নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঙালী ফকির চাষী
  • মারুফুর রহমান খান
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

মানুষ ধর্ম ছাড়েনা, উল্টো ধর্মই মানুষকে ছেড়ে দেয়৷


আমি জন্মগতই একজন নাস্তিক৷ পারিবারিক ভাবে ধর্ম আমার ছিলো কিন্তু নিরীশ্বরবাদী ছিলাম বুঝ হবার পর থেকে৷

ধর্ম ছিলো আবার নাস্তিক এ কেমন কথা!? হ্যাঁ ঠিক এ কারণসহ আরো কিছু কারণে প্রচলিত ধর্ম হতে আলাদা হওয়া৷ পারিবারিক আমি বৌদ্ধ পরিবারের সন্তান৷ আগে তর্ক চলত মাঠে ময়দানে বন্ধুর আড্ডায়, পরে আসি অনলাইনে৷ তবে সেটা ছিলো শুধু ঈশ্বর ঘিরে৷

আমি ধর্ম ছাড়িনি, ধর্মই আমাকে ছেড়েছে৷ নাস্তিকতা করি তিন বছর গত৷ কারো হাত ধরে, কারো বই পড়ে নাস্তিকতায় পা রাখিনি৷ বলতে গেলে লিখতে লিখতে এই পথে চলে আসা৷ আমি প্রায়ই লিখে এসেছি নারী নিয়ে, দারিদ্রতা নিয়ে, ক্ষুধা নিয়ে৷ এসব নিয়ে লিখতে গিয়ে আমার লেখায় চলে আসে ঈশ্বর, চলে আসে ধর্ম, যা আমি বাস্তবের সাথে মিলাতে পারিনি৷ আমি সমাজ ধাপানো একজন এবং বাস্তবতাকে খুব কাছ থেকেই দেখে এসেছি ছোট হতেই৷ সমাজ নিয়ে লিখতে আমার অতীত যথেষ্ট৷ আমি সমাজের বাস্তব চিত্রই সব সময় তুলে এনেছি লেখায়, যা হয়ে উঠেছে অনেকের কাছে যুক্তির, অনেকের কাছে ভালো লাগার, অনেকের কাছে চিন্তার, অনেকের কাছে নিন্দার৷ কিন্তু অস্বীকার করা খুব কঠিন কেননা আমি যা হয় তাই বলে এসেছি৷

ধর্মের কাল্পনিক গল্প আর তার ভক্তি আমার পছন্দ নয় কারণ মানুষকে হেয় করা ছাড়া তা আর কিছুই নয়৷ মানুষকে হেয় করা মানেই আমাকে হেয় করা৷ অর্থ্যাৎ ধর্মই আমাকে বাদ দিয়ে মাটি পাথরের দেব দেবী কিংবা নাই কিছুকে বড় করে এসেছে হাজার হাজার বছর ধরে৷ ধর্মকে যতটা টাকায় ধনে মানে রাখা হয়, গরীব দরিদ্র অসহায় ক্ষুধার্তকে তার এক পয়সা দাম দেয়না ধর্ম ডাকাতগণ৷ আরো বড় হলো ভিখারীর ভিক্ষা করে আনা টাকাটাও নিতে বাঁধেনা তাদের মগজ গুলিয়ে৷ ঘাম জড়ানো টাকায় গরীব মেহনতি মানুষগুলো উপার্জন করে আর ধর্মঘর সাজায় ধর্মগুরুরা রাজকীয় চলা ফেরা করে ঐ গরীবের টাকা হাতিয়ে এটা ওটা বলে৷ তাদের ঘরের চালা দিয়ে পানি পড়ে অথচ ধর্মঘরে টাইলস আর আলোকসজ্জা যখন কোন মানুষের পিদিমের কেরোসিনই নেই৷ অবশ্য মগজে যাদের জ্বালানি নেই তাদের জ্বালানির লোভ দেখানো সহজব্যপার এবং তা দিয়ে ঠকানো সহজ৷ মানুষ খাক না খাক, মূর্তির সামনে পূজার ঢালা সুসজ্জিত৷ গরীব চায় পায়না, মূতি পায় খায়না৷ এতটুকু বোধ জাগেনা, ক্ষুধা কার? কে খাবে?

বৌদ্ধ ধর্ম যুক্তির মুক্তির বলে চিৎকার করলেও মন্দিরে তার মুক্তি আর যুক্তির কি ছিরি তা দেখা যায়৷ জগতের সকল প্রাণী সুখি হোক বলে ইট, পাথর, বালি, লোহা, তামা, সিলভারের পায়ে খাবারের সমারোহ ঢালা এক রকম মূর্খতা৷ যদি যুক্তিতে যাই তখন আসে তীর্যক প্রানী অর্থ্যাৎ পশু পাখির কথা পূজা বাঁচিয়ে রাখতে, ধর্মমুখী করে রাখতে মানুষকে৷ যেখানে বৌদ্ধ সম্প্রদায় নাই যেন সেখানে তীর্যক প্রাণী নাই সব বিলুপ্ত এ ধরণের কথা বার্তা৷

কল্পিত ঈশ্বর অস্বীকার করে আবার কল্পিত স্বর্গ নরক খোঁজা হয়৷ স্বর্গ নরক থাকতে পারলে ঈশ্বর কেন থাকবে না, ঈশ্বর না থাকলে স্বর্গ নরক থাকে কিভাবে এই বোধটুকু জাগ্রত হয়নি৷ পাতালে নাগ আসলে জীবন্ত অরহৎ "উপগুপ্ত ভিক্ষু" হাজার হাজার বছর বেঁচে আছেন, এ যুগে এসে এক সময়ের যুক্তিবাদী দার্শনিক গৌতম বুদ্ধের অনুসারীরা কিভাবে ভাবেন? ধার্মিক হলেও একটা ব্যপার বুঝা খুব কঠিন নয় যে বুদ্ধ যেখানে জীবিত নেই সেখানে ভিক্ষু কিভাবে কী?

যদি ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করা হয় যে আটাশ বুদ্ধের তালিকায় একটাও নারী নেই কেন? বলতে পারবে না আর বললেও পুরুষতান্ত্রীক উত্তর আসবে অথবা ধর্ম মানিয়ে উত্তর হবে৷ অথচ খুব স্পষ্টই বলা আছে বুদ্ধ শব্দের অর্থ জ্ঞানী৷ এক্ষেত্রে জ্ঞানী লোক মাত্রই বুদ্ধ, হোক সে নারী আর পুরুষ৷ হোক রোকেয়া সুফিয়া কিংবা তসলিমা?

যারা বুদ্ধের বাণীকে মন্ত্র বলে ঘরের দেবতা ভূত তাড়ায় তাদের কাছে যুক্তির কোন স্থান নেই তাদের তুলে আনাটাও কষ্টকর৷ কল্পনা ব্যতিত একটা ধর্ম তৈরী হয়নি৷ পঞ্চশীল অষ্টশীল ধর্মীয় গুরুরা গৃহীদের দিয়ে থাকেন কিন্তু তারাই মানেন না৷ হাস্যকর হলেও সত্য যে সকল প্রাণীর সুখ কামনার এই সম্প্রদায় শীলের প্রথম স্তম্ভটায় মানেন না বাকীগুলো দূর৷ "পাণাতিপাতা বেরমণী" হলো প্রথম শীল অর্থ্যাৎ প্রাণীহত্যা থেকে বিরত থাকা৷ প্রাণী ভক্ষন করে সকল প্রাণী সুখি হোক বলে এমন হাস্যকর উপস্থাপন আর কি আছে? এ কথা বললে তারা যুক্তি দেন আমি হত্যা করিনি, আমি না খেলে কি ঐ মাংস পঁচে যাবেনা? আর কেউ কি তা খাবেনা? কেউ না খেলে কি নষ্ট হবেনা?

এমন কথার উত্তরে নাগসেন আর রাজা মিলিন্দের প্রশ্ন উত্তর টেনে বলতে পারি৷ নাগসেন মিলিন্দরকে প্রশ্ন করেছিলেন মহারাজ! ধরুন একটি চোর কারো গাছের আম চুরি করলো৷ গাছের মালিক চোরটিকে ধরে আপনার কাছে এনে বললো- মহারাজ! এই লোক আমার আম চুরি করেছে আপনি এর বিচার করুন৷ তখন চোরটি বললো না মহারাজ আমি ওনার আম চুরি করিনি, এই লোক যে আম লাগিয়েছিলো আর আমি যে আম ছিড়েছি দুটোই ভিন্ন৷ অর্থ্যাৎ গাছের মালিক যে আম থেকে চারা লাগিয়েছিলো আর চোর যে আম চুরি করেছে দুটো আম এক নয়৷ নাগসেন রাজাকে প্রশ্ন করলেন এখন কি ঐ চোর শাস্তি পাওয়ার যোগ্য? রাজা উত্তর দিলেন হ্যাঁ অবশ্যই শাস্তির যোগ্য৷

এখন একই জায়গায় যদি নাগসেন বলেন মহারাজ! কসাই যে প্রাণী কেটেছিলো আর আমি যে মাংস ভক্ষন করেছি দুটো এক নয়৷ ঐটার প্রাণ ছিলো এটার প্রাণ নেই৷ তাহলে কি আমি পাপি? এবার এ প্রশ্নের উত্তর কি হবে? মিলিন্দ প্রশ্ন নিয়ে বৌদ্ধরা খুব যখন নাচেন তবে মিলিন্দ প্রশ্ন নিয়ে প্রথম শীলে প্রশ্ন তুললাম?

কুণাল জাতকে গেলে বুঝা যায় বৌদ্ধ ধর্মের এ অংশ কতটা নারী বিদ্বেষী, কতটা হীন মন মানসিকতার, কতটা নোংরা পুরুষতান্ত্রীকতার! এসব গল্প বুদ্ধের মুখে শোনা কখনোই হতে পারেনা, যা দিয়ে তারা ব্যবসা করছে লোক ঠকাচ্ছে৷ বৌদ্ধরা বুদ্ধকে শ্রদ্ধা সম্মান নয় বরং সব সময় ছোট করেছেন ধর্মের নামে, ব্যবসার নামে৷ এ ধর্মগুলো সবসময় মানুষকে হেয় তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছে, ভেবিচার, অত্যাচার, অনাচার করেছে৷ আমিওতো সেই মানুষ তবে আমি ধর্ম ছাড়লাম কই? আমাকেই ধর্ম মানুষ নামে দাস করে রেখে ছেড়ে দিয়েছে, আমাকে আমার মূল্যায়ন হতে আলাদা করে দিয়েছে, ধর্ম নিজ স্বার্থে আমাকে ত্যাগ করেছে৷ মূল কথা হলো আমরা একটু সমাজ ধর্মের দিকে নিরপেক্ষ হয়ে যদি ভাবি সব চোখের সামনে চলে আসবে আসলে ধর্মগুলো আমাদের কিভাবে বেকুপ বানিয়ে রেখেছে৷

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঙালী ফকির চাষী
কাঙালী ফকির চাষী এর ছবি
Online
Last seen: 1 min 32 sec ago
Joined: শুক্রবার, ডিসেম্বর 29, 2017 - 2:02পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর