নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • নুর নবী দুলাল
  • শাম্মী হক
  • মারুফুর রহমান খান
  • মিশু মিলন
  • মাহের ইসলাম

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

নারী; সম্মান ও প্রাপ্তি।


তো, সেদিন বাসা থেকে বের হইছি, বাসা আমার উপজেলা শহরে। ঢাকা যাবো। আম্মু আছে সাথে, আম্মু যাবে মতিঝিল, ছোটভাইয়ের ওখানে, আমি যাবো মোহাম্মদপুর।
বের হতেই সামান্য দেরী হয়ে গেছে, বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া শেষ বাস ও চলে গেছে।
জেলা শহর থেকে একদম মতিঝিল পর্যন্ত নাস আছে, তো সেই উদ্দেশ্যে টুকায়েচটুকায়ে জেলা শহর আসলাম।
সেই বাস ও চলে গেছে।
এখন গাবতলী পর্যন্ত যায়ে তারপর আলাদা বাসে যাওয়া যায়।
কিন্তু আম্মু একা যাওয়ার পক্ষপাতী না। গাবতলী নাইমে সেখান থেকে সিএনজি/বাস/উবার কোনটাতেই সে একা যাওয়ার সাহস পায় না।
আমি যদি তাকে মতিঝিল নামায়ে দিয়ে ফিরে আসি, খুব হেক্টিক হয়, তাই আমাকেও মুখ ফুটে কিছু বলে না।
আবার উল্টা যে উপজেলার বাসায় ফিরে আসবে, একা, সেই সাহস ও পায় না।

এখন, প্রথমত, আমি এই কথাগুলা নারী স্বাধীনতা, শিক্ষিত নারী ও কেন একা চলতে চায় না বা পারে না সে উদ্দেশ্যে লিখি নাই। কী উদ্দেশ্যে লিখছি তা পরে বলি, আগে আমার মাতা সম্পর্কে বলে নিই।

আমার মা হিজাব করেন। সেটা নিয়েও তার সাথে আমি কখন ও তর্কে যাই নাই, তারা যে জীবনদর্শন নিয়ে বড় হইছেন তাই না হয় মানলেন, সমস্যা কী!
প্রেম করেই বিয়ে করছেন আমার বাপরে, কিন্তু তা খুব সাবধানে আমাদের থেকে লুকায়ে রাখছেন।
ছোটভাই অবশ্য বের করে ফেলছে!
যাই হোক, দাম্পত্য বয়স মনে হয় তাদের ৩০/৩২ বছর।
এই এত্তগুলা দিন একসাথে থাকার পর ও তাদের মাঝে কখন ও কোন ব্যাপারে কথা কাটাকাটি বা মনোমালিন্য চোখে পরে নাই।
মিডলাইফ ক্রাইসিস তো নাই ই।

যাক, এখন উদ্দেশ্যে আসি। এই পঁাচ ওয়াক্ত নামাজী, প্রচলিত হিজাবী মহিলা, যে নাকি প্রায় বার্ধক্যে উপনীত, সে ও একা অপরিচিত পুরুষের ভিড়ে চলতে ভয় পায়!
যদি তার ভয়টা অমূলক হইত, তবু শান্তি পাইতাম।
কিন্তু তা তো না, ভয়টা তো অমূলক না! সম্পূর্ণ মূলক! পুরুষের যৌনাকাঙ্খা এখন বয়স বা পোশাক কিছুই মানে না!
আর এত এত ইলাস্ট্রেট কইরা বুঝানোর পর ও নারীর দোষ খুঁজে বের করা পুরুষের অভাব হবে না, এই পোস্টের ও খণ্ডন করা বা আমার মাকে না দেখেও দোষ বের করা পুরুষের অভাব হবে না।

যাক, তাদের গোবরগণেশ ব্রেইন, থুক্কু ব্রেইন না, পেনিস দিয়া চিন্তা করে তো, যেটাই হোক, একবালতি সমবেদনা ছাড়া আমার কিছুই দেওয়ার নাই।

ওইদিন খুব ইচ্ছা করছিলো মা'কে বলি,

মা, খুব লজ্জিত আমি, আমি ও ওই পশুর দলে। আমার জন্ম ও ওই পশুর কাতারেই। যারা আজ পর্যন্ত নারীকে একটা পণ্য, সেক্স অব্জেক্ট এর বাইরে অন্য কিছু, তিনি ও একজন মাতা, একজন ভগ্নী,একজন গৃহিনী, সর্বোপরি একজন মানুষ, এই হিসেবে দেখতে পারে নি।

ক্ষমা করে দিও।
....

আমি মোটামুটি সব কিছুই রান্না করতে পারি। ক্রেডিট যায় আমার বোনের উপর, ছোটবেলায় ডিম ভাজার সময় পাশে বসায়ে বলত, "শিখে রাখ, বউ অসুস্থ থাকলে কাজে দিবে, আর বউকে দিয়ে সব করাবি না, নিজেও কিছু করবি সাথে।"
সেই থেকে শেখা।
আর আব্বু অসুস্থ থাকার সময়, নিজের ও এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালো লাগায়, এক্সপেরিমেন্টাল হিসেবে করতে করতে সব রান্না করা শিখে ফেলেছি।
যাক, নিজের ঢোল পেটানো উদ্দেশ্য না, উদ্দেশ্য হলো

এই হাউজহোল্ড ওয়ার্ক গুলো করার সময় আসলে আমার ধারণা হয়েছে যে যদিও মনে হয় নারী বাসায় বসে আরামই করে, কিন্তু আসলে যে ঘরের কাজগুলো কতটা কষ্টের, কতটা স্ক্রুটিনাইজড তা বুঝতে পেরেছি।

গৃহের ধুলাবালি পরিষ্কার থেকে শুরু করে বাচ্চাকে পড়ালেখা করানো, বা কাঁচামরিচ কাটাকুটি থেকে জামাকাপড় ধোয়া, এই কাজগুলো করে শেষ পর্যন্ত নিজের যত্ন নেওয়া, বা স্বামীর মনোবাসনা অনুযায়ী মিলিত হওয়ার দিন আবার আলাদা আলাদা সাজ নেওয়া বা নিজেকে উপস্থাপন করা, এসবে আসলেই নারীকে মা দূর্গার মত দশভুজাই হতে হয়।
যদিও দৃশ্যত না।

আর আমরা এই কাজগুলো ইনেভিটেবল ধরে নেই, ধরে নেই যে নারীর কাজই এইসব।
এগুলার পর ও কিছু ভজঘট পাকলে নারীকেই ভর্ৎসনা শুনতে হয়!

কখন ও কী এটা ভেবেছি যে সামান্য মরিচ কাটাকুটির জন্য পার আওয়ার ৪ ডলার করে রেম্যুনারেশন পায় একজন মানুষ? তাহলে যদি সার্বিক কাজ বিবেচনা করি তাহলে একজন নারীর স্যালারি কত আসে? চিন্তা করা যায়?

না হয় নিজের গৃহের বলে রেম্যুনারেশন নাই দিলেন, মুখ ফুটে সামান্য প্রশংসা করতেও কী বাধে?

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

সূর্যসন্তান
সূর্যসন্তান এর ছবি
Offline
Last seen: 1 month 3 weeks ago
Joined: রবিবার, নভেম্বর 5, 2017 - 2:09পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর