায় নয়। হয়ত আওয়ামী লীগের মত দলের হাতে অতি সহনীয় মাত্রায়…। তাহলে কি দাঁড়াল? সব ধার্মীক মুসলমান আল্লা ও তার রাসূলের বিধান তাদের জীবনে ও রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হোক চায়। কিন্তু তাদের মাত্র ১ ভাগই আল কায়দা আনসার বাংলায় যোগ দেয় বাকী ৯৯ ভাগই আশায় থাকে আল্লাতালা মানুষকে যে বিধান দিয়েছেন তা যেন সমাজে পালিত হয়। এই ৯৯ ভাগ ‘অজঙ্গি’ সাধারণ ধার্মীক মুসলমানের চাওয়া পুরণ হলে একটা দেশের চিত্র কেমন হতে পারে? অবশ্যই দেশটিকে ‘মুসলিম কান্ট্রি’ বলে ডাকা হবে। এমন বিশ্বাসী মুসলমান পাওয়া যাবে যে ‘মুসলিম কান্ট্রি’ এরকম পরিচয়ে এলার্জি বোধ করে? পাওয়া যাবে না। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে অমুক চলবে না তমুক চলবে না- এগুলো সাধারণ ‘অজঙ্গি’ ইসলাম প্রেমী মুসলমানদের বুলি। এরকম সত্য বলার জন্য আমার আরো সামলোচনা হোক পরোয়ারা করি না…।

একই জিনিস একজন ধার্মীক হিন্দুর বেলাতেও সত্য হতো যদি তাদের ধর্মে কোন রাষ্ট্রীয় কঠামোর ব্যাপার থাকত। একজন খ্রিস্টান বা বৌদ্ধও সমানভাবে ধর্মীয় রাষ্ট্র চাইত যদি তাদের ধর্মীয় রাষ্ট্রের কনসেপ্ট শাস্ত্রীয়ভাবে অনুমোদিত হতো। তারপরও ভারতে ‘রামরাজ্য’ কায়েম করার ধোয়া তুলে যারা রাজনীতি করে তাদের এ সংক্রান্ত শাস্ত্রীয় রেফারেন্স নেই। রাম হিন্দুদের একজন ভগবান হতে পারে কিন্তু সব হিন্দুর কাছে প্রধান কেউ না। মুসলমান মাত্রই তাদের নবী মুহাম্মদের একনিষ্ঠ ফলোয়ার, তার বাণী তার নির্দেশ ধরে চললেও হিন্দুদের একক কোন অবতার নেই। কাজেই ‘রাম রাজত্ব’ সব হিন্দুকে অখন্ড ধর্মীয় আবেগে একত্রিত করতে ব্যর্থ। অখন্ড ভারতে মুসলমানদের খিলাফত আন্দোলনে যোগদানের কথা এক্ষেত্রে বলা যায়। এর মূল কারণই ছিলো ইসলামী বাধ্যবাধকতা। ইসলাম একজন খলিফার অধিনে মুসলমানদের জড়ো হয়ে দারুল হার্ব (অমুসলিম বিশ্বের) বিরুদ্ধে লড়াই করতে বলেছে। ‘মুসলিম উম্মাহ’ যদিও এই ধারণার জন্ম হয়েছে ইহুদী ধর্মের ইহুদী পরিচয়ের আদলে। ইহুদীও ইসলামের মতই সমান প্রতিক্রিয়াশীল একটা ধর্ম। ধর্ম বিশ্বাসই একটি জাতির সংজ্ঞা এরকম অবৈজ্ঞানিক ধারণা ইহুদীরা আজো বিশ্বাস করে। ইসলাম ধর্ম ৯০ ভাগই ইহুদীদের থেকে নকল করা। তার মধ্যে ইহুদী আদলে ‘মুসলিম উম্মাহ’ অন্যতম। বামদের ইসলাম নিয়ে লেখাপড়া শুরু করা উচিত। না হলে ইসলাম আর অন্যান্য ধর্মকে তারা তাদের আবালীয় দাড়িপাল্লায় মাপা অব্যাহত রেখেই যাবে।

অনলাইনে বামরা আমাকে ইতিহাস বিকৃতকারী বলেও অভিযুক্ত করেছিলো। আমি লিখেছিলাম, ইসলামী শাস্ত্র অনুসারে কেবলমাত্র আহলে কিতাবী অর্থ্যাৎ যাদের কিতাব ও নবী আছে তারাই মুসলমানদের দখল করা দেশে জিজিয়া কর দিয়ে বাঁচতে পারবে যেমন ইহুদী খ্রিস্টানরা। কিন্তু যেসব ধর্মে নবী এবং কিতাব নেই তারা এই সুযোগ পাবে না। তাদের সামনে একটাই রাস্তা খোলা- হয় ইসলাম গ্রহণ কর নয়ত কল্লাটা তলোয়ারের নিচে দাও…। এটা পড়ে বামপন্থিরা লিখল, আমি মিথ্যা কথা লিখি কারণ এমনটা ইসলাম বলে থাকলে ভারতে মুসলিম শাসনে একজনও হিন্দু বেঁচে থাকত না… ইত্যাদি। ভারতীয় হিন্দু ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা বামরা চুপিচুপি জাকির নায়েকের ভিডিও দেখে থাকে হয়ত। এ ধরণের যুক্তি জাকির নায়েক অতি চাতুরি করে পরিবেশনা করে মানুষকে বোকা বানায় কারণ সাধারণ মানুষ ইতিহাস পড়ে না বা অনুসন্ধান করে দেখে না।

ভারত কয়েকশ বছর মুসলিম শাসনে থাকার পরও ভারতের ৮০ ভাগ মানুষ অমুসলিম। এখানে মুসলিম শাসকদের জিজিয়ার লোভ ছাড়া অন্য কোন মহানুভবতা নেই। মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু দখল করার পর হাজার হাজার হিন্দু নারী শিশুকে দাস হিসেবে আরবে চালান ও গণহারে সক্ষম পুরুষদের হত্যা করার পর লোভনীয় জিজিয়া কর কাদের কাছ থেকে আদায় হবে সমস্ত বিধর্মীকে হত্যা করে ফেললে- এই প্রশ্নের মুখে হিন্দুদের চড়া মূল্যে জিজিয়া কর বাবদ বাঁচিয়ে রাখার সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো। শাসকদের সঙ্গে আসা ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ যেমন সুফি দরবেশরা জিজিয়া করের চেয়ে হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করায় আগ্রহী ছিলো। কোন শাসক এতে অনেচ্ছুক হলে তারা চিঠি লিখে শাসকদের উচ্চপদস্তদের কাছে অভিযোগ জানাতেন। সুফি খাজা নিজামউদ্দিন আউলিয়া, খাজা নঈমুদ্দিন চিশতি, হযত শাহজালাল নিজেরাই জিহাদ চালিয়ে কাফেরদের বিরুদ্ধে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই রচনা যেহেতু সেসব বিস্তৃত করে লেখার অবকাশ নেই তাই বিরত থাকতে হলো। কথা হচ্ছে ইসলামী শাস্ত্র শাসক মুসলমান কতটুকু পালন করলেন তা দিয়ে ইসলামে কি লেখা আছে আন্দাজ করা বামদের ইসলাম সম্পর্কে চরম অজ্ঞতাই প্রমাণ করে।

খালি ইসলাম ধর্ম নিয়ে কেন নাস্তিকরা লেখালেখি করে তাদের চোখে কি অন্য ধর্ম পড়ে না? বাংলাদেশী প্রবাসী বামাতীদের এই কান্নাকাটির কোন বাস্তবতা নেই। এমন না হিন্দু ধর্মের সমালোচনা করে কোন লেখা নাস্তিকরা লেখেনি। আমিও লিখেছি কিন্তু পরিমাণে কম। সংগত কারণেই সেটা হয়েছে। একটা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মই অন্যান্য ধর্মালম্বীদের উপর নিপীড়ন বৈষম্য চালায় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দুইভাবে্ই। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্ম ইসলাম এবং সারা বিশ্বে জিহাদের ডাক দিয়ে ইসলামী সন্ত্রাসবাদ শুরু হবার পর স্বাভাবিকভাবে অনেক বেশি করে ইসলাম নিয়ে লেখালেখি শুরু হয়েছে- আমি তো তার বাইরে নই। হিন্দুদের জাতপাত শ্রেণী বৈষম্য এখনো রয়ে গেছে। এসব নিয়ে লেখা দরকার। লিখছে যে না তা তো নয়। তবে প্রতি বছর দূর্গা পুজার সময় এই পুজা নিয়ে তীব্র আঘাত করার সময়ই যখন একের পর এক মন্ডব ভাংচুরের খবর আসে, যখন দেখি সরকার এসবকে গ্রাহ্যই করছে না তখন আমার ঐ ধরণের লেখাটা কতখানি প্রাসঙ্গিক থাকে? হিন্দু ধর্ম নিয়ে কেন নাস্তিকরা লেখে না- প্রবাসী বামাতীদের এই কান্নাকাটির জবাবে বলা যায়, ইউটিউবে কয়েক লক্ষ ওয়াজ আছে হিন্দুদের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে কট্টক্ষা করে দেয়া- ওসব দেখে আপনারা দারুণ পুলক অনুভব করতে পারেন। এসব শেয়ার করলেও বামাতীদের কেউ বলবে না আপনি ‘হিন্দু বিদ্বেষী’!

হিন্দুদের জাতপাত আজকের যুগে ঘরের দরজার ভেঙ্গে প্রবেশ করতে পারবে না। শহুরে জীবনে কোন ধর্মান্ধ হিন্দুর পক্ষেও কাউকে ছুৎমার্গের দোহাই দিয়ে দূর দূর করতে পারবে না। গ্রামাঞ্চলে হিন্দুদের মধ্যে গোড়ামী আজো ভয়ানক। তবে ভারতে এসব কোন বড় বিপদের কথা নয়, জেগে উঠা হিন্দুত্ববাদই ভারতের মধ্যে থাকা নানা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে অসহিষ্ণু আর অস্থিতিশীল করে তুলবে। ভারতের সেক্যুলার অসাম্প্রদায়িক শক্তি এসবকে মোকাবেলা করতে গিয়ে জিহাদী খেলাফতীদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে সমস্যাটা আরো জটিল করে ফেলছেন। কারণ বহু শিক্ষিত অধার্মীক হিন্দু তাদের ভবিষ্যত ভারতে ইসলামী মনোভাপন্ন জিহাদীদের রমরমা আশংকা করে হিন্দুত্ববাদীদের প্রতি তাদের ঝুকে পড়াটা দমন করতে পারেনি। এসব ডিটেইলস লেখাই ভারতীয় বামদের (বাংলা ভাষাভাষী অনলাইন ফেইসবুকার) কাছে আমি হিন্দুত্ববাদীদের প্রতি সহানুভূতিশীল!

এবার ধর্মীয় রাজনীতি নিয়ে বলি, বিজেপি আর জামাত ইসলামী বা খেলাফত মজলিস যে এক জিনিস না সেই সত্যটা যতই অপছন্দনীয় হোক বলতে তো হবেই। বিজেপিতে মুসলিম খ্রিস্টান ইহুদী বৌদ্ধ সদস্য গ্রহণ করতে পারে। জামাত বা ইসলামী ঐক্যজোট লোক দেখানোর জন্যও কোন অমুসলিমকে পার্টি সদস্য করতে পারবে না ইসলামী বাধ্যবাধকতার জন্য। এপিজে আবুল কালামকে প্রেসিডেন্ট যদি বিজেপির লোক দেখানো রাজনীতি হয় সেটা জামাত বা চরমোনাইয়ের পাটি লোক দেখানোর জন্যও পারবে না কারণ ইসলাম কোন অমুসলিমকে রাষ্ট্র প্রধান তো দূরের কথা মুসলমানদের মত সাধারণ সমমানের নাগরিকও মনে না করার পরিস্কার বিধিনিষেধ করা আছে। হিন্দু ধর্মে সামাজ্যবাদী রাজনীতি নেই। হিন্দ রাজারা তাদের শাসনে হিন্দুত্ব প্রদর্শন বা ব্রাহ্মণ্যবাদকে প্রয়োগ করেছেন কিন্তু তার শাস্ত্রীয় আকাঙ্খার বাস্তবায়ন ছিলো না। ইসলামে রাষ্ট্র ব্যবস্থা, অমুসলমানদের করজোড়ে জিজিয়া দিয়ে মুসলমানদের দয়াভিক্ষায় জীবনযাপনের কথা স্পষ্ট করে বলা আছে। তার মানে কেবল ইসলাম ধর্মেই সন্ত্রাসী আছে আর বাকী সব ধর্মে সন্ত্রাসী নেই- এরকম সরলীকরণ করে বামরা আমার লেখাকে বিভ্রান্ত করছে। বিগত ব্লগ জীবন থেকে আজকের ফেইসবুকে আমি শুধু লিখেছি অন্যান্য ধর্মের রাজনীতি আর মৌলবাদকে অতি সহজেই মোকাবেলা করা যায় কারণ ওগুলো ঐ ধর্মের কোন অলঙ্ঘিনীয় শাস্ত্র দ্বারা সমর্থিত নয়। বৌদ্ধদের ধর্মীয় সন্ত্রাসী দল আছে। এইসব দল বিশেষ কোন বৌদ্ধ মহোন্ত মহারাজের মতবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত। এইসব সন্ত্রাসীরা কখনই গৌতম বুদ্ধের একটি বাণী দিয়ে হত্যাকে বৈধ করতে পারেনি। অথচ নাস্তিক এবং ভিন্ন মতালম্বী ধার্মীকদের হত্যাকে সহি হাদিস দ্বারা জায়েজ করা যায় যা সব সময়ই জিহাদীরা করে এসেছে।

হিন্দু মৌলবাদী দলগুলো কেবল ভারতকেন্দ্রিক এবং তাদের রাজনীতি পাকিস্তান কেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদ থেকে উৎসারিত। ভারতীয় মুসলমানদের দেশপ্রেম নিয়ে কট্টাক্ষ করা, পাকিস্তানের প্রতি আস্থাশীল প্রমাণ করার মত জাতীয়তাবাদ, পাকিস্তান ভারতে ধ্বংস করে ফেলবে যদি ভারতের হিন্দুরা তাদের হিন্দত্ব পরিচয়কে ভুলে যায়- ইত্যাদি উগ্র জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী দলগুলো। শিবসেনা একবার বলল, মুম্বাইতে কেবল মারাঠিরাই থাকবে- হিন্দী ভাষী বহিরাগতরা নয়.. ইত্যাদি। এটাও তো পুরোপুরি জাতীয়তাবাদী অবস্থান। এরকম অবস্থান আমাদের বাংলাদেশী সংস্কৃতি সাহিত্যজীবীদের মধ্যে দেখা যায় যা এখানে কোন নিন্দনীয় নয়! এসব বলার অর্থ এটা নয় হিন্দুত্ববাদ খুব ভালো জিনিস। মৌলবাদী সে যে ধর্মেরই হোক তা সভ্যতার জন্য মানুষের অগ্রগতির জন্য হুমকি স্বরুপ। এখানে যেটা লক্ষণীয় ইসলাম সরাসরি নাম ধরে হিন্দু বৌদ্ধ (পৌত্তলিক) ইহুদী খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই করে যেতে নির্দেশ দেয়। আল্লার শাসন প্রতিষ্ঠা করে অবিশ্বাসী অমুসলমানদের হত্যা বা দাস বানিয়ে লাঞ্ছিত করতে ইসলাম নির্দেশ দেয়। অন্য ধর্মগুলো যেখানে ব্যক্তি ও পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে ইসলাম সেখানে সাম্রাজ্যবাদ, উনিবেশ চালানোর আহ্বান জানায়। কাজেই ইসলামী মৌলবাদ অন্যসব মৌলবাদ থেকেও আলাদা হবেই। তাদের মোকাবেলাও পৃথক হতে বাধ্য…।

বাংলাদেশী মুসলিম ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা বাম ও নাস্তিকদের কেউ কেউ স্বধর্মীয় পক্ষপাতিত্বে ভুগেন। এ জন্য তারা আমার ধর্মীয় ব্যাক গ্রাউন্ড জানার চেষ্টা করে। তারা আমার ‘ইসলাম বিদ্বেষ’ দেখে (হা হা হা…) বিস্মিত হয়ে পড়ে…।

Comments

রনি দে এর ছবি
 

লেখাটা ফুইসবুকে লিংক হিসেবে না দিয়ে নোট হিসেবে অথবা সরাসরি প্রকাশ করুন। লেখাটিতে অনেক যৌক্তিক বিষয় এসেছে এবং এসেছে আমাদের বামপন্থী রাজনীতির দৈন্যতা। ধন্যবাদ লেখককে।

 
ঋষি  এর ছবি
 

হিন্দু জাতীয়তাবাদ শুধু মাত্র বিদেশী ধর্মের উপর আগ্রাসী। বিদেশী ধর্ম বলতে খ্রিষ্টান, ইহুদী, ইসলাম এবং জোরাষ্টিয়ান বোঝায়। কারন বিদেশী ধর্ম ইসলাম ভারতে এসে এখানকার মানুষকে ২ ভাগে ভাগ করে নিয়েছে এবং ১ টি নতুন দেশের জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় হয়েও তারা আলাদা বলে নিজেদের মনে করে এই কারনে আর কিছুই না। একি দেশের ভেতরে থেকে আলাদা আইন এবং সংরক্ষণ করা জনপ্রতিনিধি হতে চাইতো এই কারনে। মুসলিম লিগ মনে করতো ভারতে তারা কোনদিন ক্ষমতায় আসতে পারবে না, কোনদিন কংগ্রেসের মতো জাতীয় দল হতে পারবে না বরং আঞ্চলিক দল হয়ে থাকা লাগবে। কংগ্রেসের আচারন ও তাদের প্রতি ভাল ছিল না। বামেরা ইরানে তাদের অবস্থা দেখেও আজো কিছুই শিখলো না। সৌদিতে জীবনে তারা ঢুকতেই পারবে না। ভারতে থেকে তাও রাজনীতি করার সুযোগ পাবে।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সুষুপ্ত পাঠক
সুষুপ্ত পাঠক এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 4 ঘন্টা ago
Joined: শনিবার, ডিসেম্বর 21, 2013 - 3:33অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর