নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • গোলাম রব্বানী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • অনন্য আজাদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আব্দুল্লাহ্ আল আসিফ
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • ফারজানা কাজী
  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান

আপনি এখানে

সমস্যা সমাধান ও রোগ মুক্তিকারী ভন্ড পীর সাধু হতে বড় ভন্ড হলো স্বর্গ দেখানো ধর্মীয় গুরুরা


বিপদ মুক্ত করার নামে ভন্ডপীর বাবা কিংবা তান্ত্রীক সাধু সন্ন্যাসিরা কটা মানুষ ঠকায়!? তার চেয়ে বহুগুন বেশি ঠকায় ধর্মীয় গুরুরা৷ ধর্মীয় গুরুরা গ্রন্থের লাইন জপে মানুষের পকেট ডাকাতি করে যায় দিনের পর দিন অথচ সাধারণ মানুষ বিশ্বাস নামক শব্দটার কারণে ঠকে যাচ্ছেতো যাচ্ছে৷ এর মূল কারণ অশিক্ষা এবং কুশিক্ষা৷

আমরা প্রায়ই দেখি ভন্ড কবিরাজ, ভন্ড পীর, ভন্ড সাধু ধরা পড়ছে কিংবা সাংবাদিক আইন এদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালাচ্ছে৷ যদি আমি প্রশ্ন তুলি এরা ভন্ড হবে কেন? তারাতো অন্যায় করছে না৷ তারাতো ভন্ডামী করছে না, তাদের ভন্ড বলার কারণ কী? তাহলে অহরহ উত্তর আসবে ভাই মানুষতো ভালো হচ্ছে না, এরা এভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা, এরা রোগ ভালো করতে পারলে মানুষকে বিদেশে যেতে হতো না ভালো চিকিৎসার জন্য কিংবা এগুলো ধর্মের নামে ভন্ডামী করে যাচ্ছে৷

তাহলে এবার আসুন মূল কথায়৷ হ্যাঁ আপনি ঠিক বুঝেছেন, এই যে বলছেন এরা ভন্ডামী করছে, এরা এই করছে সেই করছে৷ রোগ ভালো হলে ডাক্তার লাগত না৷ তাহলে ধর্মীয় গুরুরা কী করছে? ধার্মিকগণ খুব সহজে বলেন যে অমুক নামাজ-দোয়া পড়েনা বলে তার এই অবস্থা, তমুক ধর্ম মানছে না বলে সেই অবস্থা৷ যদি বলি বাংলাদেশের হেফাজতের শফি ভারতে গেল কেন? কত বড় পাপি হলে তার রোগ হয়, রোগ সাড়াতে ভারত যেতে হয়, যে ভারতকে তারাই সমাবেশে দিনের পর দিন ধুয়ে দেন৷ তাহলে একটা বিষয় পরিস্কার যে মানুষের রোগ শোক ভালো খারাপের সাথে ধর্মের সম্পর্ক একেবারেই অযুক্তিক এবং ধর্মের সাথে এগুলোর সম্পর্ক নেই৷

শোনা যায় অমুক সুরা তমুক সুরা এতবার পড়লে এই সেই রোগ ভালো হয়, তবে কেন সুরা না জপে ভারত নিয়ে যাওয়া? মরা বাঁচার মালিক আল্লাহ, তবে কেন বাইরে নিতে হবে তার বান্ধাকে? এরকম হাজারো কিছু আছে বুঝার তবে বাস্তব আর কল্পনার পার্থক্য বুঝতে হবে৷ কল্পনা কখনো বিশ্বাস হতে পারে না৷ বাস্তব বিশ্বাস হতে পারে৷ যদি প্রশ্ন করেন যে বাস্তবতো বাস্তবই, সেটা আবার বিশ্বাস অবিশ্বাসের কি আছে? হ্যাঁ, কল্পনাকে নয়! বিশ্বাস করতে হয় বাস্তবকে৷ যেমন আমি বড় হয়ে কি হবো? যাই হতে চাই না কেন কিন্তু বাস্তব যা তাই হতে চাইবো কোন ঈশ্বর আল্লাহ নয়৷ যদি বলি ডাক্তার হবো, তবে ডাক্তার একটি বাস্তব রুপ৷ আমি ডাক্তার হতেও পারি আবার না ও হতে পারি কিন্তু সেটা আমার বিশ্বাস৷ সন্দেহ কাজ করে যেহেতু, সেহেতু বিশ্বাস৷ এখন যদি বলি আমি আল্লাহ হবো ঈশ্বর হবো সবাই হাসবে কেউ রেগে যাবে কারণ সবাই জানে তা সম্ভব নয় এবং সেটার কোন বাস্তবতা নেই৷ যেখানে বাস্তব নেই সেখানে বিশ্বাস দিয়ে কি হবে বা বিশ্বাস আসে কিভাবে?

হ্যাঁ, এক্ষেত্রে বলেন যে আপনি আমাকে ভালবাসেন সেটা কি আমার কল্পনা নয়? তবে ঐ যে ডাক্তারের মতই আপনার বিপরীতে আমি বাস্তব৷ ভালবাসি আপনার বিশ্বাস, এটা হতেও পারে আবার নাও হতে পারে কিন্তু আমার আচরণ এবং একটা আমি নামের বাস্তবকে ঘিরেই আপনার বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত৷তাহলে আরো একটা বিষয় পরিস্কার যে বিশ্বাসে কল্পনার অস্তিত্ব নেই৷

আমরা দেখছি রোগ ভালো হচ্ছে না, আমরা দেখছি ভালো না হলে ভন্ড বলছে, আমরা দেখছি মানুষের সমস্যা সমাধান হচ্ছেনা৷ এত কিছুর দেখার পর আমরা কোন পীর, সাধু, সন্ন্যাসিকে ভন্ড বলছি তাহলে যারা বলছে স্বর্গ, নরক, দোজক, বেহেস্ত, হুরপরী, স্বর্গীয় দেবীর কথা স্বর্গের কথা তারা কত বড় ভন্ডামী করছে একটু ভাবলেই হয়৷ কেননা ওসব গ্রন্থের কথা যদি সত্যি হয় সবকিছু হাতের মুঠোয় আসে তাহলে পীরদের বেলায় রোগ ও ভালো হয় সমস্যাও সমাধান হয়৷ কিছু মন্ত্র সুরা পড়ে যদি খাবার দাবার মৃত্যুর পর পায়, মৃত্যুর আগে ট্রেনিংয়ে তা পাবার কথা স্বর্গ হতে৷

একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দিতে হয় কেন? বড় হয়ে একটা অবস্থানে যাবার জন্য৷ ডাক্তার যে, সে এমনি এমনি হয়নি তারও প্রশিক্ষক আছে৷ এখন এই যে স্বর্গ নরক কে যাবে বা কে যাবে না তা পরীক্ষা বলবে কিন্তু তার আগে শিক্ষা প্রশিক্ষনের ব্যপারটা আসে৷ কে দেবে প্রশিক্ষন? যে রোগী সে দেবে, না যে ডাক্তার? তাহলে ঈশ্বরের ভক্ত বলুন আর আল্লাহর বান্ধা বলুন তারা কিভাবে প্রশিক্ষন দেবে ধর্মের? দিতে হলে স্বয়ং বেহেস্ত হতে আসতে হবে প্রশিক্ষক৷ হাফেজ, হুজুর, ভিক্ষু, সন্ন্যাসি এরা কী স্বর্গ হতে সার্টিফিকেট নিয়ে আসা? তারা যে স্বর্গ নরকের কথা বলে, তারাওতো জানেনা তারা কোথায় যাবে? তাহলে তারা কিভাবে ঠিক করে অন্যকে? এসব কি ভন্ডামি নয়? যদি তারা একবার গিয়ে পি.এইচ.ডি করে আসত স্বর্গে তারপর দলিল দেখাত বাস্তব তাহলে একটা কথা৷

এবার আসি হুজুর বা সরকারী ব্রাহ্মন, ভিক্ষু, পাদ্রী এসবের বেতনে৷ স্বাভাবিক আপনি চিন্তা করুন আপনি দানবাক্সে টাকা দিচ্ছেন, আপনার পূন্য হচ্ছে আপনি মনে করছেন৷ আপনি দাওয়াত দিয়ে তাদের খাওয়াচ্ছেন আপনার পূন্য হচ্ছে, আপনি মনে করছেন৷ আপনি মন্দির, মসজিদ, গীর্জা ইত্যাদি নির্মাণে টাকা দিচ্ছেন, জায়গা দিচ্ছেন আপনার পূন্য হচ্ছে, আপনি মনে করছেন৷ আপনারা মসজিদে হুজুর রাখলেন বেতন দিচ্ছেন, মন্দিরে ধর্মগুরুর সব দিচ্ছেন আপনার পূন্য হচ্ছে বলে আপনি মনে করছেন৷ বক্তা হিসেবে গাড়ি ভাড়া সহ সব খরচ বহন করেও মোটা অংকের বর্ধিত সুনামি দিচ্ছেন আপনার পূন্য হচ্ছে আপনি মনে করছেন৷ আপনি এত টাকা দিয়ে পূন্য কিনেন অথচ ধর্মীয় গুরুরাতো না নিলেই পারতেন৷ কেনরে ভাই আপনাদের পূন্যের দরকার আছে তাদের নেই? তারা বিনিময় নিলে সেটা ব্যবসা যে হয় আপনারা একবার ও তা মনে করছেন না? তারা আপনার কাছ থেকে টাকা নেবে কেন? তাদের দিলে আল্লাহ দিবে, ঈশ্বর দিবে, গড ভগবানে দিবে আপনার কাছ থেকে নিবে কেন? তাহলে তাদেরইতো সৃষ্টিকর্তার প্রতি আস্থা নেই আপনি কোন কারণে তার কথায় ঠকে যাচ্ছেন? নেবার মালিক তিনি, দেবার মালিক তিনি, সেখানে আপনিই যদি দিয়ে দেন তাহলে আপনিতো আল্লাহ ঈশ্বরের চেয়ে বড় মাতব্বর হয়ে গেলেন৷

এবার আসি আপনার মা বাবার মৃত্যুর পর আচার কার্য সম্পাদনে কি ভন্ডামি হয় সেদিকে৷ মা বাবা মারা গেলো আপনার৷ কাঁদছেন আপনি, সব কাজ করছেন আপনি! আর স্বর্গ পেতে ধর্মীয় গুরুদের আশ্রয় নিতে হয়, এটা কেন? আপনার কথা কি আল্লাহ ঈশ্বর বা স্বগীয় পরিচালক শুনেন না? যাদের লাগে তারা কি দূত? নাকি তারা স্বর্গে গিয়ে স্বয়ং সুপারিশ ঘুষ এসব দিয়ে আসেন স্বর্গ নরকের আদালতে গিয়ে ওকালতি করে যুক্তি তর্ক শেষে খালাশ করেন মামলা? কার্য অনুযায়ী বিচার হলে আগে হতে পাপ পূন্য নির্ধারণ হলে এইসব ভন্ডামি নতুন করে কেন? এগুলাতো আপনাদের ঠকানো৷ তাদের মা বাবা মরলে আপনাকে সুপারিশ করতে বলে? আপনাকে টাকা পয়সা দেয়? দেয়না তবে আপনি দেন কেন? তারা মন্ত্র সুরা জপলে যদি সেটা নাজিল হয়, আপনিতো তাদের পুত্র, তাহলে আপনি জপলেতো আরো বেশি হবার কথা, তাদের জপানি লাগবে কেন? একইতো লাইন একইতো কথা৷ নাকি তারা বেহেস্তের থুত পাউডার দিয়ে দাঁত মেজে মুখ পরিস্কার করে সে মুখে জপে, আর আপনার মুখে দূর্গন্ধ?

আপনার মাথায় কাঁঠাল ভেঙে আসল যারা ভন্ডামি করে খেয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত প্রতিটাদিন তাদের কেন দেখেন না? দেখেন না কারণ আপনার বিশ্বাস নামক মহামারী৷ বিশ্বাস কী করার, কী করার নয় আপনি জানেন না৷ তার উপর যেকোন কথা যুক্তি দিয়ে ভাবেন না, যাচাই বাচাই করেন না, নিজেকে প্রশ্ন করার মত বোধ জাগ্রত করেন না বলেই এই আপনাদের ঠকানো যায়৷ তারা সব সম্প্রদায়ের হাত ঘুরে আসা টাকা পকেটে নেন, অথচ আপনাকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে উগ্র করে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দাঙ্গা হাঙ্গামা লাগিয়ে দেন আর তারা নিজেরা যাননা৷ এই কাজটা করান আপনাকে দিয়ে৷ আপনিও ধর্মের অন্য সব কিছুর মত না ভেবে মাঠে নেমে যান তাদের কথায়৷ আপনার সুন্দর ভাবতে পারা মগজটায় হিংসা দিয়ে জমা করে দেয় তারাই, আপনি ঠকছেন টাকা পয়সায় জ্ঞানে গুনে মানে, মানুষ হিসেবে৷ সুন্দর মানুষ কখনোই মানুষের সৌন্দর্য নষ্ট করেনা৷ মানুষের সাথে ভেদাভেদ দিয়ে কাঁটাতার বা দেয়াল তুলেনা সাম্প্রদায়িকতার৷ মানুষ মানুষের জন্য বলে৷ আপনি যদি একটু চিন্তা করেন যে সুরা হোক বা মন্ত্র এসব তো বাণী, সাধারণ আর পাঁচটা কথার মতই, এগুলা জপলে স্বর্গ নরকের কি আছে বা পূন্য পাপের কি আছে?

কিভাবে বুঝবেন এসব মিথ্যা বা স্বর্গ নরক এসব ভূয়া বানানো এবং উদ্দেশ্য মূলক? শুনুন বাণী বা মতবাদ এমন জিনিস যে- যা পড়লে আপনি শুদ্ধ হবেন৷ পড়ে ভালোটা নিলে আপনার মন সুন্দর হবে, খারাপটা নিলে আপনার মন বিকৃত হবে৷ ভালোটা নিয়ে খারাপটা বর্জন করলে আপনি ভালো একটা মনের অধিকারী হবেন৷ মনের ভাল এবং কলুষিতকে এরা পাপ পূন্য বানিয়ে সাধারণকে ঠকিয়ে নিজেরা মোটা হচ্ছেন৷ আপনার মন ভালো সুন্দর হলে আপনার চারপাশ সুন্দর হবে যা হবে বাস্তবিক স্বর্গ, আর কলুষিত মন মাত্রই নরক৷ যা মৃত্যুর পরে নয় বরং আগের পরিবেশ৷ পরে কিছুই নাই শুধু কল্পনার ছক তৈরী করে ভন্ডামি করার মানসে নিজেদের স্বার্থে আপনাদের ঠকানো৷ সাবধানের মার নেই৷ মন্ত্র সুরা যাই হোক ওগুলো বাংলায় পড়ে দেখুন এগুলো অস্বাভাবিক কোন বাক্য বা শব্দ নয়, সাধারণ আর পাঁচটা কথার মতই কথা৷ দৃষ্টি বদলান সব বদলাবে৷ ভন্ডপীর সাধুদের চেয়ে বড় ভন্ডদের খুঁজে পাবেন, বুঝবেন আসল ভন্ডামীর কারখানাটা কই কোথায়৷

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঙালী ফকির চাষী
কাঙালী ফকির চাষী এর ছবি
Offline
Last seen: 10 ঘন্টা 26 min ago
Joined: শুক্রবার, ডিসেম্বর 29, 2017 - 2:02পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর