নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • গোলাম রব্বানী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • অনন্য আজাদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আব্দুল্লাহ্ আল আসিফ
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • মিশু মিলন
  • সত্যর সাথে সর্বদা

নতুন যাত্রী

  • ফারজানা কাজী
  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান

আপনি এখানে

রাজনীতির ওপিঠ: ইকরামুল শামীম


১.
আমার মাথায় হিরে, মনি-মুক্তা এবং হরেক রকম দামী পাথরের মুকুট। আমি সিংহাসনে বসে আছি। দাসীরা আমার চতুরপাশে। প্রজারা আমায় কর দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি অট্টহাসির ভয়ংকর শব্দে নিজেকে মাতিয়ে তুললাম। হঠাৎ কানে কাছে রিংটোন বেজে উঠতেই আমি প্রায় দেড়যুগ পুরোনো বিছানা চাদরের উপর নিজেকে আবিষ্কার করলাম।
ফোন রিসিভ করার পর আমাকে জানানো হলো পত্রিকা অফিস থেকে বিকেলে গিয়ে কিছু অনার মানি নিয়ে আসতে। মনে মনে খুব খুশি হলাম। কারণ পকেটে আছে মাত্র সতের টাকা। বিছানা ছেড়ে তিন বছরের আধা মরা ব্রাশটা মুখে দিয়ে বাথরুমে গেলাম। সেখানের কাজকর্ম সেরে মুড়ি আর বিস্কুট জল দিয়ে খেয়ে নিলাম। রাতে বিড়ির যে অর্ধেকটা রেখেছিলাম তা নিয়ে আবার ধরালাম। কি করবো! অভাবী মানুষ আমি, তার উপর আবার বিড়ির নেশা। তাই প্রতিদিন বিড়ি খাওয়াটা আমার এমনই হয়।

ঘর থেকে যখন বের হলাম তখন চিন্তায় পড়ে গেলাম। পকেটে আছে সতের টাকা। পত্রিকা অফিসে যেতে লাগবে পনের টাকা। তাহলে তো আমি চা সিগেরেট কিছুই খেতে পারবো না।
না! হেঁটে হেঁটেই যাই। বরং সাশ্রয় হবে। লেখার কিছু শব্দ হয়তো খুঁজেও পাবো।

খানিকটা হাঁটার পর দেখলাম মিছিল আসতেছে, যার স্লোগান ছিল- "ডালিয়া আপার আগমন, শুভেচ্ছার স্বাগতম"। বাপরে! মহিলা নেত্রীর জন্য এতো বড় মিছিল! কোনোরকম ঠেলেমেলে জনস্রোত পার করলাম। পত্রিকা অফিসে গিয়ে একঘন্টা বসে আমার সাপ্তাহিক অনার ষোলশত টাকা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। হঠাৎ আমার কেন জানি মনে হলো, ডালিয়া নামক ব্যাক্তিটির সাথে আমার কোনো একসময় পরিচয় ছিল। তাই ঠিক করলাম সভার মাঠ দিয়ে যাবো।

পকেটে যখন আজ টাকা আছে তাই একটা B&H সিগেরেট আর মেশিনে বানানো চা নিলাম। সিগেরেট ধরিয়ে একটান দিতেই কানে আসলো, এখন আপনাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিবেন আমাদেরই কৃতি সন্তান, গরীব-দুখীর পরম বন্ধু,অসহায়দের সহায়ক ডালিয়া আপা তার মূল্যবান বাক্যদান করিবেন। আমি সিগেরেট নিভিয়ে বাকী অংশ পাঞ্জাবির পকেটে রেখে শত শত শ্রোতাকে ডিঙিয়ে মাঠের মাঝ অবদি গিয়ে হাঁপিয়ে গিয়েছিলাম। তাই সামনের দিকে এতো মানুষকে ঠেলে যেতে পারিনি। দূর থেকে তার ভাষণের কিছু মূল্যবান বাক্য শুনে চলে এলাম।

ডালিয়া আপার চুল পাঁকা ধরেছে, আমারও তাই। সেই কবে তার সাথে পরিচয় ভাবতে ভাবতে হাঁটা শুরু করলাম। ফিরে গেলাম সেই যুবক বয়সে।

২. স্কুল জীবনে আমার মা নারিকেল পাতার শলা দিয়ো মার দিবে বলে খুব ভয় পেতাম। তাই নিয়মাফিক চলতে হতো। যখন কলেজ জীবনে পা দিলাম তখন একটু স্বাধীনতা দিলো। কিন্তু রাজনীতি বা কোনো সংগঠনের সাথে জড়িত না হওয়ার উপর ১৪৪ধারা জারি ছিল। তাই ক্লাশ শেষ করে বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা মেরে বাড়ি ফেরতাম। এই ছিলো আমার দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্তের জীবন।

রাজনীতিতে কেনো নিষেধ ছিলো তখন বুঝিনি তবে যেদিন বুঝলাম সেইদিন অনেক পথ এগিয়ে। রাজনীতি নিয়ে কোনো এক কাগজে আমি আর্টিকেল লিখেছিলাম। আর্টিকেলটি ছিল-

" আমি ভয় পাই নাই কিন্তু অবাক হলাম যখন আমাদের উপর নষ্ট ছায়া পড়েছে ঠিক তখনই আমাদের নষ্ট ছায়ার প্রতিবাদ করতে পারবো না বলে জানিয়ে দিলেন। অথচ সেইদিন বাংলাদেশের কয়েকটা জেলায় ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। I hate selfish. দেশের জন্য কাজ করবো, জীবন গেলে যাবে তাতে পিঁছ পা আমি হবো না। তার জন্য আমাকে কোনো দলের কিংবা সংগঠনের হয়ে থাকতে হবে এমনও কিন্তু নয়। ১৯৭১সালে অনেকেই ছিল যারা নিষ্ক্রিয় ছিল কিন্তু দেশের তরে যুদ্ধে যাপিয়ে পড়েছিল। প্রাণের তোয়াক্কা করে নাই। আর যুদ্ধে কিছু স্বার্থবাজ মানুষ পাকিস্তানীদের দোসর ছিল, যাদের আমরা রাজাকার হিসেবে চিনি। তারা এখন সুবিধা ভোগ করছে স্বাধীন বাংলার। ঠিক তেমনই এখন আমি বা আমাদের মাঝে কয়েকজন রয়েছে যারা নিজের সুবিধার জন্য প্রতিবাদমুখী মানুষগুলোকে মাইনাস করে নিজ ধান্ধায় লিপ্ত হচ্ছে। ধিক্কার জানাই।

আমি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। ১৯৬৩ইংরেজীতে আমার দাদা মুসলিমলীগের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ছিল। আমার পিতা আমাদের জেলার উত্তারঞ্চলে যেখানে মুসলিমলীগের আখড়া এবং বর্তমান বিএনপির আখড়া সেখানে আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু বিনিময়ে দল থেকে কিছুই গ্রহণ করেননি। কারণ তিনি বা তাঁরা দেশকে ভালবেসে দলের জন্য করেছেন। আমার পিতাকে যখন মুক্তিযুদ্ধের সনদ এনে দিল, তখন তিনি তা গ্রহণ করেননি বরং বলেছিলেন পাকিস্তানীদের নিপীড়ন থেকে মুক্তির আশায় শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধ করেছি, তার জন্য বিনিময় কেনো নিবো? ঠিক তেমনই আমার বড় ভাই স্বৈরাশাসক এরশাদ বিরোধীর আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী ছিলো এবং গনভবনে এরশাদ সাহেবকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বের হয়েছেন। বিনিময়ে আওয়ামীলীগ থেকে কিছুই গ্রহণ করেননি। আর আমিও তাই।

বর্তমানে যারা দল বা রাজনীতি করে এবং দলীয় পদ-পদবীতে আছেন তাদের কাছে জানতে চাই দেশ কিংবা দলের জন্য কি করেছেন? শুধু দিবসগুলো আসলে ফুল কিংবা মঞ্চে বুলি ছোঁড়েন আর নেতাদের থেকে দুই চার পয়সা কামানোর জন্য তাদের পা চাঁটেন।

আমি কষ্ট পেলাম। তবে প্রমাণ করেছি আমরা ক্ষমতা রাখি সন্ত্রাসীদের মনে ভয় জাগিয়ে তোলার। আমার কিছুতে সম্পৃক্ততা থাকার প্রয়োজন দেখছি না। কারণ মরলে মা কাঁদবে, বাবা কাঁদবে আর ভাই-বোন কাঁদবে।

যাইহোক, আমি থেমে থাকবো না। আমি আমার মেধাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম শক্তিতে দেশের জন্য করে যাবো। "জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু"

উক্ত লেখাটি যখন লিখেছিলাম তখন অনেক শুভাকাংখী ও নামী-দামীসহ কয়েকজন সাংসদ জানার জন্য কল দিলো যে হঠাৎ ক্ষ্যাপামি ক্যান "

এইসব ভাবতে ভাবতে আমার বাসার সামনে রফিকের চায়ের দোকানে না বসে আজ একটি উন্নতমানের রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করলাম। যেহেতু আমি আজ ষোলশত টাকা অনার মানি পত্রিকা অফিস থেকে পেয়েছি তাই পনেরদিন পর ভাত খেতে বসলাম। রেস্তোরাঁয় বসেই আছি, ওয়েটারগুলো আমার দিকে তাকাচ্ছেই না। ক্যান তাকাচ্ছে না প্রথমে বুঝতে পারি নাই। পরে বুঝলাম যে আমার গায়ে কুঁচকানো একযুগেরও বেশি অনেকটা রং ঝলা পাঞ্জাবি এবং আধ মরা চাইনিজ বাটন মোবাইল দেখে তারা আমার কাছে আসেনি। আমি ম্যানেজারের ডেক্সে গিয়ে বলার পর ওয়েটার অর্ডার নিতে আসলো। অনেকদিন পর পেট পুরে খাসির মাংস দিয়ে তুষ্টি করে ভাত খেলাম। আসার সময় ওয়েটারকে বিশ টাকা দিলাম। ওয়েটার আমার চোখের দিকে তাকিয়ে....।
রেস্তোরাঁ থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ অনেক পুরুনো পরিচিত এক পুলিশ সুপারের সাথে দেখা।

আরে ধ্রুবো ভাই! এতোদিন কোথায় হারিয়েছিলেন?
............................চলবে।

ইকরামুল শামীম

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ইকরামুল শামীম
ইকরামুল শামীম এর ছবি
Offline
Last seen: 6 দিন 13 ঘন্টা ago
Joined: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 7, 2017 - 7:42অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর