নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

শিডিউল

ওয়েটিং রুম

এখন 0 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

নতুন যাত্রী

  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান
  • নিলয় নীল অভি

আপনি এখানে

এই মৃত্যু উপত্যকাই আমার জন্মভূমি


(১) মৃত্যু উপত্যকার সাধারণ গল্প

চেঙ্গি ভ্যালি নামের মৃত্যু উপত্যকায় মৃত্যুর মিছিল থামছে না। তিন তারিখ সেই মিছিলে যোগ দিলেন মিঠুন চাকমা। আমাদের প্রিয় মিঠুনদা। রাষ্ট্র যথারীতি ভুলিয়ে দেওয়ার রাজনীতি দিয়ে মানুষের মন থেকে মিঠুনদাকে ভুলিয়ে দেবার চেষ্টা চালাবে। হয়তো দুয়েকদিনের মধ্যে খাগড়াছড়ির রাস্তায় সেটলাররা সমঅধিকার বা নাগরিক পরিষদের ব্যানারে হরতাল ডেকে বসতে পারে। সেটলাররা রাস্তায় নামলে জ্বালাও পোড়াও হামলার ভয়ে পাহাড়িরা আরেক প্রস্থ ত্রস্ত হবে। কয়েক সপ্তাহ পর আর্মিরা মানুষকে ব্যস্ত রাখতে জোন ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারে।
হয়তোবা পার্বত্য মন্ত্রনালয়কে দিয়ে অতি শিঘ্রই কোন নাচ-গান-আমোদের করা হতে পারে। মানুষকে দ্রুত ভুলিয়ে দেওয়া দরকার। মনযোগ অন্য খাতে প্রবাহিত করতে হবে। মানুষ যত ইতিহাস-অধিকার নিয়ে ভাববে ততই তারা লড়াইয়ের প্রেরণা পাবে। তাই পাহাড়ীদের ফুটবল খেলানো বা নাচানো জরুরী দরকার। এদিকে মিঠুনদাকে নিয়ে কিছুদিন মাতম করে থেমে যাবে অনলাইন-অফলাইনের আলোচনা। মেইনস্ট্রিম মিডিয়া তো শুরু থেকেই কানা-বধির হয়ে আছে। তাই বেশি দেরী হবার আগে প্রাসঙ্গিক আলোচনা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই লেখাটা লিখছি।

বিভিন্ন পক্ষ থেকে মিঠুনদাকে হত্যার জন্য নব্য মুখোশ বাহিনীকে দায়ী করা হচ্ছে। নব্য মুখোশ বাহিনী মানে এর আগের মুখোশ বাহিনীর পুরাতন কাহিনী আছে। ১৯৯৫ সালে খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদের সব পতিত, চোর, ছ্যাঁচড়া, বাটপারদের একাট্টা করে একটা আদি মুখোশ বাহিনী বানানো হয়েছিলো। আমি তখন সবে হাই স্কুলে পা দিয়েছি। পান খাইয়া পাড়া থেকে খাগড়াছড়ি হাই স্কুলে যাওয়ার পথে তিন তলা পরিত্যক্ত ভবনে তারা থাকতো। আমরা ভয়ে ভয়ে ওদের দিকে চোরা চোখে তাকিয়ে দ্রুত পা চালিয়ে তাদের ভবন পেরিয়ে স্কুলে যেতাম। সরকার ওদের রেশন দিতো। সরকার দিতো মানে সরকারী বাহিনীর যে গোপন বাহিনীটা আছে, যারা আর্মি ক্যান্টনমেন্টের গোল ঘরে বসে- ওরা দিতো। ওরা তাদের টাকা, অস্ত্র, রেশন, আশ্রয়, প্রশ্রয়, বুদ্ধি সব দিতো।
সেই সময়টা ছিলো পাহাড়িদের চেতনার স্ফুরণের স্বর্ণযুগ। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা সব পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ করতো। এখন ছাত্ররা কত কি করে- মিউজিক করে, এডভেঞ্চার করে, ফেইসবুকিং করে, বালপনা করে, নোট গোছায়, ক্যারিয়ার গোছায়... এতকিছু করে ওদের দেশ নিয়ে ভাববার অবকাশ থাকে না।
দিনের মধ্যে দু চার সেকেন্ডও হয়তো দেশ-জাত-মাটি-পাহাড় নিয়ে ভাবে না। কিন্তু সেই সময়ে ভাবতো। ভাবানো হতো। ভাববার মত কাজ ছিলো, সংগঠন ছিলো। পাড়ায় পাড়ায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ আর গণপরিষদের শক্ত অবস্থান ছিলো। এইসব গণসংগঠনের নেতৃত্বে গন মানুষেরা সেবার মুখোশ বাহিনীকে এলাকা থেকে পেঁদিয়ে খেদিয়েছিলো। আমরা ছোট ছিলাম। কিন্তু আমরাও পাড়ার বড় ভাইদের সাথে রাত জেগে মুখোশ বাহিনী আর সেটলারদের হামলা থেকে গ্রামের সকলের জান মাল রক্ষা করেছি। কেউ হাতে গুলতি, কেউ লাঠি, কেউ বল্লম, দা...আর্মিদের টহল গাড়ি আসলে সাথে সাথে লুকিয়ে ফেলতাম। পুলিশ এসে পাড়া রেইড দিয়ে গুলতি জব্দ করতো। এখনো খাগড়াছড়ি বাজারে গুলতি নিষিদ্ধ। দেশের আর কোথাও নয়। ওরা আমাদের নিরস্ত্র করেই মারতে চায়। তো এই ছিলো মুখোশ বাহিনী। আজ যখন তাদের নিয়ে লিখছি, আজ আমি তিরিশ পেরিয়েছি। সেই সময় যেভাবে আমরা গ্রাম পাহারা দিতাম আজ সেভাবে আর দিই না। তবু প্রায়ই অঘটন হলে সন্ত্রস্ত হয়ে থাকতে হয়। তখন যা জানতাম না আজ তা জানি।
যা জানি তার বয়ান দিতেই আমি লিখছি। আজ আমার লেখার প্রথম কিস্তি।

মুখোশ বাহিনী কিংবা নব্য মুখোশ বাহিনীকে বলা হয় স্টেট স্পনসরড মিলিশিয়া। রাষ্ট্রীয় মদদে বানানো পেটোয়া বাহিনী। যারা এদিক ওদিক খবর রাখেন- তাঁরা ভারতের Salwa Judum এর নাম জেনে থাকবেন। সালোয়া জুদুম ভারতের ছত্তিশগড় এলাকায় ২০০৫ সালে সরকারের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছিলো। ভারতের বিস্তির্ন অঞ্চল জুড়ে মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল। ভারতের প্যারা মিলিটারি, মিলিটারি বাহিনী মিলে মাওবাদী গেরিলাদের সাথে পেরে উঠছিলো না। তখন তারা সেই এলাকার লোকেদের দিয়েই মাওবাদী ঠেকাতে Salwa Judum বাহিনী বানায়। দেশে দেশে এভাবে ইন্সারজেন্সি বা গনপ্রতিরোধ ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় মদদে মুখোশ বাহিনীর মত কাউণ্টার ইন্সারজেন্সি মিলিশিয়া বানানো হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- পাহাড়ে তো অফিশিয়ালি ইন্সারজেন্সি নেই। তাহলে কেন আর্মিরা মুখোশ বাহিনী বানাতে গেলো? কেননা রাষ্ট্র সব থ্রেট নিউট্রালাইজ করতে চায়। আর তাই পাহাড়িরা যুদ্ধ থামালেও রাষ্ট্র যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়িরা অস্ত্র সমর্পন করেছে কিন্তু রাষ্ট্র করে নি। করবেও না। রাষ্ট্র আমার গুলতি কেড়ে নিয়েছে তাই আমি আর পুলিশের গাড়িতে গুলতি মারতে পারি না। অথচ রাষ্ট্র তার উদ্ধত রাইফেল উঁচিয়েই রেখেছে...

(চলবে)

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নিহত নক্ষত্র
নিহত নক্ষত্র এর ছবি
Offline
Last seen: 15 ঘন্টা 11 min ago
Joined: বুধবার, ডিসেম্বর 6, 2017 - 11:59পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর