নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 4 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • সাইয়িদ রফিকুল হক
  • শ্মশান বাসী
  • আহমেদ শামীম
  • গোলাপ মাহমুদ

নতুন যাত্রী

  • নীল মুহাম্মদ জা...
  • ইতাম পরদেশী
  • মুহম্মদ ইকরামুল হক
  • রাজন আলী
  • প্রশান্ত ভৌমিক
  • শঙ্খচূড় ইমাম
  • ডার্ক টু লাইট
  • সৌম্যজিৎ দত্ত
  • হিমু মিয়া
  • এস এম শাওন

আপনি এখানে

ইরফান পাঠান, মহঃসামির স্ত্রী ও মেয়ের ছবি বিতর্ক, বোরখা-হিজাব, ইসলাম ও নারী প্রসঙ্গ


ভারতের দুই স্বনাম ধন্য ক্রিকেটার একজন ইরফান পাঠান ও অন্য জন মহঃসামি নিজেদের পরিবারের সঙ্গে ছবি পোস্ট করায় ইসলামী মৌলবাদীদের রোষানলে পড়েছেন।এবার দেখা যাক বিষয়টি কি এবং এর পিছনে মনস্তত্ব কি? সামি উঁনি নিজের মেয়ে আইরার জন্মদিনের কেক কেটে সেই ছবি পোস্ট করেন,এর উত্তরে মুমিনরা বলেছেন-আপনার স্ত্রীকে হিজাব ছাড়া দেখে দুঃখ পাচ্ছি,কেউ কেউ বলেছেন আমি মুসলমান তাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা দেওয়া যাবে না,কারণ ইসলামে জন্মদিন পালন করা যাবে না।

ইরফান পাঠানের স্ত্রী সাফা বেগ অর্ধেক মুখ হাত দিয়ে ঢেকে পোস্ট করেছেন।তাতে অনেকেই বলেছেন-স্ত্রী কেন পুরোমুখ বোরখায় ঢাকেনি? কেউ বলেছেন ইসলামে নেল পালিশ পরা হারাম।সাফা কেন নেল পালিশ পরেছেন ইত্যাদি...?এর পরিপ্রেক্ষিতে সিপিএম সাংসদ মহঃসেলিম বলেছেন -"কে কি খাবে,কে কি পরবে,গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিককে এই ভাবে পরামর্শ দেওয়া যায় না।ধর্মের নামে ব্যাক্তির আচরণকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে"।

কবি-সমাজকর্মী সৃজন সেন বলেছেন -"মুখ দেখাবে না,ছবি দেখাবে না,এ আবার কি জুলুম! অত্যন্ত আপত্তিকর"। আসলে এই সব রাজনীতিবিদদের ভোটের দায় আছে,বুদ্বিজীবীদের ও পেটের কথা চিন্তা করতে হয় তাই সত্য বের হয় না।আর শ্রদ্বেয় মীরাতুন নাহার মন্তব্য করেছেন -"উচচ মানবিক দর্শনের ধর্ম ইসলামকে এসব করে কিছু মৌলবাদী আসলে হেয়ই করছে।রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য হিন্দু মৌলবাদীরা বেনামে এগুলি করতেই পারে।সে সম্ভবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।তবে যারাই এগুলি করুক অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত"।

সত্যি দিদি আপনার মন্তব্য শুনে অবাক না হয়ে পারিনি।আসলে এইসব বুদ্বিজীবীরা হয় ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানেন না আর না হলে মুন্ডু যাওয়ার ভয়ে সত্য কথা বলে না।এখন আসা যাক মুমিন ভাইয়েরা এই রকম ভাবে কেন?এর উত্তর পেতে গেলে আমাদের মহানবীর জীবনী ঘেঁটে দেখতে হবে।আমাদের পেয়ারের নবী মোহম্মদ নারীদের মানুষই মনে করত না।কোরনের সুরা বাকরার 223 নং আয়াতে বলা হয়েছে -"তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের শস্যক্ষেত্র এবং তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদের ব্যবহার কর"(2:223)।তাহলে যারা চাষের জমি তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মূল্য আছে নাকি?

এখন প্রশ্ন হল মেয়েদের হিজাব,বোরখা দিয়ে এত ঢাকাঢাকির উৎপত্তি হল কিভাবে?আমাদের পেয়ারের নবীজীর স্ত্রীরা প্রকৃতির ডাকে রাতে মাঠে যেতেন।নবীর বিশিষ্ট সাহাবী উমর নবীর স্ত্রীদের প্রকাশ্যে শৌচকার্য পছন্দ করতেন না, তাই উমর নবীকে অনুরোধ করেছিল নবীর পত্নীরা যেন ঢেকে ঢুকে কর্ম করতে বসে।সেই থেকে ঢাকাঢাকি শুরু সঙ্গে সঙ্গে কোরানের আয়াত চলে এল -সুরা-আল-আহযাব 59 নং আয়াত -"হে নবী!আপনি আপনার পত্নীগনকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন,তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়"(33:59)।এই হল পর্দার ইতিহাস মুমিন ভাইয়েরা এই সত্যটি বোঝে না।

আসলে নবীর অনেক পত্নী ছিল এবং নিজে পালিত পুত্র যায়েদের স্ত্রী যয়নাবকে ভাগিয়ে বিয়ে করেছিলেন (কোরানের সুরা-আল-আহযাব 37নং আয়াত)-"আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন;আপনি ও যাকে অনুগ্রহ করেছেন;তাকে যখন আপনি বলেছিলেন,তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর।আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করেছিলেন,যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন আপনি লোক নিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর যায়েদ যখন যয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল,তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সে সব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে।আল্লাহর নির্দেশ কার্যে পরিণত হয়েই থাকে"(33:37)।ইয়া আল্লা ইয়া মাবুদ আপনার কি উত্তম বিচার আপনি মহম্মদের মনের কষ্টটি বুঝে নিজের পালক পুত্রের স্ত্রীকে মহম্মদের জন্য হালাল করেছেন। ইয়া মাবুদ মুমিনা নারীদের তাদের শ্বশুরকে বিবাহ করে রসুলের সুন্নত আদায় করার তৌফিক দান করুন। সকলে বলুন আমিন!

এই হচ্ছে আমাদের পেয়ারের নবীর পেয়ারের যতসব কান্ড।তাই নবী সব সময় চিন্তাতে থাকত এই যদি কেউ আমার স্ত্রীদের ও ভাগিয়ে নিয়ে যায়,প্রচন্ড কামুক ও নারী পিপাসু নবী সব সময় এই চিন্তা করত।তাই তিনি নিজের পত্নীদের উপর বিধান আনলেন -তোমরা পর্দা করবে,তোমরা জোরে কথা বলবে না,তোমরা হাসবে না,তোমরা আড়ালে থেকে কথা বলবে ইত্যাদি...।কামুক নবী প্রথমে এই বিধান চালু করলেন নিজের পত্নীদের উপর পরবর্তীকালে তা ছড়িয়ে পড়ল পুরো আরব তথা মুসলিম বিশ্বে।এই হচ্ছে বোরখা ও হিজাবের ইতিহাস যা মুমিনা নারীরা না জেনেই,নেকি বা পূণ্য লাভের আশায় অনুসরণ করে।

আমাদের কলিজার টুকরো পেয়ারের নবীজী একদিন রাস্তা দিয়ে এক সুন্দরী নারীকে যেতে দেখেন,এই নারীকে দেখেই আমাদের পেয়ারের নবীজীর ঈমানদন্ড খাঁড়া হয়ে যায়,নবীজী সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রী জয়নাবের কাছে যায়,সে তখন একটা চামড়া পাকা করছিল।নবী তার সাথে তখনই সহবাস করে এবং তার সাহাবীদের বলেন,নারী শয়তানের রূপে আসে(সহি মুসলিম 8 ম খন্ড:3280 নং হাদিস)।তাহলে বুঝলেন কিছু?নারী দেখে নবীর ঈমানদন্ড খাঁড়া হয়ে গেল এবং নারী আসে শয়তানের বেশে।অর্থাৎ সব নারীরা শয়তান।বাহ!এই না হলে আমাদের দ্বীনের নবীর যুক্তি?চুরিকে চুরি আবার সিনা জুরি।নবীর দৃষ্টিতে নারীরা বেশিরভাগই জাহান্নামী(সহি বুখারী,1নং খন্ড:301নং হাদিস)।হায়রে কপাল এত মানামানির পরও নরীরা বেশিরভাগই জাহান্নমি?

কোরানের সুরা নিসার 34 নং আয়াতে বলা হয়েছে-"তোমাদের স্ত্রীরা অবাধ্য হলে তাদের সদুপদেশ দাও,তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর"(4:34)।তাহলে বুঝতে পারছেন কি? কোরানের আল্লা স্বামীদের হুকুম দিচ্ছেন তাদের স্ত্রীদের প্রহার করতে।ওমর বিন খাত্তার বলেছেন:-নবী বলেছেন,"কোন স্বামীকে (পরকালে )প্রশ্ন করা হবে না কেন সে বৌকে পিটিয়ে ছিল "(আবু দাউদ 11খন্ড 2142 নং হাদিস)।সুভানআল্লা মুমিন ভাইয়েরা আসুন বউ পিটিয়ে সোয়াব আদায় করুন!

তাহলে বুঝতে পারছেন কি কোরানের আল্লা কত বর্বর ও পাষন্ড?আসলে কোরানের আল্লা কোন সৃষ্টিকর্তা নয় তা মোহম্মদের এক বর্বর ও নিকৃষ্টতম সৃষ্টি।তাহলে যে ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা নারীদের শুধু কামের বস্তুু ও চাষের জমি মনে করত তাদের অবস্থা কি রকম হবে? নবী বলেছেন-"তোমরা জাহেলিয়াৎ যুগের নারীদের মত সাজ পোষক পরে বের হোয় না"।তাই মুমিনা নারীদের লিপস্টিক,নেলপলিশ সব হারাম।যারা পুরুষদের খাদ্য বস্তুু তাদের অত শখ কিসের?

হায় রে নবী!তোমার কি যুক্তি?ওই যুগে মেয়েরা স্বাধীন ছিল এবং দেশ শাসন ও করতে পারত বরং ইসলাম আসার পর থেকেই মেয়েরা চিরদিনের মত অন্তপুরে চলে গেল।তারা শুধু কাম ও ভোগের বস্তুু এবং সন্তান উৎপাদনের মেশিনে পরিণত হল,এই হচ্ছে ইসলামী শিক্ষা।আর সেই নবীর উম্মতরা নির্লজ্জ ভাবে বলে-"ইসলাম দিয়েছে নারীকে সর্বোচ্চ সন্মান"।ছিঃ লজ্জা বলে কি কিছু নেই?লজ্জা থাকলে আর এই মিথ্যাচার করতে পারত না।হ্যাঁ সর্বোচ্চ সন্মান মানে যদি বস্তাবন্দি করে রাখা হয়,তাহলে নিশ্চয় ইসলাম দিয়েছে নারীকে সর্বোচ্চ সন্মান।এই কারণে ইসলামে নারীর উপর এত নিষেধ।

ইসলাম এত জঘন্য মতাদর্শ যেখানে জন্মদিন পালন হারাম।আসলে আল্লা বান্দাদের খুশিতে থাকতে দিতে চাই না।আল্লা চায় তার বান্দারা সব সময় তাকে ভয় করুক ও এবাদত করুক।আল্লার এত এবাদতের দরকার কি? আর আল্লা এত মানুষের মত হিংস্র কেন?যে এবাদত না পেলে তার চলে না সে রেগে যায় এবং শাস্তি দেয়?মনস্তত্বের বিকাশের জন্য যা যা প্রয়োজন নাচ,গান,কবিতা,খেলা(ছেলেদের মল্ল যুদ্ধ,তীর চলনা,শিকার,নারীদের উল বোনা-এগুলি বাদে)সবই হারাম।

তাহলে জায়েজ কি?অন্য ধর্মের মানুষ হত্যা(9:5,8:12,9:29,2:191ইত্যাদি),তাদের নারীদের গনিমতের মাল বানান,তাদের নিকৃষ্টতম প্রাণী বলে গালি দেওয়া(98:6),তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব না করা ইত্যাদি...।এই হচ্ছে প্রকৃত ইসলাম এবং এই হচ্ছে ইসলামে নারীর স্বাধীনতা।ইরফান পাঠানের মত মানুষরা দেশের উল্লেখযোগ্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও দেশের সম্পদও বটে কিন্তু তাদের রক্ষণশীল মানসিকতা জাতির লজ্জা।যারা দেশের সম্পদ সে এখন ও পরিবারের আভিজাত্যর কথা বলে নিজের স্ত্রীকে একপ্রকার বাধ্য করে বোরখা পরতে এবং বোরখা সংস্কৃতিকে লালন পালন করতে।এর থেকে জঘন্য মানসিকতা আর হতে পারে না।

অনেকে বলবেন এটা ব্যক্তিগত ধর্মাচারণের অধিকার।জ্বী না!উঁনি সেলিব্রেটি ওনার স্ত্রীর বোরখা পরা দেখে হাজার হাজার মেয়েরা অনুপ্রাণিত হবে ইসলামী কারাগার অর্থাৎ বোরখাকে গ্রহণ করতে এদের ধিক্কার জানায়।আর কিছু ধর্মান্ধ কাগজ বলে বেড়ায় বোরখা নারীর অধিকার,আসলে এরা নারীকে বস্তাবন্দী রেখে নবীর সুন্নত পালন করতে চাই!এই হচ্ছে এদের জঘন্য নীতি।আর সুবিধাবাদী বুদ্ধিজীবীদের বলব আপনারা অন্তত সত্য কথা বলার চেষ্টা করুন।তবে ভন্ড বুদ্ধিজীবীরা যাই বলুক না কেন আমরা সত্য প্রকাশ করেই যাব।মুমিনা নারীদের কাছে প্রশ্ন এরপরও কি আপনারা মনে করেন-"ইসলাম দিয়েছে নারীকে সর্বোচ্চ সন্মান"?

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রক্তিম বিপ্লবী
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 4 দিন ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 29, 2017 - 3:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর