নীড়পাতা

টিকিট কাউন্টার

ওয়েটিং রুম

এখন 2 জন যাত্রী প্লাটফরমে আছেন

  • মারুফুর রহমান খান
  • মিঠুন বিশ্বাস

নতুন যাত্রী

  • চয়ন অর্কিড
  • ফজলে রাব্বী খান
  • হূমায়ুন কবির
  • রকিব খান
  • সজল আল সানভী
  • শহীদ আহমেদ
  • মো ইকরামুজ্জামান
  • মিজান
  • সঞ্জয় চক্রবর্তী
  • ডাঃ নেইল আকাশ

আপনি এখানে

তিন তালাক বিতর্ক ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা



মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন -"আমরা তালাক বিলটিতে সমর্থন করেছিলাম। ভেবেছিলাম ভালো কিছু হবে তাই এতদিন কিছু বলিনি। কিন্তু এখন দেখছি বিলে অনেক গোলমাল রয়েছে। এই তালাক বিল মুসলিম মেয়েদের ক্ষতি করবে। মেয়েরা আরও বিপদে পড়বে।কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগে তিনি বলেন,ওরা মুসলিম মেয়েদের ক্ষমতায়নের পরিবর্তে ক্ষতি করবে"।

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরাসরি প্রশ্ন বিলে কি কি গোলমাল আছে একটু বলবেন কি ?আর আপনার কাছে জানতে চাই ইসলাম ও ইসলামে নারী সম্পর্কে আপনার নূন্যতম ধারণা আছে কি?আপনার দলের অনেকেই দাবি করছে, আলেমদের পরমর্শে এই বিল আনা হোক,আলেমদের পরামর্শে এই বিল আনলে আদেও মুসলিম মহিলাদের অধিকার রক্ষিত হবে কি?

এখন দেখা যাক কোরানে নারীদের কি রকম মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কোরানের সূরা বাকরার 223 নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-"তোমাদের স্ত্রীরা হল তোমাদের শস্য ক্ষেত্র এবং তোমরা তাদের যেমন খুশি ব্যবহার কর"(2:223)।তাহলে যে কোরানে নারীদের চাষের জমি মনে করা হয় সেই কোরান নারীদের সমানাধিকার দেয় কি করে?এবং এর সঙ্গে একটা কথা প্রযোজ্য তা হল তোমারা যেমন ইচ্ছা তাকে ব্যবহার কর অর্থাৎ নরীরা শুধু মাংসের পিন্ড এদের সঙ্গে যেমন ইচ্ছা সম্ভোগ কর এবং যা ইচ্ছা তাই এদের সঙ্গে করতে পার, এখানে নারীর মতামতের কোন প্রয়োজন নেই।তাহলে নিঃশ্চয় বুঝতে পারছেন ইসলামে নারীকে কি রকম সন্মান দেওয়া হয়েছে?

আবার কোরানের সূরা নিসার 34 নং আয়াতে বলা হয়েছে-"তোমাদের স্ত্রীরা অবাধ্য হলে তাদের সদুপদেশ দাও,তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর "(4:34)।তাহলে বুঝতে পারছেন কোরানের আল্লা স্বামীদের হুকুম দিচ্ছেন তাদের স্ত্রীদের প্রহার করতে।তাহলে যে ধর্মাগ্রন্থে স্ত্রীদের গায়ে হাত তুলতে আল্লা হুকুম দিচ্ছে সেখানে নারীদের মর্যাদা রক্ষিত হবে কি করে?

তালাক প্রাপ্ত নারীর বিষয়ে কোরান কি বলে দেখুন সূরা বাকরার 228 নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-" আর তালাক প্রাপ্তা নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েয (ঋতুদিন)পর্যন্ত। আর যদি সে আল্লার প্রতি এবং আখেরাত দিবসের উপর ইমানদার হয়ে থাকে,তাহলে আল্লা যা তার জরায়ুতে সৃষ্টি করেছেন তা লুকিয়ে রাখা জায়েজ নয়।আর যদি সদ্ভব রেখে চলতে চায়,তাহলে তাদেরকে ফিরিয়ে নেবার অধিকার তাদের স্বামীরা সংরক্ষণ করে।আর পুরুষদের যেমন স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে,তেমনিভাবে স্ত্রীদের ও অধিকার রয়েছে পুরুষদের উপর নিয়মানুযায়ী।আর নরীদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আর আল্লাহ হচ্ছে পরাক্রমশালী,বিজ্ঞ"(2:228)।

এই আয়াতেই বোঝা যায় ইসলামের বর্বরতা কতটা। এখানে নারীকে কোন কিছুই লুকিয়ে রাখতে বারন করা হয়েছে অর্থাৎ নারীকে সন্তানের জন্ম দিতেই হবে তাতে নারীর কি সমস্যা হলো তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। এখন এখানে নারীও পুরুষদের অধিকার বোঝাতে গেলেও শেষ পর্যন্ত আল্লা নারীদের উপর পুরুষের শেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন অর্থাৎ পুরুষ যা ইচ্ছা করতে পারে নারীর কোন স্বাধীনতা নেই। এখানে অনেকেই বলতে চেষ্টা করবে এই আয়াতে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ও বলা হয়েছে অর্থাৎ ইসলাম কত মানবিক একটি ধর্ম!আমার প্রশ্ন হলো কিভাবে?এর উত্তর পেতে হলে কোরানের অন্য আয়াতে যেতে হবে।

দেখুন মানবিক ইসলামে তালাক প্রাপ্ত স্ত্রীকে ফিরে পাবার কত মানবিক উপায়-সূরা বাকরার 230 নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-" তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়,তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে তার জন্য হালাল নয়।অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়,তাহলে উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই "(2:230)।

সুভানআল্লা এই না হয় আল্লার বিচার?যে নারীর কোন দোষই নেই এবং পুরুষ কোন কারণ ছাড়াই নারীকে তালাক দিতে পারে,সেই নারীকে স্বামীর কাছে ফিরে যেতে হলে আগে অন্য পুরুষকে বিয়ে করে তার সঙ্গে অবশ্যই যৌনসঙ্গম করতে হবে। এরপর ওই মানুষটি তালাক দিলে তবেই সে তার স্বামীর জন্য বৈধ। এই হচ্ছে ইসলামে নারীর মর্যাদা?এই জঘন্য প্রথাটি কি নারীর সন্মান বৃদ্ধি করছে?মুমিনা নারীরা কি মনে করেন এখানে নারীর যথার্থ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে?অথচ এখানে পুরুষ ভুল করে কিন্তু ফলভোগ করতে হয় নারীকে। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী শুধু এক টুকরো মাংস পিন্ড ছাড়া আর কিছুই নয়। আর নারী সম্পর্কে নবীর মানসিকতা কিরূপ ছিল তা উপরিউক্ত আলোচনা থেকেই বোঝা যায়।

নারীর প্রতি নবীর মানসিকতা কিরূপ ছিল তা আর কয়েকটি উদাহরণ দিলে আরও পরিষ্কার হবে। সহিহ মুসলিম,26খন্ড,5523 নম্বর হাদিস-আব্দুল্লা বিন উমর বর্ণনা করেছেন: আল্লার নবী বলেছেন,"দুর্ভাগ্য যদি কিছুতে থাকে তা হল বাড়ি,ঘোড়া আর নারী "।মাসাআল্লা নবীর দৃষ্টিতে নারীরা ঘোড়ার সমতুল্য এবং দুর্ভাগ্যের প্রতীক।

নারী সম্পর্কে নবীর এই চরম ঘৃণা কোরানের আয়াতে ও দেখতে পাওয়া যায়-সুরা নাহালের 43,সুরা হাজ্ব 75 নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-"নারীকে কোন দিন নবী রসুল করা হবে না "(16:43,22:75)।অর্থাৎ নারীকে কোন দিন ক্ষমতার শীর্ষে বসানো যাবে না।

এই হচ্ছে ইসলাম যেখানে নারীকে প্রতিনিয়ত ইসলামের দ্বারা নিষ্পেষিত হতে হচ্ছে সেখানে নারী প্রশাসকের কাছে আশা ছিল উনি নারীদের সমস্যা নিয়ে সহৃদয় হবেন এবং নারী মুক্তির প্রতীক হিসাবে তিন তালাক বিলকে সমর্থন করবেন। অথচ আমরা বাস্তবিক কি দেখি?রাজনৈতিক সুবিধাবাদের জন্য উনি নিঃস্ব মুসলিম মহিলাদের পাশে দাড়ান নি।উনি ধর্মান্ধ ও মোল্লাদের পাশে দাড়িয়েছেন। এই কট্টরপন্থীরা চরম নারীবিদ্বেষী ও দেশের স্বাধীনতা বিরোধী। এরা ভারতবর্ষকে দার-উল-হরব (বিধর্মীদের দেশ) থেকে দার-উল-ইসলামে (ইসলামী দেশ)পরিণত করতে চাই এবং সেই দেশে শরিয়তি আইন চালু করতে চাই।যে শরিয়তি আইনে অন্য কোন ধর্মের মানুষদের ধর্মাচরণের স্বাধীনতা পর্যন্ত নেই।

চিরদিন কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারে না কিন্তু আপনি ক্ষমতা থেকে অপসারিত হলে যে বাংলা রেখে যাবেন তা ভাবতে ও ভয় লাগে!সে বাংলা কি আজকের বাংলা থাকবে?না জেহাদিদের আস্তানায় পরিণত বাংলাকে রেখে যাবেন তা সময়ই উত্তর দেবে।তবে আপনার দলের এই মোল্লা তোষণের ফলে পশ্চিমবঙ্গ আজ জেহাদিদের একটা আস্তানায় পরিণত হয়েছে। যা খাগড়াগড় কান্ডের মধ্যে দিয়ে অনেকাংশেই প্রমাণিত । কেন্দ্রকে দোষারোপ করে ও বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক বলে লাভ নেই। আসল সাম্প্রদায়িক রাজনীতি কারা করছে জনগণ তা খুব ভালো করেই উপলব্ধি করছে। গো হত্যা বিতর্কে আপনার অবস্থান প্রশংসনীয়। তবে এটা মাথায় রাখতে হবে সাধারণ মুসলিমদের পাশে থাকা অবশ্যই জরুরি কিন্তু তার মানে কট্টরপন্থীদের পাশে থাকা নয়।

পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবি ও মিডিয়া তার স্বতন্ত্রতা হারিয়ে অধিমাত্রায় চাটুকারিতায় লিপ্ত।এরা কথায় কথায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে কিন্তু রাজ্যের অবস্থা নিয়ে টু শব্দটি ও করে না।এদের এই মেরুদণ্ডহীন,সুবিধাবাদী অবস্থানের জন্যই হিন্দুত্ববাদীদের সুবিধা হচ্ছে। পরিশেষে একটা কথা বলতে চাই-প্রচলিত একটি প্রবাদ হল 'দুধ দিয়ে কাল সাপ পুষতে নেই'। আজ ভোটের জন্য যে মোল্লা তোষণ চলছে এরা পরবর্তীকালে ঘুরে দাড়াবে না এর নিশ্চিয়তা আছে কি?কারণ-সহি বুখারী 5ম খন্ড 709 নম্বর হাদিসে-সাহাবী আবুবকর বলেছেন,নবী বলেছেন যে,"যে জাতি নারীর ওপরে নেতৃত্ব দেবে,সে জাতি কখন ও সফল কাম হবে না"।অর্থাৎ এই হাদিস অনুসারে নারী নেতৃত্ব হারাম।এই সহি হাদিসকে সামনে রেখে ধর্মান্ধরা যদি ঘোষণা করে নারী নেতৃত্ব হারাম এবং এই নারী নেতৃত্ব মানব না,তাহলে এতো সাধের গদিটি আর থাকবে তো?

বিভাগ: 

Comments

কাকন মজুমদার এর ছবি
 

মমতা নাকি ইসলামি ইতিহাস নিয়ে লেখাপড়া করেছে

kakan majumder

 
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
 

হা হা হা উনি সব কিছুই পড়াশোনা করেন ও সব কিছুই জানেন।দিনের শেষে পড়ে থাকে শূন্য।

 

Post new comment

Plain text

  • সকল HTML ট্যাগ নিষিদ্ধ।
  • ওয়েবসাইট-লিংক আর ই-মেইল ঠিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকে রূপান্তরিত হবে।
  • লাইন এবং প্যারা বিরতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয়।
CAPTCHA
ইস্টিশনের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে ক্যাপচা ভেরিফিকেশনের ধাপ পেরিয়ে যেতে হবে।

বোর্ডিং কার্ড

রক্তিম বিপ্লবী
রক্তিম বিপ্লবী এর ছবি
Offline
Last seen: 1 week 22 ঘন্টা ago
Joined: মঙ্গলবার, আগস্ট 29, 2017 - 3:02অপরাহ্ন

লেখকের সাম্প্রতিক পোস্টসমূহ

ফেসবুকে ইস্টিশন

কপিরাইট © ইস্টিশন ব্লগ ® ২০১৮ (অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম) | ইস্টিশন নির্মাণে:কারিগর