নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মারুফুর রহমান খান
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

মনের মূর্খতার আরেক নাম ঈশ্বর৷


আগে আমি মানত করতাম মন্দিরে মাজারে; এখন আমার মনই মন্দির, মনই মাজার! মনই আমার মানত বাজার-

তোরে হৃদ মাজারে রাখিবো ছেড়ে দেবনা, ছেড়ে গেলে সোনার হরিণ আরতো পাবোনা, না...না...না...... ছেড়ে দেব না৷ কত লক্ষ বছর ঘুরে ঘুরে, পেয়েছি মানব জনম

বৌদ্ধদের ভগবানের নাম "গৌতম বুদ্ধ"৷ এক সময়ের আঁধারে আলোর নাম৷ নাস্তিকতার সূর্য্য তখন আবারো উদয় হলো আড়াই হাজার বছর আগে এক দার্শনিকের হাতে৷ প্রচার প্রসার ঐ সময়ে এতটা সহজ নয় যদিও৷ তিনি নানা ভঙ্গিমায় নানা উপায়ে মানুষ নিজেকে চেনার জন্য প্রদ্বীপ জ্বালালেন৷ উনি বললেন হে মানব ধর্ম ওটা নয়, ধর্ম এটা যা আমি করছি, তুমি করছ কিন্তু তাতে নাম এবং রুপ একটাই৷ আমার কথা শুনবে কিন্তু নিজে বুঝে তারপর গ্রহণ করবে৷ আমি একটা ভেলা, তুমি পার হবে কিন্তু ভেলা তোমার উপকার করলো বলে তুমি সেটা মাথায় করে বয়ে নিতে যেওনা, তাতে ভেলার কিছুই হবেনা; তোমারই কষ্ট হবে, পরিশ্রম হবে, সময় নষ্ট হবে৷ আমাকে নিয়ে বেদের মত গ্রন্থ রচনা করিওনা.....
কিন্তু গ্রন্থ রচনা হয়েছে৷ ভেলা কাঁধে নিয়ে ঘুরছে৷ মূ্র্তি ভাঙ্গলে কষ্ট পাচ্ছে, ভেলার কিছুই হচ্ছেনা৷ যিনি মূর্তি পূজা পছন্দ করতেন না তাকে মূর্তি বানিয়ে পূজা করা হচ্ছে৷

মানুষ ক্ষুধায় যখন হাহাকার করে তখন একটা পাথরের মূর্তির সামনে তোলা হয় নানা জাতের সাজানো খাবার সামগ্রী৷ প্রানী হত্যা নিষেধ বলে মাছের ঠুকরা তোলা হয় পূজোর থালায়৷ কত না আরো দামি ফল ফলাদি৷ একদিকে মৃত মানুষের ভাতের মোঁচা বন্ধ করতে বলা হচ্ছে তাতে মৃত ব্যক্তিতে প্রেতকূলে ডাকা হয় বলে, অন্যদিকে যিনি তৃষ্ণা ক্ষয় করেছেন বলে দাবী তাকে দেয়া হচ্ছে ঐ মোঁচার ন্যায় খাদ্য দ্রবাদি৷ একটা ভিখারী যার নাকি ক্ষুধা আছে, সে আসলে তাকে যারা বসতে বলেন না, মাফ করেন বলে তাড়ান, সেই তারা বলেন না বুদ্ধ মাফ করেন৷

একটা ঘরে একমাস বুদ্ধ নামের ঐ পাথরের মূর্তি আর একটা মানুষকে বা একটা প্রানীকে খাবার না দিয়ে বেঁধে রাখলে, পাথর পাথরই থাকবে কিন্তু প্রানীটা মরবে, ভেলার কিছুই হবেনা৷ এর দ্বারা কি বলবো ধর্ম সত্য বা বুদ্ধ মূর্তি সত্য? না বলবো এটা মূর্খদের রাজ্য? সেই পাথরের জন্য কত ঘর কত আলোক সজ্জা, কত বাহারি খাবার কত বস্ত্র৷ আর কত অজ্ঞান দিয়ে মানুষকে নিচে নামানো হবে, অবহেলা করা হবে, ছোট করা হবে আর মূর্তি রাখা হবে মাথায় তুলে?

হিন্দুরা দূর্গা, কৃষ্ণ, কালী এটা সেটা কত মূর্তি বানায়৷ পূজা করে, টাকা বিলোয়, এই নিয়ে হয়ে উঠে কত ঠাকুর ব্রাহ্মন যারা নাকি মানুষের কত রোগ শোক দুঃখ লাগব করে৷ হয়ে উঠে ভন্ডের কারখানা৷ গড়ে উঠে নানা ঠকের আস্তানা৷ কত জায়গা মেরে গড়ে উঠে মন্দির৷ যখন খোলা আকাশের নীচে মানুষ ঘুমায় তখন মূর্তি নড়েনা বিলাস বহুল ঘরে৷ যা বিশ্বাসই নয় তাকে বিশ্বাস নামে স্থান দিয়ে লুঠ করে যায় মনুষ্যত্ব, অপমান করে মানুষকে৷ মানুষ সবার উপরে বলে নেমে যায় পশু শ্রেনীর নীচে৷ ভন্ড সাধুকে বিশ্বাস করতে শুরু করে৷ স্বাভাবিক একটা মূর্তিকে বিশ্বাস বললে কোন বিবেক বিবেচনা ছাড়া সে মগজ কেন সাধুকে বিশ্বাস করবেনা, সেওতো ঐ মূর্তি ধারণ করে৷ মূর্তির কাছে প্রমাণের প্রয়োজনতো পড়েনা যখন মানুষ বিচার বিশ্লষনকে জলাঞ্জলী দেয় একটা মাটি পাথরের কাছে৷ আর কতকাল চলবে?

ইসলামে তো আরো বড় কিছু৷ নাই মূর্তি নাই কিছু আকাশ দেখিয়ে বলে আল্লাহ, বাতাস দেখিয়ে বলে আল্লাহ৷ আল্লাহ নাম নিলেই কত স্বর্গ কত নরক কত আগুন দেখিয়ে ফেলে৷ টিভি দেখার কি দরকার তারাতো এমনিতেই কত নাটক কত গল্প আল্লাহ বললেই দেখে৷ আল্লাইতো একটা টিভি, নবী একটা রিমোট৷ সিনেমা যখন দেখি আমরা নায়ক হয়ে যাই, আমরা দুঃখে কাঁদি, আমরা ধর্ষণের সিন দেখার সময় দেখি মেয়েটার বুকের স্তন বের হচ্ছে কিনা! তখন আর্তনাদ হচ্ছে বলে তার কান্নায় কাঁদি না৷ চোখ তখন উত্তেজনায় গোল এই বুজি দেখা গেলো৷ সিনেমা শেষে আমরা আমরাই৷ তাওতো নায়ক নায়িকা বাস্তব গল্প সাজানো কিন্তু যার বাস্তবতার কিছুই নেই তার কত ঘর৷ তার জন্য পাখি ড্রেসের মত কত ড্রেস৷ তাও সখের নয় জোরের৷ সেই কল্পনার জন্য কত মানুষের প্রাণ ভেসে যাচ্ছে ছুড়িতে, লাঠিতে, গুলিতে, বোমায়৷ উঠছে আল্লার ঘর মসজিদ, পুড়ছে মানুষের ঘর৷ অনেকগুলো মানুষ যে একটা ঘরে থাকে সেই মাথা রাখার ঘরটা হারায় মানুষ৷ যে ঘরে কেউ থাকেই না, তার জন্য কোটি ঘর৷ সে সর্বত্র থাকে তার জন্য আলাদা ঘরের কি দরকার? যাকে পৃথিবীর মালিক দাবী, দাবী প্রানীর জন্য বানিয়েছেন সেখানে সে থাকবে এটাও হয়? মুরগি কিংবা কুকুরের জন্য ঘর বানিয়ে আমি সেখানে থাকব? হিংস্রতায় আল্লাহ আল্লাহ বলে মন মগজে বিষ এনে লেলানো হয় মানুষ মারতে৷ আর কত?

এখন আমি আর মানত করিনা৷ এখন মনে পড়লে হাসি কতটা বোকা ছিলাম৷ মূর্খের মত যা তা চেয়েছি যা নেই তার কাছে৷ যা নেই নয়, আসলে আমার ছিলো না, আর যা ছিলো না সেটা হলো জ্ঞান৷ যার জ্ঞান নেই তার ঈশ্বর আছে ধর্ম আছে, যার জ্ঞান আছে তার ওসব নেই৷ কারণ মনের মূর্খতার আরেক নাম ঈশ্বর৷

বৌদ্ধরা বলে বাবরি মসজিদ তাদের, হিন্দুরা বলে তাদের, ইসলাম বলে তাদের৷ কেউ চায় মন্দির আর কেউ মসজিদ কিন্তু কেউ বললো না স্কুল হোক, বললোনা বইঘর হোক৷ হোক সার্বজনীন জ্ঞান চর্চার৷ হোক মানুষ গড়ার কারখানা৷ মসজিদ, মন্দির, গির্জা, মাদ্রাসা, মিশন, আশ্রম বাড়ে, বাড়ে ধার্মিক হানাহানি সাম্প্রদায়িকতা; শুধু বাড়েনা স্কুল কলেজ লাইব্রেরী, জ্ঞান চর্চা, মানুষ আর তার মানবতা৷৷

Comments

কাকন মজুমদার এর ছবি
 

ফকির বাবরি মসজিদ কি বুদ্ধরদ দাবী করেছে,,,,এখ স্কুল কলেজেও মাইর চলে পাঠাগার হাসপাতাল ঠিক আছে

kakan majumder

 
কাঙালী ফকির চাষী এর ছবি
 

দাবী করেছে, তবে মাঠে নয় লেখাতে৷ ফ্রান্সের এক বৌদ্ধ লেখক তাই লিখেছেন৷

Kangaly Fokir Chasii

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

কাঙালী ফকির চাষী
কাঙালী ফকির চাষী এর ছবি
Offline
Last seen: 9 ঘন্টা 15 min ago
Joined: শুক্রবার, ডিসেম্বর 29, 2017 - 2:02পূর্বাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর