নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 9 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • গোলাম রব্বানী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • অনন্য আজাদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আব্দুল্লাহ্ আল আসিফ
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • মিশু মিলন
  • সত্যর সাথে সর্বদা
  • রাজিব আহমেদ

নতুন যাত্রী

  • ফারজানা কাজী
  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান

আপনি এখানে

প্রেম-ক্রিকেটারের ক্যাচ এবং এক বৈশ্বিক টেন্ডুলকারের গল্প


জন্মের পর থেকেই কি কারণে যেন এক নেতিবাচকতা ভর করেছিল আমার মননে। প্রতারণা, মানুষকে ঠকানো, মিথ্যে বলা, পরীক্ষায় টুকলিবাজি কোন কিছুই বাদ দেইনি আমি এ জীবনে। যদিও খুবই দরিদ্র পরিবারে জন্ম আমার! কিন্তু সব সময় টাকার চিন্তায় মগ্ন থাকতাম আমি। কিভাবে বড়লোক হবো আর ধনীর দুলালীকে বিয়ে করবো, এ চিন্তায় মশগুল থাকতাম সারাক্ষণ। এ ক্ষেত্রে ঢাকার বাংলা সিনেমা খুব প্রিয় ছিল আমার, যা মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল আমার ভবঘুরে জীবনে।
:
রিক্সাওয়ালা কিংবা সদরঘাটের কুলি কিংবা রাস্তার মাস্তান কিভাবে অভিজাত শিল্পপতি পরিবারের সুন্দরী মেয়েকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বড়লোকের জামাই হয়, তা হতে সারাক্ষণ মগ্ন থাকতাম আমি। তাই কোন রকমে গ্রাম থেকে টেনেটুনে এসএসসিটা পাশ করেই সোজা চলে এলাম ঢাকায় কলেজে ভর্তি হতে। চুরি করে মার অবশিষ্ট গয়না কটা বিক্রি করে শেষে ভর্তি হলাম ঢাকার বড় কলেজে। গ্রামে লুঙ্গী পরা আমি ঢাকাতে যখন ফুটপাতের জিন্স, আর টাল মার্কেটের কোর্ট-টাই পরে কলেজে যাওয়া শুরু করলাম, তখন কে ধরবে খড়ের চাল দিয়ে বৃষ্টির জলপরা ঘরের নিতান্তই গ্রাম্য ছেলে আমি।
:
ভিশন অনুসারে কদিনের মধ্যেই কলেজের সব মেয়েদের নাড়ী-নক্ষত্রের খোঁজ নিতে শুরু করলাম। কৌশলে ফেসবুক আইডি সংগ্রহ করতে সময় লাগলোনা আমার। ধনীক ঘরের সুন্দরী লিজাকে টোপ ফেললাম একদিন। কিন্তু সে প্রেম করতে রাজি হলোনা কিছুতেই। তারপরো পিছু ছাড়লাম না তার। ইন্টারে পড়া লিজা একদিন তার আঙুল দেখিয়ে বললো, দেখো কানাডা PhD করছে এমন ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে আমার। যদিও ছেলেটাকে দেখিনি আমি। শুনে লিজাকে বললাম, দেখো বিদেশে ডক্টরেট করছে এমন ছেলে নিশ্চয়ই আমার মত 'হ্যান্ডসাম' হবেনা। দেখবে টাকপড়া এক বয়স্ক লোক একটা ডক্টরেট নিয়ে তোমাকে ডাকছে। তারচেয়ে আমার কাছে এসো। ফান করে লিজা বললো, তোমার কাছে কি আছে যাতে প্রেমে পড়তে পারি তোমার? হেসে লিজাকে বললাম, কনফিডেন্স আছে লিজা কনফিডেন্স! অনেক বড় হবো আমি? আর একদিন বিয়ে করবো তোমাকে। ওর আঙুল থেকে সোনার আংটিটা ধরে বললাল, ফেলে দাও আংটি সংসদের এ ঝিলে, তোমাকে একদিন ডায়মন্ড রিং দেব আমি। লিজা হেসে বললো, ওকে আংটিটা ফেলে দিলাম, যদি তুলে আনতে পারো ঝিল থেকে, তাহলে বুঝবো প্রেমের যোগ্য ছেলে তুমি। ভাল সাঁতার না জানার পরও লিজার আংটি তুলতে তাৎক্ষণিক ঝাঁপ দিলাম কনকনে শীতল ঝিলের জলে। অনেকক্ষণ ডুবে-ডুবে শীতে কাঁপছি দেখে অন্য বন্ধুরা ধরে তুললো আমায় জল থেকে অনেকটা বিধ্বস্ত অবস্থায়। লিজা বিদায় নিলো করুণার হাসি হেসে। প্রেম প্রকাশ পেলনা তার!
:
পরদিন ক্যাফেটরিয়ায় কফি খেতে ডাকলাম লিজাকে। লিজা বললো, যে আংটি খুঁজে পায়না, আর জলে ডুবে যায়, তার সাথে কফি খেলে আর প্রেম করলে চিরদিন ডুবে মরতে হবে আমায়। কফি খেতে খেতে আংটিটা রাখলাম লিজার সামনে। চৈত্রের বসন্ত বাতাসের মত বিস্মিত হলো লিজা, ঐ ঝিল থেকে আমার আংটি তোলোর দক্ষতায়। এবং সত্যিই প্রেমে পড়লো সে আমার! হা কমাসেই পুরো প্রেমে মজে গেল চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের শিল্পপতি কামরুলের একমাত্র বোন লিজা।
:
কিন্তু মাস্তান সফল ব্যবসায়ী কামরুলের কানে লিজা আমার প্রেমকাহিনি পৌঁছতে বেশি সময় লাগলো না। গুন্ডা পাঠিয়ে কলেজে মারাত্মাক ধোলাই দিলো আমায়। লিজার সামনেই রক্তাক্ত হলাম আমি। তাতে লিজার প্রেম আরো বেড়ে গেল আমার প্রতি। ভাইভাবীকে সে আত্মহত্যার ভয় দেখালো। মা-বাবা হারা এক বোন বলে কথা! অবশেষে একদিন ভাই কামরুল দেখা করলো আমার সাথে। টোপ দিলো আমাকে কি চাই আমি? লিজাকে পুরো প্রেমে ফাঁসিয়েছি বুঝতে পেরে বললাম, লিজা আমার প্রেম কি দুচার টাকায় পরিমাপ করা যাবে? নানান কথাকাটির পর অবশেষে ৫-কোটি টাকার টোপ দেয় আমাকে। লিজাকে ভুলতে ৫-কোটি অনেক বড় টাকা। এবং রাজি হই আমি। কিন্তু শর্ত দেয় সে, পুরো ডিল হবে তার গুলশানের বাংলোতে।
:
টাকা আনতে প্রস্তুতি নিয়ে যাই আমি। ঝানু ব্যবসায়ী কামরুল ৫-কোটি টাকা ডিলের পুরো দৃশ্যটা সিসিটিভিতে লিজাকে সরাসরি দেখানোর ব্যবস্থা করে। তা বুঝেও আমি টাকাটার চেক গ্রহণ করি। ফেরার পথে সিএনজি ভাড়া ২০০ টাকা চাইতে ভুলিনা এ কারণে যে, এখন আমি ৫-কোটি টাকার মালিক, মানে কোটিপতি। সে কি বাসে চড়তে পারে?
:
কিন্তু ব্যাংক জানিয়ে দেয়, ঐ চেক stop payment করেছে মি: কামরুল। আমি ফোন দেয়ার আগেই কামরুল ফোন করে আমাকে। কুটিল হাসিতে বলে, খেলাটা কেমন খেললাম মি: হিরো? লিজাও দেখলো তুমি কত বড় কামিনা! আর টাকাটাও পেলেনা। আহ! চু!চু!চু। আমি ভিলেনের মত একগাল হেসে বললাম, সুমুন্দিসাব! এটা কি শোভনীয় হবে যে, লিজার সাথে আমার যেসব বেডরুমের ভিডিও করা হট সেক্সি দৃশ্য আছে, তা ছড়িয়ে দেই ইন্টারনেটে? এমনকি লিজার জন্য নির্ধারিত কানাডার PhD বরের ফেসবুক জানি কিন্তু আমি। এগুলো ছাড়বো? এবার চেকের বদলে নগদ ৬-কোটি। আমাকে হয়রানি করার জন্য ১-কোটি কাফফারা মানি। স্মার্ট কামরুল ধরা খেয়ে বোন আর পরিবারের সম্মান বাঁচাতে নগদ ৬-কোটি টাকা পরিশোধ করে আমাকে। সাথে কফি কেকে আপ্যায়ন!
:
হাতে নগদ ৬ কোটি টাকা পেয়ে অকশনে সরকারি দপ্তরের পুরনো গাড়ি কিনে, তা কিছুটা মেরামত আর রং করে পুন বিক্রির ব্যবসায় বেশ সাফল্য আসে আমার জীবনে। ৬-কোটিকে ১২-কোটিতে রূপান্তর করতে বেশি সময় লাগেনা আমার। তরুণ ব্যবসায়ী হিসেবে চেম্বারে নাম ওঠে আমার। দেশ-বিদেশে ব্যাপক সফর করি আমি। আকস্মিক মতিঝিলের আধুনিক অফিসে একদিন ইনকাম ট্যাক্সের গোয়েন্দা টিম হানা দেয়। টিম কাগজপত্র তদন্তকালীনই লিজার ভাই ফোন করে জানায় যে, সেই গোপনে খবর দিয়ে রেট করিয়েছে আমার অফিস। NBR এর লোকজন আমার ভ্যাট ও আয়করের সকল কাগজপত্র দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে। কিন্তু তারা ব্যবসা শুরু করার টাকার উৎস জানতে চায়। আমি ব্যবসা করতে মি: কামরুল আমাকে টাকা দিয়েছে বলি এবং ও জানাই, এ ব্যবসার সে ৫০% অংশিদার প্রথম ৬-কোটি পুঁজি বিনিয়োগের কারণে। আমার দেয়া তথ্য অনুসারে NBR এর গোয়েন্দা দল এবার আমার অফিস থেকে সরাসরি মি: কামরুলের অফিস হানা দেয়। প্রথমে কামরুল টাকার কথা অস্বীকার করলেও, একটু আগেও আমাকে ফোনকল করা ইত্যাদি প্রমাণ দেখে, ঐ ৬-কোটির উপর ১৫% আয়কর, সাথে আরো ১০% জরিমানা আদায়ের নোটিস দিয়ে তাকে অব্যহতি দেয় NBR। অবশেষে আমাকে দেয়া পুরো ব্লাকমানি কামরুল সাহেবের দেয়া ট্যাক্সে হোয়াইট-মানিতে পরিণত হয়। প্রতিশোধের নেশায় কামররুল একদিন অফিস পিওনের হাতে লিজার বিয়ের "নিমন্ত্রণ কার্ড" প্রেরণ করে আমার কাছে। নিজে ফোন করে জানায়, আমি যদি বাপের ব্যাটা হই, তাহলে যেন লিজার বিয়েতে যাই আমি।
:
সত্যি লিজার বিয়ের হচ্ছে, খবর শুনে অনেকদিন পর ডুবজলে মৃতপ্রায় প্রেমিকার জন্যে ব্যাকুল শুশ্রুষাময় ভালবাসা জেগে ওঠে আমার! পৌরুষময় প্রেমভরা যৌবনময় নদীবক্ষা নারী লিজার সামনে দাঁড়াতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই আমি আবার। কিন্তু ততক্ষণে লিজা বৌ-সাঁজে বসে আছে কানাডা ফেরত ডক্টরেট পাত্রের পাশে। জীবনের পদে-পদে বন্ধুরতার পথের করুণ কষ্ট বুকে চেপে লিজাকে বলি, লিজা সত্যি তোমাকে ভালবাসি! লিজা শহুরে গু-খোর কদর্য কাকেদের মত ঘৃণিত প্রাণি মনে করে তাকায় আমার দিকে। ক্ররচোখে বলে, তোমাকে কখনো ভালবাসিনি আমি। আমার বর উচ্চশিক্ষিত PhD-ধারী, যা কখনো হতে পারবে না তুমি। স্তন্যপায়ী জননের প্রেমজ শব্দভুখ ভাষার চাতুর্যে একটুও ভোলাতে পারিনা লিজাকে। লিজা পাশে দন্ডায়মান কাজীকে তাড়া দেয়, কাবিন লেখা শেষ করার জন্যে তাড়াতাড়ি।
:
অবশেষে প্লাবনে ডোবা অসহায় বালকের ত্রিতাল জীবনোধের মত ভাই কামরুলের সামনে দাঁড়াই দৃঢ়চিত্তে আরেকবার। বলি, ভাইজান আপনার থেকে নেয়া পুরো টাকাটাই আমি ফেরত দিয়েছি আজ আপনার একাউন্টে, হয়তো এখন জমা হয়ে গেছে। তারপরো এখন আমি সফল ব্যবসায়ী আপনার মতই। লিজা ছাড়া কাউকে ভালবাসিনি আমি এ জীবনে। এখন ইচ্ছে করলে সুন্দরী অনেক নারী বিয়ে করতে পারি আমি। কিন্তু আমিতো লিজাকেই চাই। আমার কথা শুনে ব্যবসায়িক দৃষ্টিতে কামরুল সাহেব তাকান আমার দিকে। বলে হ্যা, একজন শিক্ষিত প্রফেসরের চেয়ে তুমিই যোগ্য পাত্র লিজার জন্য। তোমার কাছেই লিজাকে বিয়ে দিতে চাই আমি। কিন্তু লিজা রাজি হয়না কোনভাবেই। সে কিছুতেই বিয়ে করবেনা আমাকে। ভাইর অনুরোধেও একপা টলেনা সে। বরং জেদি বালিকার মত বলতে থাকে, এখনই বিয়ে হবে এবং ঐ প্রবাসি পাত্রের সাথেই। লিজার এমন আচরণে পাতানো বোনের নষ্ট রাখীর কষ্টের মত কষ্টবাতাসে পুড়তে থাকি আমি। এবং বেড়িয়ে যেতে চাই এ গুমোট বিয়েবাড়ি থেকে।
:
লিজার পাশে বসা বিয়ের পাত্র এসব নাটকীয়তায় বিমর্ষচিত্তে বলে, লিজাকে বিয়ে করবেনা সে। কিন্তু লিজা বিতর্ক জুড়ে দেয় তার সাথে। মানে সে বিয়ে না করলেও, লিজা বিয়ে করবেনা আমাকে। অপমানের দহনে অচেনা শব্দগহ্বর হেঁটে-হেঁটে নবতর জীবন শব্দের খোঁজে বাইরে নেমে যাই আমি। হ্যাঁ, একদম রাস্তায় নেমে যাই বিয়ে-বাড়ির বহুতল ভবনের ঠিক নিচেই। কিন্তু প্রচন্ড গোলমাল আর শব্দে ওপরে ঘার তুলে তাকাতেই দেখি, ৮-তালা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ছে লিজা। হ্যাঁ! আত্মাহুদি দেবে সে আমার সামনেই। এবং বিলুপ্ত ভালবাসাহীন বিষাদের গহীন বোধ আর বোধিদের তুচ্ছ করে আত্মাহুতি দিতে লাফ দেয় লিজা ভেজা ভূমিতে। সাতাশ বছরের ভালবাসাহীন কষ্টজীবনের মন্বন্তরে হাঁটা পথে দৃঢ়তর ঘুরে দাঁড়াই আমি। আমার সত্যিকার ভালবাসার সপ্তবর্ণা রক্তিম শৈল্পিক তাবিজ কবজে দু-হাত পেতে আঁকড়ে ধরি লিজাকে! রোমান্টিকতার বুনো বাতাসে ভরা তুমুল ফাল্গুনের ঘ্রাণে কি এক অমোঘ শক্তিমত্তায় লিজাকে ক্যাচ করি আমি। যেন আমি ভালবাসাময় নিটোল জীবনের দক্ষ এক প্রেমক্রিকেটার! আমিই যেন বৈশ্বিক টেন্ডুলকার!

[গল্পটি দক্ষিণ ভারতের একটা সিনেমার ছায়ায় লিখিত]

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 4 ঘন্টা 32 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর