নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • উদয় খান

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

প্রশ্ন, উত্তর ও প্রশ্ন


প্রশ্ন : বর্তমানে নারীদেরকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনি সুবিধা দেওয়া হয়, এতে কি নারীপুরুষের মাঝে সমাধিকার প্রতিষ্ঠা হয় বা নারীপুরুষের মাঝে সমতা রক্ষা করা হয় (এভাবে নারীদেরকে কি বিভিন্ন সুযোগসুবিধা দেওয়া উচিত)?
উত্তর : আমার পরিচিত অনেকেই উপরোল্লেখিত প্রশ্ন অনেকসময় করে থাকেন; তাদের ধারণা হচ্ছে এই যে আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে নারীদেরকে কোটা, উপবৃত্তি, ছুটি বা বিশেষকিছু দিয়ে শৈক্ষিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সুবিধা দেই; সেই সুবিধাসমূহ দেওয়া কি যৌক্তিক? সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে তো নারী ও পুরুষকে সমান অধিকার দিতে হবে; অর্থাৎ, পুরুষ যা যা সুবিধা পাবে, নারীও তা তা সুবিধা পাবে — সেই সুবিধাসমূহ হতে পারে প্রাতিষ্ঠানিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, ইত্যাদি। সমঅধিকার বা সমতা মানে তো বৈষম্য করা না; যদি তাই না-হয়ে থাকে, তাহলে তো নারী ও পুরুষের সর্বক্ষেত্রে সমান সুযোগসুবিধা পাওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে হবে।

যারা এরকম ধারণা পোষণ ও চর্চা করে থাকেন, তাদেরকে সম্মানের সহিত বলছি যে আপনাদের ধারণাটি বেঠিক, অযৌক্তিক, খণ্ডিত ও অগ্রহণযোগ্য। কেন আমি এই মন্তব্য করলাম তার উত্তর দিচ্ছি :

রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে অর্থনীতি, রাজনীতি, প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা — এসব আলাদা আলাদাভাবে অবস্থান করে না; প্রকৃতঅর্থে এসব আসলে একে অপরের সাথে খুবই সম্পর্কযুক্ত; তবুও রাষ্ট্র নারীদেরকে বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে যাতে তারা শিক্ষিত হয়। আর এই শিক্ষিত হওয়া মানে শুধু খাতায়কলমে নামদস্তগত লেখা না। এই শিক্ষিত হওয়া মানে তারা অর্থনৈতিক উৎপাদনের সাথে যুক্ত হবে, আর অর্থনৈতিক উৎপাদন বা কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হওয়া মানে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন। শিক্ষিত হওয়া মানেই তারা বিয়ে, সন্তান জন্মদান, চাকুরিতে যোগদান, ডিভোর্স, ইত্যাদি জীবনঘনিষ্ঠ ব্যাপারে সচেতন হতে পারবে। আর এসব বিষয়ে সচেতন মানেই তাকে তার অধিকার থেকে কেউই বঞ্চিত করতে পারবে না, কেউই তার প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না, কেউই তাকে নিপীড়ন করতে পারবে না; অর্থাৎ, সে রাজনৈতিকভাবে অনেক সচেতন হবে এবং তাকে প্রতারণা করা যাবে না। শিক্ষিত হওয়া মানেই সে তার অর্থনৈতিক, জৈবিক, রাজনৈতিক, সামাজিক কাজগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারবে; ফলশ্রুতিতে তার সামাজিক মর্যাদা অনেক বেড়ে যাবে, সে সমাজে স্বমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই, শিক্ষা ও শিক্ষিত করাকে বহুমাত্রিকভাবে দেখতে হবে।

একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অবশ্যই বহুপ্রতিষ্ঠান থাকতে হবে; এসব বহুপ্রতিষ্ঠান ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা অসম্ভব, উদাহরণ — বিদ্যালয়, অফিস, ব্যাংক, মন্ত্রণালয়, ইত্যাদি। আর এসব প্রতিষ্ঠান সবসময়ই পুরুষতান্ত্রিক বা পুরুষকেন্দ্রিক/ male centered or male oriented. অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠানের সবকিছু করা হয়ে থাকে পুরুষকে কেন্দ্রে রেখে, পুরুষ এসব পরিচালনা করে, নিয়ন্ত্রণ করে; কাজেই এসব প্রতিষ্ঠান সবসময় এমন পলিসি, কার্যক্রম গ্রহণ করে যাতে তা পুরুষের উপকারে আসে, তার কল্যাণে আসে, তার কার্যক্রম ও চিন্তাভাবনাকে বৈধতা প্রদান করে, তাকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রদান করে। আর এই কারণে নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানকে বলা হয় Gendered institutions। প্রাচীন জ্ঞাত সভ্যতাসমূহ থেকে অদ্যাবধি সময় পর্যন্ত সব প্রতিষ্ঠানই gendered institutions এবং এসবের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে ছিল পুরুষ; অর্থাৎ পুরুষকে কেন্দ্র রেখে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতো ও হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি গ্রিক সভ্যতার কথা; সেখানে গণতন্ত্র ও অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল; কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে এই সভ্যতা সব পুরুষের অবদানকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে, নারী সেখানে অনুপস্থিত, নারী সেখানে বিলুপ্ত। সক্রেতিস, প্ল্যাতো, অ্যারিস্ততল — যাদের কথা-ই বলি না কেনো তারা সবাই পুরুষ।

এ’সব প্রতিষ্ঠানসমূহ তাই নিরপেক্ষ নয়, পক্ষপাতমূলক আচরণ করে; তাই তারা নারীর উপর পুরুষের নিপীড়ন-অন্যায়-অবদমন-অত্যাচার-শোষণ অর্থাৎ যাবতীয় কর্মকাণ্ডকে বিভিন্ন উপায়ে বৈধতা প্রদান করে। নারীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরুষের যাবতীয় কার্যক্রমকে বৈধতা প্রদান করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠান নাটক-গল্প-সিনেমা বানায়, বইপুস্তক রচনা করে, দর্শন প্রচার করে, আর্দশ বা মডেল নির্মাণ করে, ইত্যাদি বিভিন্নভাবে পুরুষ নারীকে নিজের আওতাধীন করে রাখে। একে বলা যায় patriarchal hegemony বা পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যবাদ। এসব প্রতিষ্ঠান নারীর ওপর সবসময় patriarchal hegemony তৈরি করে তাকে আবদ্ধ করে রাখে।

প্রতিষ্ঠানগুলো যে gender-biased এর কারণ হচ্ছে প্রতিষ্ঠান সমাজকে ভিত্তি করে তার কার্যক্রম পরিচালনা করে; আর পৃথিবীর অধিকাংশ সমাজ-ই পুরুষতান্ত্রিক। আর সমাজ পুরুষতন্ত্রকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে সেক্সের ওপর ভিত্তি করে কাজকে নির্ধারণ করা, অর্থাৎ sexual division of labor, মানে সেক্স-ই নির্ধারণ করে দিবে কে কি কাজ করবে, পুরুষ কি কাজ করবে, নারী কি কাজ করবে। হালের নারীবাদী পণ্ডিতরা একে বলেন sexual division of labor নয়, division of labor on the basis of gender, অর্থাৎ, বায়োলজিক্যাল বৈশিষ্ট্যাবলী নয়, সামাজিক বৈশিষ্ট্যাবলী নির্ধারণ করে দিবে নারীর কাজ ও পুরুষের কাজ কি হবে। যাই হউক, এই তত্ত্ব মতে, সমাজ যেহেতু মনে করে নারী দুর্বল, তাই তাকে যেসব কাজে শক্তি কম খরচ হয় সেগুলো করতে হবে; আর পুরুষ যেহেতু সবল, সেহেতু তাকে শক্তিশালী কাজগুলো করতে হবে। নারী দুর্বল বিধায় সে ঘরের কাজ করবে, কারণ এতে শক্তি কম খরচ হয়; পুরুষ সবল বিধায় সে বাহিরের কাজ করবে, কারণ এতে শক্তি বেশি খরচ হয় যা নারী পারে না; আর এই মতবাদকে বলা হয় the doctrine of separate spheres; একটি নারীর জন্য (Home), অপরটি পুরুষের জন্য (Work); অর্থাৎ নারী বাসায় কাজ করবে, পুরুষ ঘরের বাহিরে কাজ করবে। ঠিক এই মতবাদগুলি-ই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানসমূহে চর্চিত হয় বা হতো, যেহেতু এগুলো সমাজেও চর্চিত হয়; আর এই কারণে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয় gendered unequal institutions; অর্থাৎ, এই প্রতিষ্ঠানগুলো নারীপুরুষ সবার জন্য না, এসব পুরুষের জন্য, পুরুষ-ই এখান থেকে সুবিধা পায়। যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক কাজ বাহিরের কাজ, আর এসব কাজে অনেকবেশি বহুধরণের পরিশ্রম করতে হয়; তাই এসব কাজ নারীদের জন্য নয়, এসব কাজ পুরুষদের জন্য, নারীর কাজ হচ্ছে গৃহে; অর্থাৎ সংসার করা, বাচ্চা প্রতিপালন করা, ঘর দেখাশোনা করা, রান্নাবান্না করা; মানে হচ্ছে নারীর কাজ মূলত care and service oriented, production oriented না। এই কারণে তাদের কাজকে বলা হয় household chores/ Reproductive, caring and serving household activities। তাই এসব প্রতিষ্ঠান দিয়ে আসলে নারী ও পুরুষের মাঝে, মানে gender inequality বাড়ে, কমে না; এই প্রতিষ্ঠানগুলো নারী ও পুরুষের মাঝে বহুবৈষম্য (multiple inequalities) কে বৈধতা দেয় এবং বৈষম্যসমূহকে টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে বেশি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করে।

অধুনাসময়ে উন্নয়ন বলতে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝায় না। পূর্বে উন্নয়নকে পরিমাপ করা হতো শুধুমাত্র আয় দিয়ে, মানে জিডিপি দিয়ে; কিন্তু দেখা গেলো যে উন্নয়ন কোনো একমাত্রিক বিষয় নয়; আয়ের উন্নয়নের সাথে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নও অপরিহার্য inclusive development’র জন্য, তাই আসল মানব উন্নয়ন সূচক (Human Development Index)। আর এখন বিবেচনা করা হয়, শুধুমাত্র আয়, স্বা স্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন দিয়ে inclusive development করা যায় না, কারণ এক্ষেত্রে তো পুরুষের এই তিনক্ষেত্রে খুব উন্নয়ন হতে পারে, কিন্তু নারী এসব ক্ষেত্রে অবহেলিত থাকতে পারে, আর সমাজে নারী প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি; তাহলে টেকসই উন্নয়নের জন্য নারী ও পুরুষের, মানে উভয়েরই এই তিনক্ষেত্রেই উন্নয়ন দরকার; আর এ’জন্য এখন বিবেচনা করা হয় Gender Development Index’কে।

এখন একটু পরিসংখ্যানের দিকে তাকাই, বোঝা ও প্রাসঙ্গিকতার সুবিধার জন্য আমি শুধু বাংলাদেশের পরিসংখ্যানই এখানে উল্লেখ করবো। আর এক্ষেত্রে সাহায্য নেবো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে প্রকাশিত Quarterly Labour Force Survey Bangladesh 2015-2016 থেকে। এই ডকুমেন্ট অনুযায়ী,
• শিল্পকারখানায় ম্যানেজার ও প্রশাসনিক পদে নারী আছেন ২০ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সার্ভিস সেক্টরে আছেন ১০ দশমিক ৭ শতাংশ; অর্থাৎ বাকী ৮৯ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ।
• Chief executives, senior officials হিসেবে নারী আছেন ১২ দশমিক ৯ শতাংশ; অর্থাৎ, বাকী ৮৭ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ।
• পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে unemployment rate যথাক্রমে ৩ ও ৬ দশমিক ৮; অর্থাৎ নারী বেকারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি
• ২০১৫-২০১৬ সালে labor force এ পুরুষের সংখ্যা ৪৩ দশমিক ১ মিলিয়ন, যেখানে নারীর সংখ্যা ১৯ দশমিক ১ মিলিয়ন।
• এইসময়ে employed population পুরুষ ৪১ দশমিক ৮ মিলিয়ন, নারী ১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন
• কর্মে নিয়োজিত জনসংখ্যার মাঝে পুরুষের সাক্ষরতার হার ৬৬ দশমিক ৫, নারীর ৬০ দশমিক ৫
• কর্মে নিয়োজিত জনসংখ্যার মাঝে উচ্চশিক্ষিত পুরুষ ৬ দশমিক ১ শতাংশ, নারী ৩ দশমিক ৫ শতাংশ; অর্থাৎ উচ্চশিক্ষিত নারীর তুলনায় পুরুষ প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি

এবার আসি, আরো কিছু সাধারণ পরিসংখ্যানে। উদাহরণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বেঁছে নেওয়া যেতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ৯৬ বছর আগে; এই ৯৬ বছরে প্রায় ২৮ জন ভিসি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন, যাদের মধ্যে কোনো নারী ভিসি নাই; উপরন্তু, এখানে মোট শিক্ষকের মাত্র ৩১ দশমিক ১ শতাংশ নারী, বাকী ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ, উল্লেখ্য যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চালু হবার প্রথম দিকে কোনো নারী শিক্ষিকা ছিলেন না^(6)।

এখন আপনারা নারী ও পুরুষের সমতা, সমঅধিকারের কথা বলছেন; তাহলে অতীতে নারী ও পুরুষের মাঝে এতো বৈষম্য কেনো? এই বৈষম্যের দায়ভার কে নিবে? কি জন্য বা কাদের জন্য এই বৈষ্যমের বিশাল ব্যবধান তৈরি হলো? আপনি যদি বলেন “এখন সমান সমান অধিকার ও সুযোগ দাও”; কিন্তু বাস্তবে নারী ও পুরুষ তো একই জায়গায় অবস্থান করছে না। ১০০ মিটার রেসে পুরুষ ৭০ মিটার এগিয়ে, আর নারী ৩০ মিটার; তাহলে এই রেসে নারী জিতবে কিভাবে? প্রতিযোগিতায় নামার শর্ত হচ্ছে প্রতিযোগীরা একই অবস্থায় অবস্থান করতে হবে, একই সামর্থ থাকতে হবে; সেখানে পুরুষ আগেভাগেই শক্তপোক্ত অবস্থানে আছেন, অনেক এগিয়ে আছেন, আর নারী তাদের থেকে অনেক পিছিয়ে আছেন। তাহলে দুই অসম প্রতিযোগীর মাঝে প্রতিযোগিতা হয় কিভাবে? প্রতিযোগিতা ন্যায়, সুষ্ঠু ও সঠিক হতে হলে নারী ও পুরুষের অবস্থান একই হতে হবে, তাদের সামর্থও একই থাকতে হবে।

আপনি হাজার হাজার বছর ধরে নারীকে আবদ্ধ করে রেখেছেন, তাকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন, নিপীড়ন-অত্যাচার করেছেন, তার সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিয়েছেন, তার সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন; আর এখন কোথাও ৫ শতাংশ, ১০ শতাংশ, ১৫ শতাংশ কোটা বা সুবিধা দিলেই আপনি “সমঅধিকার, সমান সুযোগ, ইত্যাদি” বলে হইহই রইরই রব তুলছেন! এই হাজার হাজার বছরের নিপীড়ন কি ৫-১০-১৫ শতাংশ কোটা বা সুবিধা দিয়ে হয়? ইতিহাস ও পরিসংখ্যান বলছে নারীর অবস্থান কতো নিচে পুরুষের চেয়ে; এখন আপনি সিদ্ধান্ত নিন কিভাবে ন্যায় আচরণ করবেন? কিভাবে সমঅধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠা করবেন? কিভাবে নারীর প্রতি হাজার বছরের নিপীড়নের ক্ষতিপূরণ দিবেন?
নারীকে রাষ্ট্র বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, শৈক্ষিক, সামাজিক সুবিধা দিচ্ছে; কিন্তু এগুলো পর্যাপ্ত ও কার্যকরী নয়, অনেক সুবিধা নারীকেন্দ্রিক নয়, অর্থাৎ নারীকে শিক্ষায়, কর্মে, স্বাস্থ্যে, অর্থনীতিতে, রাজনীতিতে পুরুষের সমপরিমাণে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করছে না, তাদের সমপরিমাণ অংশগ্রহণ-কে নিশ্চিত করতে পারছে না; তাই, এসব বিভিন্ন পলিসি'র আরো সংস্কার করতে হবে যাতে করে সমাজে সত্যিকারের সমঅধিকার ও নারী ও পুরুষের মাঝে সমতা নিশ্চিত হয়।

নারীর প্রতি সকল নিপীড়ন বন্ধ হোক, নারী জাগ্রত হোক, রাষ্ট্রে সমঅধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠা পাক।

রেফারেন্স :
1. Wharton, A. S. (2011). The sociology of gender: an introduction to theory and research. West Sussex: Wiley-Blackwell.
2. Walby, S. (1990). Theorizing Patriarchy. Oxford: Blackwell.
3. Holmes, M. (2011). What is gender?: sociological approaches. Los Angeles: SAGE.
4. Hakim, Catherine. (1996). Key Issues in Women’s Work. London: The Athlone Press Ltd.
5. Quarterly Labour Force Survey Bangladesh 2015-2016. Dhaka: Bangladesh Bureau of Statistics.
6. https://l.facebook.com/l.php?u=https%3A%2F%2Fwww.google.com%2Furl%3Fsa%3...

বি. দ্র. Gender Studies এর অনেককিছুই আমি এখানে খুবই সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেছি; লেখায় ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে; লেখাটি সম্পর্কে যেকোন মতামত ও সমালোচনা সাদরে গৃহীত হবে; ফেইসবুকেও আমাকে আপনার মন্তব্য জানাতে পারেন এই ঠিকানায় : https://www.facebook.com/syedmahiahmed618

Comments

নুর নবী দুলাল এর ছবি
 

এতবড় শিরোনাম!
অনলাইনে লেখার শিরোনাম ছোট হলে শেয়ার করতে সুবিধা হয়।

 
সৈয়দ মাহী আহমদ এর ছবি
 

শিরোনাম কি দেওয়া যায়? আপনার কোনো পরামর্শ আছে এই ব্যাপারে? আমি অবশ্য চিন্তা করছি "প্রশ্ন-উত্তর-প্রশ্ন" এই শিরোনাম।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সৈয়দ মাহী আহমদ
সৈয়দ মাহী আহমদ এর ছবি
Offline
Last seen: 6 দিন 5 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, নভেম্বর 9, 2016 - 4:18পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর