নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

শিডিউল

ওয়েটিং রুম

There is currently 1 user online.

  • নুর নবী দুলাল

নতুন যাত্রী

  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান
  • নিলয় নীল অভি

আপনি এখানে

কোরানের আলোকে ইসলামের ইতিহাস (৬)


ফেরাউন একজন নাকি অনেকজন

এখনকার সাধারন জ্ঞানমতে মিশরের রাজাদের টাইটেল ছিল ফেরাউন। এর অর্থ দাড়ায় রাজা নারমার থেকে শুরু করে ক্লিওপেট্রা পর্যন্ত প্রায় শত খানেক ফেরাউন ছিল। এসব আপাতত ভুলে, কোরানে বর্ণীত ফেরাউন সম্পর্কে জানার জন্য চলুন কোরানের আয়াতগুলো নিয়ে গভিরভাবে পর্যালোচনা করি।

যেটা আমাদের প্রথমেই নজর কেড়েছে, তা হলো কোরানে কখনোই বহু ফেরাউনের (ফারাইন) উল্লেখ করেনি। কোরানে শুধুমাত্র মুসার সমসাময়িক একজনই অত্যাচারী শাসক ফেরাউনের কথাই বলা হয়েছে। কোরানে প্রায় ৭০ জায়গায় ফেরাউনের কথা এসেছে কিন্তু কোথাও এমন ইঙ্গিত ও পাওয়া যায় না যে "ফেরাউন" নাম নয় , এটা টাইটেল এবং আরো অনেক ফেরাউন ছিল।

{আর যখন আমি তোমাদের জন্য বাহারকে (الْبَحْرَ) দ্বিখন্ডিত করেছি, অতঃপর তোমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছি এবং ডুবিয়ে দিয়েছি ফেরআউনের লোকদিগকে অথচ তোমরা তাকিয়েছিলে। ২:৫০}

{আর মূসা বললেন, হে ফেরাউন, আমি বিশ্ব-পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত রসূল। ৭:১০৪}

{ফেরাউনের নিকট যাও, সে দারুণ উদ্ধত হয়ে গেছে।২০:২৪}

{অতঃপর ফেরাউন তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল এবং ইয়াম ( الْيَمِّ ) তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জত করল২০:৭৮}

এই আয়াতগুলো ফেরাউন নিয়ে কোরানের আয়াতের উদাহরন। ২:৫০ ও ২০:৭৮ আয়াতে "বাহার ও ইয়াম" শব্দদুটি খেয়াল করুন , আমরা এই শব্দদুটির অনুবাদ করিনি। এর তাৎপর্য পরে বলা হবে।

এতদিন পর্যন্ত আমরা জেনে এসেছি বা আমাদের জানানো হয়েছে যে, কোরানে যে মিস্‌রের কথা বলা হয়েছে তার রাজাদেরকে ফেরাউন বলা হতো এবং মুসার ফেরাউনের সমুদ্রে ডুবে মরার পরেও ক্লিওপেট্রা পর্যন্ত আরো অনেক ফেরাউন এই মিস্‌র শাসন করেছে। কিন্তু কোরান এটাকে অস্বীকার করে বলছে ভিন্ন কথা। কোরান বলছে ফেরাউনের ডুবে যাওয়ার পরে ইস্রাইলিরা মিস্‌র ও এর চারিপাশের উত্তরাধিকার/ মালিক হয়। অর্থাৎ মিশর শাসন করে ইস্রাইলিরা , অন্য কোন ফেরাউন নয়।

চলুন তাহলে চোখ খুলি ও পড়ি-

{অতঃপর আমি ফেরআউনের দলকে তাদের বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিষ্কার করলাম। এবং ধন-ভান্ডার ও মনোরম স্থানসমূহ থেকে।এরূপই হয়েছিল এবং বনী-ইসলাঈলকে করে দিলাম এসবের মালিক। ২৬:৫৭-৫৯}

{মূসা বললেন তার কওমকে, সাহায্য প্রার্থনা কর আল্লাহর নিকট এবং ধৈর্য্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই এ পৃথিবী আল্লাহর। তিনি নিজের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন এবং শেষ কল্যাণ মুত্তাকীদের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে।৭:১২৮}

{আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত তাদেরকেও আমি উত্তরাধিকার দান করেছি এ ভুখন্ডের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের যাতে আমি বরকত সন্নিহিত রেখেছি এবং পরিপূর্ণ হয়ে গেছে তোমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত কল্যাণ বনী-ইসরাঈলদের জন্য তাদের ধৈর্য্যধারণের দরুন। আর ধ্বংস করে দিয়েছে সে সবকিছু যা তৈরী করেছিল ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় এবং ধ্বংস করেছি যা কিছু তারা সুউচ্চ নির্মাণ করেছিল। ৭:১৩৭}

তাহলে বোঝাই যাচ্ছে কোরানের মিস্‌র ও ফেরাউন আর আমাদের জানা ইজিপ্ট ও ফেরাউন এক নয়, কারন কোন ইতিহাস বা উৎস থেকে আমরা কখনো শুনিনি যে ইস্রাইলিরা কখনো মিশর /ইজিপ্ট শাসন করেছে বা মিশরের মালিক ছিল। কোরানের আয়াত বলছে ফেরাউন ও তার সম্প্রদায় সুউচ্চ সহ যা কিছু তৈরি করেছিল ধ্বংশ হয়েছে। কিন্ত আমরা তো দেখি পিরামিড এখনো স্বমহিমায় দাড়িয়ে আছে।

কোরানের আয়াত অনুযায়ী মাত্র একজনই ছিলেন , যার নাম বা টাইটেল ছিল ফেরাউন এবং এর সাথে মুসার সাক্ষাৎ হয়েছিল। মুসার আগে বা পরে আর কোন ফেরাউন ছিলনা। এটা নিশ্চিতভাবে জানা যায় ১২ নং সূরায় ইউসুফের কাহিনির বর্ণনা থেকে। নবী ইউসুফ ও বনীইস্রালিদের যে কাহিনি বলা হয়েছে তার পটভূমি ও কোরানে বর্ণীত মিস্‌র। ধারনা করা হয় মুসার পূর্বসুরি ইউসুফ মুসার ১৫০ বছর পূর্বে মিস্‌রে বাস করতেন এবং সেই সময়ের মিস্‌রের শাসনকর্তার নাম ফেরাউন ছিলনা বা ফেরাউন নামে ও ডাকা হতোনা। তার নাম বা উপাধি ছিল "আল-মালিক" এবং তার অধিনস্ত এক শক্তিশালী রাজ কর্মচারীর নাম ছিল "আল-আজীজ" (জোলায়খার স্বামী)।ইউসুফের ঘটনা বর্ণনায় কোথাও ফেরাউন শব্দটি আসেনি।

তাহলে কোন জায়গায় আমরা ফেরাউনকে খুজব? ইজিপ্টে? অবশ্যই না। কারন শুধু যে কোরানের আয়াত বলছে মিস্‌র ইজিপ্ট নয় তা কিন্তু নয় , ইজিপ্ট ও তথাকথিত সিনাই পেনিন্সুলায় কখনো ইউসুফ , মুসা ও বনীইস্রাইলিরা ছিল তার কোন বাস্তব বা প্রত্নতাত্বিক প্রমাণ নেই। শুন্য সাক্ষ্যপ্রমাণ। যে কারনে অনেক স্কলার ও সমালোচকরা ইজিপ্ট থেকে বণি ইস্রাইলিদের দলবদ্ধভাবে দেশত্যাগের ঘটনাকে (Exodus) অতিকথা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

চলুন তাহলে এব্যাপারে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও স্কলাররা কি বলেছেন সেটা পড়ি-

১) ভিক্টর সিগল্ম্যান Victor Siegleman :

২০০৩ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ম্যগাজিনে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই নামকরা একাডেমিক বলেন যে : ফিলিস্তিনিদের জন্য ইস্রাইল রাষ্ট্রের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখলকৃত ভূমির জন্যই শুধু নয়। ঐতিহাসিকদের পরে এবার প্রত্নতাত্বিকদের পালা। তারাও সন্দেহ আরোপ করছেন যে , জায়োনিস্টদের যে দাবীর ভিত্তিতে ইস্রাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত অর্থাৎ প্রাচীনকাল থেকেই এভূমির উত্তরাধিকার তারাই , কারন বণী ইস্রাইল নামের একদল লোক ও তাদের নবী ও বাদশারা এখানেই রাজত্ব করেছেন, সুলাইমানের মন্দির (Solomon's temple) এই জেরুসালেমে অবস্থিত ইত্যাদি , সেই দাবীই ভিত্তিহীন। ইস্রাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহু খোড়াখুড়ির পরেও প্রত্নতাত্বিকরা ঐ মন্দিরের ধ্বংশাবশেষ বা সুলাইমানের রাজত্বের ছিটেফোটা নিদর্শন খুজে পায়নি। তাদের দাবীর স্বপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কিছুই পায়নি।

২) থমাস থম্পসন

১৯৯২ সালে "Early history of israelite people/ ইস্রাইলি জনগনের জন্মকালীন ইতিহাস" বইটি লিখে মত প্রকাশের জন্য বহিষ্কারের আগে পর্যন্ত থমাস থম্পসন ছিলেন আমেরিকার মিলুয়াকি শহরের মাকুয়েট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ববিদ্যা বিভাগের প্রফেসর। তিনি বাইবেলের ইতিহাসিকরনের নিন্দা জানিয়ে একাডেমিকদের প্রত্নতাত্বিক খননে পাওয়া নিদর্শন ও গ্রীক খ্রনিকলের মতো অইহুদি প্রাচীন তথ্যের ভান্ডারের উপরে নির্ভর করে এই অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাস পুনর্লিখনের আহ্‌বান জানিয়েছিলেন ২০০১সালে।

৩) কেইথ হুইটলাম

কেইথ হুইটলাম স্কটল্যান্ডের স্টার্লিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ব শিক্ষার প্রফেসর হিসাবে কাজ করার সময় বিখ্যাত বা অবিখ্যাত এক বই লেখেন , যার টাইটেল "প্রাচীন ইস্রায়েলের উদ্ভাবনা: ফিলিস্তিনি ইতিহাস নীরব করন"। ১৯৯৬ সালে লেখা এই বইতে থম্পসনের মতোই এ স্বীদ্ধান্তে পৌছান যে সত্যি সত্যিই পশ্চিমা-জায়োনিস্ট চক্রান্ত বিংশ শতাব্দির শেষভাগে অধিকৃত ফিলিস্তিনে আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্বিক ও নৃতাত্বিক গবেষনার ফলাফলকে গুরুত্বহীন দেখাতে তৎপর। এটা এই উদ্দেশ্যে যে প্রত্নতাত্বিক ও নৃতাত্বিক গবেষনায় বাইবেলে বর্ণীত প্রাচীন ইস্রাইলি জনগোষ্ঠীর এই অঞ্চলে বসবাসের গুরুত্বপূর্ণ কোন প্রমাণ পাওয়া না গেলেও ফিলিস্তিনি ভূমির উপর ইউরোপীয় ইহুদিদের দাবী প্রতিষ্ঠিত রাখা।

৪) জীভ হেরজগ / Ze'ev Herzog

হেরজগ বাইবেল সম্পর্কিত একাডেমিক ও প্রত্নতাত্বিকদের মাঝে উল্লেখযোগ্য এবং বিতর্কিত এক নাম। ১৯৯৯ সালের অক্টবরে ইজরায়েলের হারেট্‌জ পত্রিকায় তার একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় , যেখানে হেরজগ বলেন , " অধিকৃত ফিলিস্তিনে গত কয়েক বছরে ইজরাইলি প্রত্নতাত্বিকদের দ্বারা খননের ফলে যে সত্য বেরিয়ে আসছে , তা জানলে ইজরাইলি নাগরিক শুধু নয় সারা বিশ্বে বসবাসরত ইহুদি সহ সকলে হতবাক হয়ে যাবে। প্রাচীন ইস্রাইলি সম্প্রদায় সদলবলে মুসার সাথে দেশত্যাগের (exodus) পূর্বে ইজিপ্টে বাস করেছে বা সিনাই মরুভূমিতে ৪০ বছর যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়িয়েছে বা যুদ্ধের মাধ্যমে ফিলিস্তিন দখল করেছে , তার কোন চিহ্ন বা প্রমান খুজে পাওয়া যায়নি। বাইবেলে বর্ণীত ঐতিহাসিক ঘটনার সত্যতার কোন প্রমাণ প্রত্নতাত্বিকরা খুজে পায়নি।"

প্রিয় পাঠক উপরে বর্ণীত ৪ জন একাডেমিকের বক্তব্য থেকে আমরা এই উপসংহারে পৌছাতে পারি যে , সময় এসেছে ধর্মতাত্বিক ও জায়োনিস্টদের প্রপাগান্ডার উপরে নির্ভর না করে , প্রত্নতাত্বিক ও নৃতাত্বিক নিদর্শন কি বলছে , মাটি কি বলছে তার উপরে নির্ভর করে এই অঞ্চলের ইতিহাস পুনর্লিখনের। শুধু তখনই আমরা মধ্যপ্রাচ্যের সত্য পরিচয় এবং এর ইতিহাসে ইস্রাইলিদের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারব।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ফারুক
ফারুক এর ছবি
Offline
Last seen: 1 দিন 12 ঘন্টা ago
Joined: বুধবার, জুলাই 29, 2015 - 9:16অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর