নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 3 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • কাঙালী ফকির চাষী
  • মারুফুর রহমান খান
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

নারীর বেলায় আস্তিক নাস্তিকের মনোভাবনা প্রায়ই স্ব-গোত্রীয়৷


নারী মা, নারী বোন, নারী স্ত্রী, নারী কন্যা এর চেয়ে বড় উদাহারণ লাগে না ভদ্র বা সাধু হতে৷ যখনই ভদ্র হবার প্রয়োজন পরে, তখনই নারী আসে মা হয়ে, বোন হয়ে, স্ত্রী-কন্যা হয়ে৷ নোংরা ঢাকতে নারী, নোংরা করতে নারী, হাসতে নারী, বাঁচতে নারী, ফাঁসাতে নারী, ভাসাতে নারী, অভদ্রতায় নারী, ভদ্রতায় নারী, সাধুতে নারী, যাদুতে নারী! চলছে সব কিছুতেই নারী৷

হুজুর হিট নারী বয়ানে, সমাজ হিট নারীর প্রয়াণে, নারী হিট পোষাকের শালিনতায়, বাহাদুরি হিট নারী চোষায়, যুক্তি হিট নারী দেখে হলেও খাড়া, মন্দ ভালো সবখানে হিট- নয়তো নারী ছাড়া৷

আস্তিক-নাস্তিক এর শত্রুতা এক ঈশ্বর, দুই ধর্ম৷ কিন্তু অধিকাংশই নারীর বেলায় এসে এক৷ ঈশ্বর আছেন, ঈশ্বর নাই এই নিয়ে যত ধ্বসা-ধ্বসি, দুজনই কিন্তু ঈশ্বর শব্দটা বাঁচিয়ে রাখে আর নারীর বেলায় মারে নারীকেই৷ আস্তিকের পুত্রের নাম নাস্তিক, এটা বাপ পুতের লড়াই৷ তারা যখন নারীর বেলায় আসেন তখন যুক্তির জন্য শক্তির প্রয়োজন পড়ে যার জন্য নারীকে এক এক পাল্লায় তুলে যার যার মত করে৷ এটা নিজ বাঁচাতে বিজ্ঞাপন মাত্র৷ কিন্তু চাপা রাখতে পারেনা ভেতরটা, চাপা রাখতে রাখতে এক সময় বিস্ফোরন হয়৷

যদি পোষাকের কথা টানি তবে নারীর পোষাক নিয়ে যতটা আগ্রহ নারীর নেই তার চেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যায় ধার্মিক এবং নাস্তিকের৷ নারী কি পড়বে নারী ঠিক করবে, মুখের কথা মাত্র৷ কেউ বোরকা ঠিক করে, কেউ ইচ্ছে করে হিজাব বোরকা পরলে সেটা নিয়ে তামাশা শুরু করে৷ কেউ জিন্স কিংবা শর্ট পরলে সেটা নিয়ে ফতোয়া দেয় আর কেউ পুরোটা উলঙ্গ প্রদর্শন করে ভাবেন আমিতো বড় নারীবাদী!! কেউ বস্তা ভরে মনে করে সম্মান আর কেউ পুরো পোষাক গা থেকে মুক্ত করে ভাবেন মুক্তি৷ তারা দুজনেই নারীর পোষাক ঠিক করে দেয় আবার কেউ হিজাব করলে তাকে নিয়ে তামাশা করছে আবার বলছে নারী কি পড়বে, কি পড়বে না সেটা নারী নিজে ঠিক করবে! এই হলো অবস্থা৷

নাস্তিকদের অধিকাংশই নাস্তিকতা নয় বরং ধার্মিকদের মত উগ্রতা করে যায়৷ বিজ্ঞানে বলা আছে মা বাবার কিছু বৈশিষ্ট্য সন্তান পায়৷ সেভাবে ধার্মীকের পুত্র নাস্তিকও বাইরে যেতে পারেনি৷ যেমন ধর্মকে তারা গঠনমূলকভাবে বিশ্লেষন করে মানুষকে না ফিড়িয়ে আক্রমন করে বসে৷ যেমন হিন্দুদের মাটির দেবীর শরীর দেখলে তাদের কাম জাগে৷ সামান্য একটা মূর্তি নিয়ে এভাবে মনোভাবনা আবার সেই তারাই কোন মৌলবি হুজুর কিংবা সাধারণ কেউ যদি কোন ভাস্কর্যের স্তনে কিংবা যোনি নিতম্বে হাত দেয় তখন লেগে পড়ে আর সমালোচনা করে ভাসিয়ে দেয়৷ অথচ একই গোত্রের মনোভাবনা৷ আবার কখনো যুক্তি তুলে বসেন সুনিল বলেছে, অমুক বলেছে তমুক বলেছে, যেন তারা বললেই এটা একমাত্র সত্য বলে স্বীকার করতে হবে, আমার যাচাই বাছাই বিবেচনা করার সুযোগ নেই৷ সুনীল বলুক আর রবীন্দ্র তাতে নারীকে টানা হচ্ছে৷ কারণ একই মন্ডবে পুরুষ মূর্তি নয়, নারী গঠনের উপর যত নোংরামী৷ যদি এই নারী গঠন দেখে কামনা জেগে যায় তাহলে ধার্মীকরাতো পোষাকের দোষই দিচ্ছিলো এবং দিচ্ছে, তবে তার আর আপনার মাঝে কতটা পার্থক্য?

মাঝে মাঝে নারীবাদীদের গালাগাল করতে দেখা যায় তাও নাস্তিকের মুখে৷ যদিও নাস্তিক হলেই সে মানুষ হয়ে যায় এমনটা নয়৷ তবুও যারা প্রকৃতই নাস্তিকতা করে, গঠনমূলক লিখে, ভাবে, চলে তাদের উপর চাপ পড়ে৷ নাস্তিকদের মুক্ত চিন্তক নামের কেউতো গালাগালি করে মা বোন নিয়ে, মুক্ত গালিগালি করে মুক্ত চিন্তা বেশ হাস্যকর করে তুলে আবার তারাই যুক্তি দেয় ধার্মীকের শেষ অস্ত্র গালি৷ অদ্ভূত হলো তারাই মাঝে মাঝে নারীর স্বাধীনতার কথা বলে আবেগে আপ্লুত হয় আবার তারাই অন্যের মাকে কুরুচির শব্দে টেনে আনে৷ দোষ যে করে সে ঠিকই পুত থাকে আর খানকি, মাগি জনিত শব্দগুলো বলে দোষির মাকে, বরাবরের মতই নারীর কপালে জোটে এসব৷

ধর্ষণের বেলাতে বিজ্ঞান খোঁজে নাস্তিক আর ধর্ম খোঁজে আস্তিকগণ৷ কোন নারীর প্রতি কেউ নোংরামী করলেও বর্তমানে সেটা ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে দাড়াচ্ছে৷ দাড়াচ্ছে ব্যক্তি আক্রমন হয়ে৷ নিজের একই বাদের বলে সেটা চাপিয়ে রাখতে যখন ব্যক্তিগত হয়, তখন আমরা ধার্মিকদের দোষ ধরি কোন মুখে তবে সেটাও ব্যক্তি আক্রমনে পড়ে যায়, তাই নয় কি? এভাবে নারী নির্যাতন , নারী নিয়ে নোংরামী যদি ব্যক্তি আক্রমন হয়, তবে নারীদের ঠিক একই ভাবে অতীতের মতোই উপস্থাপন করা হয়, দমিয়ে রাখা হয়, নারীকে শোষন করার পথ করে দেয়া হয়, নারীকে তার স্বাধীনতা ও সুন্দর জীবন যাপনে আঘাত করা হয়৷ যদি নারীর পক্ষে দাড়ানো হয় কাঁদা ছোড়াছুড়ি, তবে নারীরা হারায় তার প্রতি করা অপরাদের বিচার৷ দলের জন্য নারী বলি হয়৷

পুরুষতান্ত্রীকতাকে ধারণ করে আমি কিভাবে বলতে পারি আমি মানুষ? আমি প্রথা বিরোধী? আমি সমাজ সংস্কারক? আমি প্রতিবাদী? যদি স্ব-গোত্রের বলে আমি বলতে না পারি, প্রতিবাদ করা না যায় তবে আমি কিসের প্রতিবাদী? বরং আমি অন্ধ৷ আমি অন্যকে অন্ধ বলি কিভাবে কোন যুক্তিতে? প্রতিবাদ বাদ দিয়ে বিরোধীতা বাদ দিয়ে মুক্তচিন্তা কি সম্ভব? যদি না হবে প্রতিবাদ কিভাবে ব্যক্তি আক্রমন হয় আমার মাথায় আসেনা৷ এ থেকে বোঝা যায় আমরা নিজেরা কতটা উগ্র, দলান্ধ, নোংরা এবং স্ব-গোত্রীয়৷ ঠুঁটিতো শুধু আস্তিক, ধার্মিক, সরকার, নেতা-নেত্রী ধনী সবলরা চাপছে তা নয়! সুযোগে সবাই৷ নারীর বেলায় সেটা বহুগুন বেশি বেড়ে যায় কারণ তারাতো আজকের নয় বরং হাজার বছরের ঐতিহাসিক ভুক্তভোগী৷ অনেক পুরোনো ক্ষত তাদের জীবনে বার বার আমরাই করেছি, করছি৷ আমরা যতই বলি না কেন, বাপের বংশগত বৈশিষ্ট্য যে আমরা বহণ করছি, বদলাতে পারিনি? বংশ রক্ষা করছি সম্ভবত আমরা ছলে বলে কৌশলে, কোন মুক্তচিন্তা নয়৷ যতদিন মগজ হতে নারী না মুক্ত হবে ততদিন আমরা বোধ বন্ধী৷

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঙালী ফকির চাষী
কাঙালী ফকির চাষী এর ছবি
Online
Last seen: 1 min 53 sec ago
Joined: শুক্রবার, ডিসেম্বর 29, 2017 - 2:02পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর