নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • শাম্মী হক
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

এ লেখা অনর্থক, যদি নিজেকে ভালোবাসি।



ঘটনা-০১: ব্রেকাপ হয়েছে ৭/৮ দিন, সময় যেন কাটছে না। অতীতের স্মৃতি রোমোন্থন করে, আক্ষেপের দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অন্য অনেকের সাথে সময় বিনিময় করে সময় গুলো শেষ করে দিচ্ছিলেন। এর মাঝেই চ্যাট করতে করতে আরেক জনকে ভালো লেগে গেলো আকর্ষিক, অন্য অনেক কে বাদ দিয়ে একজনকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। যাকে নিয়ে আপনি ব্যস্ত সেও তার জীবনে আপনার অস্তিত্বকে গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করতে শুরু করলো। সব কিছুই কেমন যেন দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে। এর মাঝেই দুজনের মাঝে প্রশ্ন দাঁড়ালো “ আচ্ছা, মাত্র তো ব্রেকাপ হলো ১টা মাস ও গেলো না, এর মাঝে আবার প্রেম? নতুন কারো প্রতি অনুভূতি কি সম্ভব?”

ঘটনা-০২: একজনকে অনেক বছর ধরে ভালোবাসেন, তার কাছে কোনো রেসপন্স পাচ্ছেন না, এরই মাঝে তার ছায়া কিছুটা ধারন করে, এমন একজনকে পেয়ে গেলেন, সেই একজনের সাথে অনেক চ্যাট হচ্ছে, কথা হচ্ছে, একটা সময় অনুভব করলেন, আপনি এই মানুষটির প্রতি দূর্বল, কারন তার মাঝে আপনি আপনার আকাঙ্খিত মানুষটির প্রতিচ্ছবি কিছুটা হলেও উপলব্দ করতে পেরেছেন। এখানে প্রশ্ন দাঁড়ালো “ আচ্ছা, যাকে এতোদিন মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসলাম, তার প্রতিচ্ছবি ধারনকারী কাউ কি তার জায়গাটা নিতে পারে?”

ভালোবাসা আসলে কি? এই প্রশ্ন নিয়ে অনেক অনেক গবেষণা হতে পারে, তবে যে উত্তরটি সবচয়ে সহজ ও সুবিধাজনক তা হলো “ভালোবাসা একটি বিমূর্ত ধারনা” এর কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায়ণ করা যায় না। ব্যক্তি, স্থান, কাল, জাতি, পাত্র, ধর্ম, লিঙ্গ ভেদে এর অর্থ পরিবর্তন যোগ্য।

০১.
প্রথম যে ঘটনাটির অবতারণা করলাম সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে যে প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়েছে, এতো দ্রুত কি ভালোবাসা জন্মনেয়া সমম্ভব? অধিকাংশই হয়তো বলবেন অসম্ভব! কিন্তু আমি বলবো সম্ভব। কারন যারা অসম্ভব বলবেন, তাদের কাছে যদি আমি জানতে চাই, ঠিক কতটা সময় বা কোনো একক উর্ত্তীণ হলে আপনি বলবেন যে এখন ভালোবাসার উপযুক্ত সময়? প্রথম দেখায় ভালোবাসা একটা কথাই প্রচলিত আছে। অসম্ভব হলে তা কখনোই শত শত বছর ধরে প্রচলিত থাকতো না। হতে পারে আপনি একটি ভালোবাসার মৃত্যু শোকেই আছেন, তার মাঝে অন্য কেউ একজন আপনার হাত ধরলো শক্ত করে, যা আপনাকে নতুন করে শোক কাটিয়ে উঠার প্রাণ শক্তি সঞ্চার করলো, তাহলে যে আপনার প্রতি এতো দ্রুত প্রাণের সঞ্চার করতে পারলো, সে কেন আপনার সঙ্গী হতে পারে না? তাকে আপনি সঙ্গী হিসেবে চাইতে গেলে বা পেতে গেলে, কতটা সময় অতিবাহিত করতে হবে? তার কোনো মানদন্ড কি আছে?

হতে পারে, এমন একটা বিষয় যে, একজন মানুষ আরেক জন মানুষকে বোঝার জন্য একটু সময়ের প্রয়োজন, কিন্তু আমি যদি বলে ভালোবাসা বা অন্য যে কোনো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় অর্থনৈতিক না হয় সেক্রিফাইস এর উপর ভিত্তি করে? ভালোবাসাও অনেকটা তেমন একটা বিষয়, দুইজন মানুষ কখনোই একই মানসিকতা সম্পন্ন হতে পারে কি? তারপর ও কিভাবে ভালোবাসা নামক সম্পর্ককে বয়ে চলে? বোঝাপড়া দিয়েই নয়-কি? তো সেই প্রেক্ষপটে দাড়িয়ে দুজন মানুষ যদি দুজনের জন্য সেক্রিফাইস করতে প্রস্তুত থাকে, তবে তার জন্য উপযুক্ত সময় খোঁজা কতটা প্রাসঙ্গিক তা পাঠকই নির্ধারণ করবেন।

০২.
ঘটনা দুইয়ে বললাম, আকাঙ্খিত একজনের ছায়া দেখতে পাওয়া আরেকজন কি আকাঙ্খিত ব্যক্তিটির জায়গা নিতে পারে? এখানে ও আমার মনে হয় অধিকাংশের উত্তর হবে পারে না। কিন্তু আমার ধারনা যে ব্যক্তির মাঝে আপনি আকাঙ্খিত মানুষটিকে খুঁজে পেয়েছন, সেই ব্যক্তি আপনার মনে আকাঙ্খিত ব্যক্তির তুলনায় আরো বেশি শক্ত জায়গা নিতে সক্ষম। কিভাবে?

দেখুন, যে ব্যক্তিটি আপনার আকাঙ্খিত যার ছায়া তো আপনি অন্য আরেক জনের মাঝে পেয়েই গেছেন, সাথে বাড়তি আরেকটা জিনিস আপনি পাবেন ওই মানুষটির কাছে তা হলো আলাদা সিম্প্যাথি। মুখে আমরা সিম্প্যাথি বিষয়টাকে খুউব তাচ্ছিল্যের সাথে দেখলেও মন থেকে কিন্তু বিষয়টি পাবার জন্য আমরা সবাই মুখিয়ে থাকি। তো যখনই কেউ আপনার প্রতি সিম্প্যাথি দেখাবে, আর যদি কোনো কারনে সেই সিম্প্যাথি আপনাকে এম্প্যাথির ফিল দেয়, তবে কিন্তু আপনি অধিকমাত্রায় তৃপ্ত ও কৃতজ্ঞ অনুভব করবেন নতুন মানুষটির প্রতি। আর আপনার মাঝে যতটা শ্রদ্ধাবোধ নতুন মানুষটির প্রতি কাজ করবে ততটাই ক্ষোভ কাজ করবে আপনার আকাঙ্খিত মানুষটির প্রতি।

কিন্তু এখানে বিষয়টা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে নতুন মানুষটার আচরণের উপর, যে যদি জেনে বুঝে আসে যে আপনি তার মাঝে অন্য কাউকে খুঁজছেন, তারপর ও যদি সে আপনাকে গ্রহন করে তবে এই উল্লেখ্যিত বিষয় ঘটতে পারে। কিন্তু সে যদি এভাবে প্রস্তুত না থাকে, যদি মানতে না পারে যে তার ভালোবাসার মানুষ তার মাঝে অন্য কেউকে খুঁজছে তবে কিন্তু হিতে বিপরিত হাওয়াও অসম্ভব নয়।

০৩.
মূল যে মেসেইজ টা দেয়ার জন্য এতো গুলা ঘাষ চিবাইলাম, তা হলো, ভালোবাসা খুউবই বিমূর্ত ধারনা, এটা কখনো বলে কয়ে হয় না, এর জন্য কোনো আইন কানুন নেই, চলেও না। ভালোবাসা যে কারো প্রতি যখন তখন হতে পারে। এবং এটা এমন একটা বোধ যে, আপনার সকল বোধকে ভোঁতা করে দিয়ে, এটা নিজের ইচ্ছা মতো পদচারণ করে। তাই প্রেমের মোহে থেকে কেউ যদি কোনো ভুল করেও থাকেন, তবে তা নিয়ে আফসোস করার কিচ্ছু নেই। কারন যা করেছিলেন, তা আপনার স্ব-ইচ্ছায়ই করেছিলে, তা করে আপনি তৃপ্তি পেয়েছিলেন। এবং যা হয়ে গেছে তা নিয়ে আক্ষেপ করে কোনো কিছু শোধরানো যাবে না আত্মগ্লানির হিসেবের খাতা ভারি করা ছাড়া।

জীবন কখনো কারো জন্য থেমে থাকে না। আপনার জীবনের রাস্তায় আপনি একা যাত্রী, তাই যাত্রাপথের অনেক সঙ্গী আসবে তাকে চিরসত্য জেনে, আপনি আপনার মতো হাঁটুন। ঠিক তাই করুন যা আপনার করতে ইচ্ছা করে।
সবচেয়ে বড় কথা, নিজের কাছে নিজে স্বচ্ছ থাকুন। সবার আগে নিজেকে নিজে ভালোবাসুন।

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নগরবালক
নগরবালক এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 54 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - 11:50পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর