নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • বেহুলার ভেলা

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

বিয়ে প্রথাটি আজকের নতুন প্রজন্মের কাছে একটি নোংরা প্রথা হিসেবে দাড়ালো কেন?


বিয়ে একটি সামাজিক বন্ধন৷ বন্ধনটা শুধু দুটি বিপরীত পরিবারের দুজনকে এক করার নয়, হতে পারে দুই পরিবার, দুই গ্রাম, বহু গ্রাম, দুই থানা, জেলা, দেশ এভাবে আত্মীয়ের বন্ধনে মিলিত হবার একটা প্রদক্ষেপ৷ খুব সুন্দর একটি নিয়ম যদি ভাবতে যাই এবং আচার অনুষ্ঠান হৈ হুল্লোর ধুমধাম বিনোদন৷ মোটামুটি একটি সুন্দর উৎসবে মানব বন্ধন বলা যায়৷ পিতা মাতারা সন্তানকে বড় করেন, ভাই বোন একসাথে বড় হওয়া একটা সময় সবাই একসাথে মিলে আনন্দ বিনোদনের আয়োজন করে দুজনকে এক করে দেয়া বেশ সুন্দর প্রয়াস৷

কথা হলো এই বিয়ে প্রথার উপর আমাদের আজকের নতুন প্রজন্ম এতোটা বিরক্ত কেন?

হ্যাঁ সেদিকে যাচ্ছিলাম কেন আমরা বিরক্ত? কেন আমরা আজ এই প্রথার বিরুদ্ধে অনেকে দাড়িয়ে যাচ্ছি? আমাদের কাছে কেন মনে হচ্ছে এ প্রথা সুন্দর নয় বরং একটা জগন্য প্রথা? তার কারণ আসলে অনেক৷ যদি বলতে যায় ধারাবাহিক অনেক বিষয় আসবে অনেক বিষয় আবার অগোচরে থাকবে৷ তবুও এই মুহূর্ত্বে যতটা পারি তুলে ধরতে চেষ্টা করব৷

আমরা জানি বিয়ে একটা চুক্তি৷ আসলে বিয়ে হবার ছিলো একটা দিনের মাধ্যমে পরবর্তী দুজনের পুরো একটা জীবন৷ কেননা আমরা মানুষ এবং আমাদের বংশরক্ষার জন্য আমরা পৃথিবীতে সন্তানকে টেনে আনি৷ যেহেতু সন্তানের জন্য সুন্দর পরিবেশ এবং তার মা বাবার দুজনেরই অধিকার যেন সে পায় আর আদর স্নেহ হতে যেন বঞ্চিত না হয় সেজন্য এটা পুরোপুরি চুক্তি বলতে পারিনা, অন্তত বিবেকের তাড়নায়৷ তবুও সংসার ভাঙ্গছে, কলহ হচ্ছে, বিবাদ সৃষ্টি হচ্ছে, হচ্ছে বিয়ে প্রথা একটা নোংরামী৷ এটার মূল কারণ আমাদের লম্বা অতীত৷ বিয়ে প্রথা নোংরা হবার কারণগুলো আমার কাছে এ রকম....

১৷ নারীকে পুরুষতান্ত্রীক নিয়মে একঘর হতে অন্যঘরে চালান করা৷
আমাদের মত দেশগুলোতে নারীর কোন ঠাঁই নেই৷ আমরা প্রায়ই বলি নারীরা মানুষ৷ কিন্তু আমরা কি করি? মানুষের পাল্লায় তাদের কখনো মূল্যায়ন করি না৷ আমরা নারীকে এ ঘর ও ঘর দৌড় করাই৷ একটাই অপরাধ সে নারী পুরুষ-তান্ত্রীক সমাজে৷ শ্বশুর বাড়ীতে যে পুরো জীবন কাটাবে তার গ্যারান্টি নেই৷ যদি কাটায় তাহলে প্রচুর অত্যাচার অনাচার সহ্য করতে হয় আর না হলে ছাড়তে হয়, নতুবা মরতে হয়৷ যদিও ফিরে আসে আবার অন্য ঘরে দৌড়াতে হয়৷ আমরা নারীকে গড়ে তুলি অন্যের জন্য যেভাবে ফার্মের মুরগি তোলা হয় খাবারের জন্য৷ নিজের পায়ে দাড়াতে আমরা শিখাইনি শিখাইনা, যার কারণে বিয়ের প্রথা যেকোন সুচিন্তক মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়৷

২৷ নারীকে বিয়ের জন্য বড় করা এবং মেয়ে বিদায় করতে পারলে বোঝা হালকা হলো বলে মনে করা৷
আমি মেয়ে জন্ম দিই ঠিকই কিন্তু বড় করি অন্যের ঘরের জন্য, বড় করি বিয়ে দিয়ে দেয়ার জন্য৷ বিয়ে দিতে পারলেই যেন আমরা বাঁচি৷ মেয়ে সংসার বুঝার উপযুক্ত কিনা তা আমরা ভাবিনি, ভাবিও না৷ বাল্যবিবাহ দিয়ে দিই আর কারণ হিসেবে ধর্ষণকে, মান সম্মানকে খুব ভয় করি৷ সন্তানের চেয়ে আমাদের কাছে মান সম্মান বড়৷ আমরা নিজেরাই নারীকে দূর্বল করে, ধর্ষক জন্ম দিয়ে ধর্ষণকে ভয় করি৷ আমাদের মত অভিনেতা আর কোথায় আছে? একটা বাচ্চা মেয়ে পরের ঘরে কি বুঝবে না বুঝবে আমরা ভাবিনা৷ যেখানে আমরা পিতা মাতা হয়ে এটাই বুঝিনা সেখানে ঐ বাচ্চা মেয়েটি কি বুঝবে, কিভাবে বুঝবে? আমরা অন্যের খাদ্য, অন্যের হাতের পুতুল করে বড় করি নারীকে৷ আর সে কারণে বিয়ে হয়ে উঠে নারীর উপর অভিশাপ৷

৩৷ নারীকে শুধুমাত্র সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্র হিসেবে উপস্থাপন করা৷
কেউ কেউ বা কোন কোন ধর্মে মনে করেন নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য মূলত এ জন্যই বিয়ে৷ যেন নারী একটা খামারের উপাদান আর বিয়ে তার প্রকল্প৷ এ রকম নিঁচু নোংরা মন মানসিকতা যে ধর্মে থাকবে, যে সমাজে থাকবে তারা উন্নত হবে কি করে? মানুষ হবে কি করে? তারা সুন্দর করবে কী বরং নোরাই করবে সবখানে৷ তারাই সম্পর্ককে বৈধ্য অবৈধ্য রুপে আখ্যা দেন৷ মূলত এরাই সমাজ নোংরাকারী এবং বিয়ে প্রথাকে নোংরা প্রথা হিসেবে রুপান্তর কারী৷

৪৷ বিয়ের প্রথায় মোটা অঙ্কের যৌতুক, কাগজ কলম এবং দেনমোহরের মত ঘৃন্য সংস্কার করা৷
সবচেয়ে বিয়েতে যে প্রথাগুলো ক্যানসাররুপি তা হলো এই যৌতুক, কাগজ কলম ও দেনমোহর৷
ক) যৌতুক- যৌতুক একটা বিরাট সমস্যা৷ এটা সামনা সামনি হাসতে হাসতে ঘর ডাকাতি করা৷ বিয়ের মত সম্পর্কে এই যৌতুক হলো মহামারি৷ পারুক আর না পারুক দিতে হবে মেয়ের বাপকে৷ সমাজে মেয়ে জন্ম দেয়ার অপরাধে টাকা, জিনিসপত্র, একটা বড় সংখ্যক লোক খাওয়ানো সব মিলিয়ে গলা টিপে ধরে নেয়া হয়, দিতে হয় মেয়ের বাপকে৷ ছেলের বাবা নেয় আর মেয়ের বাপ দেয়৷ কেউ কেউ ধার দেনা জমি বিক্রি করে সেটা দেয়৷ যাদের জমি জমা নেই তারাতো একেবারেই মরা৷
খ) কাগজ কলম- মানুষের সম্পর্ক হয় মনের৷ মন হতে বিশ্বাস এবং বিশ্বাস ব্যতিত কিছুই আটকে রাখা সম্ভব নয়৷ এমনকি যৌনতার ব্যপারটাও শারিরীক মানসিক প্রস্তুতি না হলে হয়না৷ মানসিক প্রস্তুতিহীন যৌনতাও ধর্ষণ বলে গন্য হয়৷ তাই বিশ্বাস এবং মন মানসিকতার উপর ভিত্তি করেই মূলত সম্পর্ক৷ সেখানে কাগজ কলম এসে শরীরকে সম্পত্তি করে তুলে বিশেষ করে নারী শরীর যেহেতু পুরুষের ঘরে যায় সেহেতু নারী শরীরই সম্পত্তি হয়ে দাড়ায় সবচাইতে বেশি৷ নিজস্ব সম্পত্তি করার নীতি হিতে আরো বিপরীত হয় আর ভোগান্তি হয় নারীর৷ ফলে কাগজ কলমের এই আটকানো বিয়ে নামক সম্পর্ক নীতি বেশির ভাগ নারীর জন্য হয় ভোগান্তির৷ যদিও নারীর জন্য বিভিন্ন আইন আছে তবুও টাকার কাছে আইন গাইন হয়ে যায়, যাতে আটকে যায় নারীরা৷ বৌদ্ধ হিন্দুদের মধ্যে তেমন কাগজ কলম না থাকলেও ইসলামে এর প্রচলন বাধ্যগত৷ এতে বিয়ে হয় বিভিষিকা৷ কাগজ কলমে ধরে রাখার চেয়ে ছাড়ার প্রবনতা থাকে বেশি৷
গ) দেন মোহর- ইসলামে বিয়ের দেন মোহরের প্রচলন আছে৷ দেন মোহর ধার্য্য করে মেয়েদের বিয়ে দেয়া হয়৷ এর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা কারো কোটি টাকা মান অনুযায়ী দেন মোহর ধরা হয়৷ মোহরানা দেয়ার চুক্তিতে বিয়ে হবে৷ ছেলের বেলায় বিয়ের সঙ্গে সঙ্গে যৌতুক দিলেও, মেয়ের বেলা দেন মোহরের টাকা বাকীর খাতায় জমা থাকে৷ তার মানে দাড়ায় নারীর বিশ্বাস নেই, তাই টাকা আটকে রাখা৷ আর একটু ভাবলে সেটা শরীর ভোগ করার মাশুল বা শরীর কেনার টাকা৷ যখন ছাড়াছাড়ি হয় তখন সে টাকা দিতে হয় অর্থ্যাৎ আমি এতদিন তোমার শরীর ভোগ করেছি, তুমি দেহ বিলিয়েছ বা বিক্রি করেছ এই নাও তোমার দেহ দানের প্রারিশ্রমিক৷ পতিতার সাথে তখন পার্থক্য আর থাকে কই? এসবই বিয়ে প্রথাকে করে তুলেছে নোংরা প্রথা এবং হাস্যকর৷ এখানে আর সম্পর্ক নয় বরং শরীর কেনাবেচা প্রাধান্য পায়৷

৫৷ সন্তানের পছন্দ অপছন্দ বিবেচনা না করা৷
বিয়ের সাথে একটা লম্বা জীবন জড়িত৷ অল্প কিছুদিনের কথাবার্তায় দুজনকে ঠেলে দেয়া পুরো একটা জীবনের জন্য তা সম্পূর্ণই অমানবিক৷ বিয়ে হবে দুজনের, সংসার করবে দুজনে, জীবন হবে দুজনের একটা৷ তাই একজন অন্যজনকে বুঝার জানার প্রয়োজন আছে বিশেষ করে মেয়েদের কারণ তারা অন্যদের বাড়িতে যাবে, যার সাথে সংসার করে সে কতটা কি জানতে হবে৷ হুট করে কাউকে গানের মঞ্চে তুলে দিলে বা আবৃত্তির মঞ্চে তুললে সে যেমন অল্প সময়ের এ ইপিসোডে বিরক্তি বোধ করে আর পা কাঁপানি শুরু হয় তেমনি অল্প নয় বরং বৃহৎ একটা জীবন বাঁধতে যদি জানা বুঝার আগে ঠেলে দেয়া হয়, তখন নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পড়ে দুজন৷ বোধ করি মাঝে মাঝে দূর্ঘটনার মত কিছু সৃষ্টি হয়৷ তারপর আসে যে সংসার করবে তার পছন্দকে এড়িয়ে বাবা মার ইচ্ছেমত জোর করে বিয়ে দেয়া তাতেও বিয়ের মাধ্যমে জীবনের সুখকে জলাঞ্জলি দেয়া৷ কখনো কখনো পালিয়ে যাবার মত ঘটনা ঘটে৷ জোর করে বিয়ে দিলে, বিয়েকে তখন ব্যবহার করা হয় একটা অস্ত্র হিসেবে৷ এতে বিয়েটা হয়ে উঠে নতুন প্রজন্মের কাছে একটা আপদ ও ঘৃন্য প্রথা৷

৭৷ টাকা ওয়ালা বা ধনী হলেই ভাল ঘর নির্বাচন করা
ধনী টাকা ওয়ালা হলে ভালো ঘর, এটা বিয়ে প্রথায় আসে৷ সেখানে মনের, জীবনের, বন্ধনের মূল্যায়ন নেই বললেই চলে৷ চরিত্র যার যাই হোক না কেন টাকা হলেই ভালো ব্যস বিয়ে অস্ত্র হলো আর জীবন সে অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত হলো৷

৮৷ নারী সন্তান হলেও নারীকে তার পিতা মাতার সম্পত্তি হতে বিচুত্য করা৷
বিয়ে এমন একটা অস্ত্র পুরুষতান্ত্রীক সমাজে, যার মাধ্যমে নারীকে তার সম্পত্তি অধিকার হতে বঞ্চিত করা হয়৷ এটাকে পা থেকে মাটি কেড়ে নেয়াও বলা যায়৷ ইসলাম সমাজে যাও একটু দেয় অন্যান্য সমাজে একেবারেই বঞ্চিত করা হয়৷ বিয়ের প্রথার কারণে নারীকে করা হয় পরজীবি, আর পুরুষ হয়ে উঠে বলবান৷ সেক্ষেত্রে দূর্বল করে দেয়া হয় নারীকে, বলা চলে মানুষকে ভাগ করে ফেলা হয়৷ এ রকম উদ্ভট প্রথার সেতু দ্বারা যখন নারী সব হারায় তখন কেউ ঘৃন্য চোখে দেখে, কেউ দেখে নিয়তি৷ নিয়তিটাও যখন সমাজ শেখানো৷

৯৷ নারীকে চাকরানী বা দাসীসম করে ঘরের বউ আখ্যা দিয়ে বন্ধী করা৷
গৃহবধু শব্দটি শোনা যায় একটা বিবাহ সম্পন্ন হবার পর৷ গৃহস্বামি যদিও বলা হয়না৷ কেন গৃহবধু বলা তা একটু ভাবলেই আমরা পাই৷ এই গৃহবধু শব্দটা সাজাতে গিয়ে কিছু প্রসাধনী লাগানো হয় যার একটা হলো "সংসার সুখি হয় রমনীর গুনে" অথচ রমণ যে আছে তার কথা উঠে আসে না কারণ ঘরকুণে করা হয় নারীকে৷ কারো কারো ছেলেকে বিয়ে করিয়ে আনে বউ৷ আর বউ ঘরের সোভা৷ ঘরের বউ কেন বাইরে কাজ করবে এরকম সংস্কারও কারো কারো আছে৷ তাকে দাসীর মত ঘরের কাজ করতে হবে৷ সবার যে যা মত চাহিদা তাকে তা দিতে হবে টাইম মাপিক৷ যদি একটু এদিক সেদিক হয় তখন মা বাপের কথা উঠে৷ তোমার মা বাপ তোমাকে কিচ্ছু শেখায়নি! এটা ওটা কত কী? অর্থ্যাৎ তাদের ঘরে চাকরানীর কাজ কেন শিখিয়ে দেয়নি৷ এজন্য কত গালমন্দ কত কি? কেউ হয়তো কখনো সাহস করে উত্তর দেয় আর কেউ নিরবে চোখ ভাসায়, আবার সে যারা কেঁদেছে তারাই একই ভাবে তাদের মেয়েকে শেখায়, উপযোগী করে অন্যের৷ বউ করেই গড়ে তুলে মানুষ করে না৷

১০৷ স্বামিকে প্রভূ হিসেবে উপস্থাপন করা৷
বিয়ের প্রথার মাধ্যমে স্বামিকে প্রভূ হিসেবে দাড় করানো আরেক হীনজ্ঞান৷ অবশ্য স্বামি মানেই প্রভূ৷ কেন বিয়ে প্রথার মাধ্যমে বলছি? আসলে আনুষ্ঠানিক বিয়েতেই এটা করা হয়৷ প্রেম করে যা হয়, সে সবে দুই জনের অর্ধেক অর্ধেক এক ধরা হয় যদিও তাতেও উনো থেকে যায় কারণ ছেলের বাড়িতে উঠতে হয়৷ পুরুষ প্রভূ কেন হবে নারী যেখানে সহধর্মিনী, সহ যোদ্ধা বন্ধু এবং দুজন মিলেই একটা সংসার৷ তার কারণ উপরে আছে৷ প্রভূ হয় কারণ নারীকে পরজীবি করা, ঘরকুণো করা, অর্থনৈতিক দূর্বল করা, সম্পত্তিচুত্য করা সহ পরিবার হতে তাড়ানো সব মিলিয়ে তাকে এত কিছু হারিয়ে বাঁচতে হয় কারো পা আঁকড়ে ধরে৷ ক্ষুধার্তের কাছে যেমন যে খাবার দেয় সে ঈশ্বর তেমনি নারীর বেলা ঐ স্বামি৷

১১৷ শাঁখা-সিঁদুর, বোরকা, গোমটা এসব ঘৃন্য সংস্কার গড়ে তোলা৷
বিয়ে প্রথার আরেক হাস্যকর কিছু সংস্কার এসব৷ হিন্দু নারীদের বুঝানো হয় শাঁখা সিঁদুর নারীর রক্ষা কবচের মত, স্বামির মঙ্গল, আয়ু বর্ধক কত কত কী? ভোট কেন্দ্রে গেলে ভোট দিতে একটা আঙুলে দাগ দেয়া হয়, তার মানে হলো ইনি ভোট দিয়েছেন৷ তেমনি হিন্দু নারীদের শাঁখা সিঁদুর মানে এইটা হয়ে গেছে৷ এটা আরেক জনের সম্পত্তি৷ কাগজ কলমের বিয়ে যেমন নারীকে সম্পত্তি বানায় তেমনি এই প্রথাও৷ আবার ব্রত প্রত কত কী যে পালন করে অথচ পুরুষ তার কিছু করেনা৷ কিছু বৌদ্ধ সম্প্রদায় এই শাঁখা সিঁদুর পরিধান করে৷ তারা কেন পরে তারাও জানেনা৷ তাদের ধর্ম সংস্কারে আছে কিনা বা থাকলে বৌদ্ধ রাষ্ট্রগুলো পরত এটাও প্রশ্ন তোলে না৷ তারপর আছে ঘোমটা হিজাব বোরকা৷ মাথায় ঘোমটা থাকতে হবে ঘরের বউতো, বাইরে বেরুলে হিজাব বোরকা করতে হবে পর পুরুষকে দেখানো যাবেনা৷ মানুষ মানুষকে দেখবে তা হবেনা৷ কেউতো উলঙ্গ হয়ে দাড়ায় না তবুও গোমটার তলে বোরকা হিজাবের তলে থাকতে হবে নইলে বউ বেয়াদব৷ মা বাপে আদব কায়দা শেখায়নি৷

১২৷ বিয়ে প্রথায় সাম্প্রদায়িকতা
বিরাট একটা তারকাঁটার নাম সাম্প্রদায়িকতা৷ প্রেম ভালোবাসা আপেক্ষিক বিষয়৷ কে কখন কার মনে ধরে কেউ জানেনা৷ যার চোখ তার ভোগ৷ পৃথিবীর সবার কাছে দেখতে সুন্দর না হলেও দুটো বিশেষ চোখে ঐ সুন্দর হয় সুন্দর৷ সে সুন্দর দেখতে ঐ দুটো চোখ লাগবে৷ চোখ সুন্দর যার, সে সুন্দর তার৷ কথা হলো সাম্প্রদায়িকতা বড় বাঁধ হয়ে দাড়ায় এ সম্পর্কে৷ এক সম্প্রদায় অন্য সম্প্রদায়ের চোখের বিষ৷ সাম্প্রদায়িক চোখ আমরা সড়াতে পারছি না তার উপর পুরুষতান্ত্রীক সমাজে নারী হলো জল, যে পাত্রে যায় সে রুপ ধারণ করে অর্থ্যাৎ সব সম্প্রদায় তার পায়ের মাটি কেড়ে নিয়েছে হাজার হাজার বছর আগে যেজন্য তাকে রুপ ধারণ করতে বাধ্য হতে হয়৷ তার টাইটেল কেউ খায়না ঐ পুরুষের টাইটেল খায়৷ সন্তানরাও পুরুষ টাইটেল, পুরুষ ধর্ম পায়৷ নারী সহধর্মিনী সহযোদ্ধা এসব মুখের কথা মাত্র কিন্তু বাস্তবে নারীর ক্ষমতায়ন নেই৷ ইসলাম কট্টর বলে যারা ভালো মন মানসিকতার তারাও বঞ্চিত হয় অন্য কট্টরদের জন্য, অন্য ধর্ম সহ গোত্রগুলো কি কম? না কেউ কম না৷ যেখানে একই সম্প্রদায়ের মধ্যে পারিবারিক বিয়ে হলে নারীকে ছেড়ে দিবে না তার গ্যারান্টি নেই সেখানে তারা যুক্তি খোঁজে অন্য সম্প্রদায়ের কাউকে বিয়ে করলে নারীকে ছেড়ে দেয়ার আশংকায়৷ আসলে এটা যুক্তি বা কোন আশংকা নয়, এটা হলো সাম্প্রদায়িক হিংসা প্রতিহিংসা যার কারণে দূরত্ব বাড়তেই থাকে মানুষে মানুষে কিন্তু অসম্প্রদায়িক চিন্তা আসে না৷ হিংসা দিয়ে ধ্বংস করা যায় গড়া যায় না, গড়তে হয় ভালোবাসায়৷ এই ক্ষুদ্র বোধটুকু উৎপন্ন হয়না৷ মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে, মানুষকে বিয়ে করবে এখানেও কত সমস্যা কত রকম বাঁধা বিপত্তি আপত্তি৷ যারা অসম্প্রদায়িকতার কথা বলে দেখা যায় তারাই আবার এই বিয়ের ব্যাপারে এসে সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠে৷ অসম্প্রদায়িক সমাজ গড়ার মানুষই যদি সাম্প্রদায়িক হয় তবে সেখানে আমরা কার উপর আশা করতে পারি৷ হিংসা নয় মানুষকে ফেরাতে হয় বুঝাতে হয় শান্ত করতে হয় ভালবাসা দিয়ে৷ একদিনে ফিরবে তা আশা করা ভুল৷ কিছু দূর্ঘটনার জন্য আমরা যদি সাম্প্রদায়িক হই, সাম্প্রদায়িকতার বৃহৎ স্বার্থের পাহাড় আমরা ভাঙ্গবো কিভাবে? হিংসার দাবানল বেশি সনাতনী মনে৷ তারা শুধু সম্প্রদায় নয় বরং ছোট হতে গোত্র রেষারেষি বিভাজন শিখে, আর ইসলাম শিখে হিংস্রতা৷ ইসলামের এই হিংস্রতার রুপ হঠাত জ্বলে উঠে, এই শান্ত মানুষটা এই হঠাত ভয়ংকর রুপ হয়ে উঠে৷ কিন্তু নারীর কি দোষ? তাকেতো ঘর ছাড়াবার অঙ্গিকার নিয়ে বড় করা হয় এবং তার পরমুখী করা হয়৷ সে যদি সম্প্রদায় ছাড়ে সেতো অন্যায় করেনি৷ এমন না যে সে মানুষ ছেড়ে পশু পাখির সাথে বন জঙ্গলে বাস করছে, যৌনতায় লিপ্ত হচ্ছে৷ বরং সে বড় অসম্প্রদায়িক তবে বাধ্য হয় মানতে পুরুষতান্ত্রীক ধর্মে আবদ্ধ হতে৷ সে হচ্ছেনা তাকে হতে বাধ্য করছে৷ প্রতিটা সম্প্রদায়ই এরকম করে৷ নারী হিন্দু পাত্রে হিন্দু, বৌদ্ধ পাত্রে বৌদ্ধ, মুসলিম পাত্রে মুসলিম৷ পারিবারিক সম্প্রদায় হোক আর অপারিবারীক তার নিশ্চয়তা নেই যে সে সুখে থাকবে, সে তালাক প্রাপ্ত হবেনা৷ নারী বিয়ের আগে বাপের বাড়ির নিয়ম, বিয়ের পরে তা বদলে শ্বশুর বাড়ির নিয়ম প্রতিনিয়ত পাল্টায় আর সম্প্রদায় পাল্টালে দোষ! যেমন সম্প্রদায় ছাড়লে নাস্তিক চোখের শত্রু৷ বিয়ের জন্য হওয়া উচিত ছিলো একটা নারী একটা পুরুষকে, একটা পুরুষ একটা নারীকে তাদের দুজনের মতামতে বিয়ে করবে৷ এতে সামাজিক, সাম্প্রদায়িক, রাজনৈতিক, দেশগত কোন বাঁধা বিপত্তি থাকবে না৷ মানুষ যখন মানুষকে বিয়ে করবে, সংসার করবে৷

১৩৷ গরুর বাজার বা কাপড়ের শোরুমের মত নারীকে পন্য করে তুলে তুলে ধরা৷
বিয়ের কিছুদিন আগের ব্যপারটা পারিবারিক বিয়েগুলোতে খুব বিরক্তিকর কিছু সংস্কার দেখা যায়৷ হেঁটে দেখাওতো মা, বসে দেখাওতো মা, পায়ের আঙুল দেখি বাঁকা না টেঁরা, মুখ দেখি কালা না ভালা? কি কি রান্না করতে পারো? তুমি কি পাস? এরকম হাজারো কিছু৷ একশজন আসবে দেখবে চলে যাবে, আসবে দেখবে চলে যাবে৷ যেন বিয়ে নয় গরুর বাজারে গরু দেখছে রং কেমন, মাংস কেমন শিং কেমন কিংবা শোরুমে সাজানো কাপড়৷ যে বিয়ে করবে তার এত লাগবে না অন্যদের যত লাগে৷ যেন সংসার তারা করবে৷ যাদের বিয়ে হবে তাদের একজন অন্যজনকে জানার বুঝার বিষয় নাই৷ ঠিক হলো আর সবাই ধরে হৈ-হুল্লোর করে খাটে তুলে দিলো আর যৌনতা হলো, এটাই যেন জীবনের বোঝাপড়া৷ অনেকটা এক তালা এক চাবির মত৷ চাবি ফিট করতে পারলেই এবার দহরম মহরম৷ যার জন্য এই বিয়ে প্রথাই হয়ে উঠেছে দূর্ঘটনা আমাদের জীবনে৷ আর ব্যপারটা হয়ে দাড়িয়ে যাচ্ছে একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না৷

হয়তো আরো অনেক কিছুই আছে যা আমি গভীরে ঢুকতে পারিনি৷ তবে এসব আমাদের দূর না করলে দিনে দিনে আরো বিষাক্ত হবে বিয়ে প্রথা, আরো বিষাক্ত হবে সম্পর্ক৷ আলাদা হবে মানুষ৷ আলাদা হবে নারী পুরুষ৷ বিশ্বাস মরবে, দূরত্ব বাড়বে৷ আকর্ষনের হবে ভয়াবহ মৃত্যু ব্যধি৷

Comments

গোলাম রব্বানী এর ছবি
 

বাহ। যুক্তি আছে আপনার কথায়।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঙালী ফকির চাষী
কাঙালী ফকির চাষী এর ছবি
Offline
Last seen: 5 ঘন্টা 18 min ago
Joined: শুক্রবার, ডিসেম্বর 29, 2017 - 2:02পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর