নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 5 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • শাম্মী হক
  • সলিম সাহা
  • নুর নবী দুলাল
  • মারুফুর রহমান খান
  • রাজর্ষি ব্যনার্জী

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

হীরক রাজার দেশে ফানুস ও অসাম্প্রদায়িকতা।


দেশটা নষ্ট হয়ে গেলো, মুক্তমনা না বালসালে ভরে গেলো দেশটা । দেশের সব কিছুর বারোটা বেজে যাচ্ছে, কোথায় আমাদের কথা ছিলো “আমরা হবো তালেবান, বাংলা হবে আফগান” তা না সব বিধর্মী সংস্কৃতি পালন করে ধ্বংস করে দিলো দেশটারে। এভাবে কি চলা যায়? এটা তো নির্বাচনের বছর, গতবার যেন-তনে একটা নির্বাচন দিয়েছিলাম, এবার তো একটা কিছু দেখিয়ে বোঝাতে হবে যে দেশে গনতন্ত্র আছে। আর তা করতে গেলে, এদেশের ধর্মান্ধদের দলে না ভিড়ানো গেলে কি হবে? শফি হুজুরের কুদরতি হাতটা যদি না রাখি মাথায় তবে কেমনে চলবে এ্যা?

০১.
এমন ভাবনা ভেবেই হয়তো তথাকথিত অসম্প্রদায়িক কোনো একটি দেশের সরকার, নতুন একটি আদেশ জারি করলো, ফানুস উড়ানো যাবে না। কিন্তু সরাসরি যদি বলি এটা ধর্মী ইস্যু, তাইলে আবার ওই মিডিয়া, আব্বারা, এবং এই মুক্তমনারা ক্যাও ক্যাও শুরু করবে। অন্য কোনো কারন দেখাতে হবে, কিন্তু কি কারন দেখানো যায়? অনেক ভেবে একটা কারন পাওয়া গেছে, “ফানুসে কেরোসিন দিয়ে জ্বালানো বাতি থাকে, ফানুস ওড়ানো অব্যাহত রাখলে যেকোনও সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে”। অস্সাধারণ, চমৎকার, মাইন্ড ব্লোইং..... (কিন্তু বুদ্ধি ব্লাইন্ড)।

ধরে নিন দেশের নাম হিরক রাজার দেশ (বাঙ্গালীতো অন্য কোনো নাম খুঁজতে বা ব্যবহার করতে ইচ্ছে করছে না।) তো সেই হিরক রাজার দেশে বর্তমানে যে দলটি ক্ষমতায় আছে তাদের জন্মকালীন নামই ছিলো একটি বিশেষ ধর্মেপরিচয় বহনকারী, পরবর্তীতে ওই দেশের মানুষ যখন ধর্ম ছেড়ে জাতীয়তাবাদে মনোযোগ দিলো তখন সেই দল তাদের নাম থেকে ধর্মের পরিচয় বহনকারী তকমাটি অপসারন করে বেশি আধুনিক হয়ে যায়। কিন্তু হলে হবে কি? জন্মের ইতিকথা কে ভুলতে পারে? কর্ণ কি পেরেছিলো দ্বিধাহীন ভাবে পান্ডবের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে? যাক কালাবর্তে ঘুরে ফিরে হিরক রাজার দেশে আবার ওই বিশেষ ধর্মের প্রকোপ বেড়ে গেলো, দলটি ভাবলো ধুত্তর বাল, কি হবে এই অসম্প্রদায়িকতার তকমা রেখে? আগে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটার ছিলো, অসাম্প্রদায়িক তকমা নিয়ে ওই ভোট গুলো চোখ বন্ধ করে পেতাম, কিন্তু এখন তো ৭ শতাংশের ও কম সেই ভোটার। কিন্তু ওইযে বললাম, ওই মিডিয়া, আব্বারা, এবং মুক্তমনাদের কথা? তাদের সমালোচনার ভয়ে পারছেনা জন্মকালীন ওই ধর্মের পরিচয় যুক্ত টাইটেলটা গ্রহন করতে। কিন্তু তাতে কি। টাইটেলের যাই হোক কার্যক্রম যা হবার ধর্মকে ঘিরে তাই হচ্ছে সেই হিরক রাজার দেশে।

০২.
ফেইসবুকে পোষ্ট করেছিলাম, ফানুস নিষিদ্ধ করা নিয়ে, অনেকেই বললেন প্লিজ এটার সাথে ধর্মকে জড়াবেন না। এখানে ধর্মের কি আছে ? তাইলে বলি কি আছে, ফানুস বৌদ্ধ ধর্মের মানুষের কাছে একটা ধর্মীয় সংস্কার তাদের মতে “স্বর্গের দেবতারা দেবরাজ ইন্দ্র কর্তৃক স্থাপিত চুলামনি জাদীকে এখনো পূজা করেন বিধায় তারাও প্রবারণা পূর্ণিমার দিন ফানুস উড়িয়ে পূজা করেন। ফানুস উড়ানোর অর্থ ঐ চুলামনি জাদীর পূজা করা। প্রদীপ পূজা করা। তারা বুদ্ধকে প্রদীপ পূজা করতে পারে খুব সহজেই কিন্তু স্বর্গের চুলামনি জাদীর উদ্দেশ্যে ফানুস উড়িয়ে আকাশে তুলে পূজা করে থাকে। এই হচ্ছে ফানুস উড়ানোর কাহিনী” (বিস্তারতি পড়তে চাইলে) ,আর ইসলাম ধর্মে আগুন কে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের উৎসব আয়োজন, জাষ্ট প্রোহিবিটেড। তো ফানুস ওড়ানো-তে ধর্মের কি নাই? যাদের সংস্কার তাদের জন্য পূন্যের কাজ, যারা এখন পালন করছে তাদের জন্য নিষিদ্ধ কাজ।

কি বলবেন? “আমি তো ধর্মীয় সংস্কার মেনে করি না, আমি করি শুধুমাত্র একটা উৎসব হিসেবে”। তো আমি কি বলছি? আপনি করেন মজা হিসেবে, সেই মজাটাই তো করা যাবে না। কিন্তু সাধারণ মানুষতো সেটা বুঝবেনা, যেমনটা আপনি বুঝছেন না। তাই এখন হীরক রাজা কি করবে? ফানুসই নিষিদ্ধ করে দেই? তাহলে আর ফানুস ও উড়াতে পারবে না। ধর্মও যাবে না। ধর্ম ধরে রাখতে হবে, যার জন্য থেমিসিসকেও অপসারণ করা হয়েছে।
হুট করে সিধান্ত দেয়া হলো রাত আটটার পরে টিএসসিতে কেউ থাকতে পারবে না। মাসতিনেক না যেতেই বললো চায়ের দোকান রাখা যাবে না। এইসব কি শুধুই বিচ্ছিন্ন ঘটনা? নাকি এর পিছনে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কাজ করে? আমরা জাতি হিসেবে গন্ডারের চামড়া শরীরের ধারন করি এবং গোল্ড ফিশের মেমরি নিয়ে জীবন যাপন করি, এক ইস্যুতে অন্য ইস্যু ভুলে যাই খুউব সহজেই। একটা দেশকে কিভাবে সম্প্রদায়িকতার চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়া যায় তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হীরক রাজার আধুনিক সংস্করনের এই দেশের দিকে তাকাইলেই বোঝা যাবে।

০৩.
হীরক রাজার দেশে, একজন মুক্তমনা যদি তার মতপ্রকাশ করে, তবে তাকে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় হয় হত্যা করানো হয়, না হয় কোনো না কোনো আইনের ফাঁদে জেলে পুরে দেয়া হয়। কিন্তু একজন মুক্তমনা বা একজন সচেতন নাগরিক যখন হত্যা হয়, যখন গুম হয়, যখন হুমকির মুখে জীবন যাপন করে, তখন হত্যাকারী, গুমকারী বা হুমকিদাতাকে কখনোই হীরক রাজার সৈন্যসামন্ত খুঁজে বের করতে পারে না। আসলে কি পারে না? নাকি পারতে চায় না? পারে না এটা অবিশ্বাস্য কিন্তু পারতে চায় না এটাই বিশ্বাস্য। দেশের পাঠ্যপুস্তুকের অবস্থা এখন কি? তা নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। কিভাবে দুদিন পরে পরে কাঠমোল্লাদের আপত্তি ওঠে, ও আপত্তির প্রেক্ষিতে কিভাবে পাঠ্যপুস্তুক পরিবর্তন হয় তার উদাহারণ ও দেখছি অনেক বছর।

৬ জানুয়ারী ২০১৮ এর ঘটনা, নিউজ পোর্টাল গুলো বলছে, গ্যাসবেলুন ব্লাষ্ট করে ১০জন ছাত্রলীগ কর্মী ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি হয়েছে, সিগারেট ধরাতে গিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। একই দিনে সকালের ঘটনার পর বিকালে আদেশ জারি হলো ফানুস উড়ানো যাবে না, উড়ালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেন? তাহলে তো উচিত ছিলো, গ্যাস বেলুন নিষিদ্ধ করা, সিগারেট নিষিদ্ধ করা কিংবা গ্যাসই নিষিদ্ধ করে দেয়া, দূর্ঘটনা তো যেকোনো সময়ই ঘটতে পারে সেই বিবেচনায় গ্যাসের চুলা নিষিদ্ধ করা যেতে পারতো? অথবা বিমানের কথাই ধরুন না। ফুয়েল নিয়েই তো আকাশে ওড়ে, যখন তখন দূর্ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু না বিমান উড্ডয়ন ও তো নিষিদ্ধ করা হয় নি। কি নিষিদ্ধ হয়েছে? ফানুস। এতো কিছু থাকতে ফানুসই কেন ভাবুন তো?

প্রসংঙ্গত মনে পড়লো ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক ফেস্টিভ্যালের কথা। পোপ আসবে তাই আর্মি স্টেডিয়াম বরাদ্দ দেয়া হলো না। অথচ পোপের কর্মসূচি আর ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক ফেস্টিভ্যালের সময় সূচির সাথে দুইদিনের তফাৎ ছিলো, তাও কেন দেয়া হলো না? কাকতালীয়? জ্বি না, এটাকে কাকতালীয় বলা যায় না, সংস্কৃতি আটকে দাও, তবেই ধর্মের প্রসার ঘটবে।

০৪.
সংবিধান থেকে যখন “বিসমিল্লাহ” শব্দটি বাদ দেয়ার জন্য রীট করা হলো, তার কয়েক বছর পরে সম্প্রতি রীট খারিজ করা হয়েছিলো অত্যন্ত কৌশলে, কারনটি ছিলো, রীটকারী সংগঠনের অধিকাংশ ব্যক্তি মৃত, এবং সেই বিবেচনায় এই রীটটি সঠিক ভাবে কেউ ওন করে না অভিমত দিয়ে আদালত রীট টি খারিজ করে, যথাযথ ব্যক্তিদ্বারা রীট করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু আমাদের মিডিয়া থেকে শুরু করে সবাই বললো বিসমিল্লাহ থাকবে এটাই আদালতের রায়, রীট-টা যে শুনানীর পর্যায়ে যায়নি সেটা নিয়ে কেউ কোনো কথাই বললো না। এবং বিচারপতিরাও অত্যন্ত কৌশলে রীটটি এড়িয়ে গেলেন। বিষয়টি ছিলো কিন্তু সংবিধানের প্রশ্ন। সংবিধানের সংবিধানত্বকে অক্ষুন্ন রাখা হাইকোর্টের অন্যতম কাজ, কিন্তু হাইকোর্ট এমন একটা ভাব করলো, যেন তারা কিছুই বুঝে নি। ভালো কথা বিসমিল্লাহ্‌ শব্দটা রাখবেন সংবিধানে, তো সরাসরি অসাম্প্রদায়িক শব্দটা বাদ দিয়ে দিলে কি সমস্যা হয় আপনাদের?

অসাম্প্রদায়িকতা আর গনতন্ত্রের পূর্ব শর্তই হলো “পরমতসহিষ্ণুতা” যেখানে কোনো পরমতসহিষ্ণুতাই নেই সেখানে কিসের অসাম্প্রদিয়ক দেশ! কোথায় পান আপনার গনতন্ত্র?

ফানুস বন্ধ হবে, আমি বলছি মিলিয়ে নিবেন দোল উৎসবও বন্ধ হবে, আরো সীমিত হবে, সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল, দমন-পীড়ন আরো হিংস্ররূপ ধারণ করবে। কারন বছরটা নির্বাচনের বছর কিনা।

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

নগরবালক
নগরবালক এর ছবি
Offline
Last seen: 2 weeks 50 min ago
Joined: সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - 11:50পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর