নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মারুফুর রহমান খান
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

প্রেম নয় দেহ


মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে রত্না ক্লাস টেনের টেস্ট পরীক্ষাতে খুব ভাল রেজাল্ট করেছিল বরাবরের মতই। এবারো সব বিষয়েই তার নম্বর ৮০% এর উপরে। যা দেখে টেইলার দোকানের মালিক বাবা রেজাউল খুব খুশী। তার আশা, মেয়ে অনেক ওপরে যাবে তার। ভাগ্যবতি এ মেয়েটা জন্মের পর থেকেই তার টেইলারিং ব্যবসায়ে ঈর্ষণীয় উন্নতি হয়েছে। যেখানে সে ছোট একটা দোকান নিয়ে কোন রকমে গলির ভেতরে সেলাই করতো পুরণো নিক্সন মার্কেটের সার্ট-প্যান্ট। আজ সেই তারই এসি লাগানো দোকানে ৭-জন কর্মচারী কাজ করছে দিন রাতে। আপন ভাই জয়নুলকেও সে রেখেছে নিজ দোকানে, একা সামলাতে পারেনা বলে। প্রতিদিন মেয়ে রত্নার হাসিমুখ একবারও না দেখে থাকতে পারেনা স্নেহশীল এ বাবা।
:
আকস্মিক একদিন মেয়েটার মন খারাপ নজরে পড়লো বাবার। জানতে চাইলো মেয়ের কাছে পরম স্নেহে - "তোর চেহারা এমন কেন মা? কোন প্রবলেম"? বার বার জিজ্ঞেসে হাউমাউ করে কান্না জুড়ে দিলো এসএসসি পরীক্ষার্থী রত্না। চোখে জল এনে বললো -
- "বাবা পাশের বাড়ির বদমাশ মিন্টু খুব জ্বালাতন করে আমায়। প্রতিদিন বাজে কথা বলে, চোখ টিপে, শীষ দেয় আমায় দেখলে"। মেয়ের কথা শুনে রাগ ওঠে বাবার খুব। তখনই যেতে চায় বখাটে মিন্টুর বাড়ি। কিন্তু স্ত্রী নিলুফার নিবৃত করে স্বামীকে। বলে -
- "মাথা গরম করোনা। ওরা ভাল না। এমনকি ওর বাবা ভাই্ও বদমাশ কসাই। তার চেয়ে পুলিশে একটা কমপ্লিন করে আসো তুমি"। স্ত্রীর কথামত রেজাউল থানায় গিয়ে একটা 'জিডি' করে তার মেয়েকে ডিসটার্ব করার কারণে মিন্টুর নামে। থানার ওসি আস্বস্ত করেন রেজাউলকে
- "এমন প্যাদানি দেবো মিন্টুকে যে, আর কখনো চোখ তুলে তাকাবে না আপনার মেয়ে রত্নার দিকে"।
:
আবার ভয়ে ভয়ে স্কুল থেকে ফেরে রত্না কিন্তু দুদিন আর পথে চোখে পড়েনা বদমাস মিন্টুকে। কিন্তু ৩য় দিন পথ আগলে দাঁড়ায় সে। দাঁত কিড়মিড় করে বলে -
- "থানায় জিডি করছে তোর বাবা আমার নামে! এইবার তোরে উঠাইয়া নিমু তোরে তোর বাবার সামনেই। বিয়া করুম তোরে। তোর বাবার বাবাও রক্ষা করতি পারবে না তোরে। দেখি কিভাবে স্কুলে জাস তুই এই পথ দিয়া"। এসব কথা বলে ঝাঁপটে ধরে রত্নাকে বদমাশ মিন্টু। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ঘরে ফেরে রত্না। মা মেয়ের এ অবস্থা দেখে জড়িয়ে ধরে তাকে। আবার বাবার কানে যায় মিন্টুর পথ আগলে দাঁড়ানোর কথা। রাগে ক্ষোভে নিজ ভাাইকে নিয়ে এবার সরাসরি পিতা রেজাউল যায় মিন্টুর ঘরে।
:
ভাত খাওয়ারত মিন্টুকে তুলে তার মা-বাবার সামনেই চড় মারে মিন্টুর গালে। রাগে চিৎকার করে বলে বাবা
- "আবার আমার মেয়ের দিকে চোখ তুলে তাকালে চোখ তুলে নেব তোর হারামজাদা। তোর মত বখাটে কসাইর পোলার কাছে দেবো আমার ব্রেনি মেয়ে রত্নাকে"?
এমন ঘটনায় অপমানিত হয় মিন্টুর মা-বাবা। নিজ ঘরে এসে গালাগালি, আর মা-বাবার সামনেই ছেলেকে চড় মারাতে মিন্টুর কসাই বাবার চোখ জ্বলতে থাকে নব্য টাকাওয়ালা দর্জি রেজাউলের প্রতি। সেও প্রতিশোধ নেবে এমন চিৎকার করে। ফিরে যায় রেজাউল তার ভাইকে নিয়ে নিজ দোকানে। কিন্তু ঘন্টাখানেকের মধ্যেই বখাটে মিন্টু, তার কসাই বাবা, ভাই ও কজন আত্মীয় স্বজন বাঁশের লাঠি, দা ইত্যাদি নিয়ে আক্রমন করে রেজাউলের দোকানে। প্রথমে তারা দোকান ভাঙচুর করে। কাপড়চোপড় রাস্তায় ফেলে দেয়। তারপর পেটাতে থাকে রত্নার বাবা, চাচাসহ দোকানের ৪/৫ জন কর্মচারীকে এলোপাথাড়ি। তারাও বাঁধা দেয় আকস্মিক এ আক্রমনে কিন্তু পেরে ওঠেনা মিন্টুর কসাই গ্রুপের সাথে। সরাসরি মাথায় আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে গেলে মিন্টু আর তার বাবা ইচ্ছেমত পেটাতে থাকে রত্নার বাবা আর চাচাকে পশুর মত।
:
মারাত্মক আহত হতে প্রথমে সবাই থানায় উপস্থিত হয় ঘটনা পুলিশকে দেখাতে। কিন্তু অবস্থার ভয়াবহতা দেখে, পুলিশ রত্নার বাবা, চাচাসহ সবাইকে দ্রুত পাঠায় হাসপাতালে। রত্নার বাবা, চাচা ও অন্য স্বজন মিলে ৫-জন ভর্তি হয় হাসপাাতালে। ডাক্তারদের নানাবিধ চেষ্টার পরও রাতেই হাসপাতালে মারা যায় রত্নার বাবা। চাচাসহ অন্যরা ভর্তি থাকে ঐ হাসপাতালে। মারামারির পর পালিয়ে গেলেও পরদিন মিন্টু, তার বাবা আর ভাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হাজতে বসেই মিন্টু বলতে থাকে
- "স্যার রত্নাকে কেবল বিয়ার প্রস্তাব দিছিলাম। প্রস্তাব দেওয়া কি দোষের কিছু? আর আমাগোরে যখন গ্রেফতার করলেন, ওদেরও করেন। রত্নাও বাবাওতো মারামারি করছে আমার ঘরে গিয়া। আমারে মারছে ভাত খাওয়া অবস্থায়"।
:
বাবার মৃত্যু, চাচাসহ আর ৪-স্বজনের মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, দোকান তছনছ ইত্যাদি সব ঘটনার জন্যে নিজেকে দায়ী করতে থাকে রত্না। সারাক্ষণ এক চরম হতাশার মধ্যে কাটতে থাকে তার দিন তার রাত। বাবার সাদা চাদরে আবৃত নিথর মৃতদেহ এক জীবন্ত চিতার দহন মনে হতে থাকে ১৪-বছরের রত্নার কাছে। পৃথিবীটা একদম নিরর্থক হয়ে যায় এ পড়ুয়া মেয়েটির সামনে। তার বিধবা মাকে দেখে এক অসমাপ্ত জীবনের দু:খবিলাসি শ্যামলিমার সংসার মনে হয় ছোট্ট রত্নার কাছে। তাই আত্মহননের পথ বেছে নেয় মেধাবি এ মেয়েটি। এবং ব্যথাতুর দু:খভরা মর্ম বিরহী অধরা সুখকাঙালে রত্না ঐ রাতেই আত্মহত্যা করে ফ্যাানের সাথে নিজেকে ফাঁস লাগিয়ে।
:
এক সুসুপ্তির মেধাবী কন্যা কষ্টস্মৃতির গহনে রক্তগঙ্গার শোক যাপনের পীৎ উৎসবে, সত্যি পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় একদিন রত্না। মিন্টু আর তার কসাই বাবা হন্তারক হিসেবে ঘানি টানতে থাকে জেলের। কদিন আগে স্বামীর মৃত্যুর পর, একমাত্র কন্যার লাশের ভার বইতে পারেনা মা নিলুফার। একবুক কষ্টসাগরে ভাসতে ভাসতে ঈশ্বরপুত্র হন্তারক যিহুদার মত, শোণিতপানে জয়তুন পাহাড়ে দাফন করে রত্নাকে স্বামীর কবরের পাশে। সুখ-বিনাশক একাকী উপবনের কান্নাঘ্রাণের দুখপরীরা উড়তে থাকে রত্নাহীন ঘরে, শূন্য মায়ের একাকি বুকে।
(ভারতীয় একটা সত্যি ঘটনার ছায়ায় রচিত)

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

ড. লজিক্যাল বাঙালি
ড. লজিক্যাল বাঙালি এর ছবি
Offline
Last seen: 2 দিন 3 ঘন্টা ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 30, 2013 - 1:53অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর