নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 8 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • গোলাম রব্বানী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • অনন্য আজাদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আব্দুল্লাহ্ আল আসিফ
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • মিশু মিলন
  • সত্যর সাথে সর্বদা

নতুন যাত্রী

  • ফারজানা কাজী
  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান

আপনি এখানে

ক্রিমিনাল অফ রিলেশনশিপ!!


অনেকদিন থেকেই ভাবছিলাম, কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আসাদ নূরের ঘটনাটার পর বিষয়টা নিয়ে আরও চারিদিকে নানা রকম কথা উঠছে। তাই আজ লিখছি।

আচ্ছা ধরুন রহিম শেখ একজন বিশাল নারীবাদী ব্যক্তিত্ব। সে কোন বৈবাহিক সম্পর্কে বিশ্বাসী না। তাছাড়া বিভিন্ন ধর্মের আদলে ম্যারিজ ল গুলো নারীকে অনেকাংশেই দাসে পরিণত করে। কিন্তু রহিম শেখ এমন কর্মকান্ড বড্ড অপছন্দ করেন। তার কাছে একজন নারীর সাথে কোনরূপ সম্পর্কে লিপ্ত হতে কোন আইন, চুক্তিপত্র এগুলোর প্রয়োজন নেই। ফেসবুকে প্রতিনিয়ত লিখেন, সম্পর্ক কোন লিখিত দলিলের মাধ্যমে হতে পারে না। একটা সম্পর্ক টিকে থাকে দুজনের ইচ্ছায়। ইচ্ছে শেষ হওয়ার পরও শুধুমাত্র আইনের ভয়ে সম্পর্ক টিকে থাকে না, সমস্যা বাড়ে। তাছাড়া একজন নারী বা পুরুষ প্রত্যেকেরই একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার যে সে কার সাথে ফিজিক্যালি ইনভল্ভ হবে। রহিম শেখের প্রেম সম্পর্ক, যৌন সম্পর্ক অনেকের সাথেই আছে। তারা যতদিন সম্পর্কে থাকতে চেয়েছে, দুজনেরই যতদিন ভালো লেগেছে, থেকেছে একসাথে। তারপর যখন মনে হয়েছে আর ভাল লাগছে না তখন টা টা বাই বাই। তো এভাবেই দিন কাটতে থাকে। বেশ অনেকদিন পরের কথা, রহিম শেখের একটা মেয়েকে বড্ড বেশী ভালো লাগে। মেয়েটি তার চিন্তাধারার সাথে একমত। তারও নারীকে শুধুই নিজের ভোগ্যপণ্য ভাবা টাইপ মেন্টাললিটি পছন্দ না। তো দুজনের সম্মতিতেই তাদের মাঝে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক সময় তারা এক বাসায় থাকা শুরু করে। তবে রহিম শেখ বা তার পার্টনার কেউ নিজেদের পরিবারে জানায় না। যেহেতু নিজেদের পছন্দ, নিজেদের ইচ্ছে তো আর কি লাগে! দিন যায় আর রহিম শেখ তার উপর ভালো রকম উইক হতে থাকে। তবে বন্ধু-বান্ধব বা কর্মস্থলে গিয়ে তাকে নিজের বউ বলে পরিচয় দিতে একটু ইতস্ততা বোধ করে। তার মনে চলতে থাকে বিয়ে তো হয় নি, তাহলে বউ বলি কি করে! ফেসবুকে রিলেশনশিপ স্টেটাস ম্যারিড দিতে ইচ্ছে করে, তবে ম্যারিড অর্থ তো সমার্থক শব্দের যুক্তি মিলিয়েও বিবাহিত তাই না! কিন্তু বিয়ে তো হয় নি! থাক তবে। পরক্ষণেই রহিম নিজেকে সান্তনা দেয়, থাক রিলেশনশিপ স্টেটাসে কি যায় আসে! সম্পর্কে তো আছি, এক সাথে থাকছি আর কি লাগে! দিন কাটে মাস কাটে, রহিমের মাঝে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। ইদানিং অন্য কোন মেয়ের সাথে ভালো লাগা মার্কা কথা বলতে ভালো লাগে না। রহিমের মধ্যে দিনে দিনে একটা চিন্তা কাজ করে যে সে এই মেয়েটিকে নিয়ে সারা জীবন কাটাবে। তার মনে হতে থাকে সে পারবে সারা জীবন মেয়েটির মুখ চেয়ে হলেও কাটিয়ে দিতে। রহিমের ইদানিং মেয়েটিকে মদের নেশায় টলতে ঢলতে আরেকজনের কাধে ভর করে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতে দেখে কেমন যেন একটা অদ্ভুত রকম খারাপ লাগে। তবে সে কিছু বলতে পারে না। রহিম বড় নারীবাদী, নিজেকে মুক্ত চিন্তার ব্যক্তিত্ব দাবী করে! চাইলেও সে কিছু বলতে পারে না। সে কি করবে, মদ খাবে না কার সাথে থাকবে সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। প্রতিদিন খারাপ লাগাটাকে নিজের মনে মাটি চাপা দিতে থাকে। একদিন রহিম মেয়েটিকে সাহস করে বলে, প্লিজ নেভার লিভ মি! মেয়েটিও তাকে হাসতে হাসতে উত্তর দেয়, যতদিন ভালো লাগে কেন যাব তোমাকে ছেড়ে বল তো! রহিম শেখের মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে, কতদিন ভালো লাগবে, বা ভালো লাগাটা শেষ হয়ে যাবে না তো! সম্পর্কটা একান্ত নিজেদের ইচ্ছায়, কাল সামান্য ঝগড়ার কারণে ছেড়ে চলে গেলেও কিছু যাবে আসবে না। রহিমের ইদানিং বড্ড ভয় হয়, হারানোর ভয়। মাস ছয় পরের কথা। রহিম একটু কাজে দূরে গেছে। দুইদিন পর বাসায় ফিরে দেখে মেয়েটি অন্তরঙ্গ মুহুর্তে আরেক জনের সাথে আছে। রহিম শেখ ব্যাপারটা কিছুতেই সহ্য করতে পারে না। তার সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মেয়েটির সাথে থাকা ওই পুরুষের সাথেও ঝগড়া শুরু হয়। ওই পুরুষ এবং তার পার্টনার উভয়েই বলতে থাকে কেন তোমার সাথে সম্পর্কের আগে কথা হয় নি! তুমিও একজন মুক্ত মনের মানুষ, আমিও তাই, সুতরাং আমি কার সাথে যৌনতায় লিপ্ত হবো সেটা আমার ব্যাপার। এ নিয়ে তো তোমার কথা বলার তো কিছু নেই। মেয়েটি আরও বলে আমার এখন আর তোমাকে ভালোও লাগছে না, আমি আর তোমার সাথে থাকতে চাই না। রহিমের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে, সে কিছুতেই সহ্য করতে পারে না। প্রথমে গালি আদান প্রদান এবং এক পর্যায়ে মানসিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায় এবং গায়ে হাত তুলতে বাধ্য হয়।
ব্যাস! একজন ফ্রি থিংকার, নারীবাদী সব টাইটেল মুছে নাম হলো অপরাধী। ক্রিমিনাল, অফেন্স, ভায়োলেন্স...

গল্পটা পড়ে কি মনে হচ্ছে? এখন আসি মূল কথায়। ইচ্ছেরা কখনো পিছুটান হয় না। ভালবাসার সাথে ইচ্ছের অনেক একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও দুটো সম্পূর্ণ এক জিনিস না। আই উইস, আই লাভ, আই লাইক এদের মাঝে অনেক তফাৎ আছে মশাই। আমার ইচ্ছে না হলে আমি ব্যস্ত বলে কাউকে খুব সহজেই ইগনোর করতে পারি কিন্তু ইচ্ছেটাকে চাপা দিয়ে ব্যস্ততা ভুলে রাতের পর রাত জেগে থাকা যায় ভালবাসার টানে। সাথে থাকলেই যৌন সম্পর্ক গড়ে ওঠলেই ওভারঅল একটা সম্পর্ক পরিপূর্ণতা পায় না। আপনার যখন একজনের জন্য ভীষণ রকম ভালোবাসা কাজ করবে মনে, আপনি চাইলেও আরেক জনের সাথে ঘনিষ্ঠ হতে পারবেন না। মানব মস্তিষ্কের গভীর রসায়ন আপনাকে সে সুযোগ দিবে না। একটু কাছে এসে কিছু সময় সুড়সুড়ি দিয়ে যৌন সম্পর্ক করা যায়, ঝোঁকের বশে দিনের পর দিন যৌনতায় লিপ্ত হওয়া যায়। কিন্তু শুধুমাত্র এর উপর ভিত্তি করে আপনি সম্পর্ক নিয়ে সিরিয়াস হওয়া বা আজীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখতে পারেন না। আপনি শুধুমাত্র ইচ্ছের জোরে একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিলে এটাও মনে রাখতে হবে যে কাল যে কারও ইচ্ছে না থাকলে অন্য কারও সাথেও চলে যেতে পারে।

আমি মোটেই চাই না কোন ধর্মীয় নীতি মেনে বিয়ে বা একজন নারীর উপর যখন তখন ঝাপিয়ে পড়ার মত বর্বরতম অধিকার অর্জন হোক। যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে অবশ্যই স্বামী স্ত্রী দুজনের সম্মতি থাকতে হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সারাদিন ঘামে ভেজা স্বামী কিংবা ভীষণ কর্মব্যস্ত স্ত্রীর অগোচরে স্বামী বা স্ত্রী আরেক জনের সাথে চুপি চুপি সম্পর্ক গড়ে তুলবে। বিয়ের জন্য দোয়া পাঠ করে কাল্পনিক সত্ত্বাকে জানান না দিলেও চলবে, তবে নূন্যতম পরিবার পরিজনদের জানান দেয়ার যথেষ্ট দরকার আছে। কিছু ফান্ডামেন্টালস আছে যার জন্য আপনার আমার বাবা মা মাঝে মাঝে সামান্য কথা কাটাকাটি হলেও আরেক জনের সাথে কিংবা একজন আরেকজনকে ছেড়ে চলে যায় না অন্তত একটা নূন্যতম লেভেল পর্যন্ত।

আসাদ নূরের পার্টনারের সাথে তার যে সমস্যাটা হয়েছে তা কিছু অংশে উপরের ঘটনার সাথে মিলে। যদিও কারও সম্পর্ক তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, তবু এই ব্যাপারে একটু কথা বলছি কারণ এ থেকে অনেকেরই অনেক কিছু শেখার আছে। যেহেতু তার চিন্তাধারা এমন যে, সে তার পার্টনারকে আরেক জনের সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে দেখতে পারবে না, তাই এসকল ব্যাপার মাথায় রেখেই কিন্তু একটা সম্পর্কে যাওয়া উচিত ছিলো। শুধুমাত্র আসাদ নূর কেন, তার মত আরও অনেক নাস্তিক আছেন এমনকি সরল সত্য হল আমি নিজেও ব্যাপারটা মেনে নিতে পারতাম না। আমি বলছি না সবাই তবে নারীবাদী নামে এখন এমন মানুষে চারিদিক ভরে গেছে যারা শুধুমাত্র দেহভিত্তিক প্রেমপাঠের জন্যই নারীবাদ শব্দটা ব্যবহার করে। তাদের কাছে আপনার শুধু তাকে নিয়ে জীবন কাটানোর ইচ্ছে মাইনে রাখে না। একের পর এক ভাল লাগার জন্য পার্সন চেন্জ করবে, যাদেরকেও আমি এক রকম সেক্স সাইকোলজীক্যাল ডিজঅর্ডারের রোগী হিসেবে গণ্য করি। আপনি তাদের পাল্লায় পড়ার আগে আপনাকে আরও দশ জনের সাথে যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার অভ্যাস থাকতে হবে। তা নাহলে আপনিও কাল সহ্য করতে পারবেন না। শুধুমাত্র এক সাথে থাকার নেশায় আপনি যে ঘর বাধছেন, একটু অসচেতনতার অভাবে তা কাল আপনাকে করতে পারে ক্রিমিনাল।

আর একটা ব্যাপার, বন্যা আহমেদ বাকী জীবন অভিজিৎ রায়ের স্মৃতি নিয়েই বেচে থাকবে। তনাদি বিয়ে করে স্পেসিফিক এক জনের সাথেই বাকী জীবন কাটাবেন না। আসিফ মহিউদ্দীন সাহেবের মুখে আমি জীবনে সর্বোচ্চ সংখ্যক বার শুনেছি যে, তার স্ত্রীর ইচ্ছে হলে অন্য কারও সাথে সম্পর্কে লিপ্ত হতে পারে, তাতে তার কিছু যায় আসে না। কিন্তু আপনি লিখে রাখতে পারেন কানিজ ফাতিমা ম্যাডাম কোনদিন অন্যের সাথে যাবে না। কারণ কিভাবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হয়, সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কি করতে হয় কিংবা নিজের মানসিকতার সাথে কি যায় তা বুদ্ধিমানরা  বেশ ভালোই জানে। তাই শুধুমাত্র কারও কথা শুনে লাফ দেয়ার আগে ভাবুন আপনার এবিলিটি কতটুকু। না থাকলে সিম্পলি নিজের মানসিকতার সাথে মানানসই কারও সাথে সম্পর্কে লিপ্ত হোন।

পরিশেষে একটা কথাই বলবো, আসাদ নূর বাংলাদেশে এসে আটক হয়েছে বাক স্বাধীনতার ইস্যুতে অনেকটাই আওয়ামী সরকারের নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক প্যাচে, তার সম্পর্ক নিয়ে গণ্ডগলের দায়ে নয়। সুতরাং আওয়ামী সরকারের এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অতি শিঘ্রই আসাদ নূরের মুক্তি চাই।

(বিঃদ্রঃ আমার চিন্তাধারার দায় সম্পূর্ণ এবং একান্তই আমার। এর সাথে আর দশজন মুক্তমনা, নাস্তিকের মিল অমিল খুজে সবাইকে এক পাত্রে বিচার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে অনুরোধ করছি)

বিভাগ: 

Comments

তরুলতা এর ছবি
 

জীহান আপনি সুলেখক এটা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। অনেকগুলি জটিল বিষয়কে লেখাটিতে সুন্দরভাবে তুলে এনেছেন। আমি যা বুঝলাম লেখাটি থেকে আসলে আপনি যতই মুক্তমনা কিংবা নাস্তিক হোন না কেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে কমিটমেন্ট বলে একটা কথা আছে এটিকে শ্রদ্ধা করতেই হবে নইলে আর আপনি বিবেকসম্পন্ন মানুষ হলেন কিভাবে। আমি উন্নত আধুনিক রাষ্ট্রের উদাহরন যদি টানি, তবুও নিশ্চিত করে বলতে পারি তারা ফ্রি মিক্সিংকে সহজভাবে নিলেও যখন একটি রিলেশনে থাকে তখন কমিটেড থাকে। ফ্রি মিক্সিং মানে সকালে একজন বিকেলে আরেকজন তা কিন্তু নয়। রিলেশন ব্রেকাপ হলে বা বনিবনা না হলে আরেক্টায় জড়ানো যেতেই পারে। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নীতি নৈতিকতার ব্যাপারটি বা কমিটমেন্টের বিষয়টি গুরুত্বপুর্ন।
আর আসাদের মামলায় নারী ইস্যু আনাটা অযৌক্তিক, তাকে কুখ্যাত ৫৭ ধারায় আটক করা হয়েছে। এর পরেও যারা নারী ইস্যু নিয়ে অস্থির তার নোংরামো করছে।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

জীহান রানা
জীহান রানা এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 4 দিন ago
Joined: বুধবার, মার্চ 23, 2016 - 7:25অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর