নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মারুফুর রহমান খান
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

দুই ভাই


আকস্মিক আপন ভগ্নিপতিতে রাগে হত্যা করে, তারপর নিজ বোন আর ভাগ্নিকেও শেষ করে ফেলবে, এমন কথা কল্পনাও করেনি বৌডুবি গাঁয়ের ভদ্র নীরিহ সাকিব আর জহির। হত্যা শেষে তারা ফিরে আসছে নিজ গাঁয়ে ছোটবোনের বাড়িতে, যা একটু আগে ফোনে জানিয়েছে তারা বোন ইভাকে।
:
অথচ এরা ঢাকা এসেছিল মাত্র ছ'মাস আগে একটা কাজের সন্ধ্যানে। কিন্তু নানাস্থানে ঘুরেও ভাল কোন কাজের ব্যবস্থা না করতে পেরে, অবশেষে আপন বড় বোনের বাসায় ওঠে সাকিব আর জহির দুভাই। রাতে বোনের পরামর্শে নিজ ভগ্নিপতির কাছে ১-লাখ টাকা ঋণ হিসেবে চায় তারা, যা দিয়ে ভ্যান তথা ঠ্যালাতে রেডিমেট কাপড় বিক্রি করবে তারা ঢাকার ফুটপাতে। নানা ব্যবসায়ে জড়িত তুখোড় বোনজামাই মফিজ ঠোঁট উল্টে বলে - "ঢাকার ফুটপাতে ব্যবসা করা কি বৌডুবি গাঁয়ের মাঠে ফুলবল খেলা পেয়েছো? এটা করতে গেলেই দেখবা কত চাঁদাবাজ, কত পুলিশ, কত ঝক্কি। দুদিনেই শেষ করবে আমার ১-লাখ টাকা, যা আর কোনদিন শোধ করতে পারবে না তোমরা। শেষে চোখের জল মুছতে মুছতে আমার কাছেই আসবে তখন। আমি পারবোনা এক পয়সাও ধার দিতে তোমাদের মত বলদ শালাদের"।
:
অনেক অনুরোধ করেও বোন রাজি করাতে পারলো না স্বামীকে তার বেকার সহজ-সরল দুভাইকে লাখ টাকা ধার দিতে। অপমানিত হয়ে মন খারাপ করে চলে গেল দুভাই অন্যত্র। মোবাইল দোকান থেকে ফোন করলো বৌডুবি গাঁয়ে কর্মরত স্কুল টিচার ছোটবোনকে। খুলে বললো, ১-লাখ টাকা এবং নিজ বোনজামাইর আচরণ। শুনে খুব কষ্ট লাগলো ছোটবোন টিচার ইভার। বোনের মমতায় আবেগ ভরে বললো - "আচ্ছা তোমরা বাবার গাঁয়ের জমিটা বিক্রি করে ১-লাখ টাকার চালান জোগার করছো না কেন"? অসহায় সাকিব আর জহির বলে - "তাতে তো তোমাদেরও অংশ আছে দুবোনের। কিভাবে বিক্রি করি তা আমরা"? মা-বাবাহীন বেকার ভাই দরদি ইভা বলে - "গ্রামে এসে তোমরা জমি বিক্রি করো ব্যবসার টাকার জন্যে। আমার কোন দাবী নাই ঐ জমিতে, আর বড়পাকেও বুঝিয়ে বলবো আমি, যাতে তোমরা একটা কিছু করে খেতে পারো"।
:
ছোটবোনের কথায় গ্রামে ফিরতে মনস্থির করে ২-ভাই কিন্তু গাঁয়ে ফিরতে বাসভাড়া বাবদ অন্তত এক হাজার টাকা লাগবে তাদের দুজনের। তাই আবার গেল বোনের বাড়ি। বাড়ি ফেরার টাকাও নেই দুই শ্যালকের, এমন কথায় ঠোঁট উল্টে তাচ্ছিল্যে ১-হাজার টাকা ছুঁড়ে দেয় স্ত্রীর ২-ভাইর দিকে। বলে - "এ টাকা আমি দান করিনি, লোন দিয়েছি। জমি বিক্রি করে আগামি ১-সপ্তাহের মধ্যে এই ১-হাজার ফেরত না দিলে, প্রতিদিন ৫০০-টাকা জরিমানা দিতে হবে তোমাদের মনে থাকে যেন, বুঝলে শ্যালক ধনেরা"?
:
গাঁয়ে ফিরে চাষি জমি বিক্রি করতে প্রায় দুমাস লেগে গেলো দুভাইর। কারণ গাঁয়ের মানুষের জমা টাকা থাকেনা ব্যাংকে । তাই লাখ টাকা জোগার করে জমি কেনা সহজতর নয় গাঁয়ের কৃষকের জন্যে। তা ছাড়া শরিকানা জমি বিক্রিতে সিএ, এসএ রেকর্ডসহ নানাবিধ আইনি জটিলতায় পুরো দুমাস লাগলো দুভাইর। অবশেষে ঢাকা ফিরলো তারা ভ্যানের ব্যবসা ধরতে। এসেই ভ্যান বানাতো দিলো চানখারপুলে। খোঁজ নিতে লাগলো পাইকারি কমদামি পোশাক মার্কেটের। যেখান থেকে সস্তায় রেডিমেট জামাকাপড় কিনবে তারা। কিন্তু মহাসড়কে আকস্মিক দেখা হলো বোনজামাই মফিজের সঙ্গে একদিন। সাথে তার দুই সাথী, তাদের নিয়েই ঝুটসহ নানাবিধ সুদের ব্যবসা করে নিজ বোনজামা্ই মফিজ। প্রথমে দেখেই মেজাজ তিরিক্ষি করে বলে
- "এই যে মার্চন্ট ব্যবসায়িরা। দুমাস হলো ১-হাজার টাকা নিয়ে গেলে। তারপর তোমাদের টিকিটিরও খোঁজ নেই? শুনলাম জমিও নাকি বিক্রি করেছো শ্বশুর মশাইর। তো আমার ভাগের টাকাটা কই শ্যালক ধনেরা"? কি একটা জবাব দিতে যাচ্ছিল ছোটভাই জহির, কিন্তু দুলাভাই তাকে জামার কলার ধরে বললো - "কালকে দিনের মধ্যে যদি আমার লোনের টাকা পরিশোধ না করো, তবে ঢাকায় ব্যবসা করা পাছার মধ্যে ঢুকাইয়া দেবো শ্যালক ভাইরা মনে রাইখো"।
:
অপমানে গা জ্বলে যায় সাবিক আর জহিরের। পরদিন বোনের ঘরে ঢৃুকেই মুখে একফোটা পানিও না দিয়ে, এক হাজার টাকার একটা নোট এগিয়ে দেয় বোনজামাই মফিজের দিকে। কণ্ঠে শ্লেষ এনে মফিজ বলে
- "কথা ছিল ৭-দিনের মধ্যে টাকা না দিলে প্রতিদিন ৫০০ টাকা জরিমানা দিবা। জমি বিক্রি কইরাতো অনেক টাকা পাইলা। ঐ জমির ভাগ চাইনা আমি। জরিমানার ২০-হাজার টাকা দাও"।
এ নিয়ে কথাকাটাকাটি শুরু হয়ে মফিজ আর তার দুই শ্যালকের সাথে। রাগে ক্ষোভে এক পর্যায়ে ২-ভাইর সাথে হাতাহাতি শুরু হয় ভগ্নিপতি মফিজের সাথে। মফিজ ৪/৫-বার চুলে ধরে আঘাত করে শ্যালক সাকিবকে, চড় মারে গালে। ছোট শ্যালক জহির নিজেকে সামলাতে পারেনা আর, পকেট থেকে বের করে ধারালো চাকু, আর কাল বিলম্ব না করে তা ঢুকিয়ে দেয় সরাসরি দুলাভাই মফিজের বুকে। চিৎকার আর মারামারির শব্দে কিচেন থেকে বোন দৌঁড়ে এসে দেখে, নিজ স্বামী মফিজ খুন হয়েছে ২-ভাইর হাতে। ভয়ে আর্তচিৎকার দিয়ে ওঠে বোন। এবার কিছু না ভেবেই জহির গলায় জোরে পোচ দেয় নিজ বড় বোনের। গলনালি কেটে দুভাগ হয় বোনের আপন ছোট ভাইর হাতে। দুজনে পালাতে যা্চ্ছিল, এমন সময় দরজার পাশে ভয়ে কাঁপতে দেখে একমাত্র ভাগ্নিকে। বাইরে বের হয়েও আবার তারা প্রবেশ করে ঘরে। ফোন কল করতে দেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভাগ্নির উপর এবং তাকেও হত্যা করে তারা এক মিনিটেই। আকস্মিক ৩-টি হত্যাতে ৩-মিনিটের বেশি সময় লাগেনা সাকিব আর জহিরের।
:
দিনে দুপুরে এমন কান্ড করে কি করবে বুঝতে পারেনা তারা। ছোটবোনকে ফোন করে কষ্টকণ্ঠ বেল - "আমরা চলে আসছি বৌডুবির বাড়িতে বোন, ব্যবসা কপালে নাই আমাদের"। ব্যবসা করতে ঢাকা গিয়ে কেন চলে আসবে এখনই, বুঝতে পারেনা ছোটবোন ইভা। ফোন লাইন বিচ্ছিন্ন হয় তাদের। পরদিন পুলিশ আসে ইভার বাড়িতে সাকিব আর জহিরের খোঁজে। বলে
-"আপনার ২-ভাই খুন করেছে মফিজ আর আপনার বোন ও ভাগ্নিকে। ওরা কই আছে আপনি কি জানেন কিছু"?
এ খবর শুনে কি বলবে বুঝতে পারেনা ইভা। তার আপন বোনকে খুন করেছে, তারই আপন দুভাই, এ জটিল অংকের কোনই হিসেব মেলাতে পারেনা গণিত টিচার ইভা। স্বর্গের কান্নার মতো অবোধ শিশু হয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকে ইভা। জানেনা এ কান্না কিসের! অভাগা কৃষাণের নিষ্ফলা ক্ষেতের ঋণাত্মক বেদনার মতো ইভা তাকিয়ে থাকে বৌডুবির কাচা সড়কের দিকে, যে পথে ফিরে আসছে তার হন্তারক দুভাই। আর সেখানেই অপেক্ষারত পুলিশদল ঘাতক গ্রেফতারে!
(ঘটনাটি ভারতে সংগঠিত সত্য ঘটনার ছায়ায় রচিত)

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 3 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর