নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 7 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • গোলাম রব্বানী
  • বিকাশ দাস বাপ্পী
  • অনন্য আজাদ
  • নুর নবী দুলাল
  • আব্দুল্লাহ্ আল আসিফ
  • মোমিনুর রহমান মিন্টু
  • মিশু মিলন

নতুন যাত্রী

  • ফারজানা কাজী
  • আমি ফ্রিল্যান্স...
  • সোহেল বাপ্পি
  • হাসিন মাহতাব
  • কৃষ্ণ মহাম্মদ
  • মু.আরিফুল ইসলাম
  • রাজাবাবু
  • রক্স রাব্বি
  • আলমগীর আলম
  • সৌহার্দ্য দেওয়ান

আপনি এখানে

বিভেদ


,,,,,,,,, মকছুদপুর গ্রামে মাওলানা সোবহান আহমেদ মকছুদপুরী ছাড়া আরো দুইজন ক্ষ্যাতিমান আলেম আছেন। এদের একজনের নাম মাওলানা ইকবাল হোসেন দেওবন্দী। তিনি ভারতের বিখ্যাত দেওবন্দ এ লেখাপড়া করার কারনে নামের শেষাংশে 'দেওবন্দী' যুক্ত হয়েছে। উনি দেওবন্দী হুজুর নামে সর্বত্রই পরিচিত। অবশ্যই মাওলানা ইকবাল হোসেনের নামের শেষে 'দেওবন্দী' যুক্ত করার পেছনে আরেকটা মুখরোচক গল্প প্রচলিত আছে। ইকবাল হোসেন এই এলাকার অত্যন্ত আমলদার মানুষ। কাউকে জ্বীন-ভুত, দেও-দানব আছড় করলে সেসব তাড়ানোতে পার্শ্ববর্তী দু'চার গ্রামে ওনার জুরি মেলা ভার। সেবার পাশের গ্রামের এক চাষীর মেয়েকে জ্বীনে আসর করলে মাওলানা ইকবাল হোসেনের ডাক পরে। এশার নামাযের পর মাওলানা সাহেব জ্বীন তাড়াতে বসেন। দোয়া-কালাম, মন্ত্র-তন্ত্র, ঝার-ফুঁক চলতে থাকে রাত বারটা পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত জ্বীন ধরা দেয়। মাওলানা সাহেবের কঠিন জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জ্বীন কথা বলতে শুরু করে। সে একটা 'দেও', আদি নিবাস ভারতের উরিষ্যা। উরিষ্যায় সে জীবনের প্রথম পাঁচশত বছর কাটিয়ে আজ থেকে একশত পঞ্চাশ বছর আগে বাংলার একেবারে দক্ষিনে বসবাসের ইচ্ছে করে। সে কারনেই মকছুদপুরের পুর্ব পাশের জঙ্গলে সে গত দেড়'শ বছর ধরে নির্বিঘ্নে বসবাস করে আসছে। আজ সকালে এই মেয়েটি বনে পাতা কুড়ানোর সময় গাছের শুকনো একটা ডাল ভাংতে গেলে সেই ডাল এসে তার গায়ে লাগে। এ কারনেই মেয়েটিকে আছড় করেছে সে। কিন্তু এখন সে চলে যাবে। আর কখনো এ মুখো হবে না। মাওলানা সাহেবের ঝাড়ফুঁক অব্যাহত থাকে। এক পর্যায়ে মেয়েটি চোখ রক্তবর্ণ করে গোঙঁরাত গোঙঁরাতে উঠানের এক কোনে পরে থাকা পরিত্যাক্ত একটা জুতা মুখে নিয়ে ছুটতে শুরু করে। কয়েক কদম গিয়েই সজ্ঞাহীন হয়ে ধপাস করে পরে যায়। প্রায় আধ ঘন্টা পরে জ্ঞান ফিরে। সব কিছু শেষ করতে রাত প্রায় তিনটা বেজে যায়। ইকবাল হুজুর ঈমানদার মানুষ। শয়তান ওনার ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। তাই আমাবশ্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারেই তিনি বাড়ির দিকে হাটা দেন। রাত শেষ হয়ে ভোরের আলো ফোটে, কিন্তু হুজুর বাড়ি ফিরে না। সারাদিন সম্ভব্য সব জায়গায় খুঁজেও হুজুরের সন্ধান পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত মাগরিবের নামাযের পর একেবারে বিধ্বস্ত অবস্থায় হুজুর বাড়ি ফিরে। ক্ষানিকটা ধাতস্ত হলে গত রাতের ঘটনার বিবরন দেন। পাশের গ্রামের মেয়েটিকে দেও এর আছড় মুক্ত করে তিনি বাড়িতে ফিরছিলো। রাত অনেক হয়ে যাওয়া তাড়াতাড়ির জন্য বড় রাস্তা ছেড়ে তিনি উজানছড়ি বিলের মাঝ দিয়ে হেটে আসছিলো। কিন্তু অর্ধেক বিল পার হওয়ার পর সেই দেও'টি তার পথ আগলে ধরে এবং তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। সারা দিন বন্দি করে রাখে। মাওলানা ইকবাল হোসেন তার ঈমানের জোরে দেও'দের হাত থেকে মুক্ত হয়ে ফিরে আসতে পেরেছে। দেও'দের হাতে বন্দি হওয়ার কারনে সেই থেকে তাকে এলাকায় মানুষ 'দেওবন্দী' হুজুর বলে ডাকে। তবে তার নামের পেছনে দেওবন্দী যুক্ত হওয়ার এই মতবাদটি এলাকার ছেলে চোকরাদের মুখেই কেবল শুনা যায়।

মকছুদপুরের আরেক জন আলেমের নাম মাওলানা মঈনুদ্দিন। তিনি পীর-এ-কামেল সূফী মঈম উদ্দিন মাইজভান্ডারী নামে পরিচিত। তিনি পাকিস্তানের বিখ্যাত আল্লামা তাহের শাহের মুরীদ। মকছুদপুর তো বটেই তিনি গোটা দক্ষিন বঙ্গের মাইজভান্ডারের প্রবাদ পুরুষ। প্রতিদিন শত শত ভক্ত-অনুরাগী, মুরীদ-মুরীদানরা ওনার সান্নিধ্য লাভের জন্য ভিড় জমায়। অনেক ভক্ত অনেক রকম তদবির নিয়ে আসেন। কেউ হেদায়াতের জন্য, কেউ দীক্ষা নেবার জন্য, কেউ পার্থীব সুখ-শান্তি লাভের জন্য, কেউ আসে সংসারের নানান ঝুট-ঝামেলা কাটিয়ে ওঠার জন্য। এছাড়া আয় রোজগারের বরকত, ছেলে মেয়ে মানুষ করা, ব্যবসা বানিজ্যে উন্নতি আর নানান রোগাক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও কম নয়। সন্তান লাভের আশায় আসে বন্ধ্যা কিংবা নি:সন্তান মেয়েরাও। ভক্তরা কখনো খালি হাতে আসে না। কেউ গাছের ফল, কেউ জমির ফসল, হাঁস-মুরগী, ছাগল এমনকি বিত্তবান ভক্তরা বাৎসরিক ওরসের জন্য কখনো কখনো গরু-মোষও হাদিয়া হিসেবে নিয়ে আসে। ইসলামে হাদিয়া নেয়া জায়জ তাই সূফী সাহেব ভক্তের দক্ষিনা খুশি মনেই গ্রহন করেন। সব মিলিয়ে সূফী মঈনুদ্দিনের বৈঠক খানার সামনের বিশাল আঙিনায় দিনের আলো ফোটার সাথে সাথে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে জরো হতে থাকে।

সোবহান আহমেদ মকছুদপুরী, ইকবাল হোসেন দেওবন্দী, সূফী মঈনুদ্দিন মাইজভান্ডারী এই তিন মাওলানা এক ইসলামের খাদেম হলেও এদের একজনের সাথে অন্যের জন্ম জন্মান্তরের শত্রুতা। ধর্মীয় অনুষ্ঠান তো বটেই, কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে দাওয়াত পরলেও এরা আগে খবর নেয়, অন্য দুইজন অনুষ্ঠানে আসবে কিনা! একজন যে পথে হাটে অন্যরা ভুলেও সে পথ মাড়াই না। বিশ্বাসে, যুক্তিতে, মতাদর্শে এরা তিনজন ভিন্ন ভিন্ন ধারায় প্রবাহীত। মুকছুদপুরের মুসলমানরাও আলিয়া, দেওবন্দী আর মাইজভান্ডারী এই তিন ভাগে বিভক্ত। এই বিভেদ মকছুদপুরের প্রাগৈতিহাসিক।,,,,,,,,,,,

বিভাগ: 

Comments

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রহমান বর্ণিল
রহমান বর্ণিল এর ছবি
Offline
Last seen: 5 দিন 9 ঘন্টা ago
Joined: রবিবার, অক্টোবর 22, 2017 - 9:43অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

কু ঝিক ঝিক

ফেসবুকে ইস্টিশন

SSL Certificate
কপিরাইট © ইস্টিশন.কম ® ২০১৬ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর